📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রতিবেশীকে খাবার পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করতেন তিনি

📄 প্রতিবেশীকে খাবার পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করতেন তিনি


আবু জার (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হে আবু জার, যখন তুমি তরকারি রান্না করবে, তখন তরকারিতে ঝোল বাড়িয়ে দেবে এবং কিছুটা তরকারি তোমার প্রতিবেশীকে দেবে।"'

হাদিসটি আবু জার (রা) থেকে অন্য শব্দেও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আমার বন্ধু আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, "তুমি তরকারি রান্না করার সময় ঝোল বাড়িয়ে দিয়ো। এরপর তোমার বাড়ির প্রতিবেশীদের খোঁজ নিয়ো। তাদের সে তরকারি থেকে সুষমভাবে কিছুটা দিয়ো।"'

আজকে যারা নিজেদের মুসলিম হিসেবে দাবি করে, তাদের মাঝে এ আমল দেখা যায় কি?! নিজ পরিবারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার রান্না হয়। এরপর সে খাবার পুরোটা খেতে না পারায় ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, কিন্তু প্রতিবেশীকে দেওয়া হয় না। অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছে। ক্ষুধা নিবারণের মতো কিছুই নেই তার কাছে।

আর এটি পরিষ্কার প্রতিবেশীর অধিকার লঙ্ঘন এবং মানবিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যে ব্যক্তি জ্ঞাতসারে তার প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্ত রেখে তৃপ্তিভরে খেয়ে রাত যাপন করে, সে আমার প্রতি ইমান আনেনি।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের (রা) উৎসাহিত করতেন, তারা যেন প্রতিবেশীকে খাওয়ায়। আনাস (রা) বর্ণনা করেন, 'একবার উম্মে সুলাইম (রা) আমাকে বলেন, "নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও, তাঁকে বলো, যদি তিনি আমাদের এখানে খেতে চান, তবে যেন খেতে আসেন।"

আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁকে খবর পৌঁছে দিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আমার সাথে যারা আছে, তারাও কি আসবে?"

আমি বললাম, "জি।"

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকদের বললেন, "চলো।"

আমি উম্মে সুলাইমের (রা) কাছে চলে এলাম। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এত অধিক লোক দেখে বিস্মিত হলাম। পরিস্থিতি দেখে উম্মে সুলাইম (রা) বললেন, "আনাস, এ কী করলে তুমি?!"

এর পরপরই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। উম্মে সুলাইমকে (রা) বললেন, “তোমার কাছে ঘি আছে?"

উম্মে সুলাইম (রা): জি, একটি কৌটায় অল্প ঘি আছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: তা-ই নিয়ে আসো।

এরপর আমি ঘির কৌটা নিয়ে আসলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা খুললেন এবং বললেন, "বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ এতে বরকত দিন।"

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইমকে (রা) বললেন, "এটি উল্টো করো।" তিনি উল্টো করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিসমিল্লাহ পড়ে কৌটাটি নাড়া দিয়ে ঘি বের করতে লাগলেন। তারপর আমি তৃপ্তিভরে খাওয়ার পরিমাণ নিলাম এবং সেখান থেকে ৮০ জনেরও অধিক লোক খেল। তারপরও কৌটায় ঘি থেকে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি উম্মে সুলাইমকে (রা) দিলেন এবং বললেন, "এখান থেকে নিজে খাও এবং তোমার প্রতিবেশীদের খাওয়াও।"'

টিকাঃ
৫০৩. সহিহু মুসলিম: ২৬২৫।
৫০৪. সহিহু মুসলিম: ৪৭৫৯।
৫০৫. তাবারানি: ৭৫১। হাদিসের মান: সহিহ।
৫০৬. মুসনাদু আহমাদ: ১৩১৩৫। হাদিসের মান: সহিহ।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেশীর দাওয়াতে যেতেন

