📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আদর করে স্ত্রীর নামকে ছোট করে ডাকতেন

📄 আদর করে স্ত্রীর নামকে ছোট করে ডাকতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বললেন, "হে আয়িশ, জিবরাইল (আ) তোমাকে সালাম দিচ্ছেন।" তখন আয়িশা (রা) বললেন, 'তাঁর ওপরও আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রা)-কে হুমাইরা নামেও ডাকতেন। আয়িশা (রা) বলেন, 'কিছু হাবশি বালক মসজিদে খেলাধুলা করছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে বললেন, "হুমাইরা, তুমি কি তাদের খেলাধুলো দেখতে চাও?" আমি উত্তর দিলাম, "হাঁ।"'

কাজি ইয়াজ (রহ) বলেন, 'আদর-সোহাগ ও ভালোবাসা প্রকাশে তিনি হুমাইরা নামে ডেকেছিলেন তাকে।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রা)-কে উম্মে আব্দুল্লাহ উপনামেও ডাকতেন। আয়িশা (রা) বলেন, 'আব্দুল্লাহ বিন জুবাইরের (রা) জন্মের পর তাকে নিয়ে আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। আব্দুল্লাহর (রা) মুখের ভেতর তিনি নিজের লালা দিলেন। আব্দুল্লাহর (রা) পেটে ঢোকা দুনিয়ার প্রথম জিনিস ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখের লালা। তিনি বললেন, "এ হলো আব্দুল্লাহ (রা)। আর তুমি উম্মে আব্দুল্লাহ।"

এরপর থেকে আমাকে এ উপনামেই ডাকা হয়। যদিও কখনো আমার সন্তান হয়নি।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের জন্য সবচেয়ে সুন্দর নামগুলো নির্বাচন করতেন। কিন্তু আজকাল কিছু মানুষকে দেখা যায়, মোবাইলে তারা স্ত্রীর নাম্বার সেইভ করে বিভিন্ন কুৎসিত নামে। কেউ নাম দেয় 'আপদ', কেউ দেয় 'বালাই', কেউ 'জিন্দেগির ভুল' আবার কেউ এক ধাপ এগিয়ে নাম দেয় শয়তানা! অন্যদিকে কিছু মানুষ আছে, যারা স্ত্রীর নাম সেইভ করে সুন্দর সুন্দর নামে। যেমন: প্রিয়, জান, প্রাণ, জীবনসাথি, আকাশের চাঁদ, অমুকের মা ইত্যাদি। বস্তুত আল্লাহ তাআলা রিজিকের মতো সচ্চরিত্রও বণ্টন করেছেন।

টিকাঃ
১৫০. সহিহুল বুখারি: ৩২১৭, সহিহু মুসলিম: ২৪৪৭।
১৫১. হুমাইরা আরবি হামরা শব্দের তাসগির। এর অর্থ হলো, শুভ্র বা সাদা, ফরসা। আরবিরা সাদা রং বোঝাতে আহমার শব্দ ব্যবহার করে থাকে। (আন-নিহায়াহ)- অনুবাদক।
১৫২. নাসায়ি কৃত আস-সুনানুল কুবরা ৮৯৫১; হাদিসের মান: সহিহ। হাফিজ ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'এ হাদিসটি সহিহ। তবে এ হাদিস ব্যতীত অন্য কোনো সহিহ হাদিসে "হুমাইরা" নামের উল্লেখ পাইনি আমি।' দেখুন, ফাতহুল বারি: ২/৪৪৪।
১৫৩. মাশারিকুল আনওয়ার: ১/৭০২।
১৫৪. সহিহু ইবনি হিব্বান ৭১১৭। শুআইব আরনাউত (রহ) বলেন, 'এ হাদিসের সনদ শক্তিশালী।'

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীদের নিয়ে দাওয়াত খেতে যেতেন

📄 স্ত্রীদের নিয়ে দাওয়াত খেতে যেতেন


আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক ফারসি (বর্তমান ইরানি) প্রতিবেশী ছিল। ভালো স্যুপ রান্না করতে পারত সে। একদিন স্যুপ রান্না করে সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত দিতে আসলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, "আয়িশাও (রা)?" সে জবাব দিল, "না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে আমিও না।” লোকটি আবারও দাওয়াত দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারও বললেন, "আয়িশাও (রা)?" লোকটি উত্তর দিল, "না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে আমিও না।” তৃতীয়বার দাওয়াত দিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কথা বললেন। এবার লোকটি "হাঁ” বলল। এরপর তাঁরা দুজন হুড়মুড় করে উঠলেন। পরস্পরকে অনুসরণ করে চলতে চলতে উপস্থিত হলেন সে ফারসির বাড়িতে।'

ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রা)-কে রেখে একা দাওয়াতে যেতে অপছন্দ করলেন। স্ত্রীর প্রতি সুন্দর আচরণের এক চমৎকার নিদর্শন এটি। দাম্পত্য জীবনের হক আদায় ও অন্তরঙ্গতারও একটি যথার্থ উদাহরণ এ হাদিসটি।'

টিকাঃ
১৫৫. সহিহু মুসলিম: ২০৩৭।
১৫৬. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/২০৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কোনো স্ত্রী সাক্ষাতে এলে ঘর পর্যন্ত এগিয়ে দিতেন

📄 কোনো স্ত্রী সাক্ষাতে এলে ঘর পর্যন্ত এগিয়ে দিতেন


সাফিয়্যা (রা) বলেন, 'একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফে ছিলেন। রাতে আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলাম। দুজনে কথাবার্তা বললাম। এরপর যাওয়ার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ালে তিনিও উঠে দাঁড়ালেন আমাকে দিয়ে আসার জন্য। পথে দুজন আনসারী (রা) আমাদের পাশ দিয়ে গেলেন। তারা দুজন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখে দ্রুত পদে হাঁটতে লাগল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, “থামো-জলদি করো না। ও হলো সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রা)।" তারা বলল, "সুবহানাল্লাহ ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (আমরা আপনার ব্যাপারে কীভাবে অমন বাজে ধারণা করব!) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "শয়তান মানুষের শিরায় শিরায় দৌড়ায়। আমি ভয় পাচ্ছি, শয়তান তোমাদের অন্তরে খারাপ কোনো চিন্তা ঢুকিয়ে দেবে।"'

ইতিকাফকারী জরুরি কাজ ছাড়া ইতিকাফের স্থান থেকে উঠতে পারে না। স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ কতটা গুরুত্ববহ তা এ হাদিস থেকেই প্রমাণ পাই আমরা। ইতিকাফ অবস্থায় থাকলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীকে ঘর পর্যন্ত দিয়ে আসলেন নিজ তত্ত্বাবধানে।

أَبْيَاتُنَا بِالْحُبِّ نَبْنِيهَا *** زَوْجَاتُنَا قَدْ نَوَّرَتْ فِيْهَا
بِالْبِرِّ وَالتَّقْوَى نَعْمُرُهَا *** وَبِسُنَّةِ الْمُخْتَارِ تُحْيِيهَا
هَذَا رَسُوْلُ اللَّهِ قُدْوَتُنَا * * * تَكْفِيكَ سُنَّتُهُ وَتَكْفِيهَا
يُبْدِي مَحَبَّتَهُ لِزَوْجَتِهِ *** وَسِوَاهُ يَسْتَعْلِي فَيُخْفِيْهَا
بِدُعَابَةٍ مِّنْهُ يُضَاحِكُهَا *** وَبِأَجْمَلِ الْأَسْمَا يُنَادِيهَا
مَا مَدَّ يَوْمًا كَفَهُ بِأَذَى *** بَلْ تِلْكَ نَبْعُ الْخَيْرِ يَجْرِيهَا

'ভালোবাসার মজবুত ভিতের ওপর আমরা নির্মাণ করি আমাদের পরিবার। প্রিয়তমা স্ত্রীদের সুমধুর বিচরণে ঝলমল করে আমাদের অন্দরমহল। ঘরে ঘরে আমরা আবাদ করি তাকওয়া আর নেক আমলের সোনালি ফসল। প্রিয় নবির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাতই আমাদের পারিবারিক জীবনের প্রাণপ্রবাহ। আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জীবনাদর্শ। মুমিন স্বামী ও স্ত্রীর সুখময় দাম্পত্য জীবনের জন্য তো তাঁর সুন্নাতই যথেষ্ট। তিনি স্ত্রীদের প্রতি হৃদয়ে লালিত ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতেন। অনেকেই তো নিজেকে বড় মনে করে। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার কথা লুকিয়ে রাখে। তিনি রসিকতার ছলে হাসি ফুটাতেন প্রিয়তমার মুখে-সম্বোধন করতেন মিষ্টি মিষ্টি নামে। কখনো তাদের দিকে প্রসারিত করতেন না অনিষ্টের হাত। বরং এই হাত তো কল্যাণের ঝরনা, যা সিক্ত করে তাদের জীবন।'

