📄 মানুষকে তুচ্ছ করে কিছু বলার ব্যাপারে সতর্ক করতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এক লোক নিয়ে ব্যঙ্গ করলাম আমি। তিনি তখন বললেন, "যদি দুনিয়ার এত এত সম্পদ আমাকে দেওয়া হতো, তবুও আমি কোনো মানুষের ব্যঙ্গ করা পছন্দ করতাম না।"'
'অর্থাৎ কাউকে ব্যঙ্গ করে তার কথা বা কাজ নকল করতে কখনোই আমি সন্তুষ্ট হতাম না; যদিও আমাকে দুনিয়ার অঢেল সম্পদ দেওয়ার প্রস্তাব আসত।'
ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'ল্যাংড়িয়ে চলা বা মাথা কাত করে কিবা অন্য কোনো অঙ্গভঙ্গি করে ব্যঙ্গ করা হারাম গিবতের অন্তর্ভুক্ত।'
টিকাঃ
২৬৭. সুনানু আবি দাউদ: ৪৮৭৫, সুনানুত তিরমিজি: ২৫০২। হাদিসের মান: সহিহ।
২৬৮. আওনুল মাবুদ: ১৩/১৫১।
২৬৯. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৭/১৭৬।
📄 বড় গুনাহের মতো ছোট গুনাহ থেকেও বেঁচে থাকার তাকিদ দিতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উপদেশ দেন, "আয়িশা, তুচ্ছ গুনাহ থেকেও বিরত থাকো। কারণ, সেগুলোর জন্যও আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন নিযুক্ত আছে।"'
'তুচ্ছ গুনাহ'-তথা যে গুনাহ মানুষ করতে পরোয়া করে না। একজন নিযুক্ত আছে-তথা একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা আছে, যে এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গুনাহ লিখে রাখে। মানুষের কাছে গুনাহগুলো ক্ষুদ্র মনে হলেও আল্লাহর কাছে এ গুনাহগুলো গুরুতর।'
টিকাঃ
২৭০. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪২৪৩। হাদিসের মান: সহিহ।
২৭১. হাশিয়াতুস সিনদি আলা সুনানি ইবনি মাজাহ: ৮/৫৯।
📄 মাসআলা দুর্বোধ্য মনে হলে স্ত্রীগণ বারবার জিজ্ঞেস করে স্পষ্ট হয়ে নিতেন
ইবনে আবি মুলাইকা (রহ) বলেন, 'আয়িশা (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো কথা না বুঝলে বারবার জিজ্ঞেস করে বুঝে নিতেন। একবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যে হিসাবের সম্মুখীন হলো, তাকে শাস্তি পেতে হবেই হবে।" আয়িশা (রা) বলেন, "তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ কি বলেননি? فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يُسِيرًا - "হিসাব সহজভাবেই নেওয়া হবে। (সুরা আল-ইনশিকাক, ৮৭: ৮)" উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এটা তো কেবল প্রকাশ করা। কিন্তু পুঙ্খনাপুঙ্খরূপে যার হিসেব নেওয়া হবে, সে ধ্বংস হবে।"'
টিকাঃ
২৭২. সহিহুল বুখারি: ১০৩, সহিহ মুসলিম: ২৮৭৬।
📄 স্ত্রীদের ব্যাপারে তিনি ছিলেন গায়রতের অধিকারী
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে একজন মুখান্নাস (মেয়েলি পুরুষ) আসত। সবাই তাকে পুরুষত্বহীন মনে করত। একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে উপবিষ্ট। মুখান্নাসটি তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো স্ত্রীর ঘরে (উম্মে সালামা (রা)-এর ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়া (রা)-কে) এক মহিলার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলল, "কেননা, সে এতই কমনীয় যে, যদি সে সম্মুখপানে আসে, তবে তার পেটের সামনের দিকে চার ভাঁজ পড়ে। আর পেছন ফিরে গেলে আট ভাঁজ পড়ে।" তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এ তো বেশ বর্ণনা দিতে পারে। তোমরা একে তোমাদের কাছে আর আসতে দেবে না।" এরপর থেকে তার সাথে পর্দা করা হতো।'
'প্রথমে সবাই মনে করেছিল এ ব্যক্তিটি পুরুষত্বহীন, তার যৌনকামনা নেই। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে আসার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু যখন তার কাছ থেকে এমন বিবরণ শোনা গেল, তখন জানা গেল যে, আসলে সে তাড়নাহীন নয়। একজন নারীর এমন কামনাসক্তকারী বর্ণনা যে দিতে পারে, তার মাঝে নারীর প্রতি আকর্ষণ অবশ্যই আছে। তা ছাড়া, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয় করলেন, এ লোক বাইরে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের বর্ণনা দেবে। এটা পর্দার অর্থের একরকম বিপরীত হবে। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্ত্রীদের ঘরে আসতে নিষেধ করে দিলেন।'
এ হাদিস প্রমাণ করে, যে ব্যক্তি নারীর বর্ণনা প্রকাশ করে আদতে তাকে দেখা দেওয়া জায়িজ হলেও এ দোষটির কারণে তার থেকে দূরে থাকতে হবে।'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন গায়রতের অধিকারী। ছিলেন নিজ স্ত্রী-কন্যাদের ব্যাপারে প্রবল আত্মসম্মানের অধিকারী। কিন্তু আজকালকার পুরুষরা যেন তাদের পৌরুষই হারিয়ে বসেছে! তারা নিজেদের স্ত্রী, বোন ও মেয়েদের পরপুরুষদের সাথে ছেড়ে দিচ্ছে। 'জাস্ট ফ্রেন্ড', 'ফ্রেন্ড লাইক এ ব্রাদার' ইত্যাদির বেড়াজালে পড়ে যাচ্ছে। তার ঘরের নারী অন্যের সাথে ঘুরছে; অথচ তার আত্মসম্মানে ঘা লাগে না এতটুকুও। এ কেমন পুরুষ?
টিকাঃ
২৭৩. সহিহুল বুখারি: ৪৩২৪, সহিহু মুসলিম: ২১৮১।
২৭৪. ফাতহুল বারি: ৯/৩৩৬।