📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আত্মীয়দের জন্য বেশি বেশি দোয়া করতেন

📄 আত্মীয়দের জন্য বেশি বেশি দোয়া করতেন


আব্বাস (রা) ও তাঁর সন্তানদের জন্য দোয়া
ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, 'একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাসকে (রা) বললেন, "আগামীকাল সোমবার তুমি তোমার সন্তানকে নিয়ে আসবে। আমি তোমাদের জন্য এমন এক দোয়া করব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমার সন্তানকে উপকৃত করবেন।"

পরের দিন আমরাও আব্বাসের (রা) সাথে চলে এলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। তিনি দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ, আব্বাসকে (রা) ক্ষমা করে দিন, আপনি তার সন্তানদেরও ক্ষমা করে দিন। তাদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। সকল গুনাহ ধুয়ে মুছে সাফ করে দিন। হে আল্লাহ, আপনি তাকে তার সন্তানদের বিষয়াদিতে নিরাপদ রাখুন।"'

অর্থাৎ তাকে সন্তানদের মাধ্যমে সম্মানিত করুন এবং সন্তানদের নিয়ে যেন তিনি কষ্টে না পড়েন।

আলি (রা)-এর জন্য দোয়া
আলি (রা) বলেন, 'আবু তালিবের (রহ) মৃত্যুর পর আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম। বললাম, "আপনার বৃদ্ধ চাচা মৃত্যুবরণ করেছেন।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যাও, তাকে দাফন করো। তারপর কিছু না করে আমার কাছে আসো।"

আমি তাকে দাফন করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম। তিনি বললেন, "যাও, গোসল করে নাও, তারপর কিছু না করে আমার কাছে আসো।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথামতো আমি গোসল করে তাঁর কাছে আসলাম। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য এমন সব দোয়া করলেন, যার কারণে আমি এতটা খুশি হলাম, যদি আমাকে এর বদলে লাল ও কালো উটও দেওয়া হতো, তবুও আমি এতটা খুশি হতাম না।'

* ইবনে আব্বাস (রা)-এর জন্য দোয়া
ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর বুকের সাথে মিলালেন। এরপর দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ, আপনি তাকে হিকমাহ শিক্ষা দিন।"'

অন্য বর্ণনায় এসেছে ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগারে প্রবেশ করলেন। আমি তখন তাঁর জন্য অজুর পানি রাখলাম। পরে তিনি জানতে চাইলেন, "এ পানি কে রাখল?" তাঁকে জানানো হলো, পানি আমি রেখেছি।'

তখন তিনি দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ, আপনি তাকে দ্বীনের ফিকহ দান করুন।"'

মুসনাদে আহমাদের (রহ) বর্ণনায় (হাদিস: ৩০২৪) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ায় আরেকটু যুক্ত হয়ে এসেছে, 'তাকে কুরআনের ব্যাখ্যা শিখিয়ে দিন।'

টিকাঃ
৪৫৩. সুনানুত তিরমিজি: ২৭৬২। হাদিসের মান: হাসান।
৪৫৪. মুসনাদু আহমাদ: ৮০৯। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৫৫. সহিহুল বুখারি: ৩৭৫৬।
৪৫৬. সহিহুল বুখারি: ১৪৩, সহিহু মুসলিম: ২৪৭৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের উপকারী দোয়া শেখাতেন

📄 তাদের উপকারী দোয়া শেখাতেন


আব্বাস (রা) বলেন, 'একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যা আমি আল্লাহর কাছে চাইতে পারি।" তিনি বললেন, "আপনি আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন।" কিছুদিন পর আমি পুনরায় একই কথা বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যা আমি আল্লাহর কাছে চাইতে পারি।" তিনি বললেন: يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّ رَسُوْلِ اللهِ سَلِ اللَّهَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

“হে আব্বাস, হে আল্লাহর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচা, আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন।"

আব্বাস (রা) বলেন, 'আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাকে দোয়া শিখিয়ে দিন। সে দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাব আমি।" তিনি বললেন, "আল্লাহর কাছে (আফিয়াত) সুস্থতা ও নিরাপত্তার প্রার্থনা করুন।"'

'আব্বাস (রা) আবেদন জানালেন, তাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিতে, যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর কাছে চাইবেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার একই দোয়া করতে বললেন তাকে। এখান থেকে বোঝা যায় সুস্থতা ও নিরাপত্তার দোয়া হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া। অন্য কোনো দোয়া এর সমকক্ষ নয়।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আব্বাসকে (রা) তাঁর বাবার সমান মর্যাদা দিতেন। একজন সন্তানের ওপর পিতার যে অধিকার থাকে, আব্বাস (রা)-এর প্রতি তিনি সেরূপ আচরণই করতেন।