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূত-পবিত্র স্ত্রীদের সঙ্গে কল্যাণময় এক দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন। কেননা, তাঁর সুখময় এই জীবন ছিল মূলত আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশের নিখুঁত প্রায়োগিক রূপ-

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

'স্ত্রীদের সাথে সডাবে জীবনযাপন করো।'

বস্তুত এখানে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই যে, তিনি যখন আপন দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে মন্তব্য করেন-

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي

'তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আর স্ত্রীর কাছে উত্তম হওয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের মধ্যে আমিই সর্বোত্তম।'

স্ত্রীর প্রতি সদাচরণের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'ইমানের বিচারে সেই পরিপূর্ণ মুমিন, যার চরিত্র সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো সে-ই, যে চরিত্রের বিচারে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।'

এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তাঁর স্ত্রীর গায়ে হাত তুলেছেন বা কোনো স্ত্রীকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন। আয়িশা (রা) বলেন, 'আল্লাহর পথে জিহাদ ব্যতীত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো কিছুকে নিজ হাতে প্রহার করেননি। না কোনো স্ত্রীর গায়ে হাত তুলেছেন আর না কোনো খাদিমের।'

এবার সেসব স্বামীর কথা একটু চিন্তা করুন, যারা তুচ্ছ কারণে স্ত্রীর গায়ে হাত তোলে। মুখে, মাথায় কিংবা পিঠে আঘাত করে। এমনকি কখনো লাঠি কিংবা জুতোর মতো বস্তুও ব্যবহার করে বসে!

অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমরা আল্লাহর বান্দীদের প্রহার কোরো না।' এরপর উমর (রা) এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন, 'মহিলারা স্বামীর অবাধ্য হয়।' অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের মৃদু প্রহারের অনুমতি দেন।

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে মহিলারা এসে তাদের স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে লাগল। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'মুহাম্মাদের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবারের কাছে অনেক মহিলা তাদের স্বামীদের ব্যাপারে অভিযোগ করেছে। ওই সব স্বামী ভালো মানুষ নয়।' 'অর্থাৎ যারা স্ত্রীদের প্রহার করে, তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম নয়। বরং যারা স্ত্রীর দেওয়া কষ্টে সহ্য করে এবং স্ত্রীদের প্রহার করে না, তোমাদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ।'

আরবদের মাঝে একটি প্রবাদ আছে- 'মর্যাদাবানরাই স্ত্রীদের সম্মান করে। ইতর শ্রেণির লোকেরাই স্ত্রীদের অসম্মান করে। সম্মানিত লোকদেরকে স্ত্রীরা জয় করে নেয়। আর ছোট লোকেরা স্ত্রীদের ছোট করে রাখে।'

স্ত্রীদের প্রতি কোমল আচরণ করতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন। তিনি বলেন, 'তোমরা স্ত্রীদের কল্যাণ কামনা করো-তাদের সদুপদেশ দাও। কেননা, তাদেরকে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পাঁজরের সবচেয়ে বাঁকা হাড় হলো ওপরের হাড়টি। তুমি যদি তাদের সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে ফেলবে। আর যদি সোজা না করে ফেলে রাখো, তবে তা বাঁকাই থেকে যাবে। সুতরাং তোমরা স্ত্রীদের সদুপদেশ দিতে থাকো।'

ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'এই হাদিসে স্ত্রীর প্রতি কোমল আচরণ করা, তাদের দেওয়া কষ্টে সবর করা, তাদের প্রতি অনুগ্রহ করা, তাদের বক্র চরিত্রে ধৈর্যধারণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, 'নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে বাঁকা হাড় থেকে। এ হাড় সোজা করতে গেলে তুমি ভেঙে ফেলবে। তাই দাম্পত্য জীবনে তাদের প্রতি কোমল আচরণ করো।'

বিদায় হজের মতো গুরুত্ববহ খুতবার একটি স্বতন্ত্র অংশজুড়ে আছে নারীদের অধিকারসম্পর্কিত আলোচনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'সাবধান, তোমরা নারীদের (প্রতি সদাচরণের) ক্ষেত্রে উত্তম উপদেশ গ্রহণ করো। তারা তোমাদের অধীনস্থ। এ ছাড়া তাদের ওপর তোমাদের কোনো অধিকার নেই...'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই এই নির্দেশনা দিতেন সাহাবিদের (রা)। কেননা, তিনি ভালো করে জানতেন নারীদের স্বভাব ও প্রকৃতি-যা অনেক সময় পুরুষরা সহ্য করতে পারে না। নারীদের অসংলগ্ন কর্মকাণ্ডে অনেক সময় পুরুষরা প্রচণ্ড রেগে গিয়ে তাদের তালাক দিয়ে বসে। চোখের পলকে ভেঙে যায় কত বৈবাহিক বন্ধন, টুকরো টুকরো হয়ে যায় কত পরিবার।

তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের স্বামীদের দাম্পত্য জীবনের সমস্যাবলি এড়ানোর পথ বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'মুমিন স্বামী তার স্ত্রীকে ঘৃণা করতে পারে না। কেননা, একজন মুমিনার চারিত্রিক কোনো দিক যদি তার অপছন্দ হয়ও; অন্য আরেকটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাকে সন্তুষ্ট করবেই।'

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'মুমিন স্ত্রীকে ঘৃণা করা স্বামীর উচিত নয়। কেননা, তার কোনো চরিত্র যদি স্বামীর অপছন্দও হয়, তবু অন্য কোনো সুন্দর বৈশিষ্ট্য তাকে সন্তুষ্ট করবেই। যেমন কোনো নারী যদি বদমেজাজিও হয়, তবুও তার মাঝে আমানতদারি, সৌন্দর্য, পবিত্রতা, বন্ধুবাৎসল্যের মতো উৎকৃষ্ট গুণ থাকতে পারে।'

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীগণের সঙ্গে বড়ই সুন্দর ব্যবহার করতেন। সব সময় হাসিমুখে থাকতেন। স্ত্রীদের খুশি রাখার চেষ্টা করতেন। তাদের সঙ্গে বসতেন, একসাথে খেতেন, গল্প করতেন, রসিকতা করতেন, পরামর্শ করতেন, তাদের কথা শুনতেন, সান্ত্বনা দিতেন, তাদের ওপর আস্থা রাখতেন, তাদের ছোট ছোট ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো দেখেও না দেখার ভান করতেন।

টিকাঃ
১৫৭. সহিহুল বুখারি: ২০৩৮, সহিহু মুসলিম: ২১৭৫।
১৫৮. সুরা আন-নিসা, ৪: ১৯।
১৫৯. সুনানুত তিরমিজি: ৩৮৯৫; আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। হাদিসের মান: সহিহ।
১৬০. সুনানুত তিরমিজি: ১০৮২; আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। হাদিসের মান: সহিহ।
১৬১. সহিহু মুসলিম: ২৩২৮।
১৬২. সুনানু আবি দাউদ: ২১৪৬, সুনানু ইবনি মাজাহ। ১৯৮৫। হাদিসের মান: সহিহ।
১৬৩. আওনুল মাবুদ: ৬/১৩০।
১৬৪. সহিহুল বুখারি: ৩৩৩১, সহিহ মুসলিম: ১৪৬৮।
১৬৫. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১০/৫৭। ঈষৎ পরিমার্জিত।
১৬৬. মুসনাদু আহমাদ: ১৯৫৮৯। হাদিসের মান: সহিহ।
১৬৭. সুনানুত তিরমিজি: ১০৮৩, সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৮৫১। হাদিসের মান: সহিহ।
১৬৮. সহিহু মুসলিম: ২৬৭২।
১৬৯. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১০/৫৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিতেন

📄 স্ত্রীদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিতেন


আবু জার গিফারি (রা) বর্ণনা করেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "অচিরেই তোমরা মিসর জয় করবে। এটি এমন একটি দেশ যেখানে "কিরাত” মুদ্রার প্রচলন আছে। তোমরা সেই ভূমি জয় করলে তার অধিবাসীদের সাথে সদাচরণ করবে। কারণ, তারা দায়বদ্ধতা ও আত্মীয়তার হকদার।" অথবা বলেছেন, "কারণ, তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা ও বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে।"'

ইমাম নববি (রহ) বলেন, 'এখানে দায়বদ্ধতা মানে হলো মর্যাদা ও অধিকার। আত্মীয়তার কারণ হলো, ইসমাইল (আ)-এর মা হাজিরা (রা) মিসরের মেয়ে ছিলেন। আর বৈবাহিক সম্পর্কের সূত্র হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহেবজাদা ইবরাহিমের (রা) মা মারিয়া কিবতিয়া (রা) মিসরের মেয়ে ছিলেন।'

টিকাঃ
১৭০. সহিহু মুসলিম: ২৫৪৩।
১৭১. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/৯৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00