📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কন্যা ও স্বামীর ছোটখাটো মান-অভিমান হন্তক্ষেপ করতেন না

📄 কন্যা ও স্বামীর ছোটখাটো মান-অভিমান হন্তক্ষেপ করতেন না


সাহল বিন সাদ (রা) বলেন, 'একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমার (রা) বাড়িতে এলেন। আলিকে (রা) বাড়িতে না দেখে বললেন, "তোমার চাচাতো ভাই কোথায়?"

ফাতিমা (রা) বললেন, "আমার ও তাঁর মাঝে ঝগড়া হয়েছে। আমার সাথে রাগ করে বাইরে চলে গেছেন তিনি। দুপুরের বিশ্রামও করেননি বাড়িতে।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এক ব্যক্তিকে বললেন, “দেখো তো কোথায় গেল সে?"

লোকটি আলির (রা) সন্ধান করে এসে বললেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তিনি মসজিদে শুয়ে আছেন।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে এসে দেখলেন, আলি (রা) শুয়ে আছে। তার শরীরের একাংশ থেকে চাদর পড়ে গিয়ে মাটি লেগে গেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শরীরের মাটি মুছতে মুছতে বললেন, "উঠো হে মাটিওয়ালা, উঠো হে মাটিওয়ালা!”'

ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, মেয়ের জামাইয়ের সাথে খোশামোদ করা যায়। রেগে গেলে শান্তও করা যায়।'

লক্ষণীয় যে, ফাতিমা (রা) ও তাঁর স্বামী আলি (রা)-এর মাঝে কী নিয়ে ঝগড়া হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা জানতে চাননি। তাদের ঝগড়ার বর্ণনাও জিজ্ঞেস করেননি তিনি। বরং পুরো ব্যাপারটাকে এড়িয়ে গেলেন এবং আলি (রা)-কে শান্ত করতে বেরিয়ে পড়লেন।

কন্যা ও তার স্বামীর ঝগড়ার সময় করণীয় কী, তা জানলাম আমরা। কিন্তু আজকাল অনেকেই স্বামী-স্ত্রীর ছোটখাটো ঝগড়ার মাঝে নাক গলিয়ে বসে। ফলে সমস্যা কমার পরিবর্তে উল্টো বেড়ে যায়। কখনো কখনো গুরুতর আকার ধারণ করে।

এ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তম চরিত্রের আরেকটি চিত্র আমরা দেখতে পেয়েছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যা ও তার স্বামীর ঝগড়ার কথা শুনে স্বামীকে খুঁজতে লাগলেন। খুঁজে তাকে শান্ত করতে গেলেন। তার গায়ের মাটি ঝেড়ে দিলেন। মাটিওয়ালা বলে তার সাথে কৌতুক করলেন, যাতে তিনি ইতস্তত বোধ না করে অনায়াসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কথা বলতে পারেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মেয়ের সাথে ঝগড়া করার জন্য মেয়ের স্বামী আলি (রা)-কে মোটেই তিরস্কার করেননি। যদিও মেয়ে ফাতিমা (রা)-ই ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিক প্রিয়। আলি (রা)-কে এ বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি। এটা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রজ্ঞার নিদর্শন।

বোঝা গেল, জামাইয়ের প্রতি কোমল আচরণ করা, জামাইয়ের রাগ শান্ত করা, হৃদ্যতা অটুট রাখার স্বার্থে জামাইকে তিরস্কার না করা মুসতাহাব।

ইবনে বাত্তাল (রহ) বলেন, 'এ হাদিস থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, মর্যাদাবান লোকদেরও স্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগি হতে পারে-এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। রাগ একটি মানবিক বৈশিষ্ট্য। রাগের কারণে ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়াও দোষণীয় কিছু নয়।'

