📄 সাদাকা ও কল্যাণের পথে ব্যয় করার প্রতি স্ত্রীদের উৎসাহ দিতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, "আয়িশা, এক ফালি খেজুর সাদাকা করে হলেও জাহান্নাম থেকে নিজেকে রক্ষা করো। কেননা, এক ফালি খেজুরও ক্ষুধার্তের তৃপ্তির কারণ হয়।"'
এক ফালি খেজুর বলে এখানে খুব অল্প জিনিস বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সামান্য পরিমাণ হলেও সাদাকা করো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রা)-কে সাদাকা ও নেক আমলের মাধ্যমে নিজেকে জাহান্নাম থেকে আড়াল করতে বলেছেন। যদিও সেই সাদাকা ও নেক আমলের পরিমাণ খুবই অল্প হয়। সামান্য সাদাকাও মানুষকে জাহান্নাম থেকে আড়াল করে ফেলে।
আয়িশা (রা) আরও বলেন, 'এক ফকির আমার কাছে এল। তখন আমার ঘরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন। তাকে কিছু দেওয়ার জন্য (খাদিমাকে) আদেশ দিলাম আমি। এরপর সাদাকার বস্তুটা নিয়ে আসার জন্য বললাম। সেটার প্রতি তাকালাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি চাও না যে তোমার অগোচরে ঘরে কোনো কিছু প্রবেশ করুক বা বের হোক?" আমি বললাম, "হাঁ।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যেতে দাও, আয়িশা, হিসেব কোরো না, তুমি হিসেব করলে আল্লাহও তোমায় হিসেব করে দেবেন।"
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'হিসেব করে দেওয়ার অর্থ-কোনো কিছুর নির্দিষ্ট ওজন বা সংখ্যা জানা। আর অনেকে সম্পদ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে সাদাকা করে না। সাদাকা না করার এ মনোবৃত্তি নিষিদ্ধ হয়েছে এ হাদিসে। এমন মনোবৃত্তি সম্পদ থেকে বরকত রহিত হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। কেননা, আল্লাহ তাআলা দানের প্রতিদানে অনেক সাওয়াব দিয়ে থাকেন। তাই যে ব্যক্তি অগণিত পুরস্কার পেতে চায়, সে যেন দানের সময় হিসেবি না হয়, কৃপণতা না করে। আর যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে আল্লাহ তাআলা অগণিত রিজিক দিতে পারেন, তার ওপর কর্তব্য হচ্ছে, বিনা হিসেবে দান করা।'
'পরিবারের লোকেরা যখন ছাগল জবাই করতেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, "সাদাকা দেওয়ার পর কতটুকু আর বাকি আছে?" আয়িশা (রা) বললেন, "কাঁধের গোশতটুকু।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে তো কাঁধের গোশত ছাড়া আর সবটাই অক্ষত আছে (সাদাকা দিয়ে)।"'
'অর্থাৎ তোমার কাছে কাঁধের যে গোশতটুকু আছে, সেটা অক্ষত নেই। বরং সাদাকা যা দিয়েছ, তা অক্ষত আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা এ আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে, আল্লাহ তাআলা বলেন : مَا عِندَكُمْ يَنفَدُ وَمَا عِندَ اللهِ بَاقٍ "তোমাদের কাছে যা আছে, তা শেষ হয়ে যাবে; আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা টিকে থাকবে।" (সুরা আন-নাহল, ১৬: ৯৬)'
টিকাঃ
২৫০. মুসনাদু আহমাদ: ২৩৯৮০; ইবনে হাজার (রহ) এ হাদিসকে হাসান বলেছেন: ৩/৩৩৪। আলবানি (রহ) ২১ এ হাদিসকে সহিহ বলেছেন (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব ৮৬৫)।
২৫১. সুনানু আবি দাউদ: ১৭০০, সুনানুন নাসায়ি ২৫৪৯। শব্দউৎস: সুনানুন নাসায়ি। হাদিসের মান: হাসান।
২৫২. ফাতহুল বারি: ৩/৩০০। ঈষৎ পরিমার্জিত।
২৫৩. সুনানুত তিরমিজি: ২৩৯৪। হাদিসের মান সহিহ।
২৫৪. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৭/১৪২।
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, "আয়িশা, এক ফালি খেজুর সাদাকা করে হলেও জাহান্নাম থেকে নিজেকে রক্ষা করো। কেননা, এক ফালি খেজুরও ক্ষুধার্তের তৃপ্তির কারণ হয়।"'
এক ফালি খেজুর বলে এখানে খুব অল্প জিনিস বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সামান্য পরিমাণ হলেও সাদাকা করো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রা)-কে সাদাকা ও নেক আমলের মাধ্যমে নিজেকে জাহান্নাম থেকে আড়াল করতে বলেছেন। যদিও সেই সাদাকা ও নেক আমলের পরিমাণ খুবই অল্প হয়। সামান্য সাদাকাও মানুষকে জাহান্নাম থেকে আড়াল করে ফেলে।
আয়িশা (রা) আরও বলেন, 'এক ফকির আমার কাছে এল। তখন আমার ঘরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন। তাকে কিছু দেওয়ার জন্য (খাদিমাকে) আদেশ দিলাম আমি। এরপর সাদাকার বস্তুটা নিয়ে আসার জন্য বললাম। সেটার প্রতি তাকালাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি চাও না যে তোমার অগোচরে ঘরে কোনো কিছু প্রবেশ করুক বা বের হোক?" আমি বললাম, "হাঁ।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যেতে দাও, আয়িশা, হিসেব কোরো না, তুমি হিসেব করলে আল্লাহও তোমায় হিসেব করে দেবেন।"
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'হিসেব করে দেওয়ার অর্থ-কোনো কিছুর নির্দিষ্ট ওজন বা সংখ্যা জানা। আর অনেকে সম্পদ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে সাদাকা করে না। সাদাকা না করার এ মনোবৃত্তি নিষিদ্ধ হয়েছে এ হাদিসে। এমন মনোবৃত্তি সম্পদ থেকে বরকত রহিত হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। কেননা, আল্লাহ তাআলা দানের প্রতিদানে অনেক সাওয়াব দিয়ে থাকেন। তাই যে ব্যক্তি অগণিত পুরস্কার পেতে চায়, সে যেন দানের সময় হিসেবি না হয়, কৃপণতা না করে। আর যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে আল্লাহ তাআলা অগণিত রিজিক দিতে পারেন, তার ওপর কর্তব্য হচ্ছে, বিনা হিসেবে দান করা।'
'পরিবারের লোকেরা যখন ছাগল জবাই করতেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, "সাদাকা দেওয়ার পর কতটুকু আর বাকি আছে?" আয়িশা (রা) বললেন, "কাঁধের গোশতটুকু।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে তো কাঁধের গোশত ছাড়া আর সবটাই অক্ষত আছে (সাদাকা দিয়ে)।"'
'অর্থাৎ তোমার কাছে কাঁধের যে গোশতটুকু আছে, সেটা অক্ষত নেই। বরং সাদাকা যা দিয়েছ, তা অক্ষত আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা এ আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে, আল্লাহ তাআলা বলেন : مَا عِندَكُمْ يَنفَدُ وَمَا عِندَ اللهِ بَاقٍ "তোমাদের কাছে যা আছে, তা শেষ হয়ে যাবে; আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা টিকে থাকবে।" (সুরা আন-নাহল, ১৬: ৯৬)'
টিকাঃ
২৫০. মুসনাদু আহমাদ: ২৩৯৮০; ইবনে হাজার (রহ) এ হাদিসকে হাসান বলেছেন: ৩/৩৩৪। আলবানি (রহ) ২১ এ হাদিসকে সহিহ বলেছেন (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব ৮৬৫)।
২৫১. সুনানু আবি দাউদ: ১৭০০, সুনানুন নাসায়ি ২৫৪৯। শব্দউৎস: সুনানুন নাসায়ি। হাদিসের মান: হাসান।
২৫২. ফাতহুল বারি: ৩/৩০০। ঈষৎ পরিমার্জিত।
২৫৩. সুনানুত তিরমিজি: ২৩৯৪। হাদিসের মান সহিহ।
২৫৪. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৭/১৪২।
📄 স্ত্রীদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি সাদাকা করবে, সে সবার আগে রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে মিলিত হবে
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বললেন, "তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা, সে-ই মৃত্যুর পর আমার সাথে সবার আগে মিলিত হবে।"' আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে আমরা নিজেদের হাত মাপ দিতে থাকলাম। (সবার মাঝে সাওদার (রা) হাতই লম্বা ছিল। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর তাঁর কাছে প্রথম জাইনাবই (রা) যায়।) আসলে আমাদের মাঝে সবচেয়ে লম্বা হাতের অধিকারী ছিল জাইনাব (রা)। জাইনাব (রা) হাতে কাজ করত এবং সাদাকা করত।'
'হাদিসের মর্মার্থ হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে উম্মুল মুমিনিনদের ধারণা হলো বাহ্যিকভাবে হাত লম্বা হওয়ার কথাই তিনি বলেছেন। তাই তারা বাঁশের কাঠি নিয়ে তাদের হাত মাপতে লাগলেন। দেখা গেল, সবার মাঝে সাওদা (রা)-এর হাত বেশি লম্বা। অন্যদিকে জাইনাব (রা) কল্যাণের কাজ ও সাদাকার দিক থেকে সবার চেয়ে বেশি অগ্রসর ছিলেন। জাইনাব (রা)-ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের মধ্যে সবার আগে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার মর্মার্থ বুঝতে পারলেন যে, হাত লম্বার অর্থ সাদাকা ও উদারতায় এগিয়ে থাকা।'
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'এ হাদিসে প্রমাণিত হচ্ছে, সক্ষমতা থাকাকালীন কেউ অধিক পরিমাণে দান করলে সে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জান্নাতে মিলিত হবে। আর এ তো সৌভাগ্যের সর্বোচ্চ চূড়া।'
টিকাঃ
২৫৫. সহিহুল বুখারি: ১৪২০, সহিহু মুসলিম: ২৪৫২।
২৫৬. ইমাম নববি (রহ) ২৪ কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/৮।
২৫৭. ফাতহুল বারি: ৩/২৮৬।
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বললেন, "তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা, সে-ই মৃত্যুর পর আমার সাথে সবার আগে মিলিত হবে।"' আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে আমরা নিজেদের হাত মাপ দিতে থাকলাম। (সবার মাঝে সাওদার (রা) হাতই লম্বা ছিল। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর তাঁর কাছে প্রথম জাইনাবই (রা) যায়।) আসলে আমাদের মাঝে সবচেয়ে লম্বা হাতের অধিকারী ছিল জাইনাব (রা)। জাইনাব (রা) হাতে কাজ করত এবং সাদাকা করত।'
'হাদিসের মর্মার্থ হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে উম্মুল মুমিনিনদের ধারণা হলো বাহ্যিকভাবে হাত লম্বা হওয়ার কথাই তিনি বলেছেন। তাই তারা বাঁশের কাঠি নিয়ে তাদের হাত মাপতে লাগলেন। দেখা গেল, সবার মাঝে সাওদা (রা)-এর হাত বেশি লম্বা। অন্যদিকে জাইনাব (রা) কল্যাণের কাজ ও সাদাকার দিক থেকে সবার চেয়ে বেশি অগ্রসর ছিলেন। জাইনাব (রা)-ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের মধ্যে সবার আগে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার মর্মার্থ বুঝতে পারলেন যে, হাত লম্বার অর্থ সাদাকা ও উদারতায় এগিয়ে থাকা।'
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'এ হাদিসে প্রমাণিত হচ্ছে, সক্ষমতা থাকাকালীন কেউ অধিক পরিমাণে দান করলে সে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জান্নাতে মিলিত হবে। আর এ তো সৌভাগ্যের সর্বোচ্চ চূড়া।'
টিকাঃ
২৫৫. সহিহুল বুখারি: ১৪২০, সহিহু মুসলিম: ২৪৫২।
২৫৬. ইমাম নববি (রহ) ২৪ কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/৮।
২৫৭. ফাতহুল বারি: ৩/২৮৬।
📄 স্ত্রীদের নেক কাজ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার শিক্ষা দিতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'পর্দার বিধান নাজিল হওয়ার পরের ঘটনা। আবুল কুআইসের (রা) ভাই আফলাহ (রা) আমার সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলেন। কিন্তু আমি বললাম, "যতক্ষণ আমাকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি না দেন-আমি অনুমতি দেবো না।" কেননা, আফলাহর (রা) ভাই আবুল কুআইস (রা) আমাকে দুধ পান করায়নি। আমাকে দুধ পান করিয়েছিল আবুল কুআইসের (রা) স্ত্রী। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলে তাঁকে বললাম, "আবুল কুআইসের (রা) ভাই আফলাহ (রা) আমার কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। আপনার কাছ থেকে না জেনে আমি অনুমতি দিইনি।" নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার চাচাকে অনুমতি দিতে বাধা কোথায়?" আমি বললাম, "আবুল কুআইস (রা) তো আমাকে দুধ পান করায়নি। আমাকে দুধ পান করিয়েছিল তার স্ত্রী।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার বললেন, "তোমার হাত ধুলোয় ধূসরিত হোক, তাকে অনুমতি দেবে, কারণ সে তোমার চাচা।"'
টিকাঃ
২৫৮. সহিহুল বুখারি: ৪৭৯৬, সহিহু মুসলিম: ১৪৪৫।
📄 না জেনে কথা বলতে স্ত্রীদের নিষেধ করতেন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন-যা জানো না, তা নিয়ে মুখ খুলো না। না জেনে তড়িঘড়ি করে কোনো ফতোয়া দিতে বা বিধান বর্ণনা করতে তিনি নিষেধ করতেন। তাদের এ আদর্শের ওপর দৃঢ় করেছেন যে, জানার পরই কেবল বিধান বর্ণনা করা যাবে; এর আগে নয়।
আয়িশা (রা) বলেন, 'একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক আনসারি শিশুর জানাজায় ডাকা হলো। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বললাম, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তার কোনো গুনাহ নাই। পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত সে। তাই জান্নাতের এ চড়ুইয়ের জন্য সুসংবাদ।" আমার কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "অন্যটাও হতে পারে, আয়িশা, আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদের সৃষ্টি করেছেন জান্নাতের জন্য। তাদের গন্তব্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তারা যখন তাদের পিতার ঔরসে। আবার জাহান্নামবাসীদের সৃষ্টি করেছেন জাহান্নামে নিক্ষেপের জন্য। তারা যখন তাদের পিতার ঔরসে থাকে, তখনই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল তাদের গন্তব্য।"'
ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'আলিমদের ইজমা হচ্ছে, মুসলিম শিশু মৃত্যুবরণ করলে, সে জান্নাতবাসী। কারণ, শরিয়তের বিধিনিষেধ পালন করা তার জন্য আবশ্যক হয়নি। আলিমগণ আয়িশা (রা) বর্ণিত এ হাদিসের ব্যাপারে বলেন, আয়িশা (রা) চটজলদি অকাট্য দলিল ছাড়াই কথাটা বলে ফেলেছেন। তাড়াহুড়া করতে নিষেধ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি বলেছেন।'
টিকাঃ
২৫৯. সহিহু মুসলিম: ২৬৬২।
২৬০. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/২০৭।