📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি সাদাকা করবে, সে সবার আগে রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে মিলিত হবে

📄 স্ত্রীদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি সাদাকা করবে, সে সবার আগে রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে মিলিত হবে


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বললেন, "তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা, সে-ই মৃত্যুর পর আমার সাথে সবার আগে মিলিত হবে।"' আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে আমরা নিজেদের হাত মাপ দিতে থাকলাম। (সবার মাঝে সাওদার (রা) হাতই লম্বা ছিল। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর তাঁর কাছে প্রথম জাইনাবই (রা) যায়।) আসলে আমাদের মাঝে সবচেয়ে লম্বা হাতের অধিকারী ছিল জাইনাব (রা)। জাইনাব (রা) হাতে কাজ করত এবং সাদাকা করত।'

'হাদিসের মর্মার্থ হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে উম্মুল মুমিনিনদের ধারণা হলো বাহ্যিকভাবে হাত লম্বা হওয়ার কথাই তিনি বলেছেন। তাই তারা বাঁশের কাঠি নিয়ে তাদের হাত মাপতে লাগলেন। দেখা গেল, সবার মাঝে সাওদা (রা)-এর হাত বেশি লম্বা। অন্যদিকে জাইনাব (রা) কল্যাণের কাজ ও সাদাকার দিক থেকে সবার চেয়ে বেশি অগ্রসর ছিলেন। জাইনাব (রা)-ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের মধ্যে সবার আগে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার মর্মার্থ বুঝতে পারলেন যে, হাত লম্বার অর্থ সাদাকা ও উদারতায় এগিয়ে থাকা।'

ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'এ হাদিসে প্রমাণিত হচ্ছে, সক্ষমতা থাকাকালীন কেউ অধিক পরিমাণে দান করলে সে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জান্নাতে মিলিত হবে। আর এ তো সৌভাগ্যের সর্বোচ্চ চূড়া।'

টিকাঃ
২৫৫. সহিহুল বুখারি: ১৪২০, সহিহু মুসলিম: ২৪৫২।
২৫৬. ইমাম নববি (রহ) ২৪ কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/৮।
২৫৭. ফাতহুল বারি: ৩/২৮৬।

আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বললেন, "তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা, সে-ই মৃত্যুর পর আমার সাথে সবার আগে মিলিত হবে।"' আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে আমরা নিজেদের হাত মাপ দিতে থাকলাম। (সবার মাঝে সাওদার (রা) হাতই লম্বা ছিল। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর তাঁর কাছে প্রথম জাইনাবই (রা) যায়।) আসলে আমাদের মাঝে সবচেয়ে লম্বা হাতের অধিকারী ছিল জাইনাব (রা)। জাইনাব (রা) হাতে কাজ করত এবং সাদাকা করত।'

'হাদিসের মর্মার্থ হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে উম্মুল মুমিনিনদের ধারণা হলো বাহ্যিকভাবে হাত লম্বা হওয়ার কথাই তিনি বলেছেন। তাই তারা বাঁশের কাঠি নিয়ে তাদের হাত মাপতে লাগলেন। দেখা গেল, সবার মাঝে সাওদা (রা)-এর হাত বেশি লম্বা। অন্যদিকে জাইনাব (রা) কল্যাণের কাজ ও সাদাকার দিক থেকে সবার চেয়ে বেশি অগ্রসর ছিলেন। জাইনাব (রা)-ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের মধ্যে সবার আগে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার মর্মার্থ বুঝতে পারলেন যে, হাত লম্বার অর্থ সাদাকা ও উদারতায় এগিয়ে থাকা।'

ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'এ হাদিসে প্রমাণিত হচ্ছে, সক্ষমতা থাকাকালীন কেউ অধিক পরিমাণে দান করলে সে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জান্নাতে মিলিত হবে। আর এ তো সৌভাগ্যের সর্বোচ্চ চূড়া।'

টিকাঃ
২৫৫. সহিহুল বুখারি: ১৪২০, সহিহু মুসলিম: ২৪৫২।
২৫৬. ইমাম নববি (রহ) ২৪ কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/৮।
২৫৭. ফাতহুল বারি: ৩/২৮৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীদের নেক কাজ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার শিক্ষা দিতেন

📄 স্ত্রীদের নেক কাজ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার শিক্ষা দিতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'পর্দার বিধান নাজিল হওয়ার পরের ঘটনা। আবুল কুআইসের (রা) ভাই আফলাহ (রা) আমার সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলেন। কিন্তু আমি বললাম, "যতক্ষণ আমাকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি না দেন-আমি অনুমতি দেবো না।" কেননা, আফলাহর (রা) ভাই আবুল কুআইস (রা) আমাকে দুধ পান করায়নি। আমাকে দুধ পান করিয়েছিল আবুল কুআইসের (রা) স্ত্রী। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলে তাঁকে বললাম, "আবুল কুআইসের (রা) ভাই আফলাহ (রা) আমার কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। আপনার কাছ থেকে না জেনে আমি অনুমতি দিইনি।" নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার চাচাকে অনুমতি দিতে বাধা কোথায়?" আমি বললাম, "আবুল কুআইস (রা) তো আমাকে দুধ পান করায়নি। আমাকে দুধ পান করিয়েছিল তার স্ত্রী।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার বললেন, "তোমার হাত ধুলোয় ধূসরিত হোক, তাকে অনুমতি দেবে, কারণ সে তোমার চাচা।"'

টিকাঃ
২৫৮. সহিহুল বুখারি: ৪৭৯৬, সহিহু মুসলিম: ১৪৪৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 না জেনে কথা বলতে স্ত্রীদের নিষেধ করতেন

📄 না জেনে কথা বলতে স্ত্রীদের নিষেধ করতেন


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন-যা জানো না, তা নিয়ে মুখ খুলো না। না জেনে তড়িঘড়ি করে কোনো ফতোয়া দিতে বা বিধান বর্ণনা করতে তিনি নিষেধ করতেন। তাদের এ আদর্শের ওপর দৃঢ় করেছেন যে, জানার পরই কেবল বিধান বর্ণনা করা যাবে; এর আগে নয়।

আয়িশা (রা) বলেন, 'একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক আনসারি শিশুর জানাজায় ডাকা হলো। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বললাম, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তার কোনো গুনাহ নাই। পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত সে। তাই জান্নাতের এ চড়ুইয়ের জন্য সুসংবাদ।" আমার কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "অন্যটাও হতে পারে, আয়িশা, আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদের সৃষ্টি করেছেন জান্নাতের জন্য। তাদের গন্তব্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তারা যখন তাদের পিতার ঔরসে। আবার জাহান্নামবাসীদের সৃষ্টি করেছেন জাহান্নামে নিক্ষেপের জন্য। তারা যখন তাদের পিতার ঔরসে থাকে, তখনই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল তাদের গন্তব্য।"'

ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'আলিমদের ইজমা হচ্ছে, মুসলিম শিশু মৃত্যুবরণ করলে, সে জান্নাতবাসী। কারণ, শরিয়তের বিধিনিষেধ পালন করা তার জন্য আবশ্যক হয়নি। আলিমগণ আয়িশা (রা) বর্ণিত এ হাদিসের ব্যাপারে বলেন, আয়িশা (রা) চটজলদি অকাট্য দলিল ছাড়াই কথাটা বলে ফেলেছেন। তাড়াহুড়া করতে নিষেধ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি বলেছেন।'

টিকাঃ
২৫৯. সহিহু মুসলিম: ২৬৬২।
২৬০. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/২০৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীদের মুত্তাকি ও চরিত্রবান হতে আদেশ দিতেন

📄 স্ত্রীদের মুত্তাকি ও চরিত্রবান হতে আদেশ দিতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সম্বোধন করে বললেন, "আয়িশা, তুমি আল্লাহকে ভয় করো। নম্র হও। কারণ, নম্রতা যেকোনো কিছুকেই সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। আর নম্রতা হারালে যেকোনো কিছুই তার সৌন্দর্য হারায়।"'

টিকাঃ
২৬১. মুসনাদু আহমাদ: ২৩৭৮৬। হাদিসের মান সহিহ। হাদিসের সংক্ষিপ্তসার বর্ণিত হয়েছে 'সহিহু মুসলিম'-এর ২৫৯৪ নং হাদিসে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00