রাগারাগির পর আলি (রা) বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেন কারণ ফাতিমা (রা)-এর সাথে হয়তো এমন কোনো আচরণ করে ফেলতেন, যা ফাতিমা (রা)-এর মর্যাদার সঙ্গে যায় না। তাই মন্দ কিছু করার সম্ভাবনা একেবারেই শূন্যের কোঠায় আনার জন্য উভয়ের রাগ ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত আলি (রা) ঘরের বাইরে চলে গেলেন।'

এ হাদিস থেকে আরও বোঝা যাচ্ছে, স্বামী যখন অনুভব করবে, স্ত্রীর সাথের রাগারাগিটা আরও গুরুতর সমস্যার দিকে নিয়ে যাবে, তখন স্বামী ঘর থেকে বের হয়ে সে সম্ভাবনা বাতিল করে দেবে। এ অবস্থায় বাড়ি ত্যাগ করার ফলে মানুষ নিজের কথার হিসেব করার সময় পাবে। রাগের সময় কারও ভুল নিজের কাছে ধরা পড়ে না। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হয়ে একান্তে চিন্তা করলে নিজের ভুল নিজের কাছে ধরা দেয়। কিন্তু বাড়িতে থাকলে এমনটা হতো না মোটেই। বাড়িতে থাকলে উল্টো তাদের ঝগড়া সীমালঙ্ঘনের পর্যায়ে পৌঁছে যেত।

অন্যদিকে, ফাতিমা (রা) কিন্তু তাদের ঘর থেকে বের হয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেননি। তিনি এমনটা করলে, সমস্যা আরও বেড়ে যেত। কিন্তু তিনি স্বামীর ঘরে থাকার কারণে সমস্যাটি হতে পারেনি।

পরিবারের লোকদের করণীয় হচ্ছে, দম্পতিকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখা। তাদের নসিহত করা। স্ত্রীকে সবর করতে বলা। স্বামীর সাথে সদাচরণের নির্দেশনা দেওয়া।

টিকাঃ
৩২৮. সহিহুল বুখারি ৪৪১, সহিহু মুসলিম: ২৪০৯।
৩২৯. ফাতহুল বারি: ১/৫৩৬।
৩৩০. ফাতহুল বারি: ১০/৫৮৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কন্যা পিত্রালয়ে ফিরলে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতেন এবং আগ বাড়িয়ে এগিয়ে নিতেন

📄 কন্যা পিত্রালয়ে ফিরলে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতেন এবং আগ বাড়িয়ে এগিয়ে নিতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে চরিত্র, ব্যক্তিত্ব ও আদর্শের দিক থেকে ফাতিমার (রা) চাইতে এত মিল অন্য কারও মাঝে দেখিনি। ফাতিমা (রা) যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসতেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা থেকে উঠে যেতেন, ফাতিমাকে (রা) চুমু খেতেন, নিজের জায়গায় তাকে বসাতেন।'

আবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফাতিমার (রা) কাছে যেতেন, ফাতিমা (রা) বসা থেকে উঠে এসে স্বাগত জানাতেন। তাঁকে চুমু খেয়ে নিজের স্থানে বসাতেন।'

আবু দাউদের (রহ) এক বর্ণনায় এসেছে, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমার (রা) হাত ধরে তাঁকে চুমু খেলেন।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি ফাতিমা (রা)-এর সম্মানার্থে করতেন।

আয়িশা (রা) বলেন, 'ফাতিমা (রা) হেঁটে ঘরে এলেন। মনে হলো তাঁর হাঁটা অবিকল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে "এসো আমার প্রিয় কন্যা" বলে নিজের ডান বা বাঁ পাশে বসালেন।...'

