📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণময় কাজের নির্দেশনা দিতেন

📄 দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণময় কাজের নির্দেশনা দিতেন


আলি (রা) বলেন, 'একবার ফাতিমা (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে এলেন তাঁর আটা পেষার কষ্টের কথা জানিয়ে একটি খাদিম চাওয়ার জন্য। কিন্তু ঘরে এসে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেলেন না। তাই বিষয়টি আয়িশা (রা)-কে বলে চলে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে এলে আয়িশা (রা) তাঁকে ফাতিমার (রা) খাদিম চাওয়ার কথা জানালেন।' আলি (রা) বলেন, 'এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। ততক্ষণে আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। তাঁকে দেখে আমরা উঠে বসতে চাইলাম। কিন্তু তিনি "তোমরা আপন জায়গায় থাকো" বলে আমাদের মাঝখানে এসে বসলেন। আমি তখন আমার বুকে তাঁর দুপায়ের শীতল স্পর্শ অনুভব করলাম। তিনি বললেন, "আমি কি তোমাদের খাদিমের চেয়ে উত্তম কিছুর সন্ধান দেবো না? যখন তোমরা ঘুমানোর জন্য বিছানায় আসবে অথবা শুয়ে পড়বে, তখন ৩৩ বার "আল্লাহু আকবার", ৩৩ বার "সুবহানাল্লাহ”, ৩৩ বার "আলহামদুলিল্লাহ" পড়বে। এটা তোমাদের জন্য খাদিমের চাইতেও বেশি উত্তম।"'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ কন্যাকে খাদিম না দেওয়ার কারণ হচ্ছে, তিনি আহলে সুফফার দরিদ্রদের কষ্ট লাঘব করাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। নিজের পরিবারের জন্য সবর করাই শ্রেয় মনে করেছিলেন। কারণ, এতে তারা অধিক সাওয়াবের অধিকারী হয়।

হাদিস থেকে শিক্ষা
এই হাদিসে কন্যা ও জামাতার প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর-স্নেহের আধিক্য এবং সংকোচ ও দূরত্ব ঘুচিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁদের চূড়ান্ত অন্তরঙ্গতার একটি চিত্র উঠে এসেছে আমাদের সামনে। তাঁদের দুজনকে তিনি আপন জায়গা থেকে সরতে দেননি। উভয়কেই আপন অবস্থায় রেখে তিনি মাঝখানে ঢুকে পড়লেন-উভয়ের মাঝে ঢুকিয়ে দিলেন নিজের পা। এভাবে মাঝখানে বসে তাঁদের এমন একটি জিকির শেখালেন, যা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত গোলাম থেকে উত্তম। এটি মূলত কাউকে এমন কিছু দান করা, যা সে চায়নি। এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বোঝালেন যে, তাঁরা যা পেতে চাচ্ছে, তার চেয়ে উত্তম বস্তু হলো: আখিরাতের পাথেয় জোগাড় করা, দুনিয়ার কষ্টে ধৈর্যধারণ করা এবং ধোঁকার রাজ্য দুনিয়া থেকে যথাসম্ভব দূরে অবস্থান করা।'

খাদিম দেওয়ার পরিবর্তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রা)-কে আরও একটি দোয়া শিখিয়েছিলেন। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'ফাতিমা (রা) নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে একটি খাদিম চাইলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তুমি বরং এ দোয়া পড়ো-

اللهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهِ، اللهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ، وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ

“হে আল্লাহ, হে সপ্ত আকাশের রব, জমিনের রব, মহান আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী! হে তাওরাত, ইনজিল ও কুরআন নাজিলকারী! আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ, আপনিই প্রথম-আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না, আপনি সর্বশেষ-আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না, আপনি সবকিছুর ওপরে-আপনার ওপরে কিছুই নেই, আপনি সর্বনিকটে-আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।"'

টিকাঃ
৩৩৫. সহিহুল বুখারি: ৩৭০৫, সহিহু মুসলিম: ২৭২৭।
৩৩৬. ফাতহুল বারি: ১১/১২৪।
৩৩৭. সহীহ মুসলিম: ২৭২৬ (৪/২০৮৪)

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 সন্তানদের দায়িত্বশীলতা শেখাতেন

📄 সন্তানদের দায়িত্বশীলতা শেখাতেন


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'ফাতিমা (রা), নিজেকে তুমি জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। কারণ, আল্লাহর আজাব হতে রক্ষা করার ব্যাপারে আমি তোমার এতটুকু উপকারেও আসব না।'

ইমাম বুখারির (রহ) বর্ণনায় এসেছে, 'হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমার সম্পদের যা চাও চেয়ে নাও। কিন্তু আল্লাহর সামনে আমি তোমার কোনো উপকার করতে পারব না।'

ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'হাদিসের মর্মার্থ হচ্ছে-"ফাতিমা, তুমি রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যা, এই আত্মীয়তার ওপর ভরসা কোরো না। কেননা, আল্লাহ যদি তোমার বদ আমলের কারণে তোমাকে কোনো শাস্তি দিতে চান, তবে আমি সে শাস্তি রোধ করতে পারব না।"'

টিকাঃ
৩৩৮. সহিহুল বুখারি: ২৭৫৩, সহিহু মুসলিম: ২০৪।
৩৩৯. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৩/৮০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কন্যাদের তাহাজ্জুদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন

📄 কন্যাদের তাহাজ্জুদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন


আলি (রা) থেকে বর্ণিত আছে, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন রাতের বেলা ফাতিমা (রা)-এর কাছে আসলেন। আলি (রা) ও ফাতিমা (রা)-কে বললেন, "তোমরা কি রাতের নামাজ পড়বে না?" আলি (রা) বললেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাদের সবকিছু তো আল্লাহর হাতে। তিনি যখন (শেষ রাতে) আমাদের তুলবেন আমরা উঠব।"

আলি (রা) বলেন, "আমার কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কিছু না বলেই চলে গেলেন। যেতে যেতে তিনি উরুর ওপর হাত দিয়ে প্রহার করে বলছিলেন: وَكَانَ الْإِنسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا - কিন্তু মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্ককারী। (সুরা আল-কাহফ, ১৮: ৫৪)"'

ইবনে বাত্তাল (রহ) বলেন, 'এ হাদিস থেকে কিয়ামুল লাইলের ফজিলত এবং পরিবার-পরিজনদের কিয়ামুল লাইলের ব্যাপারে সচেতন করার গুরুত্ব বোঝা যায়।'

ইমাম তাবারি (রহ) বলেন, 'শেষ রাতের সময়টা মানুষের জন্য প্রশান্তিদায়ক সময়, একই সাথে এ সময়টা কিয়ামুল লাইলের সময়। ঘুমের প্রশান্তির চাইতে কিয়ামুল লাইলের সাওয়াব বেশি ও গুরুত্বপূর্ণ এবং আল্লাহর কাছে কিয়ামুল লাইল আদায়কারীদের অনন্য মর্যাদা হওয়ার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলি (রা) ও ফাতিমা (রা)-কে দুবার জাগালেন। রাতের আরাম ও প্রশান্তিকে পাশ কেটে আলি (রা) ও ফাতিমার (রা) জন্য কিয়ামুল লাইলের সাওয়াবকেই তিনি উত্তম মনে করলেন।'

'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার পর আলি (রা)-এর তড়িৎ জবাবে এবং ওজর ছাড়াই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দ্বিমত করার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের উরুতে হাত দিয়ে প্রহার করে আয়াতটি বলেছিলেন আশ্চর্য হওয়ার কারণে।'

যাহোক, এ হাদিসে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় হলো, তাহাজ্জুদ যেহেতু ওয়াজিব কোনো আমল নয়; বরং নফল আমল, তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের দুজনকে সে অনুযায়ী উৎসাহিত করেছেন। আলি (রা)-এর জবাব শুনে তিনি চলে গেলেন। অনথ্যায় যেকোনো ওয়াজিব আমলের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের আপন অবস্থার ওপর ছেড়ে দিতেন না। ওয়াজিব পালনে শিথিলতা তিনি সহ্য করতেন না। আর আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।'

টিকাঃ
৩৪০. সহিহুল বুখারি: ১১২৭, সহিহু মুসলিম: ৭৭৫।
৩৪১. শারহু সহিহিল বুখারি: ৩/১১৫।
৩৪২. ইবনে বাত্তাল (রহ) কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ৩/১১৫, হাশিয়াতুস সিনদি: ৩/২০৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 সন্তানদের আবেগ-অনুভূতির ব্যাপারে সচেতন ছিলেন

📄 সন্তানদের আবেগ-অনুভূতির ব্যাপারে সচেতন ছিলেন


মিসওয়ার বিন মাখরামা (রা) বলেন, 'আলি বিন আবি তালিবের (রা) ঘরে নবি-কন্যা ফাতিমা (রা) থাকা অবস্থায় তিনি আবু জাহেলের কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। এ কথা শুনে ফাতিমা (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। বললেন, "আপনার সম্প্রদায়ের লোকেরা বলছে, আপনি নিজ কন্যাদের জন্য রাগবেন না। আলিকে (রা) দেখুন-তিনি আবু জাহেলের কন্যাকে বিয়ে করছেন।"

