📄 বিশেষ বিষয়সমূহে ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে তাদের ওপর বেশি ভরসা করতেন
যেমন, তাঁর ব্যয়-ব্যবস্থাপনার কাজের জন্য ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইমান আনয়নকারী সাহাবি বিলাল বিন রাবাহ (রা)-এর ওপর ভরসা করেছিলেন।
আব্দুল্লাহ বিন হাওজানি (রহ) বলেন, 'একদা হালব শহরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুয়াজ্জিন বিলাল (রা)-এর সাথে আমার দেখা হলো। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "হে বিলাল, আপনি আমাকে বলুন-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভরণপোষণের ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা কীরূপ ছিল?" তিনি বললেন, "যখন থেকে আল্লাহ তাঁকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসেবে প্রেরণ করেন, তখন থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর কাজকর্মের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আমার ওপরই ন্যস্ত ছিল। যখনই তাঁর নিকট কোনো মুসলমান আসতেন এবং তিনি তাকে বস্ত্রহীন অবস্থায় দেখতেন, তখন আমাকে তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতেন। তখন আমি কর্জ নিয়ে তার জন্য চাদর খরিদ করে তাকে পরাতাম এবং তাকে খানা খাওয়াতাম।"
একদা জনৈক মুশরিক আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলল, "হে বিলাল, আমার কাছে অনেক ধন-দৌলত আছে। কাজেই তুমি আমি ছাড়া আর কারও থেকে ধার নিয়ো না।" এরপর থেকে আমি এরূপ করতে থাকলাম। একদিন আমি অজু করে যখন আজান দেওয়ার প্রস্তুত হচ্ছি, তখন আমি দেখতে পেলাম, সেই মুশরিক লোকটি একদল ব্যবসায়ীকে সাথে নিয়ে আমার দিকে আসছে। আমাকে দেখেই সে বলে উঠল, "হে হাবশি!” আমি বললাম, "কী বলবেন, বলুন।" তখন সে উত্তেজিত হয়ে আমাকে গালমন্দ করতে লাগল এবং বলল, "তোমার কি জানা আছে, মাসের আর কতদিন বাকি আছে?” আমি বললাম, "মাস তো প্রায় শেষ।” সে বলল, "তোমার মাস পূর্ণ হতে আর মাত্র চার দিন বাকি আছে। তারপর আমি তোমাকে কর্জের জন্য পাকড়াও করব। আমি তোমাকে এই জন্য ধার দিই না যে, তোমাকে আমি সম্মান করি কিংবা তোমার সর্দারকে (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) শ্রদ্ধা করি। আমি তোমাকে আমার গোলাম বানানোর জন্য ধার দিয়েছি। আমি তোমাকে আগের মতো ছাগল চরানোর কাজে নিয়ে যাব।"
বিলাল (রা) বলেন, "তার এরূপ কথা শুনে আমি খুব মর্মাহত হলাম, যেমনটি এমন অবস্থায় অন্যান্য মানুষ মর্মাহত হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় শেষে যখন স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন, আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করার জন্য অনুমতি চাইলাম। তিনি অনুমতি দিলেন। আমি তাঁর নিকট আরজ করলাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক! আমি যে মুশরিক ব্যক্তির নিকট হতে ধার নিতাম, সে আমাকে এরূপ এরূপ কথা বলেছে। এখন তো আপনার নিকট এমন কোনো সম্পদ নেই, যা দিয়ে আপনি আমার কর্জ পরিশোধ করতে পারেন। আমার কাছেও কিছু নেই। ওদিকে সে আমাকে বেইজ্জত করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। সুতরাং আপনি আমাকে অনুমতি দিন, যাতে আমি পালিয়ে গিয়ে এমন কোনো গ্রামে চলে যাই, যার অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করেছে; আর ততদিন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করি, যতদিন না আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য এ পরিমাণ মালের ব্যবস্থা করে দেন, যা দিয়ে আমি আমার কর্জ পরিশোধ করতে পারি।" এ কথা বলে আমি আমার ঘরে ফিরে আসলাম এবং আমার তরবারি, মোজা, জুতো ও ঢাল আমার শিয়রে রাখলাম (যাতে অতি ভোরে আমি চলে যেতে পারি)।'
যখন আমি অতি প্রত্যুষে পলায়ন করার জন্য প্রস্তুত হলাম, তখন হঠাৎ দেখতে পেলাম যে, এক ব্যক্তি দৌড়ে আমার কাছে এসে বলল, "হে বিলাল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে ডাকছেন।" তখন আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলাম যে, পিঠে মাল বোঝাই করা চারটি উট বসে আছে। এরপর আমি তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। তিনি বললেন, "সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমার কর্জ পরিশোধের জন্য আল্লাহ তাআলা এই মাল পাঠিয়ে দিয়েছেন।" আমি আল্লাহর প্রশংসা করলাম। অতঃপর তিনি বললেন, "তুমি কি দেখছ না, চারটি মাল-বোঝাই উট বসে আছে?" আমি বললাম, “হাঁ, দেখছি।” তিনি বললেন, "এ পশুসমূহ এবং এদের পিঠে যে মালামাল আছে, সবই তোমার। এতে কাপড় ও খাদ্যশস্য আছে, যা ফিদাকের বিশিষ্ট ধনী নেতা হাদিয়াস্বরূপ আমার জন্য পাঠিয়েছেন। সুতরাং তুমি এসব বুঝে নাও এবং তোমার যাবতীয় দেনা পরিশোধ করো।"
