📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বাহরাইনের জিজিয়া থেকে চাচা আব্বাসকে দান করেছিলেন

📄 বাহরাইনের জিজিয়া থেকে চাচা আব্বাসকে দান করেছিলেন


আনাস (রা) বলেন, 'বাহরাইনের জিজিয়ার সম্পদ এল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। তিনি বললেন, "এগুলো মসজিদে রাখো।” জিজিয়ার পরিমাণ সম্পদ বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি ছিল সেবারের জিজিয়ার সম্পদের ঢের। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের জন্য এলেন মসজিদে। কিন্তু সম্পদের দিকে একটু তাকালেন না। নামাজ শেষে তিনি সম্পদের স্তূপের কাছে এসে বসলেন। যাকেই দেখলেন, তাকেই একটা অংশ দিলেন।'

এ সময় আব্বাস (রা) এলেন সেখানে। বললেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাকে কিছু দিন। আমি (বদরের বন্দিত্বের) মুক্তিপণ দিয়েছি নিজের ও আকিলের (রা)।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "নাও।"

আব্বাস (রা) তার কাপড়ে নিতে লাগলেন যতটুকু চাইলেন। এরপর উঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কাউকে বলুন আমার এ বোঝাটা তুলে দিতে।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “না।"

আব্বাস (রা) বললেন, "তাহলে আপনি তুলে দিন।"

"না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন।

এরপর কাপড়ের ওপর থেকে আরও কম করলেন আব্বাস (রা)। উঠাতে গিয়ে এবারও পারলেন না উঠাতে। বললেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কাউকে বলুন আমার এ বোঝাটা তুলে দিতে।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "না।"

আব্বাস (রা) বললেন, "তাহলে আপনি তুলে দিন।"

"না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন।

এরপর আরেকটু সম্পদ কমানোর পর উঠাতে পারলেন। বোঝাটা উঠিয়ে কাঁধে ফেলে চলে গেলেন সেখান থেকে।'

সে স্তূপে একটি দিরহাম অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে যাননি সেখান থেকে।'

ইবনে রজব (রহ) বলেন, 'এ হাদিসে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহানুভবতার দৃষ্টান্ত দেখেছি। দেখেছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুনিয়াবিমুখতার অনুপম চিত্র। সম্পদ বেশি হোক বা কম তিনি মোটেও ভ্রুক্ষেপ করতেন না সেদিকে।'

লক্ষণীয় যে, আব্বাস (রা) বিশাল দেহী ছিলেন। ছিলেন বেশ শক্তিধরও। এ থেকেও বোঝা যায়, সেদিন আব্বাস (রা) অনেক বেশি পরিমাণে সম্পদ নিয়ে নিয়েছিলেন তার কাপড়ের ওপর। তাই বহন করতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রথম দুবার। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাকে নিষেধ করেননি। তাকে তার ইচ্ছেমতো নিতে দিলেন।'

টিকাঃ
৪৪০. আব্বাস (রা) ছিলেন কুরাইশদের মধ্যকার অন্যতম সম্পদশালী। কিন্তু বদরের যুদ্ধে বন্দিত্ব বরণের পর নিজের ও আকিল (রা)-এর মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে প্রায় রিক্তহস্ত হয়ে পড়েন তিনি।
৪৪১. সহিহুল বুখারি: ৩১৬৫।
৪৪২. ফাতহুল বারি: ৩/১৭৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আত্মীয়দের ইবাদতের প্রতি উৎসাহ দিতেন

📄 আত্মীয়দের ইবাদতের প্রতি উৎসাহ দিতেন


'জুবাআ (রা)-এর কাছে এলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি হজের নিয়ত করেছ?"

জুবাআ (রা) বললেন, “হাঁ, আল্লাহর শপথ, কিন্তু আমার অসুস্থতা লেগেই আছে।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুবাআকে (রা) বললেন, "তুমি হজ করো। আর এভাবে শর্ত-সহযোগে নিয়ত করো-হে আল্লাহ, যেখানেই আমি আটকে যাব, সেখানে আমি ইহরাম পরিত্যাগ করব।"'

টিকাঃ
৪৪৩. সহিহুল বুখারি ৫০৮৯, সহিহু মুসলিম ১২০৭। শব্দউৎস: সহিহু মুসলিম।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আত্মীয়দের শারীরিক সুস্থতার প্রতি লক্ষ রাখতেন

📄 আত্মীয়দের শারীরিক সুস্থতার প্রতি লক্ষ রাখতেন


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজম পরিবারকে অনুমতি দিয়েছিলেন সাপে দংশিত রোগীর রুকইয়া করতে। আসমা বিনতে উমাইসকে (রা) একদিন তিনি বলেন, "আমার চাচাতো ভাইয়ের সন্তানদের কী হলো, আমি তাদের দুর্বল দেখছি কেন? তারা কি অভাবে আছে?"

