📄 ঋতুবতী স্ত্রীর সঙ্গে একই চাদরের নিচে শুতেন
উম্মে সালামা (রা) বলেন, 'একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একই চাদরের নিচে শুয়েছিলাম আমি। হঠাৎ আমার হায়িজ শুরু হলে আমি চাদর থেকে সরে এসে হায়িজের কাপড় পরে নিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার কি হায়িজ হচ্ছে?” আমি বললাম, "হাঁ।” তারপর তিনি আমায় ডাকলে তাঁর সাথে একই চাদরে শুয়ে পড়লাম।'
এ হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে, স্ত্রী হায়িজ অবস্থায় থাকলেও তার সাথে একই চাদরে বা লেপের নিচে শোয়া জায়িজ।
এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে, আল্লাহ তো ঋতুবতী স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকতে বলেছেন : فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ (হায়িজ অবস্থায় স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকো। -সুরা আল-বাকারা, ২: ২২২)। এখানে দূরে থাকার অর্থ সহবাস থেকে দূরে থাকা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরেক স্ত্রী মাইমুনা (রা) বলেন, 'আমি হায়িজ অবস্থায় থাকলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে শুতেন। তাঁর ও আমার মাঝে কেবল একটি কাপড় থাকত।'
অনেক স্বামীই তাদের ঋতুবতী স্ত্রীদের দূরে ঢেলে দেয়। তাদের বিছানাও পৃথক করে দেয়। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের একদম বিপরীত। স্ত্রীদের জন্যও ক্ষতিকর। কেননা, তারা এ সময় নানান মানসিক অস্থিরতায় ভোগে-যা তাদের মন-মেজাজে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এমনিতেই ওই সময় তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তার ওপর যদি স্বামীও তাকে বিছানা থেকে দূরে ঠেলে দেয়, তবে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।
টিকাঃ
১৪৩. সহিহুল বুখারি: ২৯৮, সহিহু মুসলিম: ২৯৬।
১৪৪. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৩/২০৭।
১৪৫. সহিহু মুসলিম: ২৯৫।
📄 শেষ বিশ্বাস ত্যাগ করেছেন আয়িশা -এর কোলে
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে মৃত্যুবরণ করেন। সেদিনটি আমার পালায় ছিল। যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি আমার বুকে ঠেস দিয়ে ছিলেন।'
টিকাঃ
১৪৬. সহিহুল বুখারি: ৩১০০, সহিহু মুসলিম ৪৪৭৪।
📄 স্ত্রীর সাথে গোসল করতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'আমি ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। পাত্রটি আমার ও তাঁর মাঝে থাকত। কখনো তিনি আমার আগে পানি নিয়ে নিতেন। কখনো আমি তাঁর আগে পানি নিতাম। এমনকি তিনি বলতেন, "আমার জন্য রাখো।" আমিও তাকে বলতাম, "আমাকে নিতে দিন।"'
ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর স্ত্রী মাইমুনা (রা) একই বালতি থেকে পানি নিয়ে একসঙ্গে গোসল করতেন।'
উম্মে সালামা (রা) বলেন, 'আমি ও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই বালতি থেকে পানি নিয়ে একসঙ্গে ফরজ গোসল করতাম।'
আমাদের এ যুগের ভদ্রলোকেরা স্ত্রীর সাথে এক লেপের নিচে শোয় না। একসঙ্গে খায় না। মিরাসসূত্রেই তারা এই অভ্যাস পেয়ে থাকে।
টিকাঃ
১৪৭. সহিহুল বুখারি: ২৫০, সহিহু মুসলিম: ৩২১।
১৪৮. সহিহুল বুখারি: ২৫৩, সহিহু মুসলিম: ৩২২।
১৪৯. সহিহুল বুখারি: ৩২২, সহিহু মুসলিম: ৩২২।
📄 আদর করে স্ত্রীর নামকে ছোট করে ডাকতেন
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বললেন, "হে আয়িশ, জিবরাইল (আ) তোমাকে সালাম দিচ্ছেন।" তখন আয়িশা (রা) বললেন, 'তাঁর ওপরও আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রা)-কে হুমাইরা নামেও ডাকতেন। আয়িশা (রা) বলেন, 'কিছু হাবশি বালক মসজিদে খেলাধুলা করছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে বললেন, "হুমাইরা, তুমি কি তাদের খেলাধুলো দেখতে চাও?" আমি উত্তর দিলাম, "হাঁ।"'
কাজি ইয়াজ (রহ) বলেন, 'আদর-সোহাগ ও ভালোবাসা প্রকাশে তিনি হুমাইরা নামে ডেকেছিলেন তাকে।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রা)-কে উম্মে আব্দুল্লাহ উপনামেও ডাকতেন। আয়িশা (রা) বলেন, 'আব্দুল্লাহ বিন জুবাইরের (রা) জন্মের পর তাকে নিয়ে আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। আব্দুল্লাহর (রা) মুখের ভেতর তিনি নিজের লালা দিলেন। আব্দুল্লাহর (রা) পেটে ঢোকা দুনিয়ার প্রথম জিনিস ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখের লালা। তিনি বললেন, "এ হলো আব্দুল্লাহ (রা)। আর তুমি উম্মে আব্দুল্লাহ।"
এরপর থেকে আমাকে এ উপনামেই ডাকা হয়। যদিও কখনো আমার সন্তান হয়নি।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের জন্য সবচেয়ে সুন্দর নামগুলো নির্বাচন করতেন। কিন্তু আজকাল কিছু মানুষকে দেখা যায়, মোবাইলে তারা স্ত্রীর নাম্বার সেইভ করে বিভিন্ন কুৎসিত নামে। কেউ নাম দেয় 'আপদ', কেউ দেয় 'বালাই', কেউ 'জিন্দেগির ভুল' আবার কেউ এক ধাপ এগিয়ে নাম দেয় শয়তানা! অন্যদিকে কিছু মানুষ আছে, যারা স্ত্রীর নাম সেইভ করে সুন্দর সুন্দর নামে। যেমন: প্রিয়, জান, প্রাণ, জীবনসাথি, আকাশের চাঁদ, অমুকের মা ইত্যাদি। বস্তুত আল্লাহ তাআলা রিজিকের মতো সচ্চরিত্রও বণ্টন করেছেন।
টিকাঃ
১৫০. সহিহুল বুখারি: ৩২১৭, সহিহু মুসলিম: ২৪৪৭।
১৫১. হুমাইরা আরবি হামরা শব্দের তাসগির। এর অর্থ হলো, শুভ্র বা সাদা, ফরসা। আরবিরা সাদা রং বোঝাতে আহমার শব্দ ব্যবহার করে থাকে। (আন-নিহায়াহ)- অনুবাদক।
১৫২. নাসায়ি কৃত আস-সুনানুল কুবরা ৮৯৫১; হাদিসের মান: সহিহ। হাফিজ ইবনে হাজার (রহ) বলেন, 'এ হাদিসটি সহিহ। তবে এ হাদিস ব্যতীত অন্য কোনো সহিহ হাদিসে "হুমাইরা" নামের উল্লেখ পাইনি আমি।' দেখুন, ফাতহুল বারি: ২/৪৪৪।
১৫৩. মাশারিকুল আনওয়ার: ১/৭০২।
১৫৪. সহিহু ইবনি হিব্বান ৭১১৭। শুআইব আরনাউত (রহ) বলেন, 'এ হাদিসের সনদ শক্তিশালী।'