📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে সচেতন করতেন

📄 প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে সচেতন করতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "জিবরিল (আ) আমাকে প্রতিবেশীদের সম্পর্কে এত বেশি নির্দেশনা দিচ্ছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত আমার ধারণা হলো অচিরেই প্রতিবেশীদের ওয়ারিশ বানিয়ে দেওয়া হবে।"'

এক আনসারি সাহাবি (রা) বলেন, 'আমি ঘর থেকে বেরিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম। দেখলাম, তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। এক লোক তাঁর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। আমার মনে হলো, হয়তো লোকটার কোনো প্রয়োজন আছে।'

আল্লাহর কসম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, আমার নিজেরই দুঃখবোধ হতে লাগল তাঁর জন্য। লোকটা চলে গেলে আমি এগিয়ে এলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। বললাম, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, লোকটা এত দীর্ঘ সময় ধরে আপনাকে দাঁড় করিয়ে রাখল যে, আমি দুঃখবোধ করতে শুরু করেছিলাম আপনার জন্য।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি তাকে দেখেছ?"

"জি”, বললাম আমি।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি জানো, কে ছিল লোকটা?"

"না", বললাম আমি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "লোকটা ছিল জিবরিল (আ)। তিনি আমাকে প্রতিবেশীর অধিকার বিষয়ে এত বেশি নির্দেশনা দিতে থাকলেন যে, আমার ধারণা হচ্ছিল প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ বানিয়ে ওহি নাজিল হবে।"'

এমনকি বিদায় হজের দিনও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের (রা) নির্দেশনা দিলেন প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে। আবু উমামা (রা) বলেন, 'বিদায় হজের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর উটের ওপর বসে বলতে শুনলাম, "আমি তোমাদের প্রতিবেশীর অধিকার বিষয়ে অসিয়ত করছি।" তিনি এ কথাটি অনেক বার বললেন। এমনকি আমি মনে মনে বলে ফেললাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ ঘোষণা করবেন।'

টিকাঃ
৪৭৫. সহিহুল বুখারি: ৬০১৪, সহিহু মুসলিম: ২৬২৪।
৪৭৬. মুসনাদু আহমাদ: ১৯৪৫৯। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৭৭. তাবারানি কৃত আল-মুজামুল কাবির: ৭/১১৮। হাদিসের মান: সহিহ।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রতিবেশীর সম্মান করা ঈমানের নিদর্শন আখ্যা দিয়েছেন

📄 প্রতিবেশীর সম্মান করা ঈমানের নিদর্শন আখ্যা দিয়েছেন


আবু শুরাইহ আদাবি (রা) বলেন, 'আমি নিজ কানে শুনেছি। নিজ চোখে দেখেছি। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।"'

'এ হাদিসের রাবি আতা খুরাসানি (রহ)-এর কাছে জানতে চাওয়া হলো, প্রতিবেশীর অধিকার কী কী?'

তিনি বললেন, 'যখন প্রতিবেশী তোমার কাছে সাহায্য চায়, তাকে সাহায্য করা। যখন ঋণ চায়, ঋণ দেওয়া। প্রতিবেশী দরিদ্র হলে তাকে দান করা। অসুস্থ হলে সেবা করা। ভালো কিছু অর্জন করলে তাকে অভিনন্দন জানানো। বিপদে পতিত হলে সান্ত্বনা জানানো। মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজায় অংশ নেওয়া।'

প্রতিবেশীর অনুমতি ছাড়া তোমার ঘরটি এত উঁচু তৈরি করবে না যে, এতে করে প্রতিবেশীর ঘরে বাতাস প্রবেশে বিঘ্ন ঘটে। প্রতিবেশীকে তোমার ঘরের রান্নার ঘ্রাণ দিয়ে কষ্ট দেবে না, যদি না তুমি তাকে সে খাবারের কিছু অংশ দাও।'

যদি ফল কিনে থাকো, তবে তার কিছু প্রতিবেশীকে হাদিয়া দাও। যদি হাদিয়া না দিতে পারো, তবে নিজের ঘরে ফল গোপনে প্রবেশ করাও। তোমার সন্তানদের হাতে দিয়ে সে ফল নিয়ে বাইরে বের হতে দেবে না। এতে প্রতিবেশীর সন্তানের মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়বে।'

ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা পরিপূর্ণ ইমানের নিদর্শন। এমনকি ইসলাম-পূর্ব যুগেও এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করার ধরন হচ্ছে, সাধ্যমতো প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করা। যেমন: তাকে হাদিয়া দেওয়া, সালাম দেওয়া। তার সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা। তার খোঁজখবর নেওয়া। প্রয়োজনের সময় তাকে সাহায্য করা। বাহ্যিক ও মানসিক দিক থেকে কষ্ট না দেওয়া এবং কষ্টের কারণ দূর করা।'

টিকাঃ
৪৭৮. সহিহুল বুখারি: ৬০১৯, সহিহু মুসলিম: ৪৮। ইমাম মুসলিমের (রহ) বর্ণনায় আছে, 'সে যেন তার প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করে।'
৪৭৯. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম ১/৩৫০।
৪৮০. ফাতহুল বারি: ১০/৪৪২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ তার ঈমানের ব্যাপারে আশঙ্কা করেছেন

📄 যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ তার ঈমানের ব্যাপারে আশঙ্কা করেছেন


আবু শুরাইহ (রা) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, "আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়।"

জিজ্ঞেস করা হলো, "কে সে হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম?"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে ব্যক্তি।"'

এ হাদিস প্রমাণ করে, প্রতিবেশীর অধিকারের গুরুত্ব অনেক। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নামে কসম করেছেন। সে কসমও একবার নয়, বরং তিনবার কসম করে একই কথা বলেছেন।

'এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে কথায় বা আচরণের মাধ্যমে কষ্ট দেয়, তার ইমান নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইমান দ্বারা এখানে পূর্ণ ইমান উদ্দেশ্য। আর নিঃসন্দেহে একজন গুনাহগার পূর্ণ মুমিন নয়।'

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে লোকের ইমান নিয়ে আশঙ্কা করলেন, যে তার প্রতিবেশীর অনিষ্ট সাধন করে। প্রতিবেশীর অধিকারের ব্যাপারে এ কথাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রকাশক। এ হাদিস থেকে আরও বোঝা গেল, প্রতিবেশীর ক্ষতি করা কবিরা গুনাহ।'

টিকাঃ
৪৮১. সহিহুল বুখারি: ৬০১৬, মুসনাদু আহমাদ: ৭৮১৮। ইমাম আহমাদের (রহ) বর্ণনায় আরও যোগ হয়ে এসেছে।
৪৮২. ফাতহুল বারি: ১০/৪৪২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রতিবেশীকে কষ্টদাতা জান্নাতে প্রবেশ করবে না

📄 প্রতিবেশীকে কষ্টদাতা জান্নাতে প্রবেশ করবে না


এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'প্রতিবেশীকে যে কষ্ট দেয়, সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত।' আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।"'

টিকাঃ
৪৮৩. সহিহু মুসলিম: ৪৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00