📄 বিশেষ সাহাবিদের মধ্যে থেকে কাউকে দেখতে না পেলে তার খোঁজ করতেন
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'যখন এই আয়াত নাজিল হলো:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
"মুমিনগণ, তোমরা নবির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উঁচু স্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেরূপ উঁচু স্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা টেরও পাবে না।"
তখন সাবিত (রা) নিজের ঘরে বসে গেলেন এবং বলতে লাগলেন, "আমি জাহান্নামি।” এরপর থেকে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাওয়া বন্ধ করে দিলেন।'
(তাকে দেখতে না পেয়ে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদ বিন মুআজ (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেন, "হে আবু আমর, সাবিতের (রা) কী হলো? তার কোনো অসুখ-বিসুখ হয়েছি কি?"
সাদ (রা) বললেন, "সে তো আমার প্রতিবেশী আর আমি কোনো অসুখ হয়েছে বলে জানি না।"
বর্ণনাকারী বলেন, 'অতঃপর সাদ (রা) তার কাছে গেলেন এবং তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন, তা জানালেন। তখন সাবিত (রা) বললেন, “এই আয়াত নাজিল হয়েছে। আর তোমরা তো জানোই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আমার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে বেশি উঁচু হয়ে যায়। সুতরাং আমি তো একজন জাহান্নামি।"
অতঃপর সাদ (রা) তা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে সাবিত (রা)-এর কথাটি বললেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "না, বরং সে জান্নাতি।"'
কুররা বিন ইয়াস (রা) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি তার ছেলেকে সাথে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করলেন।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তাকে কি ভালোবাসো?” তিনি বললেন, "আমি তাকে যে পরিমাণ ভালোবাসি, আল্লাহ তাআলা আপনাকে সেই পরিমাণ ভালোবাসুন।"
একদিন ছেলেটি মারা গেল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুপস্থিতি অনুভব করে তার ব্যাপারে খোঁজখবর নিলেন। অতঃপর ছেলেটির পিতাকে বললেন: مَا يَسُرُّكَ أَنْ لَا تَأْتِيَ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ إِلَّا وَجَدْتَهُ عِنْدَهُ يَسْعَى يَفْتَحُ لَكَ؟
"তুমি কি এতে খুশি হবে যে, তুমি জান্নাতের যে দরোজার পাশেই যাবে, সেখানেই তোমার সন্তানকে দৌড়ে গিয়ে তোমার জন্য দরোজা খুলে দিতে পাবে?”'
টিকাঃ
৫৮১. সুরা আল-হুজুরাত, ৪৯: ২।
৫৮২. সহিহুল বুখারি: ৩৬১৩, সহিহু মুসলিম: ১১৯।
৫৮৩. সুনানুন নাসায়ি: ১৮৭০।
📄 যুদ্ধ চলাকালীন তাদের ব্যাপারে একটু বেশিই খোঁজখবর নিতেন
জাইদ বিন সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সাদ বিন রাবিএ (রা)-এর খোঁজ করতে পাঠালেন এবং বললেন, "তাকে দেখলে আমার পক্ষ থেকে তাকে সালাম বলবে এবং বলবে, "তুমি কেমন বোধ করছ, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চেয়েছেন।"
অতঃপর আমি নিহতদের সারিতে ঘুরে ঘুরে তাকে খুঁজতে লাগলাম। একপর্যায়ে তাকে পেয়ে গেলাম। তখন তিনি একদম মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেলেন। তার শরীরে বর্শা, তরবারি ও তিরের আঘাত মিলিয়ে সত্তরটির মতো আঘাত ছিল।'
আমি তাকে বললাম, "হে সাদ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার জন্য সালাম পাঠিয়েছেন এবং আপনি কেমন বোধ করছেন, তা জানতে চেয়েছেন।"
তিনি বললেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তোমার প্রতি সালাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গিয়ে বলো, আমি জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি। আর আমার কওম আনসারদের (রা) বলো, "তোমাদের মধ্যে একজন ব্যক্তি বেঁচে থাকা অবস্থাতেও যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত হন, তখন আল্লাহর দরবারে তোমাদের কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।"-এই বলে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।'
এই ঘটনা প্রমাণ করে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের (রা) প্রতি বেশ যত্নশীল ছিলেন এবং মৃত্যুর পূর্বে ও পরে তাদের খোঁজখবর নিতেন।
(আমি জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি) হতে পারে, তখন আসলেই তিনি স্বাভাবিক সুগন্ধিসমূহের চেয়ে উন্নত কোনো সুঘ্রাণ পাচ্ছিলেন। ফলে তিনি বুঝতে পেরেছেন, এটাই জান্নাতি সুঘ্রাণ।
