📄 স্ত্রীদের বৈধ খেলাধুলা দেখতে দিতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের ভেতর বসে ছিলেন। এমন সময় বাইরে শিশুদের কণ্ঠ ও কোলাহল শুনতে পেলাম আমরা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গিয়ে দেখলেন, কিছু হাবশি তাদের বল্লম নিয়ে খেলছে। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, "আয়িশা, এদিকে আসো। দেখে যাও।" আমি এগিয়ে আসলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাঁধের ওপর দিয়ে মুখ নিয়ে আমি বালকদের খেলা দেখতে লাগলাম। একটু পর তিনি বললেন, "খেলা দেখা হয়েছে? তুষ্ট হয়েছ?” আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমার মর্যাদা কতটুকু তা জানতে চাইলাম, তাই বললাম, "না।"'
ইবনে বাত্তাল (রহ) বলেন, 'এ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুপম চরিত্রের অন্যতম একটি দিক বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি পুরুষের উচিত তার স্ত্রীকে এমন ভালোবাসায় আগলে রাখা। স্ত্রীর আনন্দের জন্য বৈধতার সীমানায় বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেওয়া।'
অন্য বর্ণনায় এসেছে, আয়িশা (রা) বলেন, 'আমি যেন তাদের খেলা দেখতে পারি, সে জন্য তিনি আমাকে তাঁর চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। তিনি আমার জন্য সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন। শেষ পর্যন্ত আমিই সেখান থেকে সরে আসি।'
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, আয়িশা (রা) বলেন, 'আমি খেলারত বালকদের দেখছিলাম আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে একটু পর পর বলছিলাম, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাড়াহুড়ো করবেন না।" তিনি আমার কথামতো দাঁড়িয়ে রইলেন। একটু পর বললেন, "হয়েছে?" আমি আবারও বললাম, "তাড়াহুড়ো করবেন না।" আয়িশা (রা) বলেন, 'খেলা দেখা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং আমি চাচ্ছিলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মনে আমার কতটুকু সমাদর ও সম্মান রয়েছে, সে কথা অন্যান্য স্ত্রীদের কাছে পৌঁছাক।'
'এ হাদিস থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, স্ত্রীর সাথে সুন্দর আচরণের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, স্ত্রীর বৈধ ইচ্ছার প্রতিপালন করা। সদাচরণের আরেকটি অংশ হচ্ছে, স্ত্রী হালাল বিনোদনে আগ্রহী হলে সে সুযোগ করে দেওয়া। যদিও স্বামীর জন্য কষ্টকর হয়-এ ক্ষেত্রে সবর করাই তার কর্তব্য।'
ইদের সময় বৈধ কবিতা-গান শুনতে স্ত্রীদের নিষেধ করতেন না
আয়িশা (রা) বলেন, 'একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে এলেন। তখন দুজন বালিকা আমার পাশে বসে বুআসের দিনের গান গাইছিল। (যেদিন আওস ও খাজরাজের মাঝে যুদ্ধ হয়েছিল, সেদিনটি হচ্ছে বুআসের দিন)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে এলেন। মুখ ঘুরিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন। তখন আবু বকর (রা) ঘরে এলেন। তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে শয়তানের বাদ্যযন্ত্র!" আবু বকর (রা)-এর কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে ফিরে বললেন, "তাদের কিছু বোলো না।" আবু বকর (রা) অন্যদিকে মনোযোগ ফেরালে আমি বালিকা-দুটোকে ইশারা করলাম। তারা বের হয়ে গেল। আর সেদিন ছিল ইদের দিন।'
ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'এ হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, ইদের দিন বিভিন্নভাবে পরিবারের মনোরঞ্জন ও বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেওয়া, দীর্ঘ দিন ইবাদতের কষ্ট করার পর শারীরিক আরামের ব্যবস্থা করার বৈধতা সাব্যস্ত আছে।...এ হাদিসে নারীদের প্রতি কোমল আচরণ করা এবং তাদের আদর-সোহাগে আগলে রাখার বিষয়টিও বিবৃত হয়েছে।'
