📄 ভরণপোষণ চাওয়ার ঘটনা
এ ঘটনা থেকে বোঝা যাবে, আর্থিক দুরবস্থার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মপন্থা কেমন ছিল। কেমন ছিল তাঁর আচরণ পরিবারের সদস্যদের প্রতি, যখন তাঁরা অতিরিক্ত ভরণপোষণ চেয়েছিলেন।
ঘটনাটি জাবির (রা)-এর মুখেই শুনা যাক। তিনি বলেন:
'আবু বকর (রা) এলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। দেখলেন, অনেক মানুষ তাঁর দরোজায় বসে আছে। কিন্তু কাউকেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আবু বকর (রা) এগিয়ে গিয়ে অনুমতি চাইলেন। তাকে অনুমতি দেওয়া হলে তিনি প্রবেশ করলেন ভেতরে। এরপর এলেন উমর (রা)। অনুমতি চাইলেন প্রবেশের। তাকেও অনুমতি দেওয়া হলো। উমর (রা) দেখলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে তাঁর স্ত্রীরা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব। তাঁর চেহারায় চিন্তার ছাপ। আবু বকর (রা) বললেন, "আমি এমন কিছু বলব, যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দেন।"
আবু বকর (রা) বললেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমার কাছে খোরপোশ চাইলে বিনতে খারিজার (তার স্ত্রী) সাথে কেমন আচরণ করি, আপনি যদি দেখতেন! এ অবস্থায় আমি তার কাছে যাই এবং তার ঘাড়ে আঘাত করি।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। বললেন, "আমার পাশে যারা বসে আছে, তারাও আমার কাছে খোরপোশ চাচ্ছে।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে আবু বকর (রা) উঠে গেলেন আয়িশার (রা) দিকে। আঘাত করলেন তার ঘাড়ে। ওদিকে উমরও (রা) এগিয়ে গেলেন হাফসার (রা) দিকে। আঘাত করলেন তার ঘাড়ে। উভয়ে বলে উঠলেন, "তোমরা এমন কিছু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চাইছ, যা তাঁর কাছে নেই।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের দুজনকে নিবৃত্ত করলেন।
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী দুজন বললেন, "আল্লাহর শপথ, আমরা এমন কিছু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চাইব না, যা তাঁর কাছে নেই।"
(এরপর ত্রিশ কি উনত্রিশ দিন কেটে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের থেকে পৃথক রইলেন।) এরপর আল্লাহ নাজিল করলেন:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَبِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا - وَإِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ فَإِنَّ اللهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا
“হে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনার স্ত্রীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার বিলাসিতা কামনা করো, তবে আসো, আমি তোমাদের ভোগের ব্যবস্থা করে দিই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদের বিদায় দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আখিরাত কামনা করো, তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ তাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।"
আয়াত নাজিলের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে আয়িশার (রা) নিকট আসলেন। বললেন, "আমি তোমাকে বিষয়টা বুঝিয়ে বলি। তুমি তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিয়ো না। তোমার বিষয়ে তোমার বাবা-মার সাথে পরামর্শ করো।"
আয়িশা (রা) বললেন, “কোন বিষয়ে হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম?" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াত পাঠ করে শোনালেন।
আয়িশা (রা) বললেন, 'আমি আপনার ব্যাপারে আমার পিতামাতার সাথে পরামর্শ করব? (তার কোনো প্রয়োজন নেই) আমি আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আখিরাতকে বেছে নেব। আমি আপনার কাছে আরেকটি আবদার রাখছি। আপনি আমার বলা কথা আপনার অন্য স্ত্রীর কাউকে বলবেন না।'
উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাদের যে-ই আমার কাছে জানতে চাইবে, আমি তাকে জানিয়ে দেবো তোমার কথা। কারণ আমাকে জেদি ও কঠোরতাকারীরূপে পাঠানো হয়নি। বরং আমাকে পাঠানো হয়েছে সহজপন্থায় শিক্ষাদানকারী হিসেবে।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রত্যেক স্ত্রী তাঁকেই বেছে নিলেন। আয়িশার (রা) যে জবাব ছিল, তাদেরও একই জবাব ছিল।'
টিকাঃ
৩০২. সুরা আল-আহজাব, ৩৩: ২৮।
৩০৩. সহিহু মুসলিম: ১৪৭৮।
📄 ঘটনা বিশ্লেষণ ও শিক্ষা
