📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আল্লাহ তাআলা মহানুভব এবং তিনি মহানুভবতা ভালোবাসেন

📄 আল্লাহ তাআলা মহানুভব এবং তিনি মহানুভবতা ভালোবাসেন


সাহল বিন সাইদ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মহানুভব এবং তিনি মহানুভবতা ও উন্নত চরিত্র ভালোবাসেন। আর মন্দ কাজ অপছন্দ করেন।'

এ জন্যই আমর বিন হারিস (রা) বলেন, 'মৃত্যুর সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনার, দিরহাম, গোলাম, বাঁদি ইত্যাদি কিছুই রেখে যাননি। কেবল রেখে যান একটি সাদা খচ্চর, যুদ্ধের হাতিয়ার আর এক খণ্ড জমি-যেটি তিনি সাদাকা করে দিয়েছিলেন। এমনকি মৃত্যুর সময় তাঁর বর্মটি এক ইহুদির কাছে ত্রিশ সা' যবের বিনিময়ে বন্ধক রাখা ছিল।'

টিকাঃ
৫২০. মুসতাদরাকুল হাকিম: ১৫২।
৫২১. সহিহুল বুখারি: ২৯১৬, সহিহু মুসলিম: ১৬০৩। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অতিথিপরায়ণতাকে ঈমানের আলামত বলেছেন

📄 অতিথিপরায়ণতাকে ঈমানের আলামত বলেছেন


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর ইমান রাখে, সে যেন মেহমানের প্রতি সদাচার করে।'

মেহমানের প্রতি সদাচার বলতে বোঝায়, তার সাথে হাসিমুখে কথা বলা, দ্রুত তার মেহমানদারির ব্যবস্থা করা, উদার হৃদয়ে তার সেবা করা ইত্যাদি।

টিকাঃ
৫২২. সহিহুল বুখারি: ৬০১৮, সহিহু মুসলিম: ৪৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অতিথিপরায়ণ ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন

📄 অতিথিপরায়ণ ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন


ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'তাবুক অভিযানের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিলেন। বললেন, “মানুষের মধ্যে দুই ব্যক্তির মতো (উত্তম) কেউ নেই। তাদের একজন হলো, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার উদ্দেশ্যে ঘোড়ার লাগাম ধরে প্রস্তুত থাকে এবং মানুষের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকে। দ্বিতীয়জন হলো, যে ছাগলের পাল নিয়ে জঙ্গলে বসবাস করে, মেহমানদারি করে এবং মেহমানের হক আদায় করে।"'

টিকাঃ
৫২৩. মুসনাদু আহমাদ: ১৯৮৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রত্যেক মুসলমান মেহমানদারি পাওয়ার হক রাখে

📄 প্রত্যেক মুসলমান মেহমানদারি পাওয়ার হক রাখে


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'এক রাত মেহমানদারি করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। কারও বাড়ির সীমানায় যদি মেহমানের পদার্পণ ঘটে, তবে এক দিনের মেহমানদারি তার ওপর কর্জ হিসেবে আপতিত হয়। মেহমান চাইলে তা আদায় করে নিতে পারে কিংবা তার দাবি পরিত্যাগ করতে পারে।'

খাত্তাবি (রহ) বলেন, 'যুগ যুগ ধরে মেহমানদারি ভালো ও নেককার মানুষদের আলামত হিসেবে স্বীকৃত এবং মেহমানদারি করতে অস্বীকৃতি মানুষের কাছে নিন্দিত।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান বিন মাজউন (রা)-কে বললেন, 'নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার মেহমানের অধিকার রয়েছে।'

উকবা বিন আমির (রা) বলেন, 'একবার আমরা বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি কখনো কখনো আমাদের এমন সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেন, যারা আমাদের মেহমানদারি করে না। এমতাবস্থায় আমরা কী করব?” উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি তোমরা কোনো কওমের কাছে গিয়ে পৌঁছাও, তখন মেহমানদারিস্বরূপ তারা যা কিছু তোমাদের দেয়, তা সাদরে গ্রহণ কোরো। আর যদি তারা তা না করে, তখন মেহমানদারির অধিকার তাদের থেকে (যেকোনো উপায়ে) আদায় করে নিয়ো।"'

এই হাদিস মেহমানদারি গ্রহণ করতে একান্ত বাধ্য লোকদের জন্য প্রযোজ্য। কেননা, তাদের মেহমানদারি করা ওয়াজিব। সুতরাং কেউ যদি তাদের মেহমানদারি না করে, তখন তারা যেকোনো উপায়ে তাদের প্রয়োজন আদায় করে নেওয়ার অধিকার রাখবে।

আর কেউ কেউ বলেন, 'হাদিসের মর্ম হচ্ছে, তোমাদের মেহমানদারি না করার কারণে তোমরা তাদের কৃপণতা ও নীচুতার কথা লোকদের বলে তাদের মানহানি করতে পারবে।'

টিকাঃ
৫২৪. সুনানু আবি দাউদ: ৩৭৫০, সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩৬৭৭।
৫২৫. আওনুল মাবুদ: ১০/১৫৪।
৫২৬. সুনানু আবি দাউদ: ১৩৬৯। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত।
৫২৭. সহিহুল বুখারি: ২৪৬১, সহিহু মুসলিম: ১৭২৭
৫২৮. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১২/৩২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00