📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীর রানের ওপর মাথা রেখে ঘুমাতেন

📄 স্ত্রীর রানের ওপর মাথা রেখে ঘুমাতেন


'এক সফরে আয়িশা (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। ঘটনাক্রমে এক জায়গায় আয়িশা (রা)-এর হার হারিয়ে যায়। সাহাবিরা (রা) সবাই হার খুঁজতে লেগে গেলেন। হারের জন্য কাফেলাকে এমন জায়গায় দাঁড়াতে হলো, যেখানে পানি নেই। আবু বকর (রা) এসে আয়িশা (রা)-কে তিরস্কার করলেন (তার কারণে পুরো কাফেলা কষ্টে পড়ল)। আয়িশা (রা) বলেন, "আবু বকর (রা) আমাকে ভর্ৎসনা করলেন। তিনি আঙুল দিয়ে আমার কোমরে ধাক্কা দিতে লাগলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমার উরুর ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে ঘুমিয়ে থাকার কারণে আমি এতটুকুও নড়িনি।"'

আয়িশা (রা) আরও বলেন, 'আমি ঋতুবতী অবস্থায় থাকলেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে ঠেস দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।'

এটি স্ত্রীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরঙ্গ আচরণের অংশ।

এ হাদিস থেকে আমরা শিখলাম মহিলাদের হায়িজ হলেও তাদের প্রতি নাক সিটকানো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এমনটা ইহুদিরা করে থাকে। তারা ঋতুবতী মহিলার সাথে একত্রে খায় না; এমনকি একসঙ্গে বসেও না।

টিকাঃ
১৪১. সহিহুল বুখারি ৪৬০৭, সহিহু মুসলিম: ৫৫০।
১৪২. সহিহুল বুখারি: ৩৬৭২, সহিহু মুসলিম: ২৬৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ঋতুবতী স্ত্রীর সঙ্গে একই চাদরের নিচে শুতেন

📄 ঋতুবতী স্ত্রীর সঙ্গে একই চাদরের নিচে শুতেন


উম্মে সালামা (রা) বলেন, 'একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একই চাদরের নিচে শুয়েছিলাম আমি। হঠাৎ আমার হায়িজ শুরু হলে আমি চাদর থেকে সরে এসে হায়িজের কাপড় পরে নিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার কি হায়িজ হচ্ছে?” আমি বললাম, "হাঁ।” তারপর তিনি আমায় ডাকলে তাঁর সাথে একই চাদরে শুয়ে পড়লাম।'

এ হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে, স্ত্রী হায়িজ অবস্থায় থাকলেও তার সাথে একই চাদরে বা লেপের নিচে শোয়া জায়িজ।

এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে, আল্লাহ তো ঋতুবতী স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকতে বলেছেন : فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ (হায়িজ অবস্থায় স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকো। -সুরা আল-বাকারা, ২: ২২২)। এখানে দূরে থাকার অর্থ সহবাস থেকে দূরে থাকা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরেক স্ত্রী মাইমুনা (রা) বলেন, 'আমি হায়িজ অবস্থায় থাকলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে শুতেন। তাঁর ও আমার মাঝে কেবল একটি কাপড় থাকত।'

অনেক স্বামীই তাদের ঋতুবতী স্ত্রীদের দূরে ঢেলে দেয়। তাদের বিছানাও পৃথক করে দেয়। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের একদম বিপরীত। স্ত্রীদের জন্যও ক্ষতিকর। কেননা, তারা এ সময় নানান মানসিক অস্থিরতায় ভোগে-যা তাদের মন-মেজাজে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এমনিতেই ওই সময় তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তার ওপর যদি স্বামীও তাকে বিছানা থেকে দূরে ঠেলে দেয়, তবে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

টিকাঃ
১৪৩. সহিহুল বুখারি: ২৯৮, সহিহু মুসলিম: ২৯৬।
১৪৪. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৩/২০৭।
১৪৫. সহিহু মুসলিম: ২৯৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শেষ বিশ্বাস ত্যাগ করেছেন আয়িশা -এর কোলে

📄 শেষ বিশ্বাস ত্যাগ করেছেন আয়িশা -এর কোলে


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে মৃত্যুবরণ করেন। সেদিনটি আমার পালায় ছিল। যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি আমার বুকে ঠেস দিয়ে ছিলেন।'

টিকাঃ
১৪৬. সহিহুল বুখারি: ৩১০০, সহিহু মুসলিম ৪৪৭৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীর সাথে গোসল করতেন

📄 স্ত্রীর সাথে গোসল করতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'আমি ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। পাত্রটি আমার ও তাঁর মাঝে থাকত। কখনো তিনি আমার আগে পানি নিয়ে নিতেন। কখনো আমি তাঁর আগে পানি নিতাম। এমনকি তিনি বলতেন, "আমার জন্য রাখো।" আমিও তাকে বলতাম, "আমাকে নিতে দিন।"'

ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর স্ত্রী মাইমুনা (রা) একই বালতি থেকে পানি নিয়ে একসঙ্গে গোসল করতেন।'

উম্মে সালামা (রা) বলেন, 'আমি ও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই বালতি থেকে পানি নিয়ে একসঙ্গে ফরজ গোসল করতাম।'

আমাদের এ যুগের ভদ্রলোকেরা স্ত্রীর সাথে এক লেপের নিচে শোয় না। একসঙ্গে খায় না। মিরাসসূত্রেই তারা এই অভ্যাস পেয়ে থাকে।

টিকাঃ
১৪৭. সহিহুল বুখারি: ২৫০, সহিহু মুসলিম: ৩২১।
১৪৮. সহিহুল বুখারি: ২৫৩, সহিহু মুসলিম: ৩২২।
১৪৯. সহিহুল বুখারি: ৩২২, সহিহু মুসলিম: ৩২২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00