📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 পানপাত্রের যে স্থানে মুখ লাগিয়ে স্ত্রী পান করেছে, সেখানে মুখ দিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও পান করতেন

📄 পানপাত্রের যে স্থানে মুখ লাগিয়ে স্ত্রী পান করেছে, সেখানে মুখ দিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও পান করতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'ঋতুবতী অবস্থায়ও আমি পান করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিতাম। তিনি ঠিক সেই জায়গায় মুখ লাগিয়ে পান করতেন, যেখানে মুখ লাগিয়ে আমি পান করেছি। ঋতুবতী অবস্থায় আমি গোশতযুক্ত হাড় খেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিতাম। তিনি ঠিক সেই জায়গায় মুখ লাগাতেন, যেখানে মুখ লাগিয়ে আমি খেয়েছি।'

শব্দান্তরে হাদিসটি এভাবেও বর্ণিত হয়েছে, 'পানপাত্রের যে অংশে মুখ রেখে আমি পান করতাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও ঠিক সে অংশে মুখ রেখে পান করতেন। আমার পান করার উচ্ছিষ্ট পানিও তিনি পান করতেন। যদিও আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় থাকি।'

এটা আয়িশা (রা)-এর প্রতি তাঁর প্রগাঢ় ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এই ছোট্ট কাজটি কত বেশি প্রভাব ফেলে স্ত্রীর উর্বর হৃদয়ে। একজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীর মুখ দেওয়া জায়গায় মুখ রেখে হাড় চিবুচ্ছেন, স্ত্রীর জায়গায় মুখ রেখে পান করছেন; অথচ স্ত্রী তখন ঋতুবতী-নিঃসন্দেহে এটি পরম ভালোবাসার পরিচয়।

টিকাঃ
১৩৭. সহিহু মুসলিম: ৩০০।
১৩৮. সুনানুন নাসায়ি: ৩৮৭।
১৩৯. মিরকাতুল মাফাতিহ: ২/৪৮৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীর মাজা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজতেন

📄 স্ত্রীর মাজা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'আমার ওপর আল্লাহর অন্যতম মেহেরবানি হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরেই মৃত্যুবরণ করেন। সেদিনটি আমার পালায় ছিল। মৃত্যুর সময় তাঁর ও আমার মুখের লালা একত্রিত হয়েছিল। (সেদিন) আব্দুর রহমান (রা) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। তার হাতে ছিল একটি মিসওয়াক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার গায়ে হেলান দিয়ে ছিলেন। আমি দেখলাম, তিনি আব্দুর রহমানের (রা) হাতের মিসওয়াকের দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি জানতাম, তিনি মিসওয়াক করতে পছন্দ করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলাম, আমি কি মিসওয়াকটা নেব? মাথা নেড়ে তিনি সায় দিলেন। মিসওয়াক নিয়ে বললাম, "নরম করে দিই?" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারও মাথা নেড়ে সায় জানালেন। আমি দাঁত দিয়ে মিসওয়াকের আগা কেটে নিলাম, এরপর চিবিয়ে নরম করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিলাম। তিনি আমার বুকের ওপর ভর দেওয়া অবস্থায় মিসওয়াক করলেন।'

টিকাঃ
১৪০. সহিহুল বুখারি: ৪৪৩৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীর রানের ওপর মাথা রেখে ঘুমাতেন

📄 স্ত্রীর রানের ওপর মাথা রেখে ঘুমাতেন


'এক সফরে আয়িশা (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। ঘটনাক্রমে এক জায়গায় আয়িশা (রা)-এর হার হারিয়ে যায়। সাহাবিরা (রা) সবাই হার খুঁজতে লেগে গেলেন। হারের জন্য কাফেলাকে এমন জায়গায় দাঁড়াতে হলো, যেখানে পানি নেই। আবু বকর (রা) এসে আয়িশা (রা)-কে তিরস্কার করলেন (তার কারণে পুরো কাফেলা কষ্টে পড়ল)। আয়িশা (রা) বলেন, "আবু বকর (রা) আমাকে ভর্ৎসনা করলেন। তিনি আঙুল দিয়ে আমার কোমরে ধাক্কা দিতে লাগলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমার উরুর ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে ঘুমিয়ে থাকার কারণে আমি এতটুকুও নড়িনি।"'

আয়িশা (রা) আরও বলেন, 'আমি ঋতুবতী অবস্থায় থাকলেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে ঠেস দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।'

এটি স্ত্রীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরঙ্গ আচরণের অংশ।

এ হাদিস থেকে আমরা শিখলাম মহিলাদের হায়িজ হলেও তাদের প্রতি নাক সিটকানো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এমনটা ইহুদিরা করে থাকে। তারা ঋতুবতী মহিলার সাথে একত্রে খায় না; এমনকি একসঙ্গে বসেও না।

টিকাঃ
১৪১. সহিহুল বুখারি ৪৬০৭, সহিহু মুসলিম: ৫৫০।
১৪২. সহিহুল বুখারি: ৩৬৭২, সহিহু মুসলিম: ২৬৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ঋতুবতী স্ত্রীর সঙ্গে একই চাদরের নিচে শুতেন

📄 ঋতুবতী স্ত্রীর সঙ্গে একই চাদরের নিচে শুতেন


উম্মে সালামা (রা) বলেন, 'একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একই চাদরের নিচে শুয়েছিলাম আমি। হঠাৎ আমার হায়িজ শুরু হলে আমি চাদর থেকে সরে এসে হায়িজের কাপড় পরে নিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার কি হায়িজ হচ্ছে?” আমি বললাম, "হাঁ।” তারপর তিনি আমায় ডাকলে তাঁর সাথে একই চাদরে শুয়ে পড়লাম।'

এ হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে, স্ত্রী হায়িজ অবস্থায় থাকলেও তার সাথে একই চাদরে বা লেপের নিচে শোয়া জায়িজ।

এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে, আল্লাহ তো ঋতুবতী স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকতে বলেছেন : فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ (হায়িজ অবস্থায় স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকো। -সুরা আল-বাকারা, ২: ২২২)। এখানে দূরে থাকার অর্থ সহবাস থেকে দূরে থাকা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরেক স্ত্রী মাইমুনা (রা) বলেন, 'আমি হায়িজ অবস্থায় থাকলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে শুতেন। তাঁর ও আমার মাঝে কেবল একটি কাপড় থাকত।'

অনেক স্বামীই তাদের ঋতুবতী স্ত্রীদের দূরে ঢেলে দেয়। তাদের বিছানাও পৃথক করে দেয়। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের একদম বিপরীত। স্ত্রীদের জন্যও ক্ষতিকর। কেননা, তারা এ সময় নানান মানসিক অস্থিরতায় ভোগে-যা তাদের মন-মেজাজে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এমনিতেই ওই সময় তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তার ওপর যদি স্বামীও তাকে বিছানা থেকে দূরে ঠেলে দেয়, তবে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

টিকাঃ
১৪৩. সহিহুল বুখারি: ২৯৮, সহিহু মুসলিম: ২৯৬।
১৪৪. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৩/২০৭।
১৪৫. সহিহু মুসলিম: ২৯৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00