আব্বাসের (রা) মতো এমন প্রিয় মানুষকে বিশেষভাবে এই দোয়া শেখানো এবং বারবার এই দোয়া করতে বলা-এই দুটি আচরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি, আমাদের উচিত বেশি বেশি সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা এবং এই দোয়ার মাধ্যমে বিপদাপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করা।'

টিকাঃ
৪৫৭. সুনানুত তিরমিজি: ৩৫১৪। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৫৮. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৯/৩৪৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অসুস্থ আত্মীয়দের দেখতে যেতেন

📄 অসুস্থ আত্মীয়দের দেখতে যেতেন


উম্মে ফজল (রা) বলেন, 'আব্বাসের (রা) অসুস্থতার সময় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে এলেন। আব্বাস (রা) তখন রোগের তাড়নায় মৃত্যু কামনা করছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "আব্বাস, আল্লাহর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচা, মৃত্যু কামনা করবেন না। যদি আপনি নেক আমলকারী হয়ে থাকেন, তবে বেঁচে থাকলে আপনি আরও বেশি নেক আমল করতে পারবেন। আর যদি আপনি গুনাহগার হয়ে থাকেন, তবে বেঁচে থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল করতে পারবেন। তাই মৃত্যু কামনা করবেন না।"'

টিকাঃ
৪৫৯. মুসনাদু আহমাদ: ২৬৩৩৩। হাদিসের মান: সহিহ।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কল্যাণময় কাজে তাদের উৎসাহিত করতেন

📄 কল্যাণময় কাজে তাদের উৎসাহিত করতেন


নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনদের ইবাদতের প্রতি উৎসাহ দিতেন। আখিরাতের পাথেয় জোগাড় করার উদ্দীপনা জোগাতেন। জাবির (রা) থেকে হজসংক্রান্ত দীর্ঘ এক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সে হাদিসে তিনি বলেন, 'এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহর দিকে রওয়ানা হলেন। মক্কায় এসে জোহর আদায় করে বনি আব্দুল মুত্তালিবের (রা) কাছে আসলেন। তখন তারা হাজিদের জমজমের পানি পান করাচ্ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আব্দুল মুত্তালিবের (রা) সন্তানেরা, তোমরা পানি তুলতে থাকো। যদি আমার এ ভয় না হতো যে, লোকেরা এ কাজে তোমাদের পরাভূত করে ফেলবে, তবে অবশ্যই আমি তোমাদের সাথে পানি তুলতে লেগে যেতাম।" এরপর তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি পানির একটি বালতি এগিয়ে দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে পানি পান করলেন।'

হাদিসের ব্যাখ্যা
'এ হাদিসে বনি আব্দুল মুত্তালিব (রা) বলে উদ্দেশ্য হচ্ছে আব্বাস (রা) ও তার দল। কারণ, হাজিদের পানি পান করানোর দায়িত্ব ছিল তাদের ওপর। "তোমরা পানি তুলতে থাকো"-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশসূচক বাক্য ব্যবহার ওয়াজিব অর্থে ছিল না, ছিল মুসতাহাব অর্থে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাটি তাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক ছিল। এ কথার মাধ্যমে তিনি তাদের অনুপ্রাণিত করছিলেন যে, এ কাজটি একটি বিরাট কল্যাণজনক কাজ। এতে রয়েছে অনেক সাওয়াব।'

"যদি আমার এ ভয় না হতো..."-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাদের সাথে পানি তোলার কাছে নেমে পড়তেন, তবে অন্য সব মুসলিমও এ কাজের জন্য ভিড় জমাত। আব্বাস (রা) ও তার দলকে মানুষ অব্যাহতি দিয়ে দিত পানি তোলার প্রতি উৎসাহিত হওয়ার ফলে।'

ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথার মর্ম হচ্ছে, আমি যদি পানি তুলতে নেমে পড়ি, তবে মানুষজন মনে করবে জমজমের পানি তোলাও হজের একটি বিধান। তাই তারা এসে ভিড় করবে এ কাজের জন্য। তারা তোমাদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এ কাজ থেকে তোমাদের হটিয়ে দেবে-যদি এ ভয় না থাকত, তবে আমিও তোমাদের সাথে এ কাজে অংশ নিতাম। কারণ, এ কাজে অনেক ফজিলত, অনেক সাওয়াব।'

টিকাঃ
৪৬০. সহিহু মুসলিম: ১২১৮।
৪৬১. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৮/১৯৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00