আমি তা-ই করলাম। উটগুলোর ওপর থেকে মালের বোঝা নামিয়ে সেগুলোকে বেঁধে রাখলাম। তারপর ফজরের আজান দেওয়ার জন্য মসজিদে গমন করলাম। নামাজ শেষ হওয়ার পর বাকি কবরস্থানের নিকট গিয়ে কানে আঙুল দিয়ে (বড় আওয়াজে) ঘোষণা করলাম, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কারও পাওনা থাকলে এখানে আসো।" তারপর আমি উক্ত মালগুলো বিক্রি করে এক এক করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল কর্জ পরিশোধ করে দিলাম। এমনকি জমিনের বুকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আর কোনো কর্জ রইল না। সব কর্জ পরিশোধ করার পর আমার নিকট দুই কি দেড় আওকিয়া অবশিষ্ট রইল।'
অতঃপর আমি মসজিদে গেলাম। এতক্ষণে দিনের অনেক প্রহর অতিবাহিত হয়ে গেল। মসজিদে গিয়ে দেখতে পেলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসে আছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম।'
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি যে সম্পদ পেয়েছ, তার কী করেছ?” আমি বললাম, “আল্লাহ তাআলা ওই সমস্ত দেনা পরিশোধ করে দিয়েছেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ছিল। আর কোনো দেনা অবশিষ্ট নেই।"
তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "ওই মাল হতে কিছু কি অবশিষ্ট আছে?" আমি বললাম, “হাঁ।” তখন তিনি বললেন, "আমি চাই যে, তুমি অবশিষ্ট মাল হতেও আমাকে চিন্তামুক্ত করবে (অর্থাৎ অতিসত্বর তা বিতরণ করে দেবে)। যতক্ষণ না তুমি আমাকে তা হতে চিন্তামুক্ত করবে, ততক্ষণ আমি আমার স্বজনদের কাছে ফিরে যাব না।"
সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের নিকট কেউই আসলো না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় শেষে আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, "অবশিষ্ট মালের কী করেছ?"
আমি বললাম, "তা আমার কাছেই আছে। তা গ্রহণের জন্য কেউ-ই আমার নিকট আসেনি।"
এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে রাত মসজিদেই কাটালেন। দ্বিতীয় দিন ইশার সালাত আদায় শেষে তিনি আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, "অবশিষ্ট মালের ব্যাপারে কী করেছ?” আমি বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহ তাআলা সেই মাল থেকে আপনাকে চিন্তামুক্ত করেছেন।" এ কথা শুনে তিনি “আল্লাহু আকবার" বললেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন। কারণ, তিনি সেই মাল তাঁর হাতে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু এসে যাওয়ার ভয় করছিলেন।'
এরপর তিনি ঘরে ফিরে গেলেন। আমি তাঁর পিছু পিছু সেখানে গেলাম। ঘরে যাওয়ার পর তিনি প্রত্যেক স্ত্রীকে আলাদাভাবে সালাম করলেন, তারপর সে রাতে যেখানে রাত্রিযাপন করার পালা ছিল, সেখানে গেলেন। এ-ই ছিল তাঁর ব্যয়-সম্পর্কিত বিস্তারিত বর্ণনা, যা তুমি আমার নিকট জানতে চেয়েছ।'
টিকাঃ
৫৮০. সুনানু আবি দাউদ: ৩০৫৫।
📄 বিশেষ সাহাবিদের মধ্যে থেকে কাউকে দেখতে না পেলে তার খোঁজ করতেন
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'যখন এই আয়াত নাজিল হলো:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
"মুমিনগণ, তোমরা নবির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উঁচু স্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেরূপ উঁচু স্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা টেরও পাবে না।"
তখন সাবিত (রা) নিজের ঘরে বসে গেলেন এবং বলতে লাগলেন, "আমি জাহান্নামি।” এরপর থেকে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাওয়া বন্ধ করে দিলেন।'
(তাকে দেখতে না পেয়ে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদ বিন মুআজ (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেন, "হে আবু আমর, সাবিতের (রা) কী হলো? তার কোনো অসুখ-বিসুখ হয়েছি কি?"
