📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নাজ্জার গোত্র রাসূল ﷺ-এর প্রতিবেশী হওয়ার সৌভাগ্যে গৌরববোধ করত

📄 নাজ্জার গোত্র রাসূল ﷺ-এর প্রতিবেশী হওয়ার সৌভাগ্যে গৌরববোধ করত


আনাস (রা) বলেন, 'একবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার পথ ধরে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখতে পেলেন একদল বালিকা দফ বাজাচ্ছে আর গান গাইছে-

نَحْنُ جَوَارٍ مِنْ بَنِي النَّجَّارِ *** يَا حَبَّذَا مُحَمَّدٌ مِنْ جَارِ

'আমরা বনু নাজ্জারের বালিকা-দল! বাহ, কী চমৎকার! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আমাদের প্রতিবেশী।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহ জানেন, আমি তোমাদের ভালোবাসি।"'

আয়িশা (রা) এ সকল প্রতিবেশীর প্রশংসা করে বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতক আনসার প্রতিবেশী ছিলেন। তারা সত্যিকার অর্থেই প্রতিবেশী ছিলেন। তাদের হাদিয়ার পশু ছিল। তারা দুধ দোহন করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য পাঠাতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তা-ই পান করাতেন।'

'হাদিয়ার পশু' বলে বোঝানো হচ্ছে, এমন সব পশু যেগুলোকে মালিক কিছুদিনের জন্য অন্যকে হাদিয়াস্বরূপ দিয়ে দেয়। আর সে পশুর দুধ, বাচ্চা ও পশম থেকে লোকটি উপকৃত হয়। তারপর নির্দিষ্ট সময় পর মালিককে আবার ফেরত দেয়।

টিকাঃ
৪৭২. সুনানু ইবনি মাজাহ ১৮৯৯। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৭৩. সহিহুল বুখারি: ২৫৬৭, সহিহু মুসলিম: ২৯৭২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মুহাজির প্রতিবেশী

📄 মুহাজির প্রতিবেশী


নাজ্জার গোত্রের প্রতিবেশীরা ছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কয়েকজন মুহাজির প্রতিবেশী ছিল। তাঁরা হলেন, আবু বকর (রা), আলি (রা), আব্বাস (রা) প্রমুখ সাহাবি (রা)।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মক্কার প্রতিবেশীরা রাসূল ﷺ-কে কষ্ট দিত

📄 মক্কার প্রতিবেশীরা রাসূল ﷺ-কে কষ্ট দিত


ইবনে ইসহাক (রহ) বলেন, 'মক্কায় যেসব লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট দিত, তারা হচ্ছে, আবু লাহাব (রহ), হাকাম বিন আস বিন উমাইয়া (রহ), উকবা বিন আবু মুআইত (রহ), আদি বিন হামরা সাকাফি (রহ), ইবনে আসদা হুজালি (রহ) প্রমুখ। এরা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিবেশী। তবে হাকাম বিন আবুল আস (রহ) তাঁকে কষ্ট দিত না।'

তাদের কেউ এসে সদ্য প্রসব করা ছাগলের নাড়িভুঁড়ি এনে নামাজ পড়া অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ফেলত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর দরোজার সামনে দাঁড়িয়ে বলতেন, "হে আব্দে মানাফের গোত্র! এটা কোন ধরনের প্রতিবেশিত্ব?!"'

টিকাঃ
৪৭৪. তাহজিবু সিরাতি ইবনি হিশাম ১/১২১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে সচেতন করতেন

📄 প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে সচেতন করতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "জিবরিল (আ) আমাকে প্রতিবেশীদের সম্পর্কে এত বেশি নির্দেশনা দিচ্ছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত আমার ধারণা হলো অচিরেই প্রতিবেশীদের ওয়ারিশ বানিয়ে দেওয়া হবে।"'

এক আনসারি সাহাবি (রা) বলেন, 'আমি ঘর থেকে বেরিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম। দেখলাম, তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। এক লোক তাঁর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। আমার মনে হলো, হয়তো লোকটার কোনো প্রয়োজন আছে।'

আল্লাহর কসম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, আমার নিজেরই দুঃখবোধ হতে লাগল তাঁর জন্য। লোকটা চলে গেলে আমি এগিয়ে এলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। বললাম, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, লোকটা এত দীর্ঘ সময় ধরে আপনাকে দাঁড় করিয়ে রাখল যে, আমি দুঃখবোধ করতে শুরু করেছিলাম আপনার জন্য।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি তাকে দেখেছ?"

"জি”, বললাম আমি।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি জানো, কে ছিল লোকটা?"

"না", বললাম আমি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "লোকটা ছিল জিবরিল (আ)। তিনি আমাকে প্রতিবেশীর অধিকার বিষয়ে এত বেশি নির্দেশনা দিতে থাকলেন যে, আমার ধারণা হচ্ছিল প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ বানিয়ে ওহি নাজিল হবে।"'

এমনকি বিদায় হজের দিনও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের (রা) নির্দেশনা দিলেন প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে। আবু উমামা (রা) বলেন, 'বিদায় হজের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর উটের ওপর বসে বলতে শুনলাম, "আমি তোমাদের প্রতিবেশীর অধিকার বিষয়ে অসিয়ত করছি।" তিনি এ কথাটি অনেক বার বললেন। এমনকি আমি মনে মনে বলে ফেললাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ ঘোষণা করবেন।'

টিকাঃ
৪৭৫. সহিহুল বুখারি: ৬০১৪, সহিহু মুসলিম: ২৬২৪।
৪৭৬. মুসনাদু আহমাদ: ১৯৪৫৯। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৭৭. তাবারানি কৃত আল-মুজামুল কাবির: ৭/১১৮। হাদিসের মান: সহিহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00