📄 স্ত্রীদের দয়ার্দ্র ও সংবেদী হওয়ার শিক্ষা দিতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, "আয়িশা, দয়ার্দ্র হও। আল্লাহ কোনো পরিবারের ভালো চাইলে তাদের দয়ার পথ দেখান।"'
টিকাঃ
২৬২. মুসনাদু আহমাদ: ২৩৯০৬। হাদিসের মান: সহিহ।
📄 স্ত্রীদের সুন্দর কথা বলার শিক্ষা দিতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'একদল ইহুদি এল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। তারা সম্ভাষণ জানিয়ে বলল, "আসসামু আলাইকুম (আপনার মৃত্যু হোক।)।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, "ওয়া আলাইকুম (তোমাদেরও)।" তখন আমি বললাম, "আসসামু আলাইকুম, ওয়া লাআনাকুমুল্লাহু, ওয়া গাজাবা আলাইকুম। (তোমাদের মৃত্যু হোক। আল্লাহর অভিশাপ তোমাদের ওপর। আল্লাহর গজব তোমাদের ওপর।)” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার আমাকে বললেন, "ছাড়ো, আয়িশা! তুমি দয়ার্দ্র হও। কদর্য কথা থেকে বিরত থাকো।"' আয়িশা (রা) বললেন, 'আপনি কি শুনেননি, তারা কী বলল?' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেন, 'তুমি কি শুনোনি, আমি কী বললাম? আমি তাদের কথার উত্তর দিয়েছি। তাদের ব্যাপারে আমার এ কথা আল্লাহর কাছে গৃহীত হয়েছে। কিন্তু আমার ব্যাপারে তাদের কথা গৃহীত হয়নি।'
মুসলিম (রহ)-এর অপর বর্ণনায় এসেছে, 'ছাড়ো, আয়িশা! আল্লাহ কদর্যতা ও কঠোরতা পছন্দ করেন না।'
টিকাঃ
২৬৩. সহিহুল বুখারি: ২৯৩৫, সহিহু মুসলিম: ২১৬৫।
📄 বিশুদ্ধ আকিদা শিক্ষা দিতেন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের আকিদার বিষয়াদি শেখাতেন। তাদের শিক্ষা দিতেন আল্লাহকে ভয় করার। যখনই আকাশে কালো মেঘ বা প্রবল বাতাস দেখা দিত, তিনি একবার ঘর থেকে বের হতেন আবার ঘরে প্রবেশ করতেন। তাঁর চেহারার রং বিবর্ণ হয়ে যেত।
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মেঘ বা বাতাস দেখতেন চেহারায় তার স্পষ্ট প্রভাব পড়ত।' আয়িশা (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মানুষকে আমি দেখছি, মেঘ দেখে খুশি হয়। তারা আশা করে মেঘ থেকে বৃষ্টি হবে। কিন্তু আপনাকে দেখছি, আপনি মেঘ দেখে সন্তুষ্ট হন না। কারণ কী?' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'আয়িশা, মেঘ তো আজাব নিয়েও আসতে পারে! এক সম্প্রদায়কে বাতাস দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তারা মেঘ দেখে বলেছিল, "এই তো মেঘ। আমাদের বৃষ্টি দেবে।"'
অসুস্থ হলে জনৈক স্ত্রী হাবশার আয়িশা (রা) বলেন, 'একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গির্জার কথা তুলল তাঁর সামনে। এ গির্জাকে মারিয়া বলা হতো। উম্মে সালামা (রা) ও উম্মে হাবিবা (রা) দুজনই হাবশায় গিয়েছিল। তারা এ গির্জার সৌন্দর্য ও গির্জায় থাকা ছবিগুলোর ব্যাপারে বলল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মাথা তুলে বললেন, "তাদের কোনো নেক লোক মৃত্যুবরণ করলে এসব লোক নেক লোকগুলোর কবরে সিজদা করে। এরপর তাদের ছবি বানিয়ে নেয়। আল্লাহর নিকট এরা সবচেয়ে মন্দ সৃষ্টি।"'
টিকাঃ
২৬৪. সহিহুল বুখারি: ৪৮২৯, সহিহু মুসলিম: ৮৯৯।
২৬৫. সহিহুল বুখারি: ৪২৭, সহিহু মুসলিম ৫২৮।
📄 ঘরে কোনো মন্দ কাজ হলে চুপ থাকতেন না
ঘর মন্দ কাজ ও কথা থেকে মুক্ত রাখা একজন পুরুষের ওপর অর্পিত মহা কর্তব্যগুলোর একটি। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا - হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ও পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।' (সুরা আত-তাহরিম, ৬৬ : ৬)
আয়িশা (রা) বলেন, 'একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে এসে দেখলেন, আমার ঘরে ছবি আঁকা একটি পর্দা। এ দেখে তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি পর্দাটা ছিঁড়ে ফেললেন। বললেন, "কিয়ামতের দিন সবচেয়ে ভয়ংকর শাস্তি দেওয়া হবে তাদের, যারা এসব ছবি আঁকে।"'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা ও কাজ উভয় মাধ্যম ব্যবহার করে তাঁর স্ত্রীকে বুঝিয়ে দিলেন।
টিকাঃ
২৬৬. সহিহুল বুখারি: ৬১০৯।