সাদ (রা) বললেন, "সে তো আমার প্রতিবেশী আর আমি কোনো অসুখ হয়েছে বলে জানি না।"
বর্ণনাকারী বলেন, 'অতঃপর সাদ (রা) তার কাছে গেলেন এবং তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন, তা জানালেন। তখন সাবিত (রা) বললেন, “এই আয়াত নাজিল হয়েছে। আর তোমরা তো জানোই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আমার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে বেশি উঁচু হয়ে যায়। সুতরাং আমি তো একজন জাহান্নামি।"
অতঃপর সাদ (রা) তা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে সাবিত (রা)-এর কথাটি বললেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "না, বরং সে জান্নাতি।"'
কুররা বিন ইয়াস (রা) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি তার ছেলেকে সাথে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করলেন।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তাকে কি ভালোবাসো?” তিনি বললেন, "আমি তাকে যে পরিমাণ ভালোবাসি, আল্লাহ তাআলা আপনাকে সেই পরিমাণ ভালোবাসুন।"
একদিন ছেলেটি মারা গেল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুপস্থিতি অনুভব করে তার ব্যাপারে খোঁজখবর নিলেন। অতঃপর ছেলেটির পিতাকে বললেন: مَا يَسُرُّكَ أَنْ لَا تَأْتِيَ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ إِلَّا وَجَدْتَهُ عِنْدَهُ يَسْعَى يَفْتَحُ لَكَ؟
"তুমি কি এতে খুশি হবে যে, তুমি জান্নাতের যে দরোজার পাশেই যাবে, সেখানেই তোমার সন্তানকে দৌড়ে গিয়ে তোমার জন্য দরোজা খুলে দিতে পাবে?”'
টিকাঃ
৫৮১. সুরা আল-হুজুরাত, ৪৯: ২।
৫৮২. সহিহুল বুখারি: ৩৬১৩, সহিহু মুসলিম: ১১৯।
৫৮৩. সুনানুন নাসায়ি: ১৮৭০।
📄 যুদ্ধ চলাকালীন তাদের ব্যাপারে একটু বেশিই খোঁজখবর নিতেন
জাইদ বিন সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সাদ বিন রাবিএ (রা)-এর খোঁজ করতে পাঠালেন এবং বললেন, "তাকে দেখলে আমার পক্ষ থেকে তাকে সালাম বলবে এবং বলবে, "তুমি কেমন বোধ করছ, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চেয়েছেন।"
অতঃপর আমি নিহতদের সারিতে ঘুরে ঘুরে তাকে খুঁজতে লাগলাম। একপর্যায়ে তাকে পেয়ে গেলাম। তখন তিনি একদম মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেলেন। তার শরীরে বর্শা, তরবারি ও তিরের আঘাত মিলিয়ে সত্তরটির মতো আঘাত ছিল।'
আমি তাকে বললাম, "হে সাদ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার জন্য সালাম পাঠিয়েছেন এবং আপনি কেমন বোধ করছেন, তা জানতে চেয়েছেন।"
তিনি বললেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তোমার প্রতি সালাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গিয়ে বলো, আমি জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি। আর আমার কওম আনসারদের (রা) বলো, "তোমাদের মধ্যে একজন ব্যক্তি বেঁচে থাকা অবস্থাতেও যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত হন, তখন আল্লাহর দরবারে তোমাদের কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।"-এই বলে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।'
এই ঘটনা প্রমাণ করে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের (রা) প্রতি বেশ যত্নশীল ছিলেন এবং মৃত্যুর পূর্বে ও পরে তাদের খোঁজখবর নিতেন।
(আমি জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি) হতে পারে, তখন আসলেই তিনি স্বাভাবিক সুগন্ধিসমূহের চেয়ে উন্নত কোনো সুঘ্রাণ পাচ্ছিলেন। ফলে তিনি বুঝতে পেরেছেন, এটাই জান্নাতি সুঘ্রাণ।