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইদ ও বিবাহের ন্যায় আনন্দের দিনগুলোতে দফ বাজিয়ে ওই ধরনের বা সমার্থক গান করার অনুমতি দিয়েছেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের পর বিজিত হলো পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য। সাহাবিরা (রা) দেখলেন, পারস্য ও রোমানদের গান বাদ্যযন্ত্র সহযোগে পরিবেশিত হয়। তাদের গীতিকথায় মদ ও নারীদের নিয়ে উত্তেজনামূলক কথাবার্তার মতো হারাম বর্ণনা থাকে।
এসব গান মানুষের মনের ভেতরের কামনাকে জাগ্রত করে। সাহাবিগণ (রা) এসব গান নিষিদ্ধ করেন শক্তভাবে।
সাহাবিদের (রা) এ নিষেধাজ্ঞা প্রমাণ করে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৈধতা দিয়েছিলেন, তা এসব গান ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন, সে বাদ্যযন্ত্র এমন ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ধরনের বাদ্যযন্ত্রের অনুমতি দিয়েছিলেন। সাহাবিদেরকে (রা) যে গানের যে বাদ্যযন্ত্রের বৈধতা কেবল আরবে প্রচলিত।
অন্যদিকে বাদ্যযন্ত্রসহ অনারবদের যে গান প্রচলিত আছে, সে গানের অনুমতি নেই শরিয়তে। যদিও হাদিসে গান শব্দটি এসেছে আর এগুলোকেও গান বলা হয়, তবুও তা নিষিদ্ধ। হাদিসে বর্ণিত গান শব্দটি যে ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে আর অনারবদের মাঝে গান শব্দটি যে অর্থে ব্যবহৃত হয়-উভয়ের মাঝে স্পষ্ট প্রভেদ আছে। একজন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন লোক অনায়াসে তা বুঝতে পারবেন। কারণটা হচ্ছে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গাওয়া অনারবদের গান প্রবৃত্তিকে উত্তেজিত করে তোলে, স্বভাবে বিকৃতি আনে, গুনাহর দিকে আহ্বান করে। এ গানগুলো জিনার দিকে সম্মোহন করে। আর আরবদের যে গান শরিয়তে বৈধ বলা হয়েছে, তাতে আদৌ কোনো ক্ষতি নেই।
অতএব, যে ব্যক্তি প্রচলিত গানের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদিত গানের সাদৃশ্য স্থাপনের চেষ্টা করে, সে মারাত্মক ভ্রান্তিতে নিপতিত হয়। কেউ যদি অনুমোদিত গান ও নিষিদ্ধ গানের সার্বিক ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদিতে স্পষ্ট পার্থক্য থাকার পরও উভয়কে এক প্রমাণ করার চেষ্টা করে, তার এই অপচেষ্টা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।'
স্ত্রীর বিনোদন এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ করেননি তিনি। বরং আয়িশা (রা)-এর কাছে বালিকাদের গমনাগমনের অনুমতি ছিল। তারা ছিলেন আয়িশা (রা)-এর খেলার সাথি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক থাকতেন যেন আয়িশার (রা) খেলার সাথি এসব মেহমান চলে না যায়।
আয়িশা (রা) বলেন, 'আমি পুতুল নিয়ে খেলতাম। আমার কিছু খেলার সাথিও ছিল। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আসতেন, তারা আড়ালে চলে যেত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আবার আমার কাছে নিয়ে আসতেন। আমরা আবার আগের মতো খেলতে থাকতাম।'
ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রগাঢ় স্নেহ ও উৎকৃষ্ট আচরণের পরিচয়।'
আয়িশা (রা) পুতুল নিয়ে খেলতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নিয়ে তার সাথে রসিকতা করতেন।
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক বা খাইবার যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন। আমার খেলনাগুলোর ওপর একটি পর্দা ছিল। হঠাৎ বাতাস এসে তার এক প্রান্ত উড়িয়ে নিয়ে গেল। আমার কিছু পুতুল দেখা গেল।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এগুলো কী?"
আমি বললাম, "আমার পুতুল।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুতুলের মাঝ দু'ডানাবিশিষ্ট কাপড়ের তৈরি একটি ঘোড়া দেখিয়ে বললেন, "মাঝখানের এটা কী?"
