📄 ৭১. দুনিয়ার মোহমুক্তি (যুহুদ) ও পরিমিত আশা
ঈমানের শাখা-৭১. দুনিয়ার মোহমুক্তি (যুহুদ) ও পরিমিত আশা দুনিয়ার নশ্বরতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
ফَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا. অর্থ: এরা কি শুধু কিয়ামতের অপেক্ষায় রয়েছে যে, সহসা তা তাদের উপর এসে পড়বে? তার নিদর্শন তো এসেই পড়েছে। (সূরা মুহাম্মদ-১৮)
আনাস ইবনে মালিক এবং সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ وَأَشَارَ بِأَصْبُعَيْهِ السَّبَابَةِ الْوُسْطَى .
অর্থ: আমি এবং কিয়ামত এরূপ দূরত্বে, একথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দুটো একত্রিত করে দেখালেন। (সহীহ আল বুখারী; মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ আরও বলেছেন-
نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ. অর্থ: আল্লাহ প্রদত্ত দুটো নিয়ামাত অধিকাংশ মানুষকেই বিভ্রান্ত করে ছাড়ে। একটি সুস্বাস্থ বা সুস্থতা অপরটি অবকাশ। (সহীহ বুখারী; জামি আত তিরমিযী; নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত। নবী করীম বলেছেন-
إِنَّ الدُّنْيَا حُلُوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ .
অর্থ: 'নিঃসন্দেহে দুনিয়া খুবই আকর্ষণীয় ও সবুজ শ্যামল। আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিনিধি বানিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন। তিনি দেখতে চান তোমরা কী করো। কাজেই তোমরা দুনিয়া এবং নারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। বনী ইসরাঈলের বিপর্যয় শুরুই হয়েছিল নারী দিয়ে। (মুসলিম-৭১২৪)
📄 ৭২. আত্মসম্মানবোধ থাকা
ঈমানের শাখা-৭২. আত্মসম্মানবোধ
আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَ قُوْدُهَا النَّاسُ وَ الْحِجَارَةُ .
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! নিজে বাঁচো এবং অধীনস্থদের বাঁচাও সেই আগুন থেকে যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। (সূরা আত তাহরীম-আয়াত: ৬)
সূরা আন নূরে বলা হয়েছে-
قُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ .
অর্থ: হে নবী! আপনি মু'মিন মহিলাদের বলে দিন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। (সূরা আন নূর-আয়াত: ৩১)
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَغَارُ وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ يَغَارُ وَغَيْرَةَ اللَّهِ أَنْ يَأْتِي الْمُؤْمِنُ مَا حَرَّمَ عَزَّ وَ جَلَّ عَلَيْهِ.
অর্থ: আল্লাহরও আত্মসম্মানবোধ আছে এবং মু'মিনেরও আত্মসম্মানবোধ রয়েছে। আল্লাহর আত্মসম্মানে তখনই বাধে যখন একজন মু'মিন এমন কাজে লিপ্ত হয় যা তিনি হারাম করেছেন। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
উম্মু সালামা থেকে বর্ণিত আরেক হাদীসে বলা হয়েছে-
كَانَ عِنْدَهَا وَرَسُولُ اللهِ لا فِي الْبَيْتِ فَقَالَ لِأَخِي أُمِّ سَلَمَةَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أُمَيَّةَ إِنْ فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ الطَّائِفَ غَدًا فَإِنِّي أَدُلُّكَ عَلَى بِنْتِ غَيْلَانَ
فَإِنَّهَا تُقْبِلُ بِأَرْبَعٍ وَتُدْبِرُ بِثَمَانٍ . قَالَ فَسَمِعَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ « لَا يَدْخُلُ هَؤُلَاءِ عَلَيْكُمْ .
অর্থ: রাসূলুল্লাহ বাড়িতে থাকা অবস্থায় একদিন এক নুপংসুক (হিজড়া) বাড়িতে এসেছিল (নপুংসক বিধায় সে অন্দর মহলেও প্রবেশ করতো)। সে উম্মু সালামা -এর ভাই আব্দুল্লাহকে বললো, আগামীকাল যদি তায়েফ বিজয় হয় তাহলে তুমি গায়লানের কন্যাকে আয়ত্তে নেবে। তার এমন অবস্থা যে পেটে চারটি ভাঁজ পড়ে। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ পরিবারকে বলে দিলেন, তোমরা আর কখনও তাকে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতে দেবে না। (সহীহ আল বুখারী; সহীহ মুসলিম-৫৮১৯)
আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
الْغِيْرَةُ مِنَ الْإِيْمَانِ وَإِنَّ الْمِذَاءَ مِنَ النِّفَاقِ.
