📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 চাচা আবু তালিবের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে বেশ সচেষ্ট ছিলেন

📄 চাচা আবু তালিবের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে বেশ সচেষ্ট ছিলেন


সাইদ বিন মুসাইয়িব (রহ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, 'যখন আবু তালিবের (রহ) মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন তার কাছে। এসে দেখলেন, আবু তালিবের (রহ) পাশে আবু জাহেল (রহ) ও আব্দুল্লাহ বিন আবু উমাইয়া বিন মুগিরা (রহ) বসা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচার উদ্দেশে বললেন, "চাচা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়ুন। এ বাক্যটি পড়ুন। আমি এর মাধ্যমে আল্লাহর সামনে প্রমাণ পেশ করব।” অন্য বর্ণনায় এসেছে, "এর মাধ্যমে আমি আল্লাহর সামনে সাক্ষ্য পেশ করব।"

আবু জাহেল (রহ) ও ইবনে আবু উমাইয়া (রহ) আবু তালিবের (রহ) উদ্দেশে বলতে লাগল, "তুমি কি আব্দুল মুত্তালিবের (রহ) ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে?"

ওদিকে আবু তালিবের (রহ) শেষ কথা বলা পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কথাটি বলতে থাকলেন তার সামনে। আবু তালিবের (রহ) শেষ কথা ছিল, তিনি আব্দুল মুত্তালিবের (রহ) ধর্মের ওপর থাকবেন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে তিনি অস্বীকার করলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, "আল্লাহর কসম, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে নিষেধ না করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে যাব।"

مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ "নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। (সুরা আত-তাওবা, ৯ ১১৩)" আল্লাহ তাআলা إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ - "আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। (সুরা আল-কাসাস, ২৮: ৫৬)"'

ইমাম আহমাদের (রহ) বর্ণনায় আছে, 'আবু তালিব (রহ) তার শেষ কথায় বলেছিলেন, "মৃত্যুর ভয়ে আমি ইসলাম গ্রহণ করছি" এ কথা বলে কুরাইশরা আমাকে লজ্জা দেওয়ার আশঙ্কা না থাকলে আমি এ কালিমা পাঠ করে তোমার অন্তর শীতল করতাম।"'

যদিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা কাফির অবস্থায় মারা গেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনবরত তার জন্য শাফাআত করতে থাকার কারণে আল্লাহ তার আজাব কম করে দিয়েছেন।

আবু তালিব (রহ) সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের আজাব পাবে। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য সুপারিশ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "জাহান্নামের সর্বনিম্ন আজাব হবে আবু তালিবের (রহ)। আগুনের দুটি জুতো পরিয়ে দেওয়া হবে তাকে। এতে তার মস্তিষ্ক ফুটতে থাকবে।"'

'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরেক চাচা আব্বাস (রা) জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি কি আবু তালিবের (রহ) কোনো উপকার করতে পেরেছেন? সে তো আপনার হিফাজত করেছেন, আপনার হয়ে অন্যদের বিরোধিতা করেছেন।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "হাঁ, তার পায়ের গোছা পর্যন্ত আগুনে রয়েছে। যদি আমি উপকারে না আসতাম, তবে জাহান্নামের নিম্নস্থলে জায়গা হতো তার।"'

টিকাঃ
৪২৬. সহিহুল বুখারি: ৩৮৮৮৪, সহিহু মুসলিম: ২৪।
৪২৭. মুসনাদু আহমাদ: ৯৩২৭।
৪২৮. সহিহু মুসলিম: ২১১।
৪২৯. সহিহু মুসলিম: ২০৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 রাসূল ﷺ তাঁর আত্মীয়তার প্রশংসা ও মূল্যায়ন করতেন

📄 রাসূল ﷺ তাঁর আত্মীয়তার প্রশংসা ও মূল্যায়ন করতেন


মুত্তালিব বিন আবু বিদাআ (রহ) বলেন, 'কারও মুখে কিছু একটা শুনে আব্বাস (রা) এলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে সবার উদ্দেশে বললেন, "আমি কে?” সবাই বলল, "আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।"

এরপর তিনি বললেন, "আমি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব। আল্লাহ তাআলা মাখলুককে সৃষ্টি করলেন। তাদের মধ্যকার উত্তম দলে আমাকে রাখলেন। এরপর এ দলকে তিনি দুটি ভাগে বিভক্ত করলেন। সবচেয়ে উত্তম দলে আমাকে রাখলেন। এরপর এ দলটিকে তিনি অনেকগুলো গোত্রে বিভক্ত করলেন। আমাকে রাখলেন সর্বোত্তম গোত্রে। এরপর সে গোত্রকে অনেকগুলো ঘরে বিভক্ত করলেন। আমাকে রাখলেন সবচেয়ে উত্তম ঘর ও সবচেয়ে উত্তম বংশে।"'

"কারও মুখে কিছু একটা শুনে আব্বাস (রা) এলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে"-অর্থাৎ কোনো কাফিরের মুখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিন্দা শুনে তাঁর কাছে এলেন আব্বাস (রা)। আর এ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়দের সর্বোচ্চ প্রশংসা বর্ণিত হয়েছে।

সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাসের (রা) উদ্দেশে বললেন, "এ হচ্ছে আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রা), কুরাইশদের মাঝে সবচেয়ে মহানুভব ও সবচেয়ে বেশি আত্মীয়তা রক্ষাকারী।"'

টিকাঃ
৪৩০. সুনানুত তিরমিজি: ৩৪৫৫। হাদিসের মান: সহিহ।
৪৩১. মুসনাদু আহমাদ: ১৬১৩। হাদিসের মান: সহিহ।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 চাচা আব্বাস -এর উপদেশে পরামর্শ গ্রহণ করতেন

📄 চাচা আব্বাস -এর উপদেশে পরামর্শ গ্রহণ করতেন


'ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, "মক্কা-বিজয়ের দিন আব্বাস (রা) আবু সুফইয়ান বিন হারবকে (রা) নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত হলেন। আবু সুফইয়ান (রা) মক্কার নিকবটর্তী জায়গা মাররুজ জাহরানে ইসলাম গ্রহণ করলেন।"

তখন আব্বাস (রা) বললেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু সুফইয়ান (রা) গৌরব পছন্দ করে। আপনি যদি তাকে একটু গৌরবান্বিত করতেন!"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হাঁ, যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ানের (রা) ঘরে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ। যে ব্যক্তি দরোজা বন্ধ করে ঘরে থাকবে, সে নিরাপদ।"'

টিকাঃ
৪৩২. সুনানু আবু দাউদ: ৩০৩১। হাদিসের মান: হাসান।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 পরিবার-পরিজনদের ইবাদতের ভুল শুধরে দিতেন

📄 পরিবার-পরিজনদের ইবাদতের ভুল শুধরে দিতেন


ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'একদিন আমি (আমার খালা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী) মাইমুনার (রা) ঘরে ঘুমিয়েছিলাম। দেখলাম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে মুখ ও হাত ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর আবার তিনি ঘুম থেকে উঠে পানির মশকের কাছে এসে তার ঢাকনা খুললেন। তারপর মাঝারি রকমের অজু করলেন-অধিক পানি ব্যবহার করলেন না। অথচ পরিপূর্ণ অজুই সেরে ফেললেন। এরপর নামাজে দাঁড়ালেন।'

এরপর আমিও জেগে উঠলাম। আড়মোড়া ভেঙে এমন ভান করলাম যেন তিনি বুঝতে না পারেন, আমি শুরু থেকেই তাঁকে লক্ষ করছি। আমি উঠে এসে অজু করে তাঁর বাঁ পাশে নামাজে দাঁড়ালাম। তিনি আমার কান ধরে ঘুরিয়ে এনে আমাকে ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন।...'

টিকাঃ
৪৩৩. সহিহুল বুখারি: ৬৩১৬, সহিহু মুসলিম: ৭৬৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية