📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৬০. সন্তান ও অধীনস্থদের অধিকার দেওয়া

📄 ৬০. সন্তান ও অধীনস্থদের অধিকার দেওয়া


ঈমানের শাখা-৬০. সন্তান ও অধীনস্থদের অধিকার দেওয়া
সন্তান ও পরিবার পরিজনের নেতা হচ্ছে পুরুষ ব্যক্তিটি। তার কর্তব্য হচ্ছে অধীনস্থদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা, দ্বীনি নির্দেশনা মোতাবিক তাদের পরিচালনা করা এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা।
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَ الْحِجَارَةُ.
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! নিজেকে ও পরিবার পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। (সূরা তাহরীম-আয়াত: ৬)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাসান বসরী (রহ) বলেছেন, কর্তা ব্যক্তিটির উচিত তাদেরকে আল্লাহর নির্দেশ মতো চলতে বলা এবং কল্যাণমূলক শিক্ষা দান করা। এটা কর্তার প্রতি তাদের নায্য অধিকার।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন- তাদেরকে ইলম ও আদব কায়দা শিক্ষা দেয়া।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ . وَضَمَّ أَصَابِعَهُ.
অর্থ: যে ব্যক্তি দুটো মেয়েকে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করলো সে আর আমি কিয়ামতের দিন এ রকম হবো। এ কথা বলে তিনি তাঁর আঙ্গুল মিলিয়ে দেখালেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস-৬৮৬৪)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৬১. দ্বীনি কারণে পরস্পর সম্পর্ক রক্ষা করা

📄 ৬১. দ্বীনি কারণে পরস্পর সম্পর্ক রক্ষা করা


ঈমানের শাখা-৬১. দ্বীনি কারণে পরস্পর সম্পর্ক বজায় রাখা ও সুদৃঢ় করা
দ্বীনি সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য পারস্পরিক মহব্বত, সালাম বিনিময়, মুসাফাহা ইত্যাদির প্রচলনের উপর জোর দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَ تُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا .
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমার বাড়ির মালিককে সালাম না দিয়ে এবং তার অনুমতি না নিয়ে কারও ঘরে প্রবেশ করো না। (আন নূর-আয়াত: ২৭)
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لا تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ.
অর্থ: যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত মু'মিন না হও। আবার (সত্যিকার) মু'মিনও হতে পারবে না যতক্ষণ একে অপরকে ভালো না বাসবে। আমি কি তোমাদেরকে বলবো না, কোন জিনিস তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবে? তা হচ্ছে একে অপরকে সালাম দেয়ার প্রচলন করা। (সহীহ মুসলিম হাদীস-২০৩)
সহীহ আল বুখারীতে বলা হয়েছে, একবার কাতাদা আনাস-কে রাদিয়াল্লাহ আনহু জিজ্ঞেস করলেন- كَانَتِ الْمُصَافَحَةُ فِي أَصْحَابِ النَّبِيِّ اللَّهِ فَقَالَ نَعَمْ .
অর্থ : নবী করীম ﷺ-এর সাহাবাগণ কি পরস্পর মুসাফাহা করতেন? তিনি বললেন- হ্যাঁ, করতেন। (সহীহ মুসলিম)
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ بِجَلالِي الْيَوْمَ أَظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ الأَظلَّي .
অর্থ : মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন, আমার জন্য যারা অপরকে ভালবাসতো তারা কোথায়? আমি তাদেরকে আমার আরশের ছায়ায় স্থান দেবো। আমার ছায়া ব্যতীত আজ আর কোনো ছায়া নেই। (সহীহ মুসলিম হাদীস-৬৭১৩)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৬২. সালামের জবাব দেয়া

