📄 নফল আমল
কখনো তিনি এত অধিক পরিমাণে নফল সাওম পালন করতে থাকতেন যে, সাহাবিরা বলাবলি করতেন, তিনি মনে হয় আর কোনো দিন সাওম ছাড়বেন না। আবার কখনো তিনি এত দীর্ঘ সময় ধরে নফল সাওম তরক করতেন যে, বলা হতো, তিনি মনে হয় আর নফল সাওম পালন করবেন না। রমাজান ব্যতীত কখনো পূর্ণ মাস রোজা রাখতেন না তিনি। অন্য মাসগুলোর তুলনায় শাবান মাসে বেশি রোজা রাখতেন। সর্বদা সোমবার ও বৃহস্পতিবারে নফল সাওম পালন করতেন।
টিকাঃ
৬৭. সহিহুল বুখারি: ১৬৬৯, সহিহু মুসলিম: ১১৫৬।
৬৮. সুনানুত তিরমিজি: ৭৪৫, সুনানুন নাসায়ি ২৩৬১, সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৭৩৯। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। হাদিসের মান: সহিহ।
📄 কুরআন তিলাওয়াত
তারতিলের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করতেন তিনি। বেশি জোরেও নয় আবার একেবারে ধীরেও নয়। বরং প্রতিটি অক্ষর স্পষ্ট করে পড়তেন। প্রতিটি আয়াত পৃথক পৃথক করে তিলাওয়াত করতেন। মাদের হরফ টেনে পড়তেন। اَلرَّحْمٰن আর-রাহমান টান দিয়ে পড়তেন। الرَّحِيمِ আর-রাহীম টান দিয়ে পড়তেন। তিলাওয়াত শুরুর আগে তিনি أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْتِهِ পাঠ করতেন। তাঁর নির্দিষ্ট একটি হিজব ছিল। যা তিনি নিয়মিত তিলাওয়াত করতেন।
দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে, অজু অবস্থায় এমনকি অজু না থাকা অবস্থায়ও তিনি কুরআন তিলাওয়াত করতেন। কেবল গোসল ফরজ হলেই কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকতেন।
টিকাঃ
৬৯. সহিহুল বুখারি: ৫০৪৬।
৭০. সুনানু আবি দাউদ: ৭৭৫, সুনানুত তিরমিজি: ২৪২, সুনানুন নাসায়ি ৮৯৯। আবু সাইদ আল-খুদরি (রা)। হাদিসের মান: সহিহ।
৭১. হিজব মানে কুরআনের নির্দিষ্ট একটি পরিমাণ, যা প্রতিদিন তিলাওয়াত করা হয়।
৭২. জাদুল মাআদ: ১/৪৮২।
📄 আল্লাহর জিকিরে তিনি আদর্শ
সৃষ্টিজগতের মধ্যে তিনিই পূর্ণাঙ্গ জিকিরকারী ছিলেন। সর্বদা তিনি আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকতেন। বসে, দাঁড়িয়ে, হাঁটতে হাঁটতে, আরোহী অবস্থায়, ভ্রমণকালে, যাত্রাবিরতিতে-এককথায় তাঁর কোনো সময়ই জিকির ছাড়া কাটত না।
📄 সালাত, সাওম ও বিবাহে রাসূল ﷺ-এর অনুসরণের আহ্বান
আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদত সম্পর্কে জানতে তিনজন সাহাবি তাঁর স্ত্রীগণের ঘরে এলেন। তাদের যখন এ বিষয়ে জানানো হলো, তারা এটিকে কেমন যেন কম মনে করলেন। তারা বললেন, “কোথায় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোথায় আমরা! তাঁর তো পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।”
তাদের একজন বললেন, "আমি এখন থেকে নিয়মিত সারা রাত নামাজ পড়ব।" আরেকজন বললেন, "আমি এখন থেকে টানা রোজা রাখব, কখনো রোজা ছাড়ব না।” তৃতীয় জন বললেন, "আমি নারী থেকে দূরে থাকব। কখনো বিবাহ করব না।"
তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এলেন। তাদের বললেন, "তোমরাই কি এমন এমন কথা বলেছিলে? আরে তোমাদের চেয়ে তো আমিই আল্লাহকে বেশি ভয় করি। তোমাদের তুলনায় আমি অনেক বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি। কিন্তু তবুও আমি কখনো রোজা রাখি, কখনো ছাড়ি। কখনো নামাজ পড়ি, কখনো বিশ্রাম নিই। নারীদের বিবাহও করি। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।"'
ইবনে হাজার (রহ) এর ব্যাখ্যায় বলেন, 'যে আমার (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) পথ পরিত্যাগ করে অন্যের পথ অবলম্বন করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ উদার ও ভারসাম্যপূর্ণ। তিনি সাওম না রেখে শক্তি সঞ্চয় করতেন, যেন পরে সাওম পালন করতে সক্ষম হন। তিনি ঘুমোতেন, যেন কিয়ামুল লাইল আদায় করতে সক্ষম হন। কামনা দমন, আত্মার পরিশুদ্ধি এবং বংশবৃদ্ধির জন্য তিনি বিয়ে করতেন।
এই হাদিস থেকে আমরা দুটি শিক্ষা পাই। প্রথমটি হলো, বড়দের অনুসরণ করার আগে তাঁদের অবস্থান যাচাই করা উচিত। আর অপরটি হলো, কেউ যদি কোনো নেক কাজের প্রতিজ্ঞা করে, তবে রিয়ার আশঙ্কা না থাকলে প্রয়োজনে তা প্রকাশ করা যায়।
টিকাঃ
৭৩. সহিহুল বুখারি: ৫০৬৩, সহিহু মুসলিম: ১৪০১।
৭৪. ফাতহুল বারি: ৯/১০৬।