অথবা, জান্নাত লাভের দৃঢ় বিশ্বাস থেকে তিনি এমন কথা বলেছেন। যেহেতু দৃঢ় বিশ্বাস তার সামনে অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করে তুলেছিল।
টিকাঃ
৫৮৪. বাইহাকি (রহ) কৃত দালায়িলুন নুবুওয়াহ ৩/২৫৯।
৫৮৫. আল-মুনতাকা: ৩/৬৮।
৫৮৬. সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিয়ারি খাইরিল ইবাদ: ৪/২৪৭।
📄 তাদের কারও কারও জন্য নিজের পিতামাতাকে উৎসর্গ করার কথা বলতেন
সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য তাঁর তৃণীর থেকে তির বের করে বললেন:
ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي
"তোমার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক, তুমি তির নিক্ষেপ করতে থাকো।"'
এই বাক্যটি আরবরা উৎসাহ-উদ্দীপনা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। অর্থাৎ যদি সম্ভব হতো, তবে তোমার জন্য আমি প্রিয় পিতামাতাকে কুবরান করতাম।
সহিহ মুসলিমে (রহ) সাদ (রা)-থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের দিন তার জন্য তাঁর পিতামাতাকে একত্র করে উল্লেখ করেছিলেন।'
তিনি বলেন, 'মুশরিকদের এক ব্যক্তি মুসলমানদের ওপর আগুনের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি তির নিক্ষেপ করো। তোমার জন্য আমার মাতাপিতা কুবরান হোক।"
আমি তার উদ্দেশ্যে একটা তির বের করলাম, যাতে ফলা (ধারালো অংশটি) ছিল না। সেটা গিয়ে তার পাঁজরে লাগলে সে পড়ে গেল। এতে তার লজ্জাস্থান প্রকাশিত হয়ে গেল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসলেন যে, আমি তাঁর মাড়ির দাঁত দেখতে পেলাম।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাসার কারণ শত্রুর মৃত্যু; তার লজ্জাস্থান প্রকাশ পাওয়া নয়।
আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'খন্দক যুদ্ধের সময় আমি ও উমর বিন আবু সালামা (রা) কিল্লায় মহিলাদের সাথে ছিলাম। কখনো সে আমার জন্য পিঠ নিচু করে দিত, তখন আমি দেখতাম। আবার কখনো আমি তার জন্য পিঠ নিচু করে দিতাম, তখন সে দেখত।'
আমি দেখলাম, জুবাইর (রা) ঘোড়ায় চড়ে বনু কুরাইজার দিকে দুবার অথবা তিনবার গমন করলেন।'
অতঃপর যখন আমরা ফিরে আসলাম, তখন আমি তাকে বললাম, "আব্বু, আমি আপনাকে (বনু কুরাইজার দিকে) আসা-যাওয়া করতে দেখেছি।" তিনি বললেন, "তুমি কি আমাকে দেখেছ, হে বৎস?” আমি বললাম, "জি, দেখেছি।” তিনি বললেন, "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, "কেউ যদি বনু কুরাইজার নিকট গিয়ে তাদের খবর আমাকে এনে দিত।"
তাঁর কথা শুনে সেখানে গেলাম। যখন ফিরে আসলাম, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য তাঁর পিতামাতাকে একত্রে উল্লেখ করে বললেন:
فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي
"তোমার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক।"'
নববি (রহ) বলেন, 'এখানে প্রকৃত কুরবানি উদ্দেশ্য নয়। এটা ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত একটি বাক্য মাত্র।'
এই হাদিস থেকে ইবনে জুবাইরের (রা) ফজিলত ও তীক্ষ্ণ মেধাশক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ, তিনি হিজরতের বছর মদিনায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর সঠিক মত অনুসারে খন্দক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল হিজরি চতুর্থ বছরে। সুতরাং বর্ণিত ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। এই ছোট্ট বয়সেই তিনি পুরো ঘটনা স্মৃতিতে ধারণ করেছিলেন।'
টিকাঃ
৫৮৭. সহিহুল বুখারি: ৪০৫৫, সহিহু মুসলিম: ২৪১২।
৫৮৮. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৫/১৮৫।
৫৮৯. সহিহুল বুখারি: ৩৭২০, সহিহু মুসলিম: ২৫১৬।
৫৯০. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৫/১৮৪।