📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 এ সমস্যায় রাসূল ﷺ-এর গৃহীত পদক্ষেপ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

📄 এ সমস্যায় রাসূল ﷺ-এর গৃহীত পদক্ষেপ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা


এ সমস্যাটিতে আমরা দেখলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের থেকে পৃথক ছিলেন। এ পৃথক থাকার মাধ্যমে তিনি দাম্পত্য জীবনে আসা কয়েকটি সমস্যার সমাধান করলেন। তাই দাম্পত্য জীবনের সমস্যাদি সমাধানের একটি পদ্ধতি হচ্ছে স্ত্রী থেকে কিছু সময়ের জন্য পৃথক থাকা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথক থাকার শাস্তি দিলেন স্ত্রীদের। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এক মাস তাদের কাছে না আসার শপথ করলেন।

স্ত্রী থেকে পৃথক থাকা স্ত্রীর জন্য একটি মানসিক শাস্তি। শাস্তি হিসেবে এটি বেশ কার্যকর ও যথার্থ। তিনি স্ত্রীদের ত্যাগ করলেও মারাত্মক ধরনটি অবলম্বন করেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেলেন এবং তাদের ঘরে প্রবেশ করলেন না এক মাসের জন্য। অন্যদিকে একই বিছানায় স্ত্রীর সাথে শুয়ে থেকেও (মিলন না করে) স্ত্রী থেকে পৃথক থাকা আরও বেশি মারাত্মক শাস্তি। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দয়ার্দ্রতা লক্ষণীয় এখানে। তিনি মারাত্মক ধরনটি অবলম্বন না করে, হালকা ধরনটি অবলম্বন করেছেন।

হাদিস থেকে শিক্ষা
'একজন পিতা মেয়ের কাছে মেয়ের স্বামীর অনুমতি ব্যতীতও আসতে পারে। তাদের অবস্থাদি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। বিশেষ করে তাদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে মেয়ের কাছে জানতেও চাইতে পারে।'

একজন পিতা কথার মাধ্যমে তার মেয়েকে আদব শেখাতে পারে, যাতে মেয়ে তার স্বামীর প্রতি যথার্থ আচরণ করতে পারে।

স্ত্রীদের আচরণে ধৈর্যধারণ করা। তাদের কর্কশ কথার প্রতি ভ্রক্ষেপ না করা। স্ত্রীদের কোনো ভুল হয়ে গেলে তা ক্ষমা করা। তবে আল্লাহর হক আদায়ে ভুল হলে তা ক্ষমার যোগ্য নয়।

নারীর ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল-প্রয়োগ শরিয়তে নিন্দনীয়। কেননা, নারীদের ওপর বল-প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ গোত্র কুরাইশের নীতি ছেড়ে গ্রহণ করেছিলেন আনসারদের নীতি।

কোনো মানুষ যদি একাও থাকে, তবে তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তবে তার কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। কারণ, হয়তো কোনো মানুষ এমন অবস্থায়ও থাকতে পারে, যে অবস্থায় তাকে অন্য কেউ দেখুক, তা সে চায় না।

কোনো ব্যক্তি যখন তার বন্ধুকে চিন্তিত অবস্থায় দেখে, তখন বন্ধুর চিন্তা দূর করার মতো কথা বলে বন্ধুর চিত্ত প্রশান্ত করা মুসতাহাব। যেমন হাদিসে এসেছে, 'আমি এমন এক কথা বলব, যাতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দেবেন।'

টিকাঃ
৩১১. ফাতহুল বারি: ৯/২৯১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px