📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মেহমানদের আচরণে কষ্ট হলেও তাদের বিদায় করতে লজ্জা পেতেন

📄 মেহমানদের আচরণে কষ্ট হলেও তাদের বিদায় করতে লজ্জা পেতেন


আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ

'হে মুমিনগণ, তোমাদের অনুমতি দেওয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে চলে এসো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্য কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন না।'

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গৃহে প্রবেশ করার আদব শিক্ষা দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, গৃহে প্রবেশের অনুমতি ছাড়া খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে নবির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহে প্রবেশ করা নিষেধ।

অনুরূপভাবে খাবারের অপেক্ষায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাড়িতে বসে থাকতে এবং খাবার খাওয়ার পর গল্পগুজব করতেও নিষেধ করেছেন।

আয়াতের সারমর্ম হচ্ছে: নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে দুটি শর্ত ব্যতীত প্রবেশ করা যাবে না-

১. প্রবেশের অনুমতি থাকতে হবে।
২. প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পরপরই উঠে যেতে হবে।

এ জন্যই আল্লাহ বলেছেন, 'তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে স্বেচ্ছায় চলে এসো। (খানা খাওয়ার আগে বা পরে) কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না।'

এরপর আল্লাহ তাআলা এই নিষেধাজ্ঞার হিকমতও জানিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, 'নিশ্চয় এটা (প্রয়োজনের অধিক বসে থাকা) নবির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্য কষ্টদায়ক (অর্থাৎ তোমাদের বসে থাকার কারণে তিনি কষ্ট পান। কারণ, তোমাদের কারণে তাঁর বাড়ির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়)।

فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ 'তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন'-তোমাদের বের হয়ে যেতে বলতে পারেন না। কেননা, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ সাধারণত মানুষজনকে তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলতে লজ্জা অনুভব করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন না।'

আয়াত থেকে একটা শিক্ষা পাওয়া যায় যে, শরিয়তের বিধান ছেড়ে দেওয়াটা বাহ্যিকভাবে শিষ্টাচার বা আদব মনে হলেও বা তা পালনে লজ্জা অনুভব হলেও, শরিয়তের বিধান মানা আবশ্যক। কারণ, শরিয়তের বিধানের বিপরীত আদব হতেই পারে না।

আর আল্লাহ তাআলা এমন কোনো বিষয় বলতে লজ্জা করেন না, যেখানে আমাদের কল্যাণ রয়েছে। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দয়া করতে তিনি কোনো কসুর রাখেননি।

টিকাঃ
৫৪০. সুরা আল-আহজাব, ৩৩ ৫৩।
৫৪১. তাফসিরুস সাদি: ১/৬৭০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মেহমান হিসেবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আচরণ

📄 মেহমান হিসেবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আচরণ


এতক্ষণ আমরা মেজবান হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণ কেমন ছিল, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন আলোচনা হবে মেহমান হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি খাওয়ার দাওয়াত কবুল করতেন, যদিও তা খুব অল্প খাবারই হোক। তিনি বলেন, 'যদি আমাকে কেবল একটি হাতা বা পায়া খেতে দাওয়াত দেওয়া হয়, আমি অবশ্যই তা কবুল করব।'

তিনি জন্তুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও নিকৃষ্ট অংশ-উভয়টিকে একত্র করার জন্য বিশেষভাবে হাতা ও পায়ার নাম নিয়েছেন। কেননা, হাতা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুব প্রিয় ছিল। আর পায়ার তো কোনো মূল্যই নেই।'

টিকাঃ
৫৪২. সহিহুল বুখারি: ২৫৬৮।
৫৪৩. ফাতহুল বারি: ৫/১৯৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 দাওয়াত কবুল করতেন, যদিও দাওয়াতদাতা গোলাম হোক

📄 দাওয়াত কবুল করতেন, যদিও দাওয়াতদাতা গোলাম হোক


আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর এক দরজি গোলামের বাড়িতে গেলাম। সে তাঁর সামনে "সারিদের" পেয়ালা উপস্থিত করল এবং নিজের কাজে লিপ্ত হলো। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুঁজে খুঁজে কদু বের করতে শুরু করলে আমি কদুর টুকরোগুলো বেছে বেছে তাঁর সামনে দিতে লাগলাম। এরপর থেকে আমি কদু পছন্দ করতে শুরু করি।'

হাদিস থেকে কয়েকটি বিষয় বোঝা যায়:
দরজি পেশা বৈধ।
সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি তার চেয়ে নিম্নশ্রেণির মানুষের ঘরে খাবার খেতে পারবে এবং তার দাওয়াত কবুল করতে পারবে।
খাদিমের সাথে একপাত্রে খাওয়া যায়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই বিনয়ী ছিলেন। সাহাবিদের (রা) সাথে তাঁর বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের বাড়িতে গিয়ে সে সম্পর্ক আরও পোক্ত করতেন।
সামান্য পরিমাণ খাবারের দাওয়াত দেওয়া হলেও দাওয়াত কবুল করা উচিত।
এক মেহমান অপর মেহমানের পাতে খাবার তুলে দিতে পারবে।
মেজবান চাইলে মেহমানের সাথে খানায় শরিক নাও হতে পারে। হাদিসের ঘটনায় দরজি খাবার পেশ করেছেন, কিন্তু তিনি সাথে আহার করেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ কাজে কোনো আপত্তি করেননি। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এমনটি করা বৈধ।

টিকাঃ
৫৪৫. সহিহুল বুখারি: ২০৯২, সহিহু মুসলিম: ২০৪১।
৫৪৬. ফাতহুল বারি: ৯/৫২৯। ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/২২৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ইহুদির মন আকৃষ্ট করার জন্য তাদের দাওয়াতও কবুল করতেন

📄 ইহুদির মন আকৃষ্ট করার জন্য তাদের দাওয়াতও কবুল করতেন


আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, 'এক ইহুদি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যবের রুটি ও তেলযুক্ত বাসি সালনের দাওয়াত দিলে তিনি তা গ্রহণ করলেন।'

হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়, আহলে কিতাবের দাওয়াত কবুল করা বৈধ।

টিকাঃ
৫৪৫. সহিহুল বুখারি: ২০৯২, সহিহু মুসলিম: ২০৪১।
৫৪৬. ফাতহুল বারি: ৯/৫২৯। ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/২২৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00