📄 স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেশীর দাওয়াতে যেতেন
আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক ফারসি (বর্তমান ইরানি) প্রতিবেশী ছিল। ভালো স্যুপ রান্না করতে পারত সে। একদিন স্যুপ রান্না করে সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত দিতে আসলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, "আয়িশাও (রা)?" সে জবাব দিল, "না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে আমিও না।" লোকটি আবারও দাওয়াত দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারও বললেন, "আয়িশাও (রা)?" লোকটি উত্তর দিল, "না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে আমিও না।" তৃতীয়বার দাওয়াত দিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কথা বললেন। এবার লোকটি "হাঁ” বলল। এরপর তাঁরা দুজন হুড়মুড় করে উঠলেন। পরস্পরকে অনুসরণ করে চলতে চলতে উপস্থিত হলেন সে ফারসির বাড়িতে।'
হাদিস বিশারদগণ (রহ) বলেন, 'ফারসি সাহাবির (রা) কাছে খাবারের পরিমাণ কম ছিল। তাই আয়িশা (রা)-কে প্রথমে দাওয়াত দিতে চাননি। তিনি চাইছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেট পুরে খাওয়াতে।'
ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রা)-কে রেখে একা দাওয়াতে যেতে অপছন্দ করলেন। স্ত্রীর প্রতি সুন্দর আচরণের এক সুন্দর নিদর্শন এটি। দাম্পত্য জীবনের অধিকার আদায় ও অন্তরঙ্গতারও একটি যথার্থ উদাহরণ এ হাদিসটি।'
টিকাঃ
৫০৭. সহিহু মুসলিম: ২০৩৭।
৫০৮. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/২০৯।
📄 প্রতিবেশীর দেওয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করতেন
উম্মে সালামা (রা) বলেন, 'একদিন আমি ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই লেপের নিচে শুয়ে ছিলাম। এমন সময় আমাদের প্রতিবেশীর একটি ছাগল দরোজা ডিঙিয়ে ভেতরে চলে এল। আমাদের খাবার রুটি থেকে একটি নিয়ে নিল মুখে। আমি তখন ছাগলটির দিকে এগিয়ে গেলাম। তার মুখ থেকে রুটিটি কেড়ে নিলাম।'
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এত কঠোরতার সাথে তার থেকে নেওয়া উচিত হয়নি তোমার জন্য। কারণ, প্রতিবেশীকে এতটুকু কষ্ট দেওয়াও গুরুতর।"'
মুনাবি (রহ) বলেন, 'অর্থাৎ প্রতিবেশী প্রতিবেশীকে যে কষ্ট দেয়, কম হলেও সে কষ্ট ক্ষমার অযোগ্য। কষ্টের পরিমাণ কম হলেও এতে গুনাহ হয় অধিক।'
হাসান (রহ) বলেন, 'কেবল প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়াই প্রতিবেশীর হক উত্তমরূপে আদায় করা নয়। বরং প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে আসা কষ্টে ধৈর্যধারণ করাও উত্তম প্রতিবেশিত্বের অংশ।'
টিকাঃ
৫০৯. তাবারানি কৃত আল-কাবির ১৩/২৫৮, হাদিস নং ৫৩৫; ইবনে আরাবি (রহ) কৃত মা'জাম: ৩৫৩; হাইসুমি (রহ) আল-মাজমা'তে বলেন, 'এ হাদিসের সনদের রাবিগণ সিকাহ।' আলবানি (রহ) ১১-এর মতে হাদিসটি জইফ; জইফুল জামি: ২০৭৭।
৫১০. আত-তাইসির বি-শারহিল জামিয়িস সাগির: ২/৫০২।
৫১১. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১৪১।
📄 প্রতিবেশীর মূল্যায়নেই চেনা যায় সৎ মানুষ
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) বলেন, 'এক লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, "আমি কীভাবে বুঝব যে, কখন আমি ভালো করি আর কখন খারাপ কর্ম করি?"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "যখন তুমি শুনবে, তোমার প্রতিবেশী বলছে, তুমি ভালো করেছ। তবে তুমি ভালো করেছ। যখন তুমি শুনবে, তোমার প্রতিবেশী বলছে, তুমি মন্দ করেছ। তবে তুমি মন্দ করেছ।"'
টিকাঃ
৫১২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪২৩৩। হাদিসের মান: সহিহ।
📄 প্রতিবেশীর প্রয়োজনে কখনো না বলেনো না
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের কোনো প্রতিবেশী যদি প্রয়োজনে তোমাদের দেয়ালে কড়িকাঠ স্থাপন করতে চায়, তোমরা তাকে বাধা দিয়ো না।"
আবু হুরাইরা (রা) হাদিস বলা শেষ করে দেখলেন, উপস্থিত লোকদের মাথা নিচু হয়ে আছে। তখন তিনি বলে উঠলেন, "কী হলো আমি যে তোমাদের অনাগ্রহী দেখছি? আল্লাহর শপথ, যতক্ষণ তোমরা এটি (হাদিস) গ্রহণ করে না নেবে, ততক্ষণ আমি তোমাদের ঘাড়ের ওপর এ কথা নিক্ষেপ করতে থাকব। (ততক্ষণ আমি তোমাদের হাদিসটি শুনিয়ে যাব।)"'
ইবনে রজব (রহ) বলেন, 'এ হাদিসের ওপর ভিত্তি করে ইমাম আহমাদের (রহ) মাজহাব হচ্ছে, প্রতিবেশীর যখন প্রয়োজন পড়বে অপর প্রতিবেশীর দেয়ালে কাঠ স্থাপনের, অপর প্রতিবেশীর সে সুযোগ দেওয়া আবশ্যক। তবে দেয়ালের কোনো ক্ষতি হতে পারবে না।'
জুমহুর আলিমদের (রহ) মত একাধিক হাদিসে এসেছে, কোনো মুসলমানের সন্তুষ্টি ব্যতীত তার সম্পদে হস্তক্ষেপ করা হারাম। তাই জুমহুর আলিমগণ (রহ) অন্যান্য হাদিসের সাথে সমন্বয় করে এ হাদিসের আদেশকে মুসতাহাব হুকুম বলে উল্লেখ করেছেন।'
টিকাঃ
৫১৩. সহিহুল বুখারি: ২৪৬৩, সহিহু মুসলিম: ১৬০৯, সুনানুত তিরমিজি: ১২৭৩। শব্দউৎস: সুনানুত তিরমিজি।
৫১৪. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১৪০।