📄 ৬২. সালামের জবাব দেয়া


ঈমানের শাখা-৬২. সালামের জবাব দেয়া আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَإِذَا حُيِّيْتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا .
অর্থ: কেউ যখন যথাযোগ্য সম্মানের সাথে তোমাদেরকে সালাম দেবে তোমরা আরও উত্তমভাবে তার জবাব দাও। অন্তত: অনুরূপভাবে তো দিতেই হবে। (সূরা আন নিসা-আয়াত: ৮৬) আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন- রাদিয়াল্লাহু আনহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوسَ بِالطُّرُقَاتِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَنَا مِنْ مَجَالِسِنَا بُد نَتَحَدَّثُ فِيهَا فَقَالَ فَإِذَا أَبَيْتُمْ إِلَّا الْمَجْلِسَ فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ قَالُوا وَمَا حَقُّ الطَّرِيقِ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ غَضُ الْبَصَرِ وَكَفُّ الْأَذَى وَرَدُّ السَّلَامِ وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْرُ عَنِ الْمُنْكَرِ.
অর্থ: তোমরা রাস্তার মধ্যে বসো না। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! না বসে তো আমাদের চলে না, আমরা সেখানে বসে পরস্পর কথাবার্তা বলি। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, ঠিক আছে রাস্তার পাশে যখন বসবেই তখন রাস্তার হক আদায় করবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন, রাস্তার হক আবার কী? তিনি বললেন- দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, কারও কষ্টের কারণ না হওয়া (অর্থাৎ কাউকে বিরক্ত না করা), সালামের জবাব দেয়া, সৎ কাজের নির্দেশ এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখা। (বুখারী হাদীস-৬২২৯)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৬৩. অসুস্থ ভাইয়ের খোঁজ-খবর নেয়া

📄 ৬৩. অসুস্থ ভাইয়ের খোঁজ-খবর নেয়া


ঈমানের শাখা-৬৩. অসুস্থ ভাইয়ের খোঁজ-খবর নেয়া
বারাআ ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে সাতটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন-
آمَرَنَا بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ وَاتَّبَاعِ الْجَنَازَةِ وَتَشْمِيْتِ الْعَاطِسِ وَابْرَارِ الْقَسَمِ أَوِ الْمُقْسِمِ وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ وَاجَابَةِ الدَّاعِي وَافْشَاءِ السَّلَامِ وَنَهَانَا عَنْ خَوَاتِيمَ أَوْ عَنْ تَخَتُم بِالذَّهَبِ وَعَنْ شُرْبِ بِالْفِضَّةِ وَعَنِ الْمَيَاثِرِ وَعَنِ الْقَسِيِّ وَعَنْ لُبْسِ الْحَرِيرِ وَالْاِسْتَبْرَقِ وَالدِّيُبَاجِ.
অর্থ: তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, রোগীর খোঁজ-খবর নিতে, জানাযার সাথে যেতে, হাঁচিদাতার হাঁচির জবাব দিতে, শপথ পূরণ করতে, মযলুমের সাহায্য করতে এবং দাওয়াত কবুল করতে, সালামের বিস্তার ঘটে। আর নিষেধ করেছেন, সোনার আংটি, সোনা রূপার পাত্র ব্যবহার করতে, মায়াসির (এক প্রকার নরম রেশমী কাপড়), কাসসী (রেশম মিশ্রিত মিসরী এক জাতীয় কাপড়) ব্যবহার করতে, মিহি রেশমী কাপড়, মোটা রেশমী কাপড় এবং খাঁটি রেশমের তৈরি কাপড় পরতে। (সহীহ আল বুখারী, হাদীস-৫৫১০; সহীহ মুসলিম, হাদীস-৫২১৫; সুনানু আবু দাউদ)
ছাওবান রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে-
عَائِدُ الْمَرِيضِ فِي خُرْفَةِ الْجَنَّةِ يَرْجِعُ
অর্থ: যদি কেউ অসুস্থ কোনো ব্যক্তিকে দেখতে যায় সে ফিরে না আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল সংগ্রহ করতে থাকে। (সহীহ মুসলিম)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00