📄 স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেশীর দাওয়াতে যেতেন


আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক ফারসি (বর্তমান ইরানি) প্রতিবেশী ছিল। ভালো স্যুপ রান্না করতে পারত সে। একদিন স্যুপ রান্না করে সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত দিতে আসলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, "আয়িশাও (রা)?" সে জবাব দিল, "না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে আমিও না।" লোকটি আবারও দাওয়াত দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারও বললেন, "আয়িশাও (রা)?" লোকটি উত্তর দিল, "না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে আমিও না।" তৃতীয়বার দাওয়াত দিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কথা বললেন। এবার লোকটি "হাঁ” বলল। এরপর তাঁরা দুজন হুড়মুড় করে উঠলেন। পরস্পরকে অনুসরণ করে চলতে চলতে উপস্থিত হলেন সে ফারসির বাড়িতে।'

হাদিস বিশারদগণ (রহ) বলেন, 'ফারসি সাহাবির (রা) কাছে খাবারের পরিমাণ কম ছিল। তাই আয়িশা (রা)-কে প্রথমে দাওয়াত দিতে চাননি। তিনি চাইছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেট পুরে খাওয়াতে।'

ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রা)-কে রেখে একা দাওয়াতে যেতে অপছন্দ করলেন। স্ত্রীর প্রতি সুন্দর আচরণের এক সুন্দর নিদর্শন এটি। দাম্পত্য জীবনের অধিকার আদায় ও অন্তরঙ্গতারও একটি যথার্থ উদাহরণ এ হাদিসটি।'

টিকাঃ
৫০৭. সহিহু মুসলিম: ২০৩৭।
৫০৮. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/২০৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রতিবেশীর দেওয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করতেন

📄 প্রতিবেশীর দেওয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করতেন


উম্মে সালামা (রা) বলেন, 'একদিন আমি ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই লেপের নিচে শুয়ে ছিলাম। এমন সময় আমাদের প্রতিবেশীর একটি ছাগল দরোজা ডিঙিয়ে ভেতরে চলে এল। আমাদের খাবার রুটি থেকে একটি নিয়ে নিল মুখে। আমি তখন ছাগলটির দিকে এগিয়ে গেলাম। তার মুখ থেকে রুটিটি কেড়ে নিলাম।'

তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এত কঠোরতার সাথে তার থেকে নেওয়া উচিত হয়নি তোমার জন্য। কারণ, প্রতিবেশীকে এতটুকু কষ্ট দেওয়াও গুরুতর।"'

মুনাবি (রহ) বলেন, 'অর্থাৎ প্রতিবেশী প্রতিবেশীকে যে কষ্ট দেয়, কম হলেও সে কষ্ট ক্ষমার অযোগ্য। কষ্টের পরিমাণ কম হলেও এতে গুনাহ হয় অধিক।'

হাসান (রহ) বলেন, 'কেবল প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়াই প্রতিবেশীর হক উত্তমরূপে আদায় করা নয়। বরং প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে আসা কষ্টে ধৈর্যধারণ করাও উত্তম প্রতিবেশিত্বের অংশ।'

টিকাঃ
৫০৯. তাবারানি কৃত আল-কাবির ১৩/২৫৮, হাদিস নং ৫৩৫; ইবনে আরাবি (রহ) কৃত মা'জাম: ৩৫৩; হাইসুমি (রহ) আল-মাজমা'তে বলেন, 'এ হাদিসের সনদের রাবিগণ সিকাহ।' আলবানি (রহ) ১১-এর মতে হাদিসটি জইফ; জইফুল জামি: ২০৭৭।
৫১০. আত-তাইসির বি-শারহিল জামিয়িস সাগির: ২/৫০২।
৫১১. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১৪১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রতিবেশীর মূল্যায়নেই চেনা যায় সৎ মানুষ

📄 প্রতিবেশীর মূল্যায়নেই চেনা যায় সৎ মানুষ


আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) বলেন, 'এক লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, "আমি কীভাবে বুঝব যে, কখন আমি ভালো করি আর কখন খারাপ কর্ম করি?"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "যখন তুমি শুনবে, তোমার প্রতিবেশী বলছে, তুমি ভালো করেছ। তবে তুমি ভালো করেছ। যখন তুমি শুনবে, তোমার প্রতিবেশী বলছে, তুমি মন্দ করেছ। তবে তুমি মন্দ করেছ।"'

টিকাঃ
৫১২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪২৩৩। হাদিসের মান: সহিহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00