ঘোড়া।
ঘোড়ার পিঠে এ দুটো কী?
এ দুটো ঘোড়ার ডানা।
ঘোড়ার পিঠে দুটো ডানা?!
- কেন? আপনি কী শুনেননি-সুলাইমান (আ)-এর ঘোড়ার পিঠে বেশ কয়েকটি ডানা ছিল?
এ শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন হাসলেন যে, তার মাড়ির দাঁত দেখা গেল।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সে হাসি তাঁর স্ত্রীর মনকে কতটা প্রফুল্ল করেছিল-সেটার পরিমাপ কি আমরা করতে পারব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক রসিকতা তাঁর স্ত্রীর মনকে যে রকম পুলকিত করেছিল, নিশ্চয় সে রকম পুলকই স্ত্রী পেতে চায় তাঁর স্বামীর কাছ থেকে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদেরকে (রা) স্ত্রীর সাথে হাসি-কৌতুক করার প্রতি উৎসাহিত করতেন। কারণ, এতে তাদের অন্তর পুলকিত হয়, হৃদয় হয় প্রফুল্ল। 'জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) বিয়ে করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তুমি কিশোরী কেন বিয়ে করলে না-তুমি তার সাথে খেলতে, আর সেও তোমার সাথে খেলত। অথবা তুমি তাকে হাসাতে আর সেও তোমাকে হাসাত।"'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, 'আল্লাহর জিকির ছাড়া অন্যসব কাজ অনর্থক। তবে চারটি ব্যতীত। এক. দুই লক্ষ্যস্থলের মাঝে ছুটে চলা। দুই. ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। তিন. স্ত্রীর সাথে হাসি-কৌতুক করা। চার. সাঁতার শেখা।'
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একটু খুনসুটি, একটু হাস্যরস, একটুখানি রসিকতা আনন্দে ভরে তোলে পরিবারকে। ঘর হয় শান্তির আবাস। দাম্পত্য বন্ধন হয় শক্তিশালী। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার হৃদ্যতা ও ভালোবাসা গভীর হতে থাকে ক্রমশ।
'রসিকতা, কৌতুক ও খেলাধুলা স্ত্রীর মন জয় করার তিনটি মোক্ষম উপায়।'
'উমর (রা) কঠোর মানুষ হওয়া সত্ত্বেও দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে বলেন, "একজন পুরুষের উচিত স্ত্রীর সাথে শিশুর মতো আচরণ করা। কিন্তু বাড়ির বাইরে যখনই দরকার হবে, তখন বীর পুরুষের মতো আবির্ভূত হওয়া।"'
সাবিত বিন উবাইদ (রহ) বলেন, 'জাইদ বিন সাবিত (রা) বাড়িতে শিশুর মতো হাস্যরস করতেন। আবার বাড়ির বাইরে তিনি ছিলেন বীর-বাহাদুরদের একজন।'
'একবার এক বেদুইন নারী সদ্যপ্রয়াত স্বামীর বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় বলেন, "আল্লাহর কসম, তিনি যখন বাড়িতে প্রবেশ করতেন, তখন হাসোজ্জ্বল থাকতেন। বাড়ির বাইরে গম্ভীর সুপুরুষ হয়ে যেতেন। বাড়িতে যা থাকত, তা খেতেন। বাড়িতে নেই এমন খাবার খেতে মন চাইলেও কখনো চাইতেন না।"'
মানুষজন এখন বিপরীতমুখী আচরণ করছে। বন্ধুবান্ধব বা কর্মক্ষেত্রের সঙ্গীদের সাথে হাসি-খুশি আচরণ। কিন্তু বাড়িতে এলেই গুরু-গম্ভীর। গোমড়া হয়ে যায় তার মুখ। বিরক্তিতে কুঁচকে থাকে কপাল।
টিকাঃ
২০৬. সুনanুত তিরমিজি: ৩৬৯১। হাদিসের মান: সহিহ।
২০৭. শারহু সহিহিল বুখারি: ২/৫৪৮।
২০৮. সহিহু মুসলিম: ৮৯২।
২০৯. নাসায়ি কৃত আস-সুনanুল কুবরা ৮৯৫১। হাদিসের মান: সহিহ।
২১০. ইবনে বাত্তাল (রহ) কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ৭/২৯৮।
২১১. সহিহুল বুখারি: ৯৫০, সহিহু মুসলিম: ৮৯২।
২১২. ফাতহুল বারি: ২/৪৪৩।
