📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশু নাতিদের আকিকা দিতেন

📄 শিশু নাতিদের আকিকা দিতেন


ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান (রা) ও হুসাইনের (রা) আকিকা দিয়েছিলেন জোড়া জোড়া ভেড়া জবাই করে।'

শিশুর জন্মের পর যে পশু জবাই করা হয়, তাকে আকিকা বলে। ছেলে শিশুর জন্য দুটি ছাগল। আর মেয়ে শিশুর জন্য একটি ছাগল।

ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'আকিকার অনেক উপকারিতা। আকিকা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। এতে আছে মর্যাদা ও দয়া। এতে শিশু সন্তানের প্রতি (পিতামাতার) দায় সেরে যায়। এ ছাড়াও আকিকা শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও স্থায়ী সুস্থতার কারণ হয় এবং শিশুকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে হিফাজত করে।'

টিকাঃ
৩৬৩. সুনানুন নাসায়ি ৪২১৯। হাদিসের মান: সহিহ।
৩৬৪. তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলুদ: ৬৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশু জন্মের পর সপ্তম দিন পর্যন্ত আকিকা বিলম্বিত করতেন

📄 শিশু জন্মের পর সপ্তম দিন পর্যন্ত আকিকা বিলম্বিত করতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান (রা) ও হুসাইনের (রা) জন্মের পর সপ্তম দিনে আকিকা ও নামকরণ করেছিলেন।'

'শিশুর জন্ম শনিবারে হলে তার আকিকা হবে সপ্তম দিন হিসেবে শুক্রবারে। অর্থাৎ জন্মগ্রহণের দিনের আগের দিন। এটাই হচ্ছে নিয়ম। তাই শিশু যদি বৃহস্পতিবারে জন্ম নেয়, তবে আকিকা হবে বুধবারে। এভাবে হবে হিসাবটা।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, 'শিশু আকিকার ওপর বন্ধক (দায়বদ্ধ) থাকে। জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা দিতে হবে এবং তার নাম রাখতে হবে।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক সন্তানের নাম রেখেছিলেন শিশুর জন্মের দিনেই। যেমন তিনি বলেছিলেন, 'গত রাতে আমার একটি সন্তান জন্ম নিয়েছে। আমি তার নাম রেখেছি আমার বাবা ইবরাহিমের (রা) নামে।'

টিকাঃ
৩৬৫. সহিহু ইবনি হিব্বান: ৫৩১১; এ হাদিসকে ইবনে হাজার (রহ) সহিহ বলেছেন। দেখুন, ফাতহুল বারি: ৯/৫৮৯।
৩৬৬. আশ-শারহুল মুমতি': ৭/৪৯৩।
৩৬৭. সুনানু আবি দাউদ: ২৮৩৮, সুনানুত তিরমিজি: ১৫২২। হাদিসের মান: সহিহ।
৩৬৮. সহিহু মুসলিম: ৩১২৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুর মাথা কামিয়ে চুলের ওজন পরিমাণ রুপা দান করতেন

📄 শিশুর মাথা কামিয়ে চুলের ওজন পরিমাণ রুপা দান করতেন


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোলাম আবু রাফি (রা) বলেন, 'হাসানের (রা) জন্মের পর তার মা ফাতিমা (রা) দুটি ছাগল জবাই করে আকিকা দিতে চাইলেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আকিকা কোরো না। এখন তার মাথা মুণ্ডন করে চুলের ওজনের সমান রুপা সাদাকা করো আল্লাহর রাস্তায়।" হুসাইনের (রা) জন্মের পরও ফাতিমা (রা) তেমনই করলেন।'

'আকিকা কোরো না'- বলার কারণ হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে নাতির আকিকা করতে চাইছিলেন।

আনাস (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান-হুসাইনের (রা) জন্মের সপ্তম দিনে তাদের মাথা মুণ্ডন করার আদেশ দিলেন। এরপর মুণ্ডানো চুলের ওজন পরিমাণ রুপা সাদাকা করলেন।'

নবজাতক শিশুর মাথা মুণ্ডন করা অনেক উপকারী। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে, নবজাতকের মাথা কামানোর ফলে মাথার লোমকূপগুলো উন্মুক্ত হয় এবং চুল গজানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

মাথা মুণ্ডনের পর জাফরান দিয়ে মাথা মুছে দেওয়া একটি ভুলে যাওয়া সুন্নাত। মানুষ এ সুন্নাহটি পালন করে না বললেই চলে। আয়িশা (রা) বলেন, 'জাহিলি যুগে লোকেরা শিশুর আকিকা করে জন্তুর রক্ত একটি কাপড়ের টুকরোয় নিয়ে মুণ্ডিত মাথায় লেপে দিত। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে বলেন, "তোমরা জন্তুর রক্তের পরিবর্তে নবজাতকের মাথায় খালুক (সুগন্ধি) দাও।"'

টিকাঃ
৩৬৯. মুসনাদু আহমাদ ২৬৬৫৫। হাদিসের মান: হাসান।
৩৭০. আল-বাজ্জার ৬১৯৯। হাদিসের মান: হাসান।
৩৭১. সহিহু ইবনি হিব্বান ৫৩২৮। হাদিসের মান: সহিহ। হাদিসে খালুক শব্দটি এসেছে। খালুক হচ্ছে লাল ও হলুদ বর্ণের সুগন্ধিকে জাফরানের সাথে মিশিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের সুগন্ধি। নিহায়া ২/১৪৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুর জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন করতেন

📄 শিশুর জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন করতেন


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের সুন্দর সুন্দর নাম রাখতেন। এই কাজটি ছিল তাঁর স্বভাবজাত। এমনকি বয়স্ক লোকদের মন্দ নামও তিনি পরিবর্তন করে দিতেন। পিতার ওপর সন্তানের অধিকার হচ্ছে, তার সুন্দর একটি নাম রাখা। একটি ভালো নাম বাছাই করে নেওয়া। আজগুবি, দুর্বোধ্য, শ্রুতিকটু ও নিকৃষ্ট অর্থবোধক নাম পরিহার করতে হবে।

টিকাঃ
৩৭২. নামের ব্যাপারে দুটি ঘটনা বলছি: 'একবার বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তার সামনে এল বৃদ্ধ এক নারী মুসাফির। কর্মকর্তা জিজ্ঞেস করল, "আপনার নাম কী?” বৃদ্ধা বলল, الصلاة على النبي নবির ওপর দরুদ পড়ো।" কর্মকর্তা বলল, عليه الصلاة والسلام-সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবির ওপর। আপনার নামটা বলুন।" বৃদ্ধা আবারও বলল, "الصلاة على النبي নবির ওপর দরুদ পড়ো।" কর্মকর্তা আবারও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পড়ল। বলল, "عليه الصلاة والسلام - সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবির ওপর। আপনার নামটা বলুন।" কিন্তু বৃদ্ধা আগের কথাটাই বলল। শেষে কর্মকর্তা বুঝতে পারল আসলে বৃদ্ধার নামই হচ্ছে, "الصلاة على النبي নবির ওপর দরুদ পড়ো।”' এ রকম আরেক লোককে জিজ্ঞেস করা হলো, 'তোমার উপনাম কী?' أبو عبد الملك الكريم الذي يُمْسِكُ السَّمَاءَ أَن تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ -অর্থাৎ সম্মানিত মালিকের বান্দার পিতা যিনি আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তাঁর আদেশ ব্যতীত ভূপৃষ্ঠে পতিত না হয়।' জিজ্ঞেসকারী মোবারকবাদ জানিয়ে বলল, 'অর্থ কুরআনের বাপ তুমি, উঁচু হও।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00