📄 প্রতিবেশীর সম্মান করা ঈমানের নিদর্শন আখ্যা দিয়েছেন
আবু শুরাইহ আদাবি (রা) বলেন, 'আমি নিজ কানে শুনেছি। নিজ চোখে দেখেছি। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।"'
'এ হাদিসের রাবি আতা খুরাসানি (রহ)-এর কাছে জানতে চাওয়া হলো, প্রতিবেশীর অধিকার কী কী?'
তিনি বললেন, 'যখন প্রতিবেশী তোমার কাছে সাহায্য চায়, তাকে সাহায্য করা। যখন ঋণ চায়, ঋণ দেওয়া। প্রতিবেশী দরিদ্র হলে তাকে দান করা। অসুস্থ হলে সেবা করা। ভালো কিছু অর্জন করলে তাকে অভিনন্দন জানানো। বিপদে পতিত হলে সান্ত্বনা জানানো। মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজায় অংশ নেওয়া।'
প্রতিবেশীর অনুমতি ছাড়া তোমার ঘরটি এত উঁচু তৈরি করবে না যে, এতে করে প্রতিবেশীর ঘরে বাতাস প্রবেশে বিঘ্ন ঘটে। প্রতিবেশীকে তোমার ঘরের রান্নার ঘ্রাণ দিয়ে কষ্ট দেবে না, যদি না তুমি তাকে সে খাবারের কিছু অংশ দাও।'
যদি ফল কিনে থাকো, তবে তার কিছু প্রতিবেশীকে হাদিয়া দাও। যদি হাদিয়া না দিতে পারো, তবে নিজের ঘরে ফল গোপনে প্রবেশ করাও। তোমার সন্তানদের হাতে দিয়ে সে ফল নিয়ে বাইরে বের হতে দেবে না। এতে প্রতিবেশীর সন্তানের মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়বে।'
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা পরিপূর্ণ ইমানের নিদর্শন। এমনকি ইসলাম-পূর্ব যুগেও এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করার ধরন হচ্ছে, সাধ্যমতো প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করা। যেমন: তাকে হাদিয়া দেওয়া, সালাম দেওয়া। তার সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা। তার খোঁজখবর নেওয়া। প্রয়োজনের সময় তাকে সাহায্য করা। বাহ্যিক ও মানসিক দিক থেকে কষ্ট না দেওয়া এবং কষ্টের কারণ দূর করা।'
টিকাঃ
৪৭৮. সহিহুল বুখারি: ৬০১৯, সহিহু মুসলিম: ৪৮। ইমাম মুসলিমের (রহ) বর্ণনায় আছে, 'সে যেন তার প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করে।'
৪৭৯. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম ১/৩৫০।
৪৮০. ফাতহুল বারি: ১০/৪৪২।
📄 যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ তার ঈমানের ব্যাপারে আশঙ্কা করেছেন
আবু শুরাইহ (রা) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, "আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়।"
জিজ্ঞেস করা হলো, "কে সে হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম?"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে ব্যক্তি।"'
এ হাদিস প্রমাণ করে, প্রতিবেশীর অধিকারের গুরুত্ব অনেক। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নামে কসম করেছেন। সে কসমও একবার নয়, বরং তিনবার কসম করে একই কথা বলেছেন।
'এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে কথায় বা আচরণের মাধ্যমে কষ্ট দেয়, তার ইমান নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইমান দ্বারা এখানে পূর্ণ ইমান উদ্দেশ্য। আর নিঃসন্দেহে একজন গুনাহগার পূর্ণ মুমিন নয়।'
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে লোকের ইমান নিয়ে আশঙ্কা করলেন, যে তার প্রতিবেশীর অনিষ্ট সাধন করে। প্রতিবেশীর অধিকারের ব্যাপারে এ কথাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রকাশক। এ হাদিস থেকে আরও বোঝা গেল, প্রতিবেশীর ক্ষতি করা কবিরা গুনাহ।'
টিকাঃ
৪৮১. সহিহুল বুখারি: ৬০১৬, মুসনাদু আহমাদ: ৭৮১৮। ইমাম আহমাদের (রহ) বর্ণনায় আরও যোগ হয়ে এসেছে।
৪৮২. ফাতহুল বারি: ১০/৪৪২।
📄 প্রতিবেশীকে কষ্টদাতা জান্নাতে প্রবেশ করবে না
এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'প্রতিবেশীকে যে কষ্ট দেয়, সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত।' আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।"'
টিকাঃ
৪৮৩. সহিহু মুসলিম: ৪৬।
📄 প্রতিবেশীদের কষ্ট দেওয়া নিকৃষ্ট কাজ
মিকদাদ বিন আসওয়াদ (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের (রা) বলেছেন, "তোমরা জিনা সম্পর্কে কী বলো?"
সাহাবিগণ (রা) বললেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে হারাম করেছেন। এটা কিয়ামত অবধি হারাম থাকবে।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "একজন লোক অন্য দশজন নারীর সাথে জিনা করার চাইতে অধিক পাপের হচ্ছে প্রতিবেশী এক নারীর সাথে জিনা করা।"
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, "চুরি সম্পর্কে তোমরা কী বলো?"
সাহাবিগণ (রা) বললেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে হারাম করেছেন। তাই এটা হারাম।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "একজন মানুষ অন্য দশ ঘরে চুরি করার চাইতে অধিক পাপের হচ্ছে এক প্রতিবেশীর ঘরে চুরি করা।"'
'কারণ হচ্ছে, প্রতিবেশীদের একে অন্যের ওপর অধিকার হচ্ছে বিশ্বাসঘাতকতা না করা। যদি কেউ তার প্রতিবেশীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তার স্ত্রীর সাথে জিনা করে, তবে এ এক নারীর সাথে জিনা করা-ই অন্য দশ নারীর সাথে জিনা করার সমান।'
টিকাঃ
৪৮৪. মুসনাদু আহমাদ: ২৩৩৪২। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৮৫. ফাইজুল কাদির: ৫/৩২৯।