২১৩. ইবনে রজব (রহ) কৃত ফাতহুল বারি: ৬/৭৮।
২১৪. সহিহুল বুখারি: ৬১৩০, সহিহু মুসলিম: ২৪৪০।
২১৫. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১০/২০৫।
২১৬. সুনanu আবি দাউদ: ৪৯৩২। হাদিসের মান: সহিহ।
২১৭. সহিহুল বুখারি: ২০৯৭, সহিহু মুসলিম: ৭১৫।
২১৮. তাবারানি কৃত আল-কাবির ১৭৮৫। হাদিসের মান: সহিহ।
২১৯. মাওইজাতুল মুমিনিন: ১৬৮।
২২০. আল-মাজালিসাহ ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম: ৩/৪৩০।
২২১. ইমাম বাগাবি (রহ) কৃত শারহুস সুন্নাহ: ১৩/১৮৩।
২২২. মাওইজাতুল মুমিনিন: ১০৬।
📄 স্ত্রীর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক সফরে বের হলাম। আমি তখন কিশোরী। শারীরিকভাবে ছিলাম হালকা। শরীরে তেমন মেদ জমেনি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের (রা) বললেন, "তোমরা এগিয়ে যাও।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে তাঁরা এগিয়ে গেল। এরপর আমাকে বললেন, "চলো, দৌড় প্রতিযোগিতা করি।" আমরা প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হলাম। দৌড়ে হারিয়ে দিলাম তাঁকে। তিনি চুপ করে থাকলেন, কিছু বললেন না। (এরপর অনেক সময় কেটে যায়) আমার শরীর বাড়তে লাগল। দেহে মেদ জমল। আগের প্রতিযোগিতার কথা ভুলে গিয়েছিলাম ততদিনে। কোনো এক সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের (রা) বললেন, "তোমরা এগিয়ে যাও।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে তাঁরা এগিয়ে গেল। এরপর আমাকে বললেন, "চলো, দৌড় প্রতিযোগিতা করি।" আমি এবারও প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। এবার তিনি আমাকে হারিয়ে দিয়ে হাসতে লাগলেন। বললেন, "এটা আগেরটার প্রতিশোধ।"'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাঁধে অনেক দায়িত্ব ছিল। শত ব্যস্ততা সর্বদা ঘিরে থাকত তাঁকে। কিন্তু তবুও তিনি স্ত্রীদের মনোরঞ্জনের দিকে নজর দিয়েছেন। বৈধ বিনোদনের ব্যবস্থা করেছেন তাদের জন্য। অথচ আমরা! আমরা বড় কর্মবিমুখ। একই সাথে বিমুখ হয়ে আছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ থেকেও। আমরা স্ত্রীদের সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করব তো দূরের কথা, হাঁটতেও অস্বস্তি বোধ করি।
টিকাঃ
২২৩. মুসনাদু আহমাদ ২৫৭৪৫, সুনানু আবি দাউদ ২৫৭৮, সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৯৭৯। হাদিসের মান: সহিহ। শব্দউৎস: মুসনাদু আহমাদ।
📄 বৈধপ্রেমের স্ত্রীদের সঙ্গে গল্প করতেন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বের হতেন, তখন স্ত্রীদের মাঝে লটারি দিয়ে সফরসঙ্গী নির্বাচন করতেন। একবার এ রকম ভ্রমণের লটারিতে আয়িশা (রা) ও হাফসা (রা)-এর নাম এল। দুজনই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় রাতের বেলা আয়িশা (রা)-কে নিয়ে বের হতেন, তাঁর সাথে কথা বলতেন। এবার হাফসা (রা) আয়িশা (রা)-কে বললেন, 'তুমি কি রাতের বেলা আমার বাহনে চড়বে আর আমি তোমারটায়? তারপর আমরা দেখব কী হয়।' আয়িশা (রা) বললেন, 'হাঁ।' যেমন বলা তেমন করা। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রা)-এর বাহনের নিকটে এলেন, কিন্তু তার ওপরে যে হাফসা (রা)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তাকে সালাম দিলেন, তাকে নিয়ে ভ্রমণে বের হলেন। এভাবে আয়িশা (রা) সুযোগ হারালেন। এতে তার ঈর্ষা হতে লাগল। বাহন থেকে নেমে তিনি পদযুগল ইজখির ঘাসে জড়াতে লাগলেন। বলতে থাকলেন, 'হে রব, আমার ওপর বিচ্ছু বা সাপ নিযুক্ত করে দিন, যেন সেগুলো আমাকে দংশন করে। আপনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না।'