এ হাদিসে ফাতিমা (রা)-এর প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালোবাসা ও সম্মানের একটি অনুপম চিত্র দেখতে পেয়েছি আমরা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই তাঁর মেয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তাঁকে স্বাগত জানাতেন।

দেখুন, নববি আদর্শ কেমন। আর ভাবুন ওই সব কঠোর-হৃদয় লোকদের চাঁছাছোলা মনোভঙ্গি নিয়ে, যারা মনে করে সন্তানদের সামনে সব সময় গম্ভীর ও সিরিয়াস চেহারা করে থাকাটা পৌরুষ, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বশীলতার আলামত। বিশেষ করে কন্যা-সন্তানদের সামনে এমনটি বেশি করা হয়।

টিকাঃ
৩৩১. সুনানু আবি দাউদ: ৫২১৭, সুনানুত তিরমিজি: ৩৮৭২। হাদিসের মান: সহিহ।
৩৩২. সহিহুল বুখারি: ৩৬২৪, সহিহু মুসলিম: ২৪৫০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 দুনিয়াবিমুখতা ও সাদাকা প্রদানের প্রতি সন্তানদের উদ্বুদ্ধ করতেন

📄 দুনিয়াবিমুখতা ও সাদাকা প্রদানের প্রতি সন্তানদের উদ্বুদ্ধ করতেন


আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা) বলেন, 'একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রা)-এর ঘরে যান। গিয়ে দেখেন, তাদের দরোজায় একটি পর্দা ঝুলানো। তিনি ঘরে প্রবেশ না করে ফিরে আসেন।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো সফর থেকে ফিরলে প্রায়শ সবার আগে ফাতিমার (রা) ঘরে যেতেন।

আলি (রা) ঘরে এসে ফাতিমাকে (রা) চিন্তিত দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে তোমার?"

ফাতিমা (রা) বললেন, "নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘরের সামনে এসে ঘরে না ঢুকে ফিরে গেলেন।"

এরপর আলি (রা) এলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। বললেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি ফাতিমার (রা) ঘরের সামনে গিয়েও ভেতরে গেলেন না, এটা ফাতিমার (রা) জন্য ভীষণ কষ্টদায়ক হয়েছে।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "দুনিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক কী? আমার সাথে কারুকার্যের কী সম্পর্ক? আমি তার ঘরের দরোজায় একটি নকশাদার পর্দা ঝুলতে দেখলাম।"

আলি (রা) ফাতিমার (রা) কাছে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা জানালেন। ফাতিমা (রা) তখন বললেন, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করুন, ওই পর্দার ব্যাপারে আমরা কী করব?"

আলি (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে ফাতিমার (রা) কথা বললেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "তাকে বলো, সে যেন অমুক গোত্রের কাছে এটি পাঠিয়ে দেয়। তাদের প্রয়োজন রয়েছে এটির।"'

মুহাল্লিব (রহ) প্রমুখ আলিমগণ (রহ) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য যা অপছন্দ করতেন, আপন মেয়ের জন্যও তা অপছন্দ করতেন। আখিরাতের পূর্বেই দুনিয়াতে সুখ-শান্তি ভোগ করার বিষয়টি তিনি পছন্দ করতেন না। অন্যথায়, ঘরের দরোজায় পর্দা ঝোলানো হারাম নয়। এই ঘটনাটি খাদিম চাওয়ার ঘটনাটির মতো। একবার ফাতিমা (রা) ঘরের কাজগুলো করানোর জন্য একজন খাদিম চেয়েছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। তখন তিনি বলেছিলেন, "আমি কি খাদিমের চেয়েও উত্তম কিছু তোমাকে দেবো না?” এই বলে তিনি ঘুমানোর সময়ের জিকির শিখিয়ে দিলেন।'

টিকাঃ
৩৩৩. সহিহুল বুখারি: ২৬১৩, সুনানু আবি দাউদ: ৪১৪৯।
৩৩৪. ফাতহুল বারি: ৫/২২৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণময় কাজের নির্দেশনা দিতেন

📄 দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণময় কাজের নির্দেশনা দিতেন