অথবা, জান্নাত লাভের দৃঢ় বিশ্বাস থেকে তিনি এমন কথা বলেছেন। যেহেতু দৃঢ় বিশ্বাস তার সামনে অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করে তুলেছিল।
টিকাঃ
৫৮৪. বাইহাকি (রহ) কৃত দালায়িলুন নুবুওয়াহ ৩/২৫৯।
৫৮৫. আল-মুনতাকা: ৩/৬৮।
৫৮৬. সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিয়ারি খাইরিল ইবাদ: ৪/২৪৭।
📄 তাদের কারও কারও জন্য নিজের পিতামাতাকে উৎসর্গ করার কথা বলতেন
সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য তাঁর তৃণীর থেকে তির বের করে বললেন:
ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي
"তোমার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক, তুমি তির নিক্ষেপ করতে থাকো।"'
এই বাক্যটি আরবরা উৎসাহ-উদ্দীপনা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। অর্থাৎ যদি সম্ভব হতো, তবে তোমার জন্য আমি প্রিয় পিতামাতাকে কুবরান করতাম।
সহিহ মুসলিমে (রহ) সাদ (রা)-থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের দিন তার জন্য তাঁর পিতামাতাকে একত্র করে উল্লেখ করেছিলেন।'
তিনি বলেন, 'মুশরিকদের এক ব্যক্তি মুসলমানদের ওপর আগুনের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি তির নিক্ষেপ করো। তোমার জন্য আমার মাতাপিতা কুবরান হোক।"
আমি তার উদ্দেশ্যে একটা তির বের করলাম, যাতে ফলা (ধারালো অংশটি) ছিল না। সেটা গিয়ে তার পাঁজরে লাগলে সে পড়ে গেল। এতে তার লজ্জাস্থান প্রকাশিত হয়ে গেল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসলেন যে, আমি তাঁর মাড়ির দাঁত দেখতে পেলাম।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাসার কারণ শত্রুর মৃত্যু; তার লজ্জাস্থান প্রকাশ পাওয়া নয়।
আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'খন্দক যুদ্ধের সময় আমি ও উমর বিন আবু সালামা (রা) কিল্লায় মহিলাদের সাথে ছিলাম। কখনো সে আমার জন্য পিঠ নিচু করে দিত, তখন আমি দেখতাম। আবার কখনো আমি তার জন্য পিঠ নিচু করে দিতাম, তখন সে দেখত।'
আমি দেখলাম, জুবাইর (রা) ঘোড়ায় চড়ে বনু কুরাইজার দিকে দুবার অথবা তিনবার গমন করলেন।'
অতঃপর যখন আমরা ফিরে আসলাম, তখন আমি তাকে বললাম, "আব্বু, আমি আপনাকে (বনু কুরাইজার দিকে) আসা-যাওয়া করতে দেখেছি।" তিনি বললেন, "তুমি কি আমাকে দেখেছ, হে বৎস?” আমি বললাম, "জি, দেখেছি।” তিনি বললেন, "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, "কেউ যদি বনু কুরাইজার নিকট গিয়ে তাদের খবর আমাকে এনে দিত।"
তাঁর কথা শুনে সেখানে গেলাম। যখন ফিরে আসলাম, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য তাঁর পিতামাতাকে একত্রে উল্লেখ করে বললেন:
فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي
"তোমার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক।"'
নববি (রহ) বলেন, 'এখানে প্রকৃত কুরবানি উদ্দেশ্য নয়। এটা ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত একটি বাক্য মাত্র।'
এই হাদিস থেকে ইবনে জুবাইরের (রা) ফজিলত ও তীক্ষ্ণ মেধাশক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ, তিনি হিজরতের বছর মদিনায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর সঠিক মত অনুসারে খন্দক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল হিজরি চতুর্থ বছরে। সুতরাং বর্ণিত ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। এই ছোট্ট বয়সেই তিনি পুরো ঘটনা স্মৃতিতে ধারণ করেছিলেন।'
টিকাঃ
৫৮৭. সহিহুল বুখারি: ৪০৫৫, সহিহু মুসলিম: ২৪১২।
৫৮৮. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৫/১৮৫।
৫৮৯. সহিহুল বুখারি: ৩৭২০, সহিহু মুসলিম: ২৫১৬।
৫৯০. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৫/১৮৪।
📄 সাহাবিদের মৃত্যুতে তিনি মর্মাহত ও অশ্রুসিক্ত হতেন
আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতার যুদ্ধে জাইদ বিন হারিসা (রা)-কে সেনাপতি বানিয়ে প্রেরণ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন:
إِنْ قُتِلَ زَيْدُ فَجَعْفَرُ، وَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرُ فَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ
"জাইদ (রা) নিহত হলে জাফর (রা) সেনাপতি হবে, জাফর (রা) নিহত হলে আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা) সেনাপতি হবে।"
আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা) বলেন, 'সেই যুদ্ধে তাদের দলে আমিও ছিলাম। আমরা জাফর বিন আবু তালিবকে (রা) তালাশ করলাম। তখন নিহতদের মাঝে তাকে পেলাম। তার শরীরে নব্বইয়ের অধিক তরবারি ও তিরের আঘাতের দাগ ছিল।'
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিলেন। তখন তিনি বললেন:
أَخَذَ الرَّايَةَ زَيْدُ فَأُصِيبَ، ثُمَّ أَخَذَهَا جَعْفَرُ فَأُصِيبَ، ثُمَّ أَخَذَهَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَأُصِيبَ - وَإِنَّ عَيْنَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَتَدْرِفَانِ - ثُمَّ أَخَذَهَا خَالِدُ بْنُ الوَلِيدِ مِنْ غَيْرِ إِمْرَةٍ فَفُتِحَ لَهُ
“জাইদ (রা) পতাকা ধারণ করল, অতঃপর সে নিহত হলো। তারপর জাফর (রা) পতাকা হাতে তুলে নিল। একপর্যায়ে সেও নিহত হলো।
তারপর আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা) পতাকা হাতে নিল, অতঃপর সেও নিহত হলো।-এ কথা বলার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। তার পর নেতৃত্ব ছাড়া খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) পতাকা হাতে নিল এবং তার হাতে বিজয় অর্জিত হলো।"'
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উসমান বিন মাজউন (রা)-এর মরদেহে চুম্বন করতে দেখেছি। তখন তাঁর কপোল বেয়ে অশ্রুধারা প্রবাহিত হতে দেখেছি।'
অপর বর্ণনায় আছে, 'তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল।'
মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'যখন উসমান বিন মাজউন (রা) ইনতিকাল করলেন, তখন তাঁর মৃতদেহ আনা হলো এবং দাফন করা হলো। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি পাথর আনতে বললেন। লোকটি পাথর বহনে সক্ষম হলেন না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরের কাছে গেলেন এবং তা ওঠানোর জন্য জামার হাতা গুটালেন।'
মুত্তালিব (রহ) বলেন, 'যে সাহাবি (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই ঘটনাটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, "আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের শুভ্রতার চমক এখনো অনুভব করি, যা তিনি জামার হাতা গুটানোর সময় প্রকাশ পেয়েছিল।"
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথরটি বহন করে এনে উসমান (রা)-এর মাথার দিকে রাখলেন। আর বললেন:
أَتَعَلَّمُ بِهَا قَبْرَ أَخِي، وَأَدْفِنُ إِلَيْهِ مَنْ مَاتَ مِنْ أَهْلِي
"এর মাধ্যমে আমি আমার ভাইয়ের কবর চিনতে পারব এবং আমার পরিবার থেকে কেউ মারা গেলে তাকে এর পাশে কবর দেবো।"'
উসমান বিন মাজউন (রা) তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধভাই ছিলেন। হাবশা ও মদিনা উভয় অঞ্চলে হিজরত করেছেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি জাহিলি যুগ থেকেই নিজের জন্য মদকে হারাম করে নিয়েছিলেন। হিজরতের পর মুহাজিরদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম মৃত্যুবরণ করেছিলেন। হিজরতের ত্রিশ মাসের মাথায় শাবান মাসে তার মৃত্যু হয়েছিল। তিনি আবিদ, মুজতাহিদ ও প্রথম সারির সাহাবিদের (রা) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।'
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মৃত্যুর পর মুসলমানকে চুম্বন করা এবং তার জন্য (বিলাপ না করে) কান্না করা বৈধ।
ইবনে কুদামা (রহ) বলেন, 'কোনো পাথর বা কাঠখণ্ড দ্বারা কবরকে চিহ্নিত করাতে কোনো সমস্যা নেই। ইমাম আহমাদ (রহ) বলেন, "কোনো বস্তু দ্বারা কবরকে চিহ্নিত করে রাখতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান বিন মাজউন (রা)-এর কবরকে চিহ্নিত করে রেখেছিলেন।"'
নিকটাত্মীয়দের কবরসমূহ পাশাপাশি রাখা মুসতাহাব। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'আমার পরিবার থেকে কেউ মারা গেলে তাকে এর (উসমান বিন মাজউন (রা)-এর কবর) পাশে কবর দেবো।' তারপর সর্বপ্রথম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তান ইবরাহিম (রা) ইনতিকাল করেন এবং তাকে তার পাশেই দাফন করা হয়।'
টিকাঃ
৫৯১. সহিহুল বুখারি: ৪২৬১।
৫৯২. সহিহুল বুখারি: ১২৪৬।
৫৯৩. সুনানু আবি দাউদ: ৩২০৬, সুনানুত তিরমিজি: ৯৮৯, সুনানু ইবনি মাজাহ ১৪৫৬।
৫৯৪. সুনানু আবি দাউদ: ৩২০৬।
৫৯৫. আল-ইসাবা: ৪/৪৬১।
৫৯৬. আল-মুগনি: ২/১৯১।
৫৯৭. মিরকাতুল মাফাতিহ: ৫/৪৫৭।