ফাতিমার (রা) কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গেলেন। তখন আমি শুনলাম, তিনি শাহাদাহ উচ্চারণ করে বলতে শুরু করলেন, "হামদ ও সালাতের পর। আমি আবুল আস বিন রাবির (রা) কাছে আমার মেয়ে দিয়েছি। সে আমাকে কথা দিয়ে কথা রেখেছে। আমাকে ওয়াদা করে, ওয়াদা পালন করেছে সে। ফাতিমা (রা) আমারই অংশ। যা তাকে কষ্ট দেয়, সেটা আমাকেও কষ্ট দেয়। আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যা ও আল্লাহর শত্রুর কন্যা একই ব্যক্তির বিবাহের অধীনে আসতে পারে না কখনো।" এরপর আলি (রা) আবু জাহেলের কন্যাকে দেওয়া বিবাহের প্রস্তাব ফিরিয়ে নিলেন।'

আলি (রা)-কে বিয়ে করতে নিষেধ করার পেছনে আলিমগণ (রহ) অনেক কারণ বর্ণনা করেছেন। সেগুলোকে আমরা মোটামুটি এই চারটি পয়েন্টে একত্রিত করতে পারি:

প্রথমত, এ বিয়ের কারণে ফাতিমা (রা) কষ্ট পেতেন। আর ফাতিমা (রা) কষ্ট পাওয়া মানে স্বয়ং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কষ্ট পাওয়া। আর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট দেওয়া কবিরা গুনাহের শামিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট বলেছেন, 'ফাতিমা (রা) আমারই অংশ। যা তাকে অস্থির করে, তা আমাকেও অস্থির করে এবং যা তাকে কষ্ট দেয়, সেটা আমাকেও কষ্ট দেয়।' তবে এ বিষয়টি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যাগণ ব্যতীত অন্য কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

দ্বিতীয়ত, ফাতিমা (রা)-এর ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা। যেমনি বুখারির (রহ) (হাদিস : ৩১১০) বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আমি আশঙ্কা করছি, ফাতিমা (রা) দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হবে।'

স্বামীর ক্ষেত্রে গায়রত থাকা নারীদের স্বভাব। এ স্বভাব দিয়েই তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশঙ্কা করলেন, ফাতিমার (রা) গায়রত হয়তো তাকে এমন কাজের প্রতি প্ররোচিত করবে, যা মোটেই ফাতিমার (রা) উপযুক্ত হবে না এবং ফাতিমার (রা) মর্যাদার সঙ্গে যাবে না- অথচ ফাতিমা (রা) হচ্ছেন জগতের সকল নারীর সর্দার।

বিশেষ করে, ফাতিমা (রা) তাঁর মাকে হারালেন। হারালেন একে একে তাঁর সকল বোনকে। তাই গায়রতের কারণে ফাতিমার (রা) আত্মমর্যাদাবোধ জেগে উঠলে তাঁকে শান্ত করার মতো কেউ নেই।

ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'এ ঘটনা মক্কা-বিজয়ের পরের। তখন কেবল ফাতিমা (রা) বেঁচে ছিলেন নবি-কন্যাদের মধ্যে। তাঁর মা খাদিজা (রা)-এর মৃত্যুর পর একে একে বোনদের মৃত্যু তাঁকে বিপর্যস্ত করে তোলে। তাই স্বামীর নতুন বিয়ের কারণে জেগে ওঠা গায়রত তাঁর দুঃখকে আরও বাড়িয়ে দেবে।'

তৃতীয়ত, আল্লাহর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যা এবং আল্লাহর শত্রুর কন্যা একই ঘরে একই স্বামীর বিবাহধীন থাকবে-এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিল অপছন্দনীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যা ও আল্লাহর শত্রুর কন্যা একই ব্যক্তির বিবাহধীনে আসতে পারে না কখনো।'

চতুর্থত, ফাতিমা (রা)-এর অধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিয়ে নিষেধ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ক্ষেত্রে ফাতিমা (রা)-এর মর্যাদা ও সম্মানের স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন।

মোটকথা, সামষ্টিক বা স্বতন্ত্রভাবে এ সকল কারণই সক্রিয় ছিল আলি (রা)-এর এই বিয়ে বাধাগ্রস্ত হওয়ার নেপথ্যে। তবে এই হাদিসে মোটেও বহুবিবাহের বিরোধীদের জন্য কোনো প্রকার প্রমাণ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং এমন দলিল গ্রহণের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন। কেননা, এ হাদিসেই তিনি নিজেই বলেছেন, 'তবে আমি হালালকে হারামকারী নই-হারামকে হালালকারী নই।'

টিকাঃ
৩৪৩. সহিহুল বুখারি: ৩১১০, সহিহু মুসলিম: ২৪৪৯।
৩৪৪. ফাতহুল বারি: ৭/৮৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00