📄 ক্ষমা ও সহিষ্ণুতায় তিনি আদর্শ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نُفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ
'আল্লাহর দয়ায় তুমি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছিলে। যদি তুমি রূঢ় ও কঠিনচিত্ত হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ হতে সরে পড়ত।'
আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যাচ্ছিলাম। তখন তাঁর গায়ে মোটা পাড়ের একটি নাজরানিং চাদর ছিল। এক বেদুইন তাঁর কাছে এসে চাদর ধরে হেঁচকা টান দেয়। আমি দেখি, এই প্রচণ্ড টানের ফলে তাঁর কাঁধ ও ঘাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে চাদরের পাড়ের দাগ বসে যায়। তারপর সে বলে, "তোমার কাছে আল্লাহর যে সম্পদ আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দিতে বলো।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে হাসেন এবং তাকে কিছু দেওয়ার আদেশ দেন।'
টিকাঃ
৩২. সুরা আলি-ইমরান, ৩: ১৫৯।
৩৩. 'নাজরান' সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ইয়ামানের সীমান্তবর্তী একটি প্রদেশ।- অনুবাদক।
৩৪. সহিহুল বুখারি: ৩১৪৯, সহিহু মুসলিম: ১০৫৭।
📄 হায়া ও লজ্জায় তিনি আদর্শ
আবু সাইদ খুদরি (রা) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তঃপুরের কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। কোনো অপছন্দনীয় জিনিস তাঁর চোখে পড়লে ব্যাপারটি আমরা তাঁর চেহারা দেখেই বুঝতে পারতাম।'
টিকাঃ
৩৫. অর্থাৎ অপছন্দনীয় জিনিস দেখলে অত্যধিক হায়া ও শরমের কারণে তিনি মুখে বলতেন না। বরং তাঁর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে যেত। এতেই আমরা তাঁর অপছন্দের বিষয়টি বুঝতে পারতাম। (আল-মিনহাজ শারহু সহিহি মুসলিম ইবনি হাজ্জাজ)- অনুবাদক।
৩৬. সহিহুল বুখারি: ৬১০২, সহিহু মুসলিম: ২৩২০।
📄 দয়া ও স্নেহে তিনি আদর্শ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ
'আমি তো তোমাকে বিশ্বজগতের প্রতি কেবল রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।'
আবু জার (রা) বলেন, 'একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাত আদায় করেন। একটি আয়াত পড়ে পড়ে সুদীর্ঘ রুকু এবং সিজদা করেন। এভাবে সকাল হয়ে যায়। আয়াতটি হলো-
إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
"আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা। আর যদি তাদের ক্ষমা করেন, তবে আপনি তো পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।”
সকাল হলে আমি তাকে বলি, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি তো এই আয়াত পড়ে পড়ে রুকু ও সিজদা করে সকাল করে ফেললেন! তিনি বলেন:
إِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي الشَّفَاعَةَ لِأُمَّتِي، وَهِيَ نَائِلَةٌ لِمَنْ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا
"আমার উম্মতের জন্য আমার রবের কাছে আমি শাফাআত প্রার্থনা করেছি। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে এই শাফাআতের অধিকারী হবে।”'
মালিক বিন হুওয়াইরিস (রা) বলেন, 'একবার আমার গোত্রের একদল লোকের সঙ্গে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসি। আমরা বিশ রাত তাঁর সাহচর্যে থাকি। তিনি খুবই দয়ালু ও বন্ধুবৎসল ছিলেন। আমাদের মধ্যে তিনি যখন পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ দেখেন, তখন তিনি বলেন:
ارْجِعُوا فَكُونُوا فِيهِمْ، وَعَلِّمُوهُمْ، وَصَلُّوا، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنُ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤْمُكُمْ أَكْبَرُكُمْ
"তোমরা পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও। তাদের দ্বীন শেখাও। সালাত আদায় কোরো। যখন সালাতের ওয়াক্ত হবে একজন আজান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়সে যে বড় সে ইমামতি করবে।"
টিকাঃ
৩৭. সুরা আল-আম্বিয়া, ২১: ১০৭।
৩৮. সুরা আল-মায়িদা, ৫: ১১৮।
৩৯. মুসনাদু আহমাদ: ২০৮২১। শাইখ শুআইব আরনাউত (রহ) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
৪০. যখন অন্য সব বৈশিষ্ট্যে সবাই সমান হবে, তখন যে বড় সে-ই ইমাম হবে। ওই দলের সবাই যেহেতু অন্যান্য বৈশিষ্ট্যে সমান, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বয়সের কথা বলেছেন। কারণ, তাঁরা একসঙ্গে হিজরত করেছে, ইসলাম গ্রহণ করেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্য লাভ করেছে এবং বিশ রাত তাঁর সাহচর্যে কাটিয়েছে। সুতরাং তাঁর থেকে ইলম অর্জনে সবাই সমান। এখন বয়স ব্যতীত প্রাধান্য দেওয়ার উপযোগী আর কোনো বৈশিষ্ট্য রইল না।- অনুবাদক।
৪১. সহিহুল বুখারি: ৬২৮, সহিহু মুসলিম ৬৭৪।
📄 বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তিনি আদর্শ
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো সহধর্মিণীর প্রতি আমি অতটা ঈর্ষা বোধ করিনি, যতটা খাদিজার (রা) প্রতি করেছি; অথচ তাঁকে আমি দেখিনি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা প্রায়শ বলতেন। কখনো বকরি জবাই করে বিভিন্ন অংশে ভাগ করতেন। তারপর খাদিজার (রা) বান্ধবীদের কাছে পাঠাতেন। আমি প্রায়ই বলতাম, দুনিয়াতে খাদিজা (রা) ছাড়া আর কোনো মেয়ে নেই বুঝি!
তিনি খাদিজার (রা) প্রশংসা করে বলতেন:
إِنَّهَا كَانَتْ، وَكَانَتْ، وَكَانَ لِي مِنْهَا وَلَدٌ
"ও এমন ছিল... এমন ছিল... ওর গর্ভেই আমার সন্তান হয়েছে।"
টিকাঃ
৪২. সহিহুল বুখারি: ৩৮১৮, সহিহু মুসলিম: ২৪৩৫।