📄 স্ত্রীদের ইখলাসের শিক্ষা দিতেন
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফের ইচ্ছে করতেন, ফজরের নামাজ পড়ে সে স্থানে আসতেন, যেখানে তিনি ইতিকাফের জন্য অবস্থান করবেন। একবার রমাজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করার ইচ্ছে করলেন তিনি। আদেশ করলেন তাঁবু খাটাবার। আয়িশা (রা)-ও ইতিকাফ করার অনুমতি চাইলেন তাঁর কাছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি দিলে তার জন্যও তাঁবু খাটানো হলো। ইতিকাফের কথা হাফসা (রা)-এর কানে এল। তিনিও তৈরি করলেন একটি তাঁবু। জাইনাব (রা) শুনে তিনিও বসালেন আরেকটি তাঁবু। সকালবেলা তিনি দেখলেন, দুটোর জায়গায় চারটি তাঁবু। জানতে চাইলেন, "এগুলো কী?” উম্মুল মুমিনদের তাঁবু খাটানোর কথা জানানো হলো তাঁকে। শুনে তিনি বললেন, "তারা কি সাওয়াবের আশায় এরূপ করেছে?"
অন্য বর্ণনায় এসেছে, "এমনটা করার কারণ কী? নেক নিয়ত?" এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবুগুলো তুলে দেওয়ার আদেশ দিলেন। বললেন, "এগুলো তুলে ফেলো। এগুলো আমি দেখতে চাই না।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশমতো তাঁবুগুলো তুলে দেওয়া হলো। রমাজানে আর তিনি ইতিকাফ করেননি। শাওয়াল মাসের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করে নেন।'
স্ত্রীদের এ প্রতিযোগিতা ইখলাসের ওপর ভিত্তি করে নয় বলে তাঁর আশঙ্কা হয়েছিল। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন তাঁর আশপাশে থাকা বা তাঁকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্ত্রীরা তাঁবু খাটিয়েছে। তাই তাঁবু উঠিয়ে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন তিনি।
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আশঙ্কা হয়েছিল ইতিকাফের জন্য স্ত্রীদের তাঁবু-খাটানো আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়; বরং ঈর্ষা ও অহংকারের প্রতিযোগিতার বশবর্তী হয়ে এমনটা করেছে তারা। তাদের এ কাজের পেছনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে থাকার আশাই নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। ফলে তাদের ইতিকাফের উদ্দেশ্য-আল্লাহর সন্তষ্টির বদলে অন্য কিছু হয়ে যাওয়ায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবু তুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন।'
টিকাঃ
২৩৮. সহিহুল বুখারি: ২০৩৩, সহিহু মুসলিম: ১১৭৩।
২৩৯. ফাতহুল বারি: ৪/২৭৬।
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফের ইচ্ছে করতেন, ফজরের নামাজ পড়ে সে স্থানে আসতেন, যেখানে তিনি ইতিকাফের জন্য অবস্থান করবেন। একবার রমাজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করার ইচ্ছে করলেন তিনি। আদেশ করলেন তাঁবু খাটাবার। আয়িশা (রা)-ও ইতিকাফ করার অনুমতি চাইলেন তাঁর কাছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি দিলে তার জন্যও তাঁবু খাটানো হলো। ইতিকাফের কথা হাফসা (রা)-এর কানে এল। তিনিও তৈরি করলেন একটি তাঁবু। জাইনাব (রা) শুনে তিনিও বসালেন আরেকটি তাঁবু। সকালবেলা তিনি দেখলেন, দুটোর জায়গায় চারটি তাঁবু। জানতে চাইলেন, "এগুলো কী?” উম্মুল মুমিনদের তাঁবু খাটানোর কথা জানানো হলো তাঁকে। শুনে তিনি বললেন, "তারা কি সাওয়াবের আশায় এরূপ করেছে?"