"না, তারা অভাবে নেই। কিন্তু তাদের ওপর কুনজর খুব তাড়াতাড়ি লেগে যায়।"-উমাইস (রা) জবাব দিলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি তাদের রুকইয়া করে দাও।"

উমাইস (রা) বললেন, "এরপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দোয়াটি উপস্থাপন করলাম।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "ঠিক আছে, তুমি তাদের রুকইয়া করো।"'

উম্মে মুনজির বিনতে কাইস আনসারিয়া (রা) বলেন, 'একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলিকে (রা) নিয়ে আমাদের ঘরে এলেন। আলি (রা) তখনও পুরোপুরি সেরে উঠেনি। আমাদের ঘরে অনেকগুলো আধপাকা খেজুরের কাঁদি ঝোলানো ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে খেতে উঠলেন। তখন আলিও (রা) দাঁড়ালেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “থামো আলি। এগুলো খেয়ো না। তুমি এখনও পুরোপুরি সেরে উঠোনি।" আলি (রা) বিরত হলেন।'

এরপর আমি জব ও সবজি পাতার খাবার তৈরি করে দিলাম আলির (রা) জন্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, "আলি, তুমি এটা খাও। এটা তোমার জন্য উপকারী হবে।"

টিকাঃ
৪৪৪. সহিহু মুসলিম: ২১৯৮।
৪৪৫. সুনানু আবি দাউদ: ৩৮৫৬, সুনানুত তিরমিজি: ১৯৬০, সুনানু ইবনি মাজাহ ৩৪৪২। হাদিসের মান: হাসান।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আত্মীয়দের সহযোগিতা নিতেন এবং তাদের দায়িত্ব দিতেন

📄 আত্মীয়দের সহযোগিতা নিতেন এবং তাদের দায়িত্ব দিতেন


কয়েকটি দৃষ্টান্ত নিম্নরূপ:

হিজরতের রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-তাঁর বিছানায় শোয়ার কঠিন সে দায়িত্ব আলিকে (রা)-কেই দিয়েছিলেন।

খাইবারের যুদ্ধের দিন আলিকে (রা)-কে মুসলিম বাহিনীর আমির নিযুক্ত করেন।
হজের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ থেকে কুরবানির জন্য পশুগুলো রেখে অতিরিক্ত জন্তুগুলো আলিকে (রা)-কে দিয়ে দিয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটগুলোর দায়িত্বও দিলেন তাকে। তার দায়িত্ব ছিল উট জবাইয়ের গোশত, চামড়া ও উটের ঝুল মানুষকে দান করা।

আলি (রা) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদি হিসেবে একশটি উট নিয়েছিলেন সাথে। জবাইয়ের পর আমাকে গোশত বণ্টনের নির্দেশ দিলেন। আমি বণ্টন করে দিলাম। এরপর হুকুম দিলেন উটগুলোর ঝুল বণ্টন করার। আমি করলাম। এরপর নির্দেশ দিলেন উটগুলোর চামড়া বাটোয়ারা করে দেওয়ার। আমি তাও করলাম।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাতো ভাই জাফরকে (রা) হাবশার মুহাজিরদের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে তিনিই হাবশার বাদশাহর কাছে প্রথম রিসালাতের ফরমান নিয়ে যান। তিনিই নাজ্জাশির (রহ) সামনে ইসলামের পরিচিতিমূলক সংক্ষিপ্ত অথচ সারগর্ভ ভাষণ দেন।

টিকাঃ
৪৪৬. সহিহুল বুখারি: ১৭০৭, সহিহু মুসলিম: ১৩১৭।
৪৪৭. সহিহুল বুখারি: ১৭১৮, সহিহু মুসলিম: ২৩২১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00