📄 ৬৫. হাঁচিদাতার হাঁচির জবাব দেয়া
ঈমানের শাখা-৬৫. হাঁচিদাতার হাঁচির জবাব দেয়া
আবু মূসা আশআরী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَحَمِدَ اللهَ فَشَمِّتُوهُ فَإِنْ لَمْ يَحْمَدِ اللهَ فَلَا تُشَمِّتُوهُ
অর্থ: তোমাদের কেউ হাঁচি দিয়ে 'আলহামদু লিল্লাহ' বললে তার জবাবে তোমরা 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলবে আর যদি সে 'আলহামদু লিল্লাহ' না বলে তাহলে তোমরাও 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলবে না। (সহীহ মুসলিম-৭৬৭৯)
📄 ৬৬. কাফির মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব না রাখা
ঈমানের ৭৭টি শাখা
১৩. কাফির মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব না রাখা
ঈমানেকিদের সাথে বন্ধুত্ব না করাটাও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ এলেছেন-
لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَفِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ. ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوْا مِنْهُمْ تُقْبَةً.
অর্থ: মু'মিনগণ যেন ঈমানদারদের পরিবর্তে কাফিরদেরকে নিজেদের বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষকরূপে গ্রহণ না করে। যে এরূপ করবে তার সাথে আল্লাহর কোনও সম্পর্ক থাকবে না। অবশ্য তাদের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য এরূপ করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত: ২৮)
অন্য জায়গায় কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখা তো দূরের কথা তাদের সাথে সংগ্রাম চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে-
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنْفِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ.
অর্থ: হে নবী! কাফির এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যান আর তাদের সম্পর্কে কঠোর নীতি অবলম্বন করুন। (সূরা আত তাওবা-আস
আরও বলা হয়েছে-
نُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُوْنَكُمْ مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ
অর্থ: হে ঈমানদার লোকেরা! লড়াই করো সে যারা তোমাদের কাছাকাছি রয়েছে। তারা যেন কঠোরতা দেখতে পায়। (সূরা আত তাওবা-আয়া
সূরা আল মুমতাহিনা-এ বলা হয়েছে- لذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُوْنَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُوا بِمَا جَاءَكُمْ مِّنَ الْحَقِّ يُخْرِجُونَ الرَّسُولَ وَ إِيَّاكُمْ أَنْ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ رَبِّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَادًا فِي سَبِيْنِي وَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِي
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আমার পথে সংগ্রাম করার জন্য এবং আমার সন্তোষ লাভের আশায় বের হয়ে থাকো তাহলে আমার ও তোমাদের যারা শত্রু তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো কিন্তু যে সত্য তোমাদের কাছে এসেছে তা মেনে নিতে তারা অস্বীকার করেছে। রাসূল ও তোমাদের নির্বাসিত করার যে আচরণ তারা শুরু করেছে তা এজন্য যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপর ঈমান এনেছো। (সূরা আল মুমতাহিনা-আয়াত: ১)
এতো গেল দূর সম্পর্কীয় কাফিরদের কথা। এবার বলা হয়েছে যাদের সাথে রক্তের বন্ধন রয়েছে তারাও যদি কুফরী করে, তাদের সাথে বন্ধুত্বসূলভ সম্পর্ক না রাখার জন্য। ইরশাদ হচ্ছে- يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا أَبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّو الْكُفْرَ عَلَى الْإِيْمَانِ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّلِمُونَ.
: হে ঈমানদাররা! নিজের পিতা এবং ভাইও যদি ঈমানের চেয়ে কে বেশি ভালোবাসে তাদেরকেও বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। যে ব্যক্তি নর লোকদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে সে যালিম হিসেবে গণ্য (রা: আত তাওবা-আয়াত: ২৩)
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
إِذَا لَقِيتُمُ الْمُشْرِكِينَ فِي الطَّرِيقِ فَلَا تَبْدَءُوهُمْ بِالسَّلَامِ وَاضْطَرُّوهُمْ إِلَى أَضْيَقِهَا.
