📄 কথায় ও কর্মে রাসূলুল্লাহ ﷺ একজন আদর্শ প্রতিবেশী
প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহয় অসংখ্য বক্তব্য পাওয়া যায়। প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা, তাদের কল্যাণ কামনা করা, সম্মানের হিফাজত করা, তাদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা, তাদের গাইরে মাহরামদের দেখলে চক্ষু অবনত রাখা, তাদের সন্দেহের উদ্রেক হয় কিংবা কষ্ট হয়-এমন কাজ থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি প্রতিবেশীর হকের মধ্যে পড়ে।
কথায় ও কাজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীদের হকের প্রতি পূর্ণ সচেতন ছিলেন। আল্লাহ তাআলা আপন হকের সঙ্গে প্রতিবেশীর হক উল্লেখ করেছেন। এখান থেকে প্রতিবেশীর হকের গুরুত্ব ফুটে ওঠে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا
'আর তোমরা আল্লাহরই ইবাদাত করো। তাঁর সাথে কাউকে শরিক কোরো না। মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকিন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সহচর, মুসাফির এবং তোমাদের দাস-দাসীদের সাথেও সদ্ব্যবহার করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী আত্মাভিমানীকে ভালোবাসেন না।'
আয়াতের ব্যাখ্যা
وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى আত্মীয় প্রতিবেশী। এ প্রতিবেশীর দুটি হক। একটি আত্মীয় হিসেবে। অন্যটি প্রতিবেশী হিসেবে। সামাজিক প্রথা অনুসারে তার হক আদায় করতে হবে এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করতে হবে।
وَالْجَارِ الْجُنُبِ -অনাত্মীয় প্রতিবেশী। যে প্রতিবেশীর সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। এমন প্রতিবেশীদের মধ্যে যার ঘর যত কাছে, তার হক আদায় করা তত বেশি জরুরি হবে। হাদিয়া, সাদাকা, উত্তম আচরণ, সুন্দর সম্বোধন ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। কি কথায় কি কাজে কোনোভাবেই তাদের কষ্ট দেওয়া যাবে না।
وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ পার্শ্ববর্তী সহচর। কেউ বলেন, আয়াতের এ অংশের অর্থ সফরসঙ্গী। কেউ বলেন, এখান থেকে স্ত্রী উদ্দেশ্য। আবার কেউ বলেন, এখানে উদ্দেশ্য হলো, সাধারণভাবে যাদের সাথি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর শেষ অর্থটাই গ্রহণীয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, সঙ্গী শব্দটি ঘরে ও সফরের সকল সঙ্গীকেই অন্তর্ভুক্ত করে। স্ত্রীও এ শব্দের অন্তর্ভুক্ত।'
টিকাঃ
৪৬৯. সুরা আন-নিসা, ৪: ৩৬।
৪৭০. তাফসিরুস সাদি: ১/১৭৭।
📄 রাসূল ﷺ-এর প্রতিবেশী
আনসার প্রতিবেশী
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনসার প্রতিবেশী ছিলেন, সাদ বিন উবাদা (রা), আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম (রা) (জাবিরের পিতা), আবু আইউব আনসারি (রা), আসআদ বিন জুরারা (রা)।'
ইবনে হাজার (রহ) আরও বলেন, 'ইবনে সাদ (রহ) তাবাকাতুন নিসা-তে বর্ণনা করেন, মুমিন-জননী উম্মে সালামা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যে সকল আনসার অধিক পরিমাণে উপহার পাঠাতেন, তারা হচ্ছেন সাদ বিন উবাদা (রা), সাদ বিন মুআজ (রা), উমারাহ বিন হাজম (রা), আবু আইউব (রা)। কারণ, তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটতম প্রতিবেশী ছিলেন।'
নাজ্জার গোত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিবেশী হওয়ার সৌভাগ্যে গৌরববোধ করত
আনাস (রা) বলেন, 'একবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার পথ ধরে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখতে পেলেন একদল বালিকা দফ বাজাচ্ছে আর গান গাইছে-
نَحْنُ جَوَارٍ مِنْ بَنِي النَّجَّارِ *** يَا حَبَّذَا مُحَمَّدٌ مِنْ جَارِ
'আমরা বনু নাজ্জারের বালিকা-দল! বাহ, কী চমৎকার! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আমাদের প্রতিবেশী।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহ জানেন, আমি তোমাদের ভালোবাসি।"'
আয়িশা (রা) এ সকল প্রতিবেশীর প্রশংসা করে বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতক আনসার প্রতিবেশী ছিলেন। তারা সত্যিকার অর্থেই প্রতিবেশী ছিলেন। তাদের হাদিয়ার পশু ছিল। তারা দুধ দোহন করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য পাঠাতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তা-ই পান করাতেন।'
'হাদিয়ার পশু' বলে বোঝানো হচ্ছে, এমন সব পশু যেগুলোকে মালিক কিছুদিনের জন্য অন্যকে হাদিয়াস্বরূপ দিয়ে দেয়। আর সে পশুর দুধ, বাচ্চা ও পশম থেকে লোকটি উপকৃত হয়। তারপর নির্দিষ্ট সময় পর মালিককে আবার ফেরত দেয়।
মুহাজির প্রতিবেশী
নাজ্জার গোত্রের প্রতিবেশীরা ছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কয়েকজন মুহাজির প্রতিবেশী ছিল। তাঁরা হলেন, আবু বকর (রা), আলি (রা), আব্বাস (রা) প্রমুখ সাহাবি (রা)।
মক্কার প্রতিবেশীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট দিত
ইবনে ইসহাক (রহ) বলেন, 'মক্কায় যেসব লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট দিত, তারা হচ্ছে, আবু লাহাব (রহ), হাকাম বিন আস বিন উমাইয়া (রহ), উকবা বিন আবু মুআইত (রহ), আদি বিন হামরা সাকাফি (রহ), ইবনে আসদা হুজালি (রহ) প্রমুখ। এরা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিবেশী। তবে হাকাম বিন আবুল আস (রহ) তাঁকে কষ্ট দিত না।'
তাদের কেউ এসে সদ্য প্রসব করা ছাগলের নাড়িভুঁড়ি এনে নামাজ পড়া অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ফেলত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর দরোজার সামনে দাঁড়িয়ে বলতেন, "হে আব্দে মানাফের গোত্র! এটা কোন ধরনের প্রতিবেশিত্ব?!"'
