📄 ৭৩. অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা
ঈমানের শাখা-৭৩. অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَشِعُوْنَ . وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ .
অর্থ: মু'মিনরা তো সফল হয়ে গেছে। তারা নামাযে বিনয়ী এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করে চলে। (সূরা আল মু'মিনুন-আয়াত: ১,২,৩) অন্যত্র বলা হয়েছে-
وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا.
অর্থ: আর তারা মিথ্যার সাক্ষী হয় না। কোনো অর্থহীন বিষয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলে ভদ্র মানুষের মতোই অতিক্রম করে। (সূরা আল ফুরকান-আয়াত: ৭২)
وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ.
অর্থ: তারা যদি অর্থহীন কিছু শুনতে পায়, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (সূরা আল কাসাস-আয়াত: ৫৫)
আলী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
مِنْ حُسْنِ اِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَالَا يَعْنِيْهِ.
অর্থ: ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে একজন মু'মিন অপ্রয়োজনীয় বিষয় পরিত্যাগ করবে।
📄 ৭৪. বদান্যতা ও দানশীলতার গুণ অবলম্বন করা
ঈমানের শাখা-৭৪. বদান্যতা ও দানশীলতা আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَ سَارِعُوا إِلى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتُ لِلْمُتَّقِينَ الَّذِينَ يُنْفِقُوْنَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ.
অর্থ : তোমরা আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে দ্রুতগতিতে চল, যার বিস্তৃতি আসমান জমিনের সমান। যা মূলত মুত্তাকীদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। যারা সচ্ছল বা অসচ্ছল উভয় অবস্থাতেই নিজেদের সম্পদ খরচ করে। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত: ১৩৩, ১৩৪)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে-
الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُوْنَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَ يَكْتُمُونَ مَا آتْهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَفِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا.
অর্থ : তাদেরকেও আল্লাহ পছন্দ করেন না যারা নিজেরা কৃপণতা করে এবং অন্যদেরও কার্পণ্য করতে নির্দেশ দেয়। আর আল্লাহ নিজ দয়ায় যা দান করেছেন তা লুকিয়ে রাখে। এরূপ অকৃতজ্ঞ লোকদের জন্য আমি অপমানজনক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি। (সূরা আন নিসা-আয়াত: ৩৭)
وَمَنْ يَبْخَلُ فَإِنَّمَا يَبْخَلُ عَنْ نَّفْسِهِ.
অর্থ : যে কৃপণতা করে সে প্রকৃতপক্ষে নিজের সাথেই কৃপণতা করে। (সূরা মুহাম্মদ-আয়াত ৩৮)
সূরা আল হাশর-এ বলা হয়েছে-
وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ .
অর্থ: যাদের অন্তর সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তারাই প্রকৃতপক্ষে সফল। (সূরা হাশর-আয়াত: ৯; সূরা আত তাগাবুন-আয়াত: ১৬)
আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيْهِ إِلَّا مَلَكَانِ يَنْزِلَانِ فَيَقُوْلُ أَحَدُهُمَا اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا وَيَقُوْلُ الْآخَرُ اللَّهُمَّ أَعْطِ মُمْسِكًا تَلَفًا.
অর্থ: প্রতিদিন দু'জন ফেরেশতা অবতীর্ণ হন। তাদের একজন বলতে থাকেন-'হে আল্লাহ যিনি অন্যকে দান করেন আপনিও তাকে দান করুন। আর যে কৃপণতা করে আপনি তাকে দান করা থেকে বিরত থাকুন'। (সহীহ বুখারী হাদীস-১৪৪২)
📄 ৭৫. ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করা
ঈমানের শাখা-৭৫. ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করা রাদিয়াল্লাহ জারির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ আনহু আলাইহি বলেছেন-
مَنْ لَا يَرْحَمُ النَّاسَ لَا يَرْحَمُهُ اللَّهُ تَعَالَى .
অর্থ: যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র নয় আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না। (সহীহ বুখারী; সহীহ মুসলিম)
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম আনহু বলেছেন- রাদিয়াল্লাহ
جَعَلَ اللَّهُ الرَّحْمَةَ مِائَةَ جُزْءٍ فَأَمْسَكَ عِنْدَهُ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ جُزْءًا وَأَنْزَلَ فِي الْأَرْضِ جُزْءًا وَاحِدًا فَمِنْ ذَلِكَ الْجُزْءِ يَتَرَاحَمُ الْخَلْقُ حَتَّى تَرْفَعَ الْفَرَسُ حَافِرَهَا عَنْ وَلَدِهَا خَشْيَةَ أَنْ تُصِيبَهُ.
অর্থ: 'আল্লাহ তা'আলা দয়াকে একশ ভাগে ভাগ করে নিরানব্বই ভাগ নিজের জন্য রেখে এক ভাগ গোটা সৃষ্টি জগতের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। সেটুকু দয়ার কারণে সৃষ্টি জগত একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করে এমনকি ঘোড়া সতর্কতার সাথে তার পা রাখে যেন নবজাতক বাচ্চার উপরে গিয়ে তা না পড়ে। (সহীহ বুখারী হাদীস-৬০০০; সহীহ মুসলিম) রাদিয়াল্লাহ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম বলেছেন- আনহু
مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا وَلَمْ يَعْرِفُ حَقَّ كَبِيرَنَا فَلَيْسَ مِنَّا.
অর্থ: আমাদের মধ্যে যারা ছোট তাদের প্রতি যে দয়া করে না এবং আমাদের মধ্যে যারা বড় তাদেরকে যথাযথ সম্মান করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (সহীহ মুসলিম; সুনানে আবু দাউদ)
অন্য হাদীসে ইমামত সম্পর্কে বলা হয়েছে-
'তোমাদের মধ্যে যে বেশি বয়স্ক সেই ইমাম হবে।'
📄 ৭৬. নিজের যা পছন্দ অপরের জন্য তাই পছন্দ করা
ঈমানের শাখা-৭৬. নিজের যা পছন্দ অপরের জন্য তাই পছন্দ করা
নিজের জন্য যা পছন্দ অপরের জন্য তাই পছন্দ করা এবং যে জিনিস নিজের অপছন্দ অপরের জন্য তা অপছন্দ করা, এমনকি কারও যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য কষ্টদায়ক কোনো বস্তু রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়াও ঈমানের অন্যতম অংশ।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন-
الْإِيْمَانُ بِضُعٌ وَسَبْعُوْنَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ.
অর্থ: ঈমানের ষাটটি কিংবা সত্তরটি শাখা রয়েছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হচ্ছে 'আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই'- এ কথার স্বীকৃতি দেয়া আর সর্বনিম্ন স্তরের শাখা হচ্ছে-রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। লজ্জাও ঈমানের অংশ। (সহীহ বুখারী; সহীহ মুসলিম, হাদীস-১৬২)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন-
لَا يُؤْمِنُ أَحَدَكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ.
অর্থ: তোমরা ততক্ষণ মু'মিন হতে পারবে না যতক্ষণ তোমার জন্য যা পছন্দ করো তোমার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ না করবে। (সহীহ বুখারী)
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন- بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ لا عَلَى إِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ .
অর্থ : আমরা নামায প্রতিষ্ঠা করবো, যাকাত আদায় করবো এবং প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করবো এই শর্তে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করেছি। (সহীহ বুখারী হাদীস-২৭১৫; সহীহ মুসলিম)
ভালোবাসো যাহা তোমার জন্য তাহা অপরের জন্য মন্দ যাহা তোমার নিকটে তাহা অপরের জন্য।