📄 অতিথিপরায়ণতাকে ঈমানের আলামত বলেছেন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর ইমান রাখে, সে যেন মেহমানের প্রতি সদাচার করে।'
মেহমানের প্রতি সদাচার বলতে বোঝায়, তার সাথে হাসিমুখে কথা বলা, দ্রুত তার মেহমানদারির ব্যবস্থা করা, উদার হৃদয়ে তার সেবা করা ইত্যাদি।
টিকাঃ
৫২২. সহিহুল বুখারি: ৬০১৮, সহিহু মুসলিম: ৪৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত।
📄 অতিথিপরায়ণ ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন
ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'তাবুক অভিযানের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিলেন। বললেন, “মানুষের মধ্যে দুই ব্যক্তির মতো (উত্তম) কেউ নেই। তাদের একজন হলো, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার উদ্দেশ্যে ঘোড়ার লাগাম ধরে প্রস্তুত থাকে এবং মানুষের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকে। দ্বিতীয়জন হলো, যে ছাগলের পাল নিয়ে জঙ্গলে বসবাস করে, মেহমানদারি করে এবং মেহমানের হক আদায় করে।"'
টিকাঃ
৫২৩. মুসনাদু আহমাদ: ১৯৮৮।
📄 প্রত্যেক মুসলমান মেহমানদারি পাওয়ার হক রাখে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'এক রাত মেহমানদারি করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। কারও বাড়ির সীমানায় যদি মেহমানের পদার্পণ ঘটে, তবে এক দিনের মেহমানদারি তার ওপর কর্জ হিসেবে আপতিত হয়। মেহমান চাইলে তা আদায় করে নিতে পারে কিংবা তার দাবি পরিত্যাগ করতে পারে।'
খাত্তাবি (রহ) বলেন, 'যুগ যুগ ধরে মেহমানদারি ভালো ও নেককার মানুষদের আলামত হিসেবে স্বীকৃত এবং মেহমানদারি করতে অস্বীকৃতি মানুষের কাছে নিন্দিত।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান বিন মাজউন (রা)-কে বললেন, 'নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার মেহমানের অধিকার রয়েছে।'
উকবা বিন আমির (রা) বলেন, 'একবার আমরা বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি কখনো কখনো আমাদের এমন সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেন, যারা আমাদের মেহমানদারি করে না। এমতাবস্থায় আমরা কী করব?” উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি তোমরা কোনো কওমের কাছে গিয়ে পৌঁছাও, তখন মেহমানদারিস্বরূপ তারা যা কিছু তোমাদের দেয়, তা সাদরে গ্রহণ কোরো। আর যদি তারা তা না করে, তখন মেহমানদারির অধিকার তাদের থেকে (যেকোনো উপায়ে) আদায় করে নিয়ো।"'
এই হাদিস মেহমানদারি গ্রহণ করতে একান্ত বাধ্য লোকদের জন্য প্রযোজ্য। কেননা, তাদের মেহমানদারি করা ওয়াজিব। সুতরাং কেউ যদি তাদের মেহমানদারি না করে, তখন তারা যেকোনো উপায়ে তাদের প্রয়োজন আদায় করে নেওয়ার অধিকার রাখবে।
আর কেউ কেউ বলেন, 'হাদিসের মর্ম হচ্ছে, তোমাদের মেহমানদারি না করার কারণে তোমরা তাদের কৃপণতা ও নীচুতার কথা লোকদের বলে তাদের মানহানি করতে পারবে।'
টিকাঃ
৫২৪. সুনানু আবি দাউদ: ৩৭৫০, সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩৬৭৭।
৫২৫. আওনুল মাবুদ: ১০/১৫৪।
৫২৬. সুনানু আবি দাউদ: ১৩৬৯। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত।
৫২৭. সহিহুল বুখারি: ২৪৬১, সহিহু মুসলিম: ১৭২৭
৫২৮. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১২/৩২।
📄 মেহমানদারির সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন
আবু শুরাইহ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের (কিয়ামতের) ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানকে সম্মান করার মাধ্যমে তার ন্যায্য অধিকার আদায় করে দেয়। লোকেরা বলল, "হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তার ন্যায্য অধিকার কী?" তিনি বললেন, "এক দিন ও এক রাত তার মেহমানদারি করা। সাধারণভাবে মেহমানদারি হলো তিন দিন। এর অতিরিক্ত করলে তা হবে সাদাকা অর্থাৎ অতিরিক্ত উদারতা। আর কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয় মেজবানের কাছে এত বেশি সময় অবস্থান করা, যাতে সে গুনাহে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়।" লোকেরা বলল, "ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, গুনাহে লিপ্ত হতে বাধ্য হয় মানে কী?" তিনি বললেন, "এত বেশি সময় তার কাছে অবস্থান করা, যাতে মেহমানদারি করার মতো তার কাছে কিছু থাকে না।"'
ওপরে উল্লেখিত হাদিসসমূহ থেকে প্রতীয়মান হয়, মেহমানের হক তিন স্তরের : ওয়াজিব, মুসতাহাব ও সাদাকা।
ওয়াজিব হলো এক দিন, এক রাত। মুসতাহাব হলো তিন দিন। তিন দিনের বেশি মেহমানদারি করা সাদাকা।
মেহমান যদি মুসাফির হয় এবং অন্য শহর থেকে আসা কোনো আগন্তুক হয়, তখন তাকে সম্মান করা এবং তাকে খানা খাওয়ানো মেজবানের ওপর ওয়াজিব। যদি না করে, তাহলে তার সম্পদে মেহমানের হক থেকে যাবে।
পক্ষান্তরে, মেহমান যদি নিজ শহরের হয়, তখনও হাদিসের ব্যাপকতার দাবি অনুযায়ী তাকে সম্মান করতে হবে এবং তাকে খানা খাওয়াতে হবে। তবে যে মেহমানকে খানা খাওয়ানো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াজিব বলেছেন, এই মেহমান সেই মেহমান নয়। তাই একে খানা না খাওয়ালে মেজবানের সম্পদে তার হক থেকে যাবে না।
আর তিন দিনের বেশি অবস্থান করার মাধ্যমে মেজবানের ওপর বোঝা হওয়া মেহমানের জন্য জায়িজ নেই। কেননা, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'মেহমানের জন্য বৈধ নয় যে, সে মেজবানের কষ্ট হওয়া পর্যন্ত তার নিকট অবস্থান করবে।'
টিকাঃ
৫২৯. সহিহুল বুখারি: ৬০১৯, সহিহু মুসলিম: ৪৮
৫৩০. সহিহুল বুখারি: ৬১৩৫। আবু শুরাইহ (রা) থেকে বর্ণিত।