অর্থ: তোমরা যদি রাস্তায় চলার সময় কোনো মুশরিককে দেখ তাহলে প্রথমে তাদের সালাম দেবে না। বরং তাদেরকে রাস্তার এক পাশ দিয়ে চলতে বাধ্য করবে। (সহীহ মুসলিম)
আবু সাঈদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
لَا يَأْكُلْ طَعَامَكَ إِلَّا تَقِيُّ وَلَا تُصَاحِبْ إِلَّا مُؤْمِنًا.
অর্থ: মুত্তাকী ছাড়া কেউ যেন তোমার খাদ্য না খায় এবং ঈমানদার ছাড়া কেউ যেন তোমার সাথী না হয়।
(হাফিয সুয়ূতী এ হাদীসটি জামিউস সগীর নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান এবং হাকিম নিজ নিজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।)
উল্লেখ্য যে অমুসলিমদের সাথে আন্তরিকভাবে বন্ধুত্ব রাখা যাবে না যদিও সে নিকট আত্মীয় হয়। তবে তাদের সাথে সদাচারণ করা যাবে বাহ্যিক সুসম্পর্কও রাখা যাবে যদি ঈমান না আনলেও সে ইসলাম তথা মুসলিমদের সাথে শত্রুতা করে না। ঘৃণাও করে না বরং সুযোগে সহযোগিতা করে।
📄 ৬৭. প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ
ঈমানের শাখা-৬৭. প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَ بِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَى وَ الْمَسْكِينِ وَ الْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ. অর্থ: পিতা মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো, নিকটাত্মীয়, ইয়াতিম ও মিসকিনদের প্রতি এবং প্রতিবেশী আত্মীয়ের প্রতি, আত্মীয়ের প্রতিবেশীর প্রতি, চলার সাথী ও পথিক-মুসাফিরদের প্রতি। (সূরা আন নিসা-আয়াত: ৩৬)
ইবনে আব্বাস (রাঃ), মুজাহিদ (র), কাতাদা (র), কালবী (র), মুকাতিল ইবনে হিব্বান (র) এবং মুকাতিল ইবনে সুলাইমান (র) প্রমুখ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন-
وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبي বলতে তোমার ও অন্যান্য প্রতিবেশীর মধ্যে যে বা যারা অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বে রয়েছে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে। আর-
وَالْجَارِ الْجُنُبِ বলতে অপেক্ষাকৃত দূরের প্রতিবেশী বা প্রতিবেশীর প্রতিবেশীকে বুঝানো হয়েছে।
وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ বলতে সফরসঙ্গী এবং বন্ধুকে বুঝানো হয়েছে।
আলী (রাঃ), আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এবং ইবরাহীম নাখঈ (র) বলেছেন-
وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ বলতে স্ত্রীকে বুঝানো হয়েছে। সাঈদ ইবনে যুবাইর (র)-এর অভিমতও অনুরূপ।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন- مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُؤْصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِثُهُ. অর্থ: জিবরাঈল এসে আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে এমন উপদেশ দিতে থাকলেন, ভাবলাম হয়তো তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ বানিয়ে দেবেন। [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
📄 ৬৮. অতিথি আপ্যায়ন বা মেহমানদারী করা
ঈমানের শাখা-৬৮. অতিথি আপ্যায়ন বা মেহমানদারী আলাইহি আবু শুরাইহ আল আদাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল আনহু যখন এ হাদীসটি বলেছেন তখন আমার দু'কান তা শুনেছে এবং দু'চোখ তা দেখেছে। তিনি বলেছেন-
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ قَالَ وَمَا جَائِزَتُهُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَالضَّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ عَلَيْهِ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمتُ .
অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে তার উচিত সাধ্যমত অতিথি আপ্যায়ন করা। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, সাধ্যমত কথার তাৎপর্য কী? তিনি বললেন, একদিন একরাত। মেহমানদারী সর্বোচ্চ তিন দিন। এর বেশি যদি কেউ করে সেটি তার বদান্যতা। তিনি আরও বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে তার উচিত ভালো কথা বলা অথবা চুপ থাকা। (সহীহ আল বুখারী হাদীস-৬০১৯; সহীহ মুসলিম)