📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৮. অধীনস্থদের সাথে সদাচরণ করা

📄 ৫৮. অধীনস্থদের সাথে সদাচরণ করা


ঈমানের শাখা-৫৮. অধীনস্থদের সাথে সদাচরণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَ بِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْنِي وَ الْيَتَنى وَ الْمَسْكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَ الْجَارِ الْجُنُبِ وَ الصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ .
অর্থ: তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো। তাঁর সাথে আর কাউকে অংশীদার মনে করো না। পিতামাতার সাথে সদাচরণ করো, নিকটাত্মীয়, ইয়াতিম, মিসকীনদের প্রতিও। নিকটতম প্রতিবেশীর প্রতি এবং দূরতম প্রতিবেশীর প্রতি, চলার সাথী এবং পথিকের প্রতি, সেই সাথে তোমাদের অধীনস্থ দাসদাসীর প্রতিও দয়া অনুগ্রহ প্রদর্শন করো। (সূরা নিসা-আয়াত: ৩৬) রাদিয়াল্লাহু কুনিয়াল্লাহ মারুর ইবনে সুয়াইদ বলেছেন, আমি আবু যার ও তার এক ক্রীতদাসকে একই রকম পোশাক পরা দেখে কারণ জানতে চাইলাম। তিনি বললেন- আনহু আনহু
إِنِّي سَابَبْتُ رَجُلًا فَشَكَانِي إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ لِي النَّبِيُّ الأَعَيَّرْتَهُ بِأُمِّهِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ إِخْوَانَكُمْ خَوَلُكُمْ جَعَلَهُمُ اللهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدِهِ فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ وَلْيُلْبِسُهُ مِمَّا يَلْبَسُ وَلَا تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ فَأَعِيْنُوهُمْ .
অর্থ: আমি একবার এক লোককে তিরস্কার করেছিলাম, সে আমার বিরুদ্ধে আল্লাহর রাসূল -এর কাছে অভিযোগ করেছিল। রাসূল আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, তুমি কি তাকে তার মায়ের ঘোষণা দিয়ে তিরস্কার করছো? অতঃপর বলেন মনে রেখে তোমার ক্রীতদাস সেও তোমার ভাই, আল্লাহ তাকে তোমার অধীনস্থ করেছেন। তাই তুমি যা খাবে তোমার ভাইকেও তাই খেতে দেবে। তুমি যা পরবে তোমার ভাইকেও তাই পরাবে। তাকে দিয়ে সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ করাবে না। যদি করাও তুমিও তার কাজে সাহায্য করবে। (বুখারী হাদীস-২৫৪৫; সহীহ মুসলিম)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৯. ক্রীতদাসের উপর মনিবের অধিকার

📄 ৫৯. ক্রীতদাসের উপর মনিবের অধিকার


ঈমানের শাখা-৫৯. ক্রীতদাসের উপর মনিবের অধিকার আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন- আনহু
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا نَصَحَ لِسَيِّدِهِ وَأَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ.
অর্থ: যখন কোন যে দাস তার মনিবের কল্যাণ কামনা করবে এবং সেই সাথে তার প্রতিপালকের ইবাদাত যথাযথভাবে পালন করবে তার জন্য দুইবার পুরস্কার রয়েছে। (সহীহ বুখারী; সহীহ মুসলিম) জারির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন- রাদিয়াল্লাহ আনহু
أَيُّمَا عَبْدٍ أَبَقَ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ.
অর্থ: যে দাসই পলিয়ে যায় তার থেকে (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের) যিম্মাদারী (দায়-দায়িত্ব) শেষ হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস-১৩৩) অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- আলাইহি
الْعَبْدُ الْأَبِقُ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَلَاتَهُ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى مَوَالِيْهِ.
অর্থ: পলাতক দাস যতক্ষণ পর্যন্ত তার মনিবের কাছে ফিরে না আসবে ততক্ষণ তার নামায আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। (সুনানে আবু দাউদ)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৬০. সন্তান ও অধীনস্থদের অধিকার দেওয়া

📄 ৬০. সন্তান ও অধীনস্থদের অধিকার দেওয়া


ঈমানের শাখা-৬০. সন্তান ও অধীনস্থদের অধিকার দেওয়া
সন্তান ও পরিবার পরিজনের নেতা হচ্ছে পুরুষ ব্যক্তিটি। তার কর্তব্য হচ্ছে অধীনস্থদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা, দ্বীনি নির্দেশনা মোতাবিক তাদের পরিচালনা করা এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা।
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَ الْحِجَارَةُ.
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! নিজেকে ও পরিবার পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। (সূরা তাহরীম-আয়াত: ৬)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাসান বসরী (রহ) বলেছেন, কর্তা ব্যক্তিটির উচিত তাদেরকে আল্লাহর নির্দেশ মতো চলতে বলা এবং কল্যাণমূলক শিক্ষা দান করা। এটা কর্তার প্রতি তাদের নায্য অধিকার।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন- তাদেরকে ইলম ও আদব কায়দা শিক্ষা দেয়া।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ . وَضَمَّ أَصَابِعَهُ.
অর্থ: যে ব্যক্তি দুটো মেয়েকে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করলো সে আর আমি কিয়ামতের দিন এ রকম হবো। এ কথা বলে তিনি তাঁর আঙ্গুল মিলিয়ে দেখালেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস-৬৮৬৪)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৬১. দ্বীনি কারণে পরস্পর সম্পর্ক রক্ষা করা

📄 ৬১. দ্বীনি কারণে পরস্পর সম্পর্ক রক্ষা করা


ঈমানের শাখা-৬১. দ্বীনি কারণে পরস্পর সম্পর্ক বজায় রাখা ও সুদৃঢ় করা
দ্বীনি সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য পারস্পরিক মহব্বত, সালাম বিনিময়, মুসাফাহা ইত্যাদির প্রচলনের উপর জোর দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَ تُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا .
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমার বাড়ির মালিককে সালাম না দিয়ে এবং তার অনুমতি না নিয়ে কারও ঘরে প্রবেশ করো না। (আন নূর-আয়াত: ২৭)
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لا تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ.
অর্থ: যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত মু'মিন না হও। আবার (সত্যিকার) মু'মিনও হতে পারবে না যতক্ষণ একে অপরকে ভালো না বাসবে। আমি কি তোমাদেরকে বলবো না, কোন জিনিস তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবে? তা হচ্ছে একে অপরকে সালাম দেয়ার প্রচলন করা। (সহীহ মুসলিম হাদীস-২০৩)
সহীহ আল বুখারীতে বলা হয়েছে, একবার কাতাদা আনাস-কে রাদিয়াল্লাহ আনহু জিজ্ঞেস করলেন- كَانَتِ الْمُصَافَحَةُ فِي أَصْحَابِ النَّبِيِّ اللَّهِ فَقَالَ نَعَمْ .
অর্থ : নবী করীম ﷺ-এর সাহাবাগণ কি পরস্পর মুসাফাহা করতেন? তিনি বললেন- হ্যাঁ, করতেন। (সহীহ মুসলিম)
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ بِجَلالِي الْيَوْمَ أَظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ الأَظلَّي .
অর্থ : মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন, আমার জন্য যারা অপরকে ভালবাসতো তারা কোথায়? আমি তাদেরকে আমার আরশের ছায়ায় স্থান দেবো। আমার ছায়া ব্যতীত আজ আর কোনো ছায়া নেই। (সহীহ মুসলিম হাদীস-৬৭১৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00