📄 মেহমান হিসেবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আচরণ
এতক্ষণ আমরা মেজবান হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণ কেমন ছিল, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন আলোচনা হবে মেহমান হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি খাওয়ার দাওয়াত কবুল করতেন, যদিও তা খুব অল্প খাবারই হোক। তিনি বলেন, 'যদি আমাকে কেবল একটি হাতা বা পায়া খেতে দাওয়াত দেওয়া হয়, আমি অবশ্যই তা কবুল করব।'
তিনি জন্তুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও নিকৃষ্ট অংশ-উভয়টিকে একত্র করার জন্য বিশেষভাবে হাতা ও পায়ার নাম নিয়েছেন। কেননা, হাতা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুব প্রিয় ছিল। আর পায়ার তো কোনো মূল্যই নেই।'
টিকাঃ
৫৪২. সহিহুল বুখারি: ২৫৬৮।
৫৪৩. ফাতহুল বারি: ৫/১৯৯।
📄 দাওয়াত কবুল করতেন, যদিও দাওয়াতদাতা গোলাম হোক
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর এক দরজি গোলামের বাড়িতে গেলাম। সে তাঁর সামনে "সারিদের" পেয়ালা উপস্থিত করল এবং নিজের কাজে লিপ্ত হলো। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুঁজে খুঁজে কদু বের করতে শুরু করলে আমি কদুর টুকরোগুলো বেছে বেছে তাঁর সামনে দিতে লাগলাম। এরপর থেকে আমি কদু পছন্দ করতে শুরু করি।'
হাদিস থেকে কয়েকটি বিষয় বোঝা যায়:
দরজি পেশা বৈধ।
সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি তার চেয়ে নিম্নশ্রেণির মানুষের ঘরে খাবার খেতে পারবে এবং তার দাওয়াত কবুল করতে পারবে।
খাদিমের সাথে একপাত্রে খাওয়া যায়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই বিনয়ী ছিলেন। সাহাবিদের (রা) সাথে তাঁর বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের বাড়িতে গিয়ে সে সম্পর্ক আরও পোক্ত করতেন।
সামান্য পরিমাণ খাবারের দাওয়াত দেওয়া হলেও দাওয়াত কবুল করা উচিত।
এক মেহমান অপর মেহমানের পাতে খাবার তুলে দিতে পারবে।
মেজবান চাইলে মেহমানের সাথে খানায় শরিক নাও হতে পারে। হাদিসের ঘটনায় দরজি খাবার পেশ করেছেন, কিন্তু তিনি সাথে আহার করেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ কাজে কোনো আপত্তি করেননি। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এমনটি করা বৈধ।
টিকাঃ
৫৪৫. সহিহুল বুখারি: ২০৯২, সহিহু মুসলিম: ২০৪১।
৫৪৬. ফাতহুল বারি: ৯/৫২৯। ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/২২৪।
📄 ইহুদির মন আকৃষ্ট করার জন্য তাদের দাওয়াতও কবুল করতেন
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, 'এক ইহুদি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যবের রুটি ও তেলযুক্ত বাসি সালনের দাওয়াত দিলে তিনি তা গ্রহণ করলেন।'
হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়, আহলে কিতাবের দাওয়াত কবুল করা বৈধ।
টিকাঃ
৫৪৫. সহিহুল বুখারি: ২০৯২, সহিহু মুসলিম: ২০৪১।
৫৪৬. ফাতহুল বারি: ৯/৫২৯। ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/২২৪।
📄 দাওয়াত অনিমন্ত্রিত কাউকে সঙ্গে নিতে চাইলে অনুমতি নিতেন
আবু মাসউদ আনসারি (রা) থেকে বর্ণিত, 'আবু শুআইব (রা) নামক জনৈক আনসারি সাহাবি ছিল। তার একজন কসাই গোলাম ছিল। আবু শুআইব (রা) একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় ক্ষুধার ছাপ দেখতে পেল। পরে তার গোলামকে বলল, "কী করছ! আমাদের পাঁচজনের জন্য তুমি খাবার প্রস্তুত করো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত দিতে চাই। পাঁচজনের তিনি একজন হবেন।"
গোলাম খাবার প্রস্তুত করল। অতঃপর আনসারি সাহাবিটি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁকে-সহ পাঁচজনকে দাওয়াত দিলেন। এক ব্যক্তি তাঁদের অনুগমন করল। দরোজা পর্যন্ত পৌঁছালে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এ লোকটি আমাদের অনুসরণ করেছে। তুমি ইচ্ছা করলে তাকে অনুমতি দিতে পারো, আর যদি চাও, তবে সে ফিরে যাবে।" লোকটি বললেন, "না, আমি বরং তাকে অনুমতি দেবো ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।"'
হাদিস থেকে বোঝা যায়:
কেউ অপরের জন্য খাবার তৈরি করলে, তা তার বাড়িতেও পাঠিয়ে দিতে পারবে অথবা নিজের ঘরে এনেও খাওয়াতে পারবে।
কাউকে দাওয়াত দিতে গেলে, তার কয়েকজন বিশেষ লোককেও দাওয়াত দেওয়া মুসতাহাব।
নিমন্ত্রিতের সাথে অনিমন্ত্রিত কেউ আসলে নিমন্ত্রণকারী তাকে বাধা দিতে পারবে। বাড়িতে ঢুকে গেলে বের করে দিতে পারবে।
টিকাঃ
৫৪৫. সহিহুল বুখারি: ২০৯২, সহিহু মুসলিম: ২০৪১।
৫৪৬. ফাতহুল বারি: ৯/৫২৯। ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/২২৪।
৫৪৭. মুসনাদু আহমাদ: ১৩৭৮৯।
৫৪৮. সহিহুল বুখারি: ২৪৫৬, সহিহু মুসলিম: ২০৩৬। শব্দউৎস: সহিহু মুসলিম।
৫৪৯. ফাতহুল বারি: ৯/৫৬০।