অর্থ: আত্মসম্মানবোধ সৃষ্টি হয় ঈমান থেকে আর লৌকিকতা সৃষ্টি হয় মুনাফিকী থেকে। (বায়হাকী)
📄 ৭৩. অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা
ঈমানের শাখা-৭৩. অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَشِعُوْنَ . وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ .
অর্থ: মু'মিনরা তো সফল হয়ে গেছে। তারা নামাযে বিনয়ী এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করে চলে। (সূরা আল মু'মিনুন-আয়াত: ১,২,৩) অন্যত্র বলা হয়েছে-
وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا.
অর্থ: আর তারা মিথ্যার সাক্ষী হয় না। কোনো অর্থহীন বিষয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলে ভদ্র মানুষের মতোই অতিক্রম করে। (সূরা আল ফুরকান-আয়াত: ৭২)
وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ.
অর্থ: তারা যদি অর্থহীন কিছু শুনতে পায়, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (সূরা আল কাসাস-আয়াত: ৫৫)
আলী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
مِنْ حُسْنِ اِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَالَا يَعْنِيْهِ.
অর্থ: ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে একজন মু'মিন অপ্রয়োজনীয় বিষয় পরিত্যাগ করবে।
📄 ৭৪. বদান্যতা ও দানশীলতার গুণ অবলম্বন করা
ঈমানের শাখা-৭৪. বদান্যতা ও দানশীলতা আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَ سَارِعُوا إِلى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتُ لِلْمُتَّقِينَ الَّذِينَ يُنْفِقُوْنَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ.
অর্থ : তোমরা আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে দ্রুতগতিতে চল, যার বিস্তৃতি আসমান জমিনের সমান। যা মূলত মুত্তাকীদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। যারা সচ্ছল বা অসচ্ছল উভয় অবস্থাতেই নিজেদের সম্পদ খরচ করে। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত: ১৩৩, ১৩৪)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে-
الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُوْنَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَ يَكْتُمُونَ مَا آتْهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَفِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا.
অর্থ : তাদেরকেও আল্লাহ পছন্দ করেন না যারা নিজেরা কৃপণতা করে এবং অন্যদেরও কার্পণ্য করতে নির্দেশ দেয়। আর আল্লাহ নিজ দয়ায় যা দান করেছেন তা লুকিয়ে রাখে। এরূপ অকৃতজ্ঞ লোকদের জন্য আমি অপমানজনক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি। (সূরা আন নিসা-আয়াত: ৩৭)
وَمَنْ يَبْخَلُ فَإِنَّمَا يَبْخَلُ عَنْ نَّفْسِهِ.
অর্থ : যে কৃপণতা করে সে প্রকৃতপক্ষে নিজের সাথেই কৃপণতা করে। (সূরা মুহাম্মদ-আয়াত ৩৮)
সূরা আল হাশর-এ বলা হয়েছে-
وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ .
অর্থ: যাদের অন্তর সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তারাই প্রকৃতপক্ষে সফল। (সূরা হাশর-আয়াত: ৯; সূরা আত তাগাবুন-আয়াত: ১৬)
আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيْهِ إِلَّا مَلَكَانِ يَنْزِلَانِ فَيَقُوْلُ أَحَدُهُمَا اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا وَيَقُوْلُ الْآخَرُ اللَّهُمَّ أَعْطِ মُمْسِكًا تَلَفًا.
অর্থ: প্রতিদিন দু'জন ফেরেশতা অবতীর্ণ হন। তাদের একজন বলতে থাকেন-'হে আল্লাহ যিনি অন্যকে দান করেন আপনিও তাকে দান করুন। আর যে কৃপণতা করে আপনি তাকে দান করা থেকে বিরত থাকুন'। (সহীহ বুখারী হাদীস-১৪৪২)