📄 যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ তার ঈমানের ব্যাপারে আশঙ্কা করেছেন
আবু শুরাইহ (রা) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, "আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়।"
জিজ্ঞেস করা হলো, "কে সে হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম?"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে ব্যক্তি।"'
এ হাদিস প্রমাণ করে, প্রতিবেশীর অধিকারের গুরুত্ব অনেক। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নামে কসম করেছেন। সে কসমও একবার নয়, বরং তিনবার কসম করে একই কথা বলেছেন।
'এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে কথায় বা আচরণের মাধ্যমে কষ্ট দেয়, তার ইমান নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইমান দ্বারা এখানে পূর্ণ ইমান উদ্দেশ্য। আর নিঃসন্দেহে একজন গুনাহগার পূর্ণ মুমিন নয়।'
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে লোকের ইমান নিয়ে আশঙ্কা করলেন, যে তার প্রতিবেশীর অনিষ্ট সাধন করে। প্রতিবেশীর অধিকারের ব্যাপারে এ কথাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রকাশক। এ হাদিস থেকে আরও বোঝা গেল, প্রতিবেশীর ক্ষতি করা কবিরা গুনাহ।'
টিকাঃ
৪৮১. সহিহুল বুখারি: ৬০১৬, মুসনাদু আহমাদ: ৭৮১৮। ইমাম আহমাদের (রহ) বর্ণনায় আরও যোগ হয়ে এসেছে।
৪৮২. ফাতহুল বারি: ১০/৪৪২।
📄 প্রতিবেশীকে কষ্টদাতা জান্নাতে প্রবেশ করবে না
এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'প্রতিবেশীকে যে কষ্ট দেয়, সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত।' আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।"'
টিকাঃ
৪৮৩. সহিহু মুসলিম: ৪৬।
📄 প্রতিবেশীদের কষ্ট দেওয়া নিকৃষ্ট কাজ
মিকদাদ বিন আসওয়াদ (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের (রা) বলেছেন, "তোমরা জিনা সম্পর্কে কী বলো?"
সাহাবিগণ (রা) বললেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে হারাম করেছেন। এটা কিয়ামত অবধি হারাম থাকবে।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "একজন লোক অন্য দশজন নারীর সাথে জিনা করার চাইতে অধিক পাপের হচ্ছে প্রতিবেশী এক নারীর সাথে জিনা করা।"
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, "চুরি সম্পর্কে তোমরা কী বলো?"
সাহাবিগণ (রা) বললেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে হারাম করেছেন। তাই এটা হারাম।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "একজন মানুষ অন্য দশ ঘরে চুরি করার চাইতে অধিক পাপের হচ্ছে এক প্রতিবেশীর ঘরে চুরি করা।"'
'কারণ হচ্ছে, প্রতিবেশীদের একে অন্যের ওপর অধিকার হচ্ছে বিশ্বাসঘাতকতা না করা। যদি কেউ তার প্রতিবেশীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তার স্ত্রীর সাথে জিনা করে, তবে এ এক নারীর সাথে জিনা করা-ই অন্য দশ নারীর সাথে জিনা করার সমান।'
টিকাঃ
৪৮৪. মুসনাদু আহমাদ: ২৩৩৪২। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৮৫. ফাইজুল কাদির: ৫/৩২৯।
📄 প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া আল্লাহর অভিশাপ ও মানুষের অভিশাপের কারণ
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'এক ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যাও, ধৈর্য ধরো।" কিন্তু লোকটি দুই কি তিনবার এল ফিরে ফিরে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যাও, তোমার মাল-সামানা রাস্তায় ফেলে রাখো।"
লোকটি তার মাল-সামানা এনে রাস্তায় রাখল। যে লোকই সে রাস্তা দিয়ে যেত, তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করত। সে তার প্রতিবেশীর দেওয়া কষ্টের কথা জানাত। মানুষজন তার কথা শুনে প্রতিবেশীকে অভিশাপ দিতে থাকল। বলতে লাগল, "আল্লাহ তার এমন এমন করুক।"
শেষ পর্যন্ত তার প্রতিবেশী এসে তাকে বলল, "ফিরে এসো তুমি। ভবিষ্যতে আমার কাছ থেকে তুমি আর কোনো মন্দ আচরণ পাবে না।"'
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'সে লোকের প্রতিবেশী এল নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। বলল, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মানুষ আমার সাথে মন্দ আচরণ করছে।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "কেমন আচরণ করছে?"
লোকটা বলল, "তারা আমাকে অভিশাপ দিচ্ছে।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "মানুষের আগে আল্লাহ তোমাকে অভিশাপ দিয়েছেন।"
লোকটা বলল, "আমি আর এমনটা করব না।"
এরপর অভিযোগকারী এল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তুমি তোমার মাল-সামানা উঠিয়ে নাও। যথেষ্ট হয়েছে।"'
টিকাঃ
৪৮৬. সুনানু আবি দাউদ: ৫১৫৩। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৮৭. তাবারানি: ৩৫৬। হাদিসের মান: হাদিস সহিহ লি গাইরিহি।