✓ প্রথমেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকার নীতি অবলম্বন করলেন। তাঁর স্ত্রীগণ অতিরিক্ত ভরণপোষণ চাইলেন, কিন্তু তিনি দেবেন কি দেবেন না, তা বললেন না। অন্য কোনো কিছুও বললেন না। বরং নীরব হয়ে থাকলেন।
✓ প্রথমে তিনি বিষয়টি উপেক্ষা করার নীতি অবলম্বন করলেন। কারণ দাম্পত্য জীবনের অনেক সমস্যা ঝগড়া বা তর্ক-বিতর্কে সমাধান হয় না। বরং এমন কিছু বিষয় আছে, যে বিষয়ে তর্ক করলে ঝগড়া আরও শক্ত হয়ে দাঁড়ায়।
✓ দ্বিতীয় যে কর্মপন্থাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রহণ করেছিলেন সেটি হচ্ছে, তিনি স্ত্রীদের বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিলেন। তিনি স্ত্রীদের বেছে নিতে বললেন এ অবস্থায় তাঁর সাথে তারা থাকবেন, না তারা অতিরিক্ত খোরপোশ ও তাঁর থেকে পৃথক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
✓ এ পার্থিব সমস্যাটি সমাধানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাখয়ির (تخيير) তথা বাছাই করে নেওয়ার পদ্ধতি ব্যবহার করলেন। অর্থাৎ স্ত্রীদেরকে দুটি অপশনের একটি বাছাই করার স্বাধীনতা দিলেন। দাম্পত্য জীবনের বিবিধ বিষয়ে পরামর্শ করার মূলনীতি দেখিয়ে দিচ্ছে এ পদ্ধতিটি।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের ধীরতা অবলম্বন করতে বললেন, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করলেন। যেমন তিনি আয়িশা (রা)-কে বললেন, 'আমি তোমাকে বিষয়টা বুঝিয়ে বলি। তুমি তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিয়ো না।'
এ ব্যাপারটি আমাদের সময়ের সংসারগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখি। আমাদের এ সময়ের সংসারগুলো স্বামী-স্ত্রীতে দ্বিমত হলেই স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ধমক দিয়ে যাবে অনবরত। স্ত্রীর কোনো ভুল হলেই বলে উঠবে, 'আমি তোমাকে তালাক দেবো অচিরেই।' স্ত্রী যদি কোনো কিছুতে কমতি করে স্বামী বলে উঠবে, 'আমি তোমাকে তালাক দেবো। যদি তুমি ঘর থেকে বের হও, তবে তুমি তালাক।' স্ত্রী যদি কণ্ঠস্বরটা একটু উঁচু করে সাথে সাথে বলে উঠবে, 'অমুক নারীর সাথে কথা বলেছ তো তুমি তালাক।'
✓ এ ঘটনা থেকে আমরা জানতে পাচ্ছি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের ওপর কঠোরতা করেননি। তাদের গায়ে এতটুকু আঘাতও করেননি। তাদের এতটুকু অপমানও করেননি। বরং তিনি তাদের সাথে এক মহৎ পদ্ধতিতে আচরণ করেছেন।
অন্যদিকে, যখন আবু বকর (রা) ও উমর (রা) আয়িশা (রা) ও হাফসা (রা)-এর দিকে এগিয়ে গেলেন তাদের প্রহার করতে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিবৃত্ত করলেন তাদের। কারণ, মারধর করে সব সমস্যার সমাধান হয় না। বরং অনেক সময় আলাপ-আলোচনা করা, স্ত্রীকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বাস্তবতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমেই হয় সমাধান।
📄 নারীদের প্রতি একটি পরামর্শ
স্বল্প আয়ের স্বামীর ঘরের স্ত্রী যখন ধনী কারও বাড়িতে যায়, বিলাসবহুল কোনো বাড়িতে যায়, তখন তার জন্য উচিত নয় স্বামীকে দুষতে থাকা, স্বামীর কাছে বিলাসিতা কামনা করা। কারণ, তার স্বামী ছাত্র হতে পারে, হতে পারে তার চাকরিটায় বেতন স্বল্প। স্ত্রীর উচিত তার স্বামীর সামর্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা। আর এটাই আল্লাহর ফয়সালা।
نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُم مَّعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُم فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِّيَتَّخِذَ بَعْضُهُم بَعْضًا سُخْرِيًّا
"আমি তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের ওপর উন্নীত করেছি, যাতে একে অপরকে সেবকরূপে গ্রহণ করে।"
বাবার বাড়িতে মেয়ে খুব আরামে ছিল, বাবা মেয়েকে প্রতিদিন কিছু না কিছু এনে দিত; এর অর্থ এ নয় যে, স্বামীর বাড়িতে এসে স্বামীকে প্রতিদিন কিছু আনার জন্য বলতে হবে।
অতিরিক্তি খোরপোশ চাওয়া, বেশি বেশি জিনিস চাওয়া স্বামীকে সমস্যায় ফেলে দেওয়ার নামান্তর। বিশেষ করে স্বামী যখন দরিদ্র হয়। কারণ, এভাবেই স্ত্রী দুর্বল ইমানের স্বামীকে ধীরে ধীরে ঠেলে দেয় হারাম উপার্জনের পথে। ফলে স্ত্রী নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্বামীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সাথে সাথে একটি পরিবারকে কল্যাণ ও সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করে। স্ত্রীর চাপে পড়ে ঘুষ, চুরি ইত্যাদি অপকর্ম করতে প্ররোচিত হয় স্বামী। ফলে কখনো চাকরিহারা হয়, কখনো-বা জেলে গিয়ে শাস্তি ভোগ করতে হয়। ফলে তার দ্বীন-দুনিয়া দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে, স্বামীর উচিত স্ত্রীকে অবহেলা না করা। স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেওয়া। আদরে-সোহাগে আগলে রাখা। এতে অভাব ও টানাপোড়নের সংসারেও সুখ ও সমৃদ্ধি আসবে। স্বামীর উচিত হবে সাধ্যের মধ্যে স্ত্রীর বৈধ ইচ্ছে পূরণ করা।
