📄 আল্লাহর ওয়াদার ওপর অবিচলতায় তিনি আদর্শ
ইসহাক (রহ) বর্ণনা করেন, বারা (রা)-কে জনৈক ব্যক্তি বলে, 'হে আবু আম্মারাহ, আপনারা হুনাইনের দিন পলায়ন করেছিলেন!' বারা (রা) উত্তর দেন, 'না। আল্লাহর শপথ, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পলায়ন করেননি। বরং প্রথম সারির লোকেরা পলায়ন করেছিল। হাওয়াজিনের তিরসমূহ পাকড়াও করেছিল তাদের। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর সাদা খচ্চরের ওপরে ছিলেন, যার লাগাম ছিল আবু সুফইয়ান বিন হারিস (রা)-এর হাতে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবৃত্তি করছিলেন:
أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبُ، أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ
"নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান আমি।"'
টিকাঃ
৬২. সহিহুল বুখারি: ২৮৬৪, সহিহু মুসলিম: ১৭৭৬।
📄 সবর ও ক্ষমায় তিনি আদর্শ
তাওরাতে তাঁর বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, 'তিনি রূঢ় নন-কঠোর নন। তিনি বাজারে বাজারে উচ্চস্বরে হইচইকারী নন। তিনি মন্দকে মন্দ দিয়ে প্রতিহত করেন না। বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন।'
টিকাঃ
৬৩. সহিহুল বুখারি: ২১২৫। আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা) থেকে বর্ণিত।
📄 তাওবা ও ইসতিগফারে আদর্শ তিনি
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহর শপথ, আমি দিনে সত্তরবারেরও অধিক তাওবা করে থাকি।"'
টিকাঃ
৬৪. সহিহুল বুখারি: ৬৩০৭।
📄 ইবাদতে তিনি আদর্শ
আয়িশা (রা) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত জেগে এত বেশি নামাজ পড়তেন যে তাঁর পা ফুলে যেত।' আয়িশা (রা) তাঁকে বলতেন, 'আপনি কেন এমন করেন হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? আপনার তো আগে-পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।' তিনি বলতেন, 'আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হতে চাইব না!'
উবাইদ বিন উমাইর (রহ) হতে বর্ণিত আছে, একবার তিনি আয়িশা (রা)-কে বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন বিষয়টি আপনার সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য লেগেছে?' এই প্রশ্ন শুনে তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তারপর বলেন, 'এক রাতে তিনি আমাকে বললেন, "হে আয়িশা, আমাকে ছাড়ো। এ রাতে আমি আল্লাহর ইবাদত করব।” আমি বললাম, "আল্লাহর শপথ, আমি আপনার নৈকট্য ভালোবাসি এবং ওই জিনিসকেও ভালোবাসি, যা আপনাকে আনন্দিত করে।” তারপর তিনি উঠে পবিত্র হয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। নামাজে তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাঁর চিবুক ভিজে গেল। তিনি কাঁদতে থাকলেন। একসময় তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। তিনি আরও কাঁদতে লাগলেন। এমনকি একসময় মাটি পর্যন্ত ভিজে গেল। তারপর বিলাল (রা) ফজরের আজান দিতে এলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাঁদতে দেখে বিলাল (রা) বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি কাঁদছেন কেন? আপনার তো আগে-পরের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।” তিনি বললেন, "আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হব না? আজ রাতে আমার ওপর একটি আয়াত নাজিল হয়েছে, যে এ আয়াত তিলাওয়াত করল, কিন্তু এর মর্ম নিয়ে চিন্তা করল না, তার জন্য ধ্বংস।
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ
"নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য। (সুরা আলি ইমরান : ১৯০)"'
রমাজান এলে তাঁর নিয়ম ছিল ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া। এই মাসে তিনি অধিক পরিমাণে সাদাকা করতেন। অধিক তিলাওয়াত, সালাত, জিকির ও ইতিকাফ করতেন।
টিকাঃ
৬৫. সহিহুল বুখারি: ৪৮৩৭, সহিহু মুসলিম: ২৮২০।
৬৬. সহিহু ইবনি হিব্বান ৬২০। হাদিসের মান: হাসান।