সফরে ধীরে উট চালানোর নির্দেশ দিতেন
আনাস (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো এক সফরে ছিলেন। তখন আনজাশা নামক কালো এক কিশোর গান গেয়ে উট চালাচ্ছিল। (ফলে উটগুলো জোরে পা ফেলছিল) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "আনজাশা, উট ধীরে চালাও, তুমি কিছু কাচপাত্র (মহিলা) সাথে নিয়ে সফর করছ।"'
আলিমগণ (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের কাচপাত্রের সঙ্গে উপমা দিলেন। কারণ, নারীদের ওপর কোনো কিছুর প্রভাব খুব তাড়াতাড়ি পড়ে যায়। তারা কঠিন কিছুর ধকল সইতে পারে না।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার উদ্দেশ্য হচ্ছে, উটের গতি কমিয়ে মহিলাদের সফর সহজ করা। কারণ, উট যখন উটচালকের গান শুনত, তখন উট জোর গতিতে চলতে শুরু করত। এতে করে কষ্ট পড়ত আরোহী। নারীগণ দুর্বল গড়নের হওয়ার কারণে উটের দ্রুত ধাবমানতার ধকল সইতে না পারার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকত। নারীদের কোনো ক্ষতি হওয়ার বা উট থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই আনজাশাকে গান গাইতে নিষেধ করেছিলেন।'
স্ত্রীদের পরস্পরের ঠাট্টার অনুমোদন দিতেন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘর যেন শুধু ঘর নয়, এ যে খুশির মহল। আয়িশা (রা) বলেন, 'একদিন সাওদা (রা) আমার ঘরে এল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক পা ছিল আমার কোলে। আরেক পা ছিল সাওদার (রা) কোলে। সাওদার (রা) জন্য "হারিরা" প্রস্তুত করলাম আমি। (হারিরা হলো-আটা, চর্বি ও পানি দিয়ে পাকানো একধরনের স্যুপ)
তাকে বললাম, "নাও, খাও।" সে অস্বীকার করল।
আমি বললাম, "তোমাকে অবশ্যই খেতে হবে, অন্যথা আমি তোমার মুখে খাবার মেখে দেবো।" তারপরও সাওদা (রা) অস্বীকার গেল।'
আয়িশা (রা) বলেন, 'এরপর আমি আমার হাতে খাবার নিয়ে তার মুখে মেখে দিলাম। এ দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে লাগলেন।'
তিনি সাওদাকে (রা) বললেন, "তুমিও তার মুখে খাবার মেখে দাও।” সাওদাও (রা) আমার মুখে খাবার মেখে দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারও হেসে উঠলেন। এদিকে উমর (রা) তখন ঘরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তিনি ডাক দিলেন, “হে আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা)! হে আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা)!" নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে করলেন, উমর (রা) বোধ হয় ঘরে প্রবেশ করতে চাইবেন। তাই তিনি বললেন, "যাও তোমরা মুখ ধুয়ে নাও।"'
বর্তমান যুগে যদি মাঝখানে বসা স্বামীর উপস্থিতিতে দুই স্ত্রী এমন খুনসুটি করত, মূর্খতাবশত সে স্ত্রীদের তালাকই দিয়ে বসত। তার তো খবর নেই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতেন। কীভাবে তাদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করতেন।