টিকাঃ
৩০৪. সুরা আজ-জুখরুফ, ৪৩: ৩২।
📄 রাসূল ﷺ-এর কয়েকজন স্ত্রীর কূটকৌশল
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধু-মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। আসরের পর তিনি প্রত্যেক স্ত্রীর নিকট আসতেন। নিকটবর্তী হতেন সবার। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধু পান করতেন জাইনাব বিনতে জাহাশের (রা) কাছে। তার কাছে কিছু সময় কাটাতেন এ কারণে। আমি তখন মনে মনে বললাম, আমি কি একটা কৌশলের আশ্রয় নেব না!
এরপর যা ভাবলাম, তা হাফসার (রা) সাথে আলোচনা করলাম। বললাম, 'এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যার কাছেই আসবে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে বলবে, "আপনি মাগাফির খেয়েছেন? আমি আপনার শরীর থেকে মাগাফিরের দুর্গন্ধ পাচ্ছি।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হবে-এটা খুব অপছন্দনীয় ছিল তাঁর কাছে।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দুজনের একজনের কাছে আসলেন। সলা-পরামর্শে ঠিক করা কথাটাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হলো। উত্তরে তিনি বললেন, "আমি তো জাইনাবের (রা) কাছে মধু পান করেছিলাম। শপথ করছি, আর কখনো আমি তার কাছে মধু পান করব না। এ কথাটি কাউকে বলবে না তুমি।"
এরপর নাজিল হলো:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمُ - قَدْ فَرَضَ اللهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ وَاللَّهُ مَوْلَاكُمْ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ - وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا فَلَمَّا نَبَّأَتْ بِهِ وَأَظْهَرَهُ اللهُ عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَهُ وَأَعْرَضَ عَنْ بَعْضٍ فَلَمَّا نَبَّأَهَا بِهِ قَالَتْ مَنْ أَنْبَأَكَ هَذَا قَالَ نَبَّأَنِي الْعَلِيمُ الْخَبِيرُ - إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا وَإِنْ تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيرُ - عَسَى رَبُّهُ
"হে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদের খুশির জন্য তা নিজের জন্য হারাম করেছেন কেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।
আল্লাহ তোমাদের শপথ হতে মুক্তিলাভের ব্যবস্থা করেছেন, আল্লাহ তোমাদের সহায়; তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
যখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিল, অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছিল এবং আল্লাহ নবিকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা জানিয়ে দিয়েছিলেন। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিষয়ে কিছু ব্যক্ত করল এবং কিছু অব্যক্ত রাখল। যখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁর সেই স্ত্রীকে জানাল, তখন সে বলল, কে আপনাকে এটা অবহিত করল? নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলল, আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।
যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুঁকে পড়েছে, যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট তাওবা করো (তাহলে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন)। কিন্তু তোমরা যদি নবির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরুদ্ধে একে অপরের সহযোগিতা করো, তাহলে জেনে রেখো যে, আল্লাহই তাঁর বন্ধু এবং জিবরাইল (আ) ও সৎ আমলকারী মুমিনগণও। উপরন্তু ফেরেশতারাও তাঁর সাহায্যকারী।
যদি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করে, তাহলে তাঁর রব সম্ভবত তাঁকে দেবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী। যারা হবে আত্মসমর্পণকারিণী, বিশ্বাসিনী, আনুগত্যকারিণী, তাওবাকারিণী, ইবাদতকারিণী, সিয়াম পালনকারিণী, অকুমারী এবং কুমারী।"
টিকাঃ
৩০৫. উরফুত নামক এক ধরনের গাছের সুমিষ্ট আঠালো কষ, যাতে একপ্রকার কটু গন্ধ থাকে।
৩০৬. সুরা আত-তাহরিম, ৬৬: ১-৫।