📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৭. সচ্চরিত্র অবলম্বন করা

📄 ৫৭. সচ্চরিত্র অবলম্বন করা


ঈমানের শাখা-৫৭. সচ্চরিত্র
ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ এবং বিনয়ের সবগুলো দিকই সচ্চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর সচ্চরিত্র ঈমানের অন্যতম শাখা। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ .
অর্থ: হে রাসূল! আমি আপনাকে সর্বোচ্চ চরিত্র মাধুর্য দিয়ে সৃষ্টি করেছি। (সূরা আল কলম-আয়াত: ৪)
অন্যত্র বলা হয়েছে-
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ. অর্থ: যারা ক্রোধকে হজম করে এবং অন্যদের ক্ষমা করে দেয় আল্লাহ এ ধরনের নেক লোকদেরকেই ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত: ১৩৪)
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ অশ্লীলভাষী এবং নির্লজ্জ ছিলেন না। বরং তিনি বলতেন-
إِنَّ مِنْ خِيَارِكُمْ أَحْسَنَكُمْ أَخْلَاقًا. অর্থ: তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে সচ্চরিত্রবান। (সহীহ আল বুখারী; সহীহ মুসলিম)
অন্য এক বর্ণনায় আছে-
إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَى أَحْسَنَكُمْ أَخْلَاقًا. অর্থ: তোমাদের মধ্যে যে সচ্চরিত্রবান সেই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আয়েশা থেকে বর্ণিত-
مَا خُيْرَ رَسُولُ اللهِ بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا أَخَذَ أَيْسَرَهُمَا مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللَّهِ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرْمَةُ اللَّهِ فَيَنْتَقِمَ لِلَّهِ بِهَا .
অর্থ: রাসূলুল্লাহ -কে দুটো বিষয়ের কোনো একটি গ্রহণের সুযোগ দিলে এবং তা গুনাহর বিষয় না হলে, তিনি সর্বদা অপেক্ষাকৃত সহজটিকে গ্রহণ করতেন। আর যদি তা গুনাহর বিষয় হতো তবে সকলের চেয়ে তিনি আরও বেশি দূরে অবস্থান করতেন। তিনি ব্যক্তিগত ব্যাপারে কখনও কারও থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘিত হলে তিনি শুধু মহান আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্যই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন। (সহীহ আল বুখারী হাদীস-৩৫৬০)
(আবু বকর আল বায়হাকী বলেন) সচ্চরিত্র বলতে মূলত