আনন্দঘন পরিবেশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিক্রিয়া বর্ণিত হয়েছে এ হাদিসে। এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ন্যায়পরায়ণতাও লক্ষণীয়। যদিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন আয়িশা (রা)-কে। ভালোবাসা মনের ব্যাপার। কিন্তু প্রকাশ্যে অন্য স্ত্রীদের প্রতি ন্যায়ভিত্তিক আচরণ করতেন। যেমন এখানে আয়িশা (রা)-এর কর্মের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদা (রা)-কে বললেন, তিনিও যেন আয়িশার (রা) মুখে খাবার মেখে দেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে বলেছেন, সাওদা (রা)-ও সেভাবে করেছেন। এভাবে সে মজলিস হাসি-খুশি ও আনন্দে ভরে উঠল।
কুলসুম (রা) বর্ণনা করেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী জাইনাব (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথায় উকুন দেখছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উসমান বিন মাজউন (রা) ও কিছু মুহাজির নারী উপস্থিত। তারা তাঁর কাছে তাদের বাসস্থান নিয়ে অভিযোগ দায়ের করছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর ঘরটা অন্য ওয়ারিশরা নিয়ে যেত। স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে হতো প্রয়াত স্বামীর ঘর। এটা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়াত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথার উকুন দেখা ছেড়ে মহিলাদের আলাপে জাইনাবও (রা) জুড়ে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন কৌতুক করে বললেন, "চোখ দিয়ে তো আর কথা বলছ না। চোখ চোখের কাজ করুক। মুখ মুখের কাজ করুক।" এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির নারীদের ঘরের ওয়ারিশ বানানোর আদেশ দিলেন।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের কৌতুক শুনতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'আমি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বললাম, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মনে করুন, আপনি একটি উপত্যকায় অবতরণ করলেন আপনার উটকে খাবার খাওয়াবেন বলে। উপত্যকায় একটি গাছ আছে, যার পাতা খাওয়া। অন্য আরেকটি গাছ থেকে কিছুই খাওয়া হয়নি। আপনি কোনটা থেকে উটকে খাওয়াবেন?" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "যে গাছ থেকে কিছুই খাওয়া হয়নি।" আয়িশা (রা) এ কথার মাধ্যমে নিজেকেই বোঝাতে চাচ্ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল তাকেই কুমারি অবস্থায় বিয়ে করেছেন।'
আরেকবারের ঘটনা। আয়িশা (রা) বলেন, 'বাকি কবরস্থানে একটা জানাজা ছিল। জানাজা থেকে ফিরে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, আমি মাথা ব্যথায় কাতরাচ্ছি। আমি বলছিলাম, "ওহ! আমার মাথা!" আমার কথা শুনে তিনি বললেন, "বরং মাথা ব্যথা আমার। তুমি যদি মাথা ব্যথায় মারা যাও, তবে তোমার তো কোনো কষ্ট নেই। সব কষ্ট তো আমাকেই করতে হবে। তোমাকে গোসল দিতে হবে, কাফন পরাতে হবে, এরপর জানাজা পড়ে দাফন করতে হবে না!" আমি বললাম, "হাঁ, আপনি তো তা-ই চান। আমি মারা যাই, আর সেদিনই আপনি অন্য স্ত্রী আমার ঘরে এনে তার সাথে সময় কাটান।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথা শুনে মুচকি হাসলেন। এ ঘটনার কিছু সময় পরই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর অসুস্থতা শুরু হয়।'