টিকাঃ
৪৭১. তাবাকাতু ইবনি সাদ: ৮/১৬৩, ফাতহুল বারি: ৫/২০৬। এ হাদিসের সনদে ওয়াকিদি (রহ) নামের একজন রাবি আছে। যাকে হাদিস বিশারদগণ কাজ্জাব অভিধাযুক্ত করেছেন।
৪৭২. সুনানু ইবনি মাজাহ ১৮৯৯। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৭৩. সহিহুল বুখারি: ২৫৬৭, সহিহু মুসলিম: ২৯৭২।
৪৭৪. তাহজিবু সিরাতি ইবনি হিশাম ১/১২১।
📄 আনসার প্রতিবেশী
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনসার প্রতিবেশী ছিলেন, সাদ বিন উবাদা (রা), আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম (রা) (জাবিরের পিতা), আবু আইউব আনসারি (রা), আসআদ বিন জুরারা (রা)।'
ইবনে হাজার (রহ) আরও বলেন, 'ইবনে সাদ (রহ) তাবাকাতুন নিসা-তে বর্ণনা করেন, মুমিন-জননী উম্মে সালামা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যে সকল আনসার অধিক পরিমাণে উপহার পাঠাতেন, তারা হচ্ছেন সাদ বিন উবাদা (রা), সাদ বিন মুআজ (রা), উমারাহ বিন হাজম (রা), আবু আইউব (রা)। কারণ, তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটতম প্রতিবেশী ছিলেন।'
টিকাঃ
৪৭১. তাবাকাতু ইবনি সাদ: ৮/১৬৩, ফাতহুল বারি: ৫/২০৬। এ হাদিসের সনদে ওয়াকিদি (রহ) নামের একজন রাবি আছে। যাকে হাদিস বিশারদগণ কাজ্জাব অভিধাযুক্ত করেছেন।
📄 নাজ্জার গোত্র রাসূল ﷺ-এর প্রতিবেশী হওয়ার সৌভাগ্যে গৌরববোধ করত
আনাস (রা) বলেন, 'একবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার পথ ধরে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখতে পেলেন একদল বালিকা দফ বাজাচ্ছে আর গান গাইছে-
نَحْنُ جَوَارٍ مِنْ بَنِي النَّجَّارِ *** يَا حَبَّذَا مُحَمَّدٌ مِنْ جَارِ
'আমরা বনু নাজ্জারের বালিকা-দল! বাহ, কী চমৎকার! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আমাদের প্রতিবেশী।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহ জানেন, আমি তোমাদের ভালোবাসি।"'
আয়িশা (রা) এ সকল প্রতিবেশীর প্রশংসা করে বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতক আনসার প্রতিবেশী ছিলেন। তারা সত্যিকার অর্থেই প্রতিবেশী ছিলেন। তাদের হাদিয়ার পশু ছিল। তারা দুধ দোহন করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য পাঠাতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তা-ই পান করাতেন।'
'হাদিয়ার পশু' বলে বোঝানো হচ্ছে, এমন সব পশু যেগুলোকে মালিক কিছুদিনের জন্য অন্যকে হাদিয়াস্বরূপ দিয়ে দেয়। আর সে পশুর দুধ, বাচ্চা ও পশম থেকে লোকটি উপকৃত হয়। তারপর নির্দিষ্ট সময় পর মালিককে আবার ফেরত দেয়।
টিকাঃ
৪৭২. সুনানু ইবনি মাজাহ ১৮৯৯। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৭৩. সহিহুল বুখারি: ২৫৬৭, সহিহু মুসলিম: ২৯৭২।