📄 প্রতিবেশীদের কষ্ট দেওয়া নিকৃষ্ট কাজ
মিকদাদ বিন আসওয়াদ (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের (রা) বলেছেন, "তোমরা জিনা সম্পর্কে কী বলো?"
সাহাবিগণ (রা) বললেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে হারাম করেছেন। এটা কিয়ামত অবধি হারাম থাকবে।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "একজন লোক অন্য দশজন নারীর সাথে জিনা করার চাইতে অধিক পাপের হচ্ছে প্রতিবেশী এক নারীর সাথে জিনা করা।"
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, "চুরি সম্পর্কে তোমরা কী বলো?"
সাহাবিগণ (রা) বললেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে হারাম করেছেন। তাই এটা হারাম।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "একজন মানুষ অন্য দশ ঘরে চুরি করার চাইতে অধিক পাপের হচ্ছে এক প্রতিবেশীর ঘরে চুরি করা।"'
'কারণ হচ্ছে, প্রতিবেশীদের একে অন্যের ওপর অধিকার হচ্ছে বিশ্বাসঘাতকতা না করা। যদি কেউ তার প্রতিবেশীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তার স্ত্রীর সাথে জিনা করে, তবে এ এক নারীর সাথে জিনা করা-ই অন্য দশ নারীর সাথে জিনা করার সমান।'
টিকাঃ
৪৮৪. মুসনাদু আহমাদ: ২৩৩৪২। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৮৫. ফাইজুল কাদির: ৫/৩২৯।
📄 প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া আল্লাহর অভিশাপ ও মানুষের অভিশাপের কারণ
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'এক ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যাও, ধৈর্য ধরো।" কিন্তু লোকটি দুই কি তিনবার এল ফিরে ফিরে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যাও, তোমার মাল-সামানা রাস্তায় ফেলে রাখো।"
লোকটি তার মাল-সামানা এনে রাস্তায় রাখল। যে লোকই সে রাস্তা দিয়ে যেত, তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করত। সে তার প্রতিবেশীর দেওয়া কষ্টের কথা জানাত। মানুষজন তার কথা শুনে প্রতিবেশীকে অভিশাপ দিতে থাকল। বলতে লাগল, "আল্লাহ তার এমন এমন করুক।"
শেষ পর্যন্ত তার প্রতিবেশী এসে তাকে বলল, "ফিরে এসো তুমি। ভবিষ্যতে আমার কাছ থেকে তুমি আর কোনো মন্দ আচরণ পাবে না।"'
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'সে লোকের প্রতিবেশী এল নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। বলল, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মানুষ আমার সাথে মন্দ আচরণ করছে।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "কেমন আচরণ করছে?"
লোকটা বলল, "তারা আমাকে অভিশাপ দিচ্ছে।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "মানুষের আগে আল্লাহ তোমাকে অভিশাপ দিয়েছেন।"
লোকটা বলল, "আমি আর এমনটা করব না।"
এরপর অভিযোগকারী এল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তুমি তোমার মাল-সামানা উঠিয়ে নাও। যথেষ্ট হয়েছে।"'
টিকাঃ
৪৮৬. সুনানু আবি দাউদ: ৫১৫৩। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৮৭. তাবারানি: ৩৫৬। হাদিসের মান: হাদিস সহিহ লি গাইরিহি।
📄 প্রতিবেশীকে কষ্টদানকারীর আমল তার কাজে আসবে না
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'এক লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এক নারী তার অত্যধিক নামাজ, রোজা, দানের জন্য সুপরিচিত। কিন্তু সে কথার মাধ্যমে তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন?"
"সে জাহান্নামী।” বললেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
লোকটা আবার বলল, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আরেক নারীর ব্যাপারে প্রসিদ্ধি আছে যে, সে রোজা কম রাখে, দানও কম করে এবং নামাজও কম পড়ে। বলতে গেলে সে এক টুকরো পনিরই দান করে। কিন্তু প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন?"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, "সে জান্নাতি।"'
টিকাঃ
৪৮৮. মুসনাদু আহমাদ ৯২৯৮। হাদিসের মান: সহিহ।
📄 মুসলিম ও অমুসলিম উভয়েই প্রতিবেশীর অধিকার পাবে
মুজাহিদ (রহ) বলেন, 'আব্দুল্লাহ বিন আমরের (রা) ঘরে একটি ছাগল জবাই হলো। তিনি ঘরে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা কি আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে ছাগলের গোশত হাদিয়া দিয়েছ? আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, "জিবরিল (আ) আমাকে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে এত বেশি নির্দেশনা দিতে থাকলেন যে, শেষ পর্যন্ত আমার ধারণা হলো, অচিরেই প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ বানিয়ে ওহি নাজিল হবে।"'
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'প্রতিবেশী মুসলিম হোক বা কাফির, ইবাদতগুজার বা পাপাচারী, বন্ধু বা শত্রু, মুসাফির বা স্থায়ী বাসিন্দা, উপকারী বা ক্ষতিকর, আত্মীয় বা অনাত্মীয়, ঘরের দিক থেকে কাছের বা দূরের, সব ধরনের প্রতিবেশীর ক্ষেত্রে অবস্থা বিবেচনায় প্রতিবেশিত্বের অধিকার প্রযোজ্য হবে।'
প্রতিবেশীর বিবিধ স্তর আছে। এ স্তর বিন্যাসে সবচেয়ে উচ্চ স্তরে আছে সে প্রতিবেশী, যার মাঝে প্রথম গুণগুলো (মুসলিম, ইবাদতগুজার, বন্ধু ইত্যাদি) বিদ্যমান আছে। এর পরের স্তরে আছে, যার মাঝে প্রথম গুণগুলো যত বেশি থাকে সে। এভাবে প্রথম গুণগুলোর মধ্যে যার মাঝে সর্বনিম্ন একটি গুণ থাকে সে। একইভাবে, এর উল্টো যার মাঝে দ্বিতীয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি আছে, প্রতিবেশিত্বের দিক থেকে তার স্তর সবচেয়ে নিচে। এভাবেই হিসেব করে সকলের অবস্থা বিবেচনায় প্রতিবেশিত্বের অধিকার আদায় করতে হবে। কখনো কখনো দেখা গেছে এক প্রতিবেশীর মাঝে পরস্পর বিপরীত দুটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। কখনো এর বৈপরীত্যের সংখ্যা আরও বেশি হয়। এসব দিক বিবেচনায় রেখে প্রাধান্য দিতে হবে তাদের মাঝে।'
টিকাঃ
৪৮৯. সুনানুত তিরমিজি: ১৯৪৩। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৯০. ফাতহুল বারি: ১০/৪৪২।