📄 কন্যাদের অত্যধিক মোহর নির্ধারণ করতেন না
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কম মোহরে বিয়ে দিয়েছেন তাঁর কন্যাদের। ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, 'আলি (রা) বলেন, "আমি ফাতিমাকে (রা) বিয়ে করলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাকে কিছু দাও।" আমি বললাম, "আমার কাছে তো দেওয়ার মতো কিছু নেই।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার হুতামি বর্মটি কোথায়?" আমি বললাম, "সেটি আমার কাছে আছে।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সেটিই দিয়ে দাও।"'
এটাই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছোট কন্যা, আদরের দুলালি, জান্নাতি নারীদের সর্দার ফাতিমার (রা) মোহর-একটি হুতামি বর্ম।
হুতামি বর্ম কাকে বলে? 'হুতামি শব্দটি হুতামা বিন মুহারিব নামক এক গোত্র থেকে এসেছে। এ গোত্রটি আব্দুল কাইস গোত্রের একটি শাখা। তারা বর্ম তৈরির কাজ করত। আবার বলা হয়, হুতামি শব্দটির অর্থ التي تحطم السيوف তথা যে বর্ম তলোয়ার ভেঙে দেয়।'
অথচ আমাদের এ যুগের কিছু মানুষ মোহর নির্ধারণে সীমালঙ্ঘন করে ফেলে। এমনটা মোটেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ নয়। যদি বেশি মোহর নির্ধারণ করা সম্মানের বিষয় হতো, তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা-ই করতেন।
টিকাঃ
৩২০. সুনানু আবি দাউদ: ২১২৫, সুনানুন নাসায়ি: ৩৩৭৫। হাদিসের মান: সহিহ।
৩২১. নিহায়া: ১/৯৯৪।
📄 কন্যার সংসারের আসবাবপত্র
আলি (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে (রা) তার সাথে বিয়ে দিলেন। একটি পশমি চাদর, চামড়ার আবেষ্টনে খেজুর পাতার আঁশভর্তি একটি বালিশ, দুটি পেষণযন্ত্র, পানি রাখার একটি মশক এবং দুটি পানি রাখার মৃৎপাত্র দিয়ে ফাতিমাকে (রা) আমার ঘরে পাঠান।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য একটি ঘর ঠিক করে দেন। ঘরটি ছিল মুমিন-জননী আয়িশা (রা)-এর ঘরের পেছনে উত্তর দিকে, বাবে জিবরিলের বিপরীতে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে একটি ছোট ঘুলঘুলি ছিল-যা দিয়ে আলি-ফাতিমার (রা) ঘর দেখা যেত।
হাদিস থেকে শিক্ষা
বিয়েকে সহজ করাই নববি আদর্শ। এটিই সুন্নাহ। বরের সামর্থ্য অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন হবে। দাম্পত্য জীবন কাটানোর ঘর তৈরির ব্যাপারে স্বামী বা স্ত্রীর সামর্থ্যের বাইরে কারও ওপরই চাপ দেওয়া যাবে না।
এই হাদিস থেকে আরও বোঝা যায়, পাত্রীর পিতার উচিত বিবাহের ব্যয় ও দায়িত্ব বহনে পাত্রের সহযোগী হওয়া। এভাবে বলা ঠিক নয় যে, সবকিছু পাত্রকেই দিতে হবে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ বিয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, পাত্র সদ্য পাস করা ছাত্র বা নতুন চাকুরে-যার বেতন কম, বিয়েতে যাকে সাহায্য না করলেই নয়। অন্যদিকে অধিকাংশ পিতা হন অবস্থাসম্পন্ন। তাদের দীর্ঘ দিনের চাকরি বা ব্যবসা। হাতের কাছে জমানো টাকা থাকে। তাই পাত্রীর পিতা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে পাত্রকে সাহায্য করতে পারে অনায়াসে। তাই পিতার উচিত জামাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে আসা। হতে পারে, ঘরের কিছু আসবাব কিনে দেওয়া বা রান্নাঘরের কিছু সরঞ্জাম ক্রয় করে দেওয়া, যেমনটা আমরা হাদিসে দেখেছি।
টিকাঃ
৩২২. মুসনাদু আহমাদ: ৮২১। হাদিসের মান: সহিহ।
📄 ওলিমার ছিল সাধারণ
বুরাইদা (রা) বলেন, 'আলি (রা) ও ফাতিমা (রা)-এর বিয়ে হলো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "বিয়েতে অবশ্যই অলিমা হওয়া দরকার।" তখন সাদ (রা) বললেন, "একটি ভেড়া আনার দায়িত্ব আমার।" আরেকজন বললেন, "আমি এ পরিমাণ আটা আনব।"'
অলিমা হচ্ছে, বিয়ের ভোজ। শব্দটি এসেছে ওয়ালাম শব্দ থেকে। যার অর্থ হচ্ছে একত্র করা। যেহেতু বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একত্রিত হয়, তাই এ ভোজকে অলিমা বলে। জুমহুর আলিমের মতে, এটি মুসতাহাব।
স্বামী-স্ত্রীর বাসরের পরই অলিমা করা উত্তম। যেমনটা হাদিসে দেখেছি আমরা। তবে বাসরের পূর্বে, আব্দ হওয়ার সময় বা পরে করলেও কোনো অসুবিধে নেই।
অলিমার নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাপারে শরয়ি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাই সমাজের আচার অনুযায়ী যখন অলিমা করলে ভালো হয়, তখন করতে সমস্যা নেই।
টিকাঃ
৩২৩. মুসনাদু আহমাদ: ২২৫২৬; ইবনে হাজার (রহ) ফাতহুল বারিতে বলেন, 'এ হাদিসের সনদ ত্রুটিমুক্ত।' আলবানি (রহ)-এর মতে হাদিসটি হাসান।
৩২৪. লিসানুল আরব: ১২/৬৪৩।
📄 বিয়ের সময় ফাতিমা ও আলি -এর জন্য দোয়া
বিয়ের রাত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলি (রা)-কে বললেন, 'আমার সাথে দেখা করা ব্যতীত কোনো কিছু কোরো না।' এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পানি নিয়ে আসতে বললেন। অজু করলেন পানি দিয়ে। অবশিষ্ট পানি আলি (রা)-এর ওপর ছিটিয়ে দিলেন। এবং দোয়া করলেন: اللهُمَّ بَارِكْ فِيهِمَا، وَبَارِكْ لَهُمَا فِي بِنَائِهما : "হে আল্লাহ, আপনি তাদের মাঝে বরকত দান করুন। তাদের দাম্পত্য জীবনে বরকত দান করুন।"'
স্বামী-স্ত্রীর জন্য বরকতের দোয়া করা মুসতাহাব। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুর রহমান বিন আওফের (রা) জন্য দোয়া করে বলেছিলেন, 'بَارَكَ اللهُ لَكَ -আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন।'
টিকাঃ
৩২৫. তাবারানি কৃত আল-কাবির: ১১৫৩। হাদিসের মান: হাসান।
৩২৬. সহিহুল বুখারি: ৫১৫৫, সহিহু মুসলিম: ১৪২৭।