📄 রাসূল ﷺ তাঁর আত্মীয়তার প্রশংসা ও মূল্যায়ন করতেন
মুত্তালিব বিন আবু বিদাআ (রহ) বলেন, 'কারও মুখে কিছু একটা শুনে আব্বাস (রা) এলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে সবার উদ্দেশে বললেন, "আমি কে?” সবাই বলল, "আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।"
এরপর তিনি বললেন, "আমি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব। আল্লাহ তাআলা মাখলুককে সৃষ্টি করলেন। তাদের মধ্যকার উত্তম দলে আমাকে রাখলেন। এরপর এ দলকে তিনি দুটি ভাগে বিভক্ত করলেন। সবচেয়ে উত্তম দলে আমাকে রাখলেন। এরপর এ দলটিকে তিনি অনেকগুলো গোত্রে বিভক্ত করলেন। আমাকে রাখলেন সর্বোত্তম গোত্রে। এরপর সে গোত্রকে অনেকগুলো ঘরে বিভক্ত করলেন। আমাকে রাখলেন সবচেয়ে উত্তম ঘর ও সবচেয়ে উত্তম বংশে।"'
"কারও মুখে কিছু একটা শুনে আব্বাস (রা) এলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে"-অর্থাৎ কোনো কাফিরের মুখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিন্দা শুনে তাঁর কাছে এলেন আব্বাস (রা)। আর এ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়দের সর্বোচ্চ প্রশংসা বর্ণিত হয়েছে।
সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাসের (রা) উদ্দেশে বললেন, "এ হচ্ছে আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রা), কুরাইশদের মাঝে সবচেয়ে মহানুভব ও সবচেয়ে বেশি আত্মীয়তা রক্ষাকারী।"'
টিকাঃ
৪৩০. সুনানুত তিরমিজি: ৩৪৫৫। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৩১. মুসনাদু আহমাদ: ১৬১৩। হাদিসের মান: সহিহ।
📄 চাচা আব্বাস -এর উপদেশে পরামর্শ গ্রহণ করতেন
'ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, "মক্কা-বিজয়ের দিন আব্বাস (রা) আবু সুফইয়ান বিন হারবকে (রা) নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত হলেন। আবু সুফইয়ান (রা) মক্কার নিকবটর্তী জায়গা মাররুজ জাহরানে ইসলাম গ্রহণ করলেন।"
তখন আব্বাস (রা) বললেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু সুফইয়ান (রা) গৌরব পছন্দ করে। আপনি যদি তাকে একটু গৌরবান্বিত করতেন!"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হাঁ, যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ানের (রা) ঘরে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ। যে ব্যক্তি দরোজা বন্ধ করে ঘরে থাকবে, সে নিরাপদ।"'
টিকাঃ
৪৩২. সুনানু আবু দাউদ: ৩০৩১। হাদিসের মান: হাসান।
📄 পরিবার-পরিজনদের ইবাদতের ভুল শুধরে দিতেন
ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'একদিন আমি (আমার খালা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী) মাইমুনার (রা) ঘরে ঘুমিয়েছিলাম। দেখলাম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে মুখ ও হাত ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর আবার তিনি ঘুম থেকে উঠে পানির মশকের কাছে এসে তার ঢাকনা খুললেন। তারপর মাঝারি রকমের অজু করলেন-অধিক পানি ব্যবহার করলেন না। অথচ পরিপূর্ণ অজুই সেরে ফেললেন। এরপর নামাজে দাঁড়ালেন।'
এরপর আমিও জেগে উঠলাম। আড়মোড়া ভেঙে এমন ভান করলাম যেন তিনি বুঝতে না পারেন, আমি শুরু থেকেই তাঁকে লক্ষ করছি। আমি উঠে এসে অজু করে তাঁর বাঁ পাশে নামাজে দাঁড়ালাম। তিনি আমার কান ধরে ঘুরিয়ে এনে আমাকে ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন।...'
টিকাঃ
৪৩৩. সহিহুল বুখারি: ৬৩১৬, সহিহু মুসলিম: ৭৬৪।
📄 আত্মীয়দের মন্দ কাজে বাধা দিতেন
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) বলেন, 'একদিনের কথা। ফজল (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একই বাহনের পেছনে বসা ছিল। তখন সেখানে খাসআম গোত্রের এক মহিলা আসলো। ফজল (রা) ও সে মহিলা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজলের (রা) মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিলেন।'
এরপর মহিলাটি বলল, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহ বান্দাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। আমার বাবা একেবারেই বয়োবৃদ্ধ মানুষ। বাহনে চড়তে অক্ষম তিনি। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করতে পারব?"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হাঁ।" আর ঘটনাটি বিদায় হজের সময়কার।'
টিকাঃ
৪৩৪. সহিহুল বুخারি: ১৫১৩, সহিহু মুসলিম: ১৩৩৪।