📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রতিবেশীকে কষ্টদানকারীর আমল তার কাজে আসবে না

📄 প্রতিবেশীকে কষ্টদানকারীর আমল তার কাজে আসবে না


আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'এক লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এক নারী তার অত্যধিক নামাজ, রোজা, দানের জন্য সুপরিচিত। কিন্তু সে কথার মাধ্যমে তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন?"

"সে জাহান্নামী।” বললেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

লোকটা আবার বলল, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আরেক নারীর ব্যাপারে প্রসিদ্ধি আছে যে, সে রোজা কম রাখে, দানও কম করে এবং নামাজও কম পড়ে। বলতে গেলে সে এক টুকরো পনিরই দান করে। কিন্তু প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন?"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, "সে জান্নাতি।"'

টিকাঃ
৪৮৮. মুসনাদু আহমাদ ৯২৯৮। হাদিসের মান: সহিহ।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মুসলিম ও অমুসলিম উভয়েই প্রতিবেশীর অধিকার পাবে

📄 মুসলিম ও অমুসলিম উভয়েই প্রতিবেশীর অধিকার পাবে


মুজাহিদ (রহ) বলেন, 'আব্দুল্লাহ বিন আমরের (রা) ঘরে একটি ছাগল জবাই হলো। তিনি ঘরে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা কি আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে ছাগলের গোশত হাদিয়া দিয়েছ? আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, "জিবরিল (আ) আমাকে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে এত বেশি নির্দেশনা দিতে থাকলেন যে, শেষ পর্যন্ত আমার ধারণা হলো, অচিরেই প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ বানিয়ে ওহি নাজিল হবে।"'

ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'প্রতিবেশী মুসলিম হোক বা কাফির, ইবাদতগুজার বা পাপাচারী, বন্ধু বা শত্রু, মুসাফির বা স্থায়ী বাসিন্দা, উপকারী বা ক্ষতিকর, আত্মীয় বা অনাত্মীয়, ঘরের দিক থেকে কাছের বা দূরের, সব ধরনের প্রতিবেশীর ক্ষেত্রে অবস্থা বিবেচনায় প্রতিবেশিত্বের অধিকার প্রযোজ্য হবে।'

প্রতিবেশীর বিবিধ স্তর আছে। এ স্তর বিন্যাসে সবচেয়ে উচ্চ স্তরে আছে সে প্রতিবেশী, যার মাঝে প্রথম গুণগুলো (মুসলিম, ইবাদতগুজার, বন্ধু ইত্যাদি) বিদ্যমান আছে। এর পরের স্তরে আছে, যার মাঝে প্রথম গুণগুলো যত বেশি থাকে সে। এভাবে প্রথম গুণগুলোর মধ্যে যার মাঝে সর্বনিম্ন একটি গুণ থাকে সে। একইভাবে, এর উল্টো যার মাঝে দ্বিতীয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি আছে, প্রতিবেশিত্বের দিক থেকে তার স্তর সবচেয়ে নিচে। এভাবেই হিসেব করে সকলের অবস্থা বিবেচনায় প্রতিবেশিত্বের অধিকার আদায় করতে হবে। কখনো কখনো দেখা গেছে এক প্রতিবেশীর মাঝে পরস্পর বিপরীত দুটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। কখনো এর বৈপরীত্যের সংখ্যা আরও বেশি হয়। এসব দিক বিবেচনায় রেখে প্রাধান্য দিতে হবে তাদের মাঝে।'

টিকাঃ
৪৮৯. সুনানুত তিরমিজি: ১৯৪৩। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৯০. ফাতহুল বারি: ১০/৪৪২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 সৎ প্রতিবেশী লাভকে মানুষের সৌভাগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন

📄 সৎ প্রতিবেশী লাভকে মানুষের সৌভাগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন


আব্দুল হারিস (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ব্যক্তির সৌভাগ্যের অংশ হচ্ছে, সৎ প্রতিবেশী, আরামদায়ক বাহন এবং সুপরিসর বাসস্থান।"'

সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "চারটি জিনিস সৌভাগ্যের অংশ: নেক স্ত্রী, সুপরিসর বাসস্থান, সৎ প্রতিবেশী, আরামদায়ক বাহন। আর চারটি জিনিস দুর্ভাগ্যের অংশ: মন্দ প্রতিবেশী, মন্দ স্ত্রী, সংকীর্ণ বাসস্থান, মন্দ বাহন।"'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ প্রতিবেশী থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন। তিনি দোয়ায় বলতেন, “হে আল্লাহ, স্থায়ী আবাসের ক্ষেত্রে মন্দ প্রতিবেশী থেকে আপনার আশ্রয় চাই। কারণ, বেদুইনরা বাসস্থান পরিবর্তন করতে থাকে।”'

'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের (রা) আদেশ দিতেন, তাঁরা যেন স্থায়ী বাসস্থানের ক্ষেত্রে মন্দ প্রতিবেশী থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়। কারণ, মরুভূমির বেদুইনরা জায়গা পরিবর্তন করে নেবে তোমাদের পাশ থেকে। (এরপরে হয়তো মন্দ কেউ এসে উঠবে সে জায়গায়।) '

টিকাঃ
৪৯১. মুসনাদু আহমাদ: ১৪৯৪৭। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৯২. সহিহু ইবনি হিব্বান ৪০৩২। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৯৩. মুসতাদরাকুল হাকিম: ১৯৫১। হাদিসের মান: হাসান।
৪৯৪. সুনানুন নাসায়ি ৫৫০২। হাদিসের মান: হাসান।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 উত্তম প্রতিবেশী সে-ই, যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম

📄 উত্তম প্রতিবেশী সে-ই, যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম


আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে উত্তম সঙ্গী সে-ই, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। তোমাদের মধ্যে উত্তম প্রতিবেশী সে-ই, যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।"'

অর্থাৎ উত্তম সঙ্গী সে-ই, যে তার সঙ্গীর প্রতি উত্তম ব্যবহার করে। তেমনিভাবে উত্তম প্রতিবেশী সে-ই, যে তার প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করে।

'প্রতিবেশীর অধিকার কেবল এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয় যে, তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকলেই তার অধিকার আদায় হয়ে যাবে। বরং প্রতিবেশীর কল্যাণের জন্য দরকার হলে নিজেকে কষ্ট করতে হবে। কেবল এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয় প্রতিবেশীর অধিকার। প্রতিবেশীর প্রতি উত্তম ব্যবহার করতে হবে, তাকে সৎ ও কল্যাণের নির্দেশনা দিতে হবে। এর স্বরূপ এমন যে, প্রথমে আগ বেড়ে তাকে সালাম দিতে হবে। অসুস্থ হলে সেবা-শুশ্রূষা করতে হবে। তার বিপদে সান্ত্বনা দিতে হবে তাকে। আনন্দের সময় অভিবাদন জানাতে হবে। তার আনন্দে অংশগ্রহণ করতে হবে। তার ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি উপেক্ষা করতে হবে। প্রতিবেশী গাইরে মাহরাম হলে দৃষ্টি অবনত রাখতে হবে। প্রতিবেশী যখন ঘরের বাইরে সফরে থাকবে, তখন তার ঘরের হিফাজত করতে হবে। তার সন্তানদের প্রতি কোমল আচরণ করতে হবে। দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণের পথে তাকে আহ্বান করতে হবে।'

টিকাঃ
৪৯৫. সুনানুত তিরমিজি: ১৮৬৭। হাদিসের মান সহিহ।
৪৯৬. ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন: ২/২১৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00