وَبِلُطْفِهِ يَرْعَى مَشَاعِرَهَا *** فِي كُلِّ نَائِبَةٍ يُوَاسِيُّهَا مُتَجَمِّلًا مِنْ أَجْلِهَا عِدْرًا *** إِنَّ الَّذِي يُرْضِيْهِ يُرْضِيْهَا وَعَلَى الَّذِي هَوِيَتْ يُتَابِعُهَا *** فِي مَا يُحِلُّ لَهَا وَيُعْطِيهَا وَعَلَى جَلَالَتِهَا يُسَابِقُهَا *** وَإِذَا تُجَارِيْهِ يُجَارِيْهَا إِنَّ السَّمَاحَةَ فِي شَرِيعَتِهِ *** وَالْيُسْرَ أَصْلُ كَامِنُ فِيهَا
'প্রিয়তমার আবেগ-অনুভূতির খেয়াল রাখতেন প্রগাঢ় মমতায়। প্রতিটি বিপদে বাড়িয়ে দিতেন সহমর্মিতার হাত। তাদের হৃদয়কে ভুলিয়ে রাখতে উদিত হতেন সুরভিত দেহে। জীবনসাথির যে রূপ দেখতে তিনি ভালোবাসতেন, একই রূপে তিনি নিজেকে পেশ করতেন তাদের সামনে। তাদের বৈধ আবদারগুলো মেটাতেন উদার হৃদয়ে। পাহাড়সম ব্যক্তিত্বের অধিকারী তিনি। তবুও দৌড় প্রতিযোগিতায় নামতেন স্ত্রীদের সাথে। তাদের সঙ্গে জুটে কাজ করতেন অনায়াসে। ক্ষমা, উদারতা ও সারল্যের অদৃশ্য ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে তাঁর শরিয়ত।'
টিকাঃ
২২৪. সহিহুল বুখারি ৫২১১, সহিহু মুসলিম: ২৪৪৫।
২২৫. সহিহুল বুখারি: ৬১৬১, সহিহু মুসলিম: ২৩২৩।
২২৬. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৫/৮১।
২২৭. সুনানুন নাসায়ি ৮৯১৭, আবু বকর শাফিয়ি (রহ) কৃত আল-ফাওয়ায়িদ: ১১২। ইহইয়া উলুমিদ্দিনের হাদিসের তাখরিজে হাফিজ ইরাকি (রহ) (৪/১৬৮২) বলেন, 'এ হাদিসের সনদ জাইয়িদ।'
২২৮. মুসনাদু আহমাদ ২৬৫১০। হাদিসের মান হাসান। এ হাদিসের সংক্ষিপ্ত একটি রূপ এসেছে, 'সুনানু আবি দাউদ'-এর ৩০৮০ নং হাদিসে; এ হাদিসের সনদ সহিহ।
২২৯. সহিহুল বুখারি: ৫০৭৭।
২৩০. মুসনাদু আহমাদ: ২৪৭২০, সুনানু ইবনি মাজাহ ১৪৬৫। হাদিসের মান: হাসান। ঘটনার সংক্ষিপ্তসার বর্ণিত হয়েছে বুখারিতে: ৫৬৬৬।
📄 সফরে ধীরে উট চালানোর নির্দেশ দিতেন
আনাস (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো এক সফরে ছিলেন। তখন আনজাশা নামক কালো এক কিশোর গান গেয়ে উট চালাচ্ছিল। (ফলে উটগুলো জোরে পা ফেলছিল) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "আনজাশা, উট ধীরে চালাও, তুমি কিছু কাচপাত্র (মহিলা) সাথে নিয়ে সফর করছ।"'
আলিমগণ (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের কাচপাত্রের সঙ্গে উপমা দিলেন। কারণ, নারীদের ওপর কোনো কিছুর প্রভাব খুব তাড়াতাড়ি পড়ে যায়। তারা কঠিন কিছুর ধকল সইতে পারে না।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার উদ্দেশ্য হচ্ছে, উটের গতি কমিয়ে মহিলাদের সফর সহজ করা। কারণ, উট যখন উটচালকের গান শুনত, তখন উট জোর গতিতে চলতে শুরু করত। এতে করে কষ্ট পড়ত আরোহী। নারীগণ দুর্বল গড়নের হওয়ার কারণে উটের দ্রুত ধাবমানতার ধকল সইতে না পারার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকত। নারীদের কোনো ক্ষতি হওয়ার বা উট থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই আনজাশাকে গান গাইতে নিষেধ করেছিলেন।'
টিকাঃ
২২৫. সহিহুল বুখারি: ৬১৬১, সহিহু মুসলিম: ২৩২৩।
২২৬. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৫/৮১।