অন্য বর্ণনায় এসেছে, "এমনটা করার কারণ কী? নেক নিয়ত?" এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবুগুলো তুলে দেওয়ার আদেশ দিলেন। বললেন, "এগুলো তুলে ফেলো। এগুলো আমি দেখতে চাই না।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশমতো তাঁবুগুলো তুলে দেওয়া হলো। রমাজানে আর তিনি ইতিকাফ করেননি। শাওয়াল মাসের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করে নেন।'
স্ত্রীদের এ প্রতিযোগিতা ইখলাসের ওপর ভিত্তি করে নয় বলে তাঁর আশঙ্কা হয়েছিল। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন তাঁর আশপাশে থাকা বা তাঁকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্ত্রীরা তাঁবু খাটিয়েছে। তাই তাঁবু উঠিয়ে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন তিনি।
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আশঙ্কা হয়েছিল ইতিকাফের জন্য স্ত্রীদের তাঁবু-খাটানো আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়; বরং ঈর্ষা ও অহংকারের প্রতিযোগিতার বশবর্তী হয়ে এমনটা করেছে তারা। তাদের এ কাজের পেছনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে থাকার আশাই নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। ফলে তাদের ইতিকাফের উদ্দেশ্য-আল্লাহর সন্তষ্টির বদলে অন্য কিছু হয়ে যাওয়ায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবু তুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন।'
টিকাঃ
২৩৮. সহিহুল বুখারি: ২০৩৩, সহিহু মুসলিম: ১১৭৩।
২৩৯. ফাতহুল বারি: ৪/২৭৬।
📄 স্ত্রীদেরকে অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দিতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরলেন। চাঁদের দিকে ইশারা করে বললেন, "আয়িশা, এ জিনিসের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। কারণ, এটিই অন্ধকার রাতকে সমাগতকারী।"'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার আদেশ দিলেন। কারণ, রাতের বেলায়ই অনিষ্টতার সয়লাব ঘটে। 'তবে রাত অনিষ্ট হওয়ার কারণ চাঁদ নয়। চাঁদ তো কেবল রাতের একটা চিহ্ন মাত্র। রাতের বেলায়-ই তো চাঁদ ওঠে।'
এ হাদিসে স্ত্রীকে শেখানোর ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটা গুরুত্ব দিতেন, তার চিত্র উঠে এসেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে আয়িশা (রা)-এর হাত ধরলেন। এরপর উদ্দিষ্ট বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে করণীয় বললেন। বললেন তার কারণ।
টিকাঃ
২৪০. সুনানুত তিরমিজি: ৩২৮৮। হাদিসের মান: সহিহ।
২৪১. তাফসিরু ইবনি কাসির: ৮/৫৩৬।
আয়িশা (রা) বলেন, 'একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরলেন। চাঁদের দিকে ইশারা করে বললেন, "আয়িশা, এ জিনিসের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। কারণ, এটিই অন্ধকার রাতকে সমাগতকারী।"'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার আদেশ দিলেন। কারণ, রাতের বেলায়ই অনিষ্টতার সয়লাব ঘটে। 'তবে রাত অনিষ্ট হওয়ার কারণ চাঁদ নয়। চাঁদ তো কেবল রাতের একটা চিহ্ন মাত্র। রাতের বেলায়-ই তো চাঁদ ওঠে।'
এ হাদিসে স্ত্রীকে শেখানোর ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটা গুরুত্ব দিতেন, তার চিত্র উঠে এসেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে আয়িশা (রা)-এর হাত ধরলেন। এরপর উদ্দিষ্ট বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে করণীয় বললেন। বললেন তার কারণ।
টিকাঃ
২৪০. সুনানুত তিরমিজি: ৩২৮৮। হাদিসের মান: সহিহ।
২৪১. তাফসিরু ইবনি কাসির: ৮/৫৩৬।
📄 স্ত্রীদের উপকারী জিকির শেখাতেন