আলি (রা) বলেন, 'একবার ফাতিমা (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে এলেন তাঁর আটা পেষার কষ্টের কথা জানিয়ে একটি খাদিম চাওয়ার জন্য। কিন্তু ঘরে এসে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেলেন না। তাই বিষয়টি আয়িশা (রা)-কে বলে চলে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে এলে আয়িশা (রা) তাঁকে ফাতিমার (রা) খাদিম চাওয়ার কথা জানালেন।' আলি (রা) বলেন, 'এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। ততক্ষণে আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। তাঁকে দেখে আমরা উঠে বসতে চাইলাম। কিন্তু তিনি "তোমরা আপন জায়গায় থাকো" বলে আমাদের মাঝখানে এসে বসলেন। আমি তখন আমার বুকে তাঁর দুপায়ের শীতল স্পর্শ অনুভব করলাম। তিনি বললেন, "আমি কি তোমাদের খাদিমের চেয়ে উত্তম কিছুর সন্ধান দেবো না? যখন তোমরা ঘুমানোর জন্য বিছানায় আসবে অথবা শুয়ে পড়বে, তখন ৩৩ বার "আল্লাহু আকবার", ৩৩ বার "সুবহানাল্লাহ”, ৩৩ বার "আলহামদুলিল্লাহ" পড়বে। এটা তোমাদের জন্য খাদিমের চাইতেও বেশি উত্তম।"'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ কন্যাকে খাদিম না দেওয়ার কারণ হচ্ছে, তিনি আহলে সুফফার দরিদ্রদের কষ্ট লাঘব করাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। নিজের পরিবারের জন্য সবর করাই শ্রেয় মনে করেছিলেন। কারণ, এতে তারা অধিক সাওয়াবের অধিকারী হয়।

হাদিস থেকে শিক্ষা
এই হাদিসে কন্যা ও জামাতার প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর-স্নেহের আধিক্য এবং সংকোচ ও দূরত্ব ঘুচিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁদের চূড়ান্ত অন্তরঙ্গতার একটি চিত্র উঠে এসেছে আমাদের সামনে। তাঁদের দুজনকে তিনি আপন জায়গা থেকে সরতে দেননি। উভয়কেই আপন অবস্থায় রেখে তিনি মাঝখানে ঢুকে পড়লেন-উভয়ের মাঝে ঢুকিয়ে দিলেন নিজের পা। এভাবে মাঝখানে বসে তাঁদের এমন একটি জিকির শেখালেন, যা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত গোলাম থেকে উত্তম। এটি মূলত কাউকে এমন কিছু দান করা, যা সে চায়নি। এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বোঝালেন যে, তাঁরা যা পেতে চাচ্ছে, তার চেয়ে উত্তম বস্তু হলো: আখিরাতের পাথেয় জোগাড় করা, দুনিয়ার কষ্টে ধৈর্যধারণ করা এবং ধোঁকার রাজ্য দুনিয়া থেকে যথাসম্ভব দূরে অবস্থান করা।'

খাদিম দেওয়ার পরিবর্তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রা)-কে আরও একটি দোয়া শিখিয়েছিলেন। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'ফাতিমা (রা) নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে একটি খাদিম চাইলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তুমি বরং এ দোয়া পড়ো-

اللهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهِ، اللهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ، وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ

“হে আল্লাহ, হে সপ্ত আকাশের রব, জমিনের রব, মহান আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী! হে তাওরাত, ইনজিল ও কুরআন নাজিলকারী! আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ, আপনিই প্রথম-আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না, আপনি সর্বশেষ-আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না, আপনি সবকিছুর ওপরে-আপনার ওপরে কিছুই নেই, আপনি সর্বনিকটে-আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।"'

টিকাঃ
৩৩৫. সহিহুল বুখারি: ৩৭০৫, সহিহু মুসলিম: ২৭২৭।
৩৩৬. ফাতহুল বারি: ১১/১২৪।
৩৩৭. সহীহ মুসলিম: ২৭২৬ (৪/২০৮৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00