📄 শিশুদের সাথে হাসাহাসি ও খেলাধুলা করতেন
সাইদ বিন আবু রশিদ (রহ) বর্ণনা করেন, ইয়ালা বিন মুররা (রা) তাকে বলেন, 'একবার তারা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাওয়ার দাওয়াতে বের হলেন। তখন হুসাইন (রা) সরু গলির মধ্যে খেলছিলেন।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়ালেন। কিন্তু হুসাইন (রা) এদিক সেদিক ছুটোছুটি করছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হাসাতে হাসাতে ধরে ফেললেন। তার চোয়ালের নিচে এক হাত রেখে, আরেক হাত তার মাথার পেছনে রেখে তাকে চুমু খেলেন। বললেন, "হুসাইন (রা) আমার থেকে। আমি হুসাইনের (রা) থেকে। যে হুসাইনকে (রা) ভালোবাসে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। হুসাইন (রা) একাই একটি জাতি।"'
"হুসাইন (রা) আমার থেকে। আমি হুসাইনের (রা) থেকে।"-অর্থাৎ আমাদের এমন গাঢ় সম্পর্ক বিদ্যমান যে, আমাদের একজন অন্যজনের অংশ বললে অত্যুক্তি হবে না।
"হুসাইন (রা) একাই একটি জাতি।"-অর্থাৎ কল্যাণজনক দল। যারা কল্যাণের কাজ করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথাটি ইঙ্গিত করে যে, হুসাইনের (রা) মাধ্যমে একটি সম্প্রদায় গড়ে উঠবে। তার সন্তানসন্ততি অনেক হবে। তার বংশধর অনেক হওয়ার সাথে সাথে দীর্ঘস্থায়ী হবে তার বংশধারা। আর বাস্তবেই এমনটি হয়েছে।'
টিকাঃ
৪০৩. সুনানু ইবনি মাজাহ ১৪৪। সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকারে এসেছে-সুনানুত তিরমিজি: ৩৭৭৫। হাদিসের মান: সহিহ।
৪০৪. তুহফাতুল আহওয়াজি ১০/১৭৮।
📄 তাদের জন্য রহমতের দোয়া করতেন
উসামা বিন জাইদ (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উঠিয়ে তাঁর এক উরুর ওপর বসাতেন। অপর উরুতে বসাতেন হাসানকে (রা)। এরপর উভয়কে জড়িয়ে ধরে দোয়া করতেন, "হে আল্লাহ, আপনি এ দুজনের ওপর রহম করুন, কারণ আমি এ দুজনকে ভালোবাসি।"'
টিকাঃ
৪০৫. সহিহুল বুখারি: ৬০০৩।
📄 উপহারের একটি অংশ নাতিরাও পেত
উপহার মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে। বিশেষ করে শিশুদের মনকে আনন্দে বিহ্বল করে তোলে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপহার এলে তিনি উপহারের একটা অংশ নাতিদের দিয়ে দিতেন।
আয়িশা (রা) বলেন, 'নাজ্জাশির (রহ) কাছ থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কিছু অলংকার উপহার আসলো। অলংকারের মধ্যে একটি সোনার আংটি ছিল। আংটিতে একটি হাবশি পাথর বসানো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যদিকে ফিরে কাঠি বা তাঁর আঙুল দিয়ে আংটিটি তুলে ধরলেন। এরপর আবুল আস (রা) ও জাইনাবের (রা) ঘরের রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাতনি উমামাকে (রা) ডাক দিয়ে বললেন, "প্রিয় কন্যা, এটি পরো।"'
টিকাঃ
৪০৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪২৩৫, সুনানু ইবনি মাজাহ ৩৬৪৪। হাদিসের মান: হাসান।
📄 ছোটবেলা থেকেই নাতিদের হারাম বর্জনের শিক্ষা দিতেন
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'হাসান বিন আলি (রা) সাদাকার খেজুর হতে একটি খেজুর তুলে নিয়ে মুখে পুরে দিলেন। সাথে সাথে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "কাখ, কাখ” বলে উঠলেন যেন হাসান (রা) খেজুরটা ফেলে দেয় মুখ থেকে।'
এরপর বললেন, "তুমি কি জানো না যে, আমরা সাদাকা খাই না?"'
'এ হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়, বড়রা যে জিনিস থেকে বেঁচে থাকে, ছোটদেরও সে জিনিস পরিহার করতে হবে। আর এ বুঝটা ছোটদের প্রদান করা বড়দের ওপর ওয়াজিব দায়িত্ব।'
শিশুদের উপকারী কথা ও কাজ শেখাতে হবে। যদিও তারা শরিয়তের বিধান মানার বাধ্যবাধকতার বয়সের নয়, তবুও হারামের মতো ক্ষতিকর কথা ও কাজ করতে নিষেধ করতে হবে তাদের।'
টিকাঃ
৪০৭. সহিহুল বুখারি: ১৪১৯, সহিহু মুসলিম: ১০৬৯।
৪০৮. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৭/১৭৫, ফাতহুল বারি: ৩/৩৫৫।