জুয়াইরিয়া (রা) বলেন, 'ফজরের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ থেকে বেরিয়ে গেলেন। এরপর চাশতের সময় ফিরে এসে দেখলেন, তিনি বসে আছেন নামাজের জায়গায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তুমি এভাবেই বসে আছ?" জুয়াইরিয়া (রা) বললেন, "হাঁ।” এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর আমি চারটি বাক্য তিনবার করে বলেছি। যদি আমার সে জিকির আজকের দিনে তোমার পঠিত জিকিরের সাথে ওজন দেওয়া হয়, তবে এ কালিমা চারটির জিকিরের সমান হবে। জিকিরটি হচ্ছে-
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
"আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি-তাঁর সৃষ্ট বস্তুসমূহের সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তোষের সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর বাণীসমূহ লেখার কালি পরিমাণ (অগণিত অসংখ্য)।"'
'কিছু জিকির আছে বিশেষ মাহাত্ম্যবিশিষ্ট। ব্যাপকতা এবং রবের নাম ও গুণের সমাহারে এ জিকিরগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। তাই অন্যান্য জিকির অনেক সময় ধরে করা হলেও সেগুলোর তুলনায় এ জিকিরের কয়েকবার পাঠই উত্তম হয়।'
টিকাঃ
২৪২. সহিহু মুসলিম: ২৭২৬।
২৪৩. হাশিয়াতুস সুযুতি ওয়াস সিনদি আলা সুনানিন নাসায়ি: ৩/৭৮।
জুয়াইরিয়া (রা) বলেন, 'ফজরের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ থেকে বেরিয়ে গেলেন। এরপর চাশতের সময় ফিরে এসে দেখলেন, তিনি বসে আছেন নামাজের জায়গায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তুমি এভাবেই বসে আছ?" জুয়াইরিয়া (রা) বললেন, "হাঁ।” এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর আমি চারটি বাক্য তিনবার করে বলেছি। যদি আমার সে জিকির আজকের দিনে তোমার পঠিত জিকিরের সাথে ওজন দেওয়া হয়, তবে এ কালিমা চারটির জিকিরের সমান হবে। জিকিরটি হচ্ছে-
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
"আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি-তাঁর সৃষ্ট বস্তুসমূহের সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তোষের সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর বাণীসমূহ লেখার কালি পরিমাণ (অগণিত অসংখ্য)।"'
'কিছু জিকির আছে বিশেষ মাহাত্ম্যবিশিষ্ট। ব্যাপকতা এবং রবের নাম ও গুণের সমাহারে এ জিকিরগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। তাই অন্যান্য জিকির অনেক সময় ধরে করা হলেও সেগুলোর তুলনায় এ জিকিরের কয়েকবার পাঠই উত্তম হয়।'
টিকাঃ
২৪২. সহিহু মুসলিম: ২৭২৬।
২৪৩. হাশিয়াতুস সুযুতি ওয়াস সিনদি আলা সুনানিন নাসায়ি: ৩/৭৮।
📄 সবচেয়ে আদায়যোগ্য উত্তম ইবাদতের নির্দেশনা দিতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'আমার প্রবল ইচ্ছে ছিল বাইতুল্লাহর ভেতরে গিয়ে নামাজ পড়ব। একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে এগিয়ে গেলেন। হিজরে নিয়ে দাঁড় করালেন আমাকে। বললেন, "যখন বাইতুল্লাহয় নামাজ পড়ার ইচ্ছে জাগবে, তখন হিজরে নামাজ পড়ে নেবে। কারণ, এটি বাইতুল্লাহরই অংশ।"
টিকাঃ
২৪৪. সুনানুত তিরমিজি: ৮০২, সুনানুন নাসায়ি ২৯১২। হাদিসের মান: সহিহ।
আয়িশা (রা) বলেন, 'আমার প্রবল ইচ্ছে ছিল বাইতুল্লাহর ভেতরে গিয়ে নামাজ পড়ব। একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে এগিয়ে গেলেন। হিজরে নিয়ে দাঁড় করালেন আমাকে। বললেন, "যখন বাইতুল্লাহয় নামাজ পড়ার ইচ্ছে জাগবে, তখন হিজরে নামাজ পড়ে নেবে। কারণ, এটি বাইতুল্লাহরই অংশ।"
টিকাঃ
২৪৪. সুনানুত তিরমিজি: ৮০২, সুনানুন নাসায়ি ২৯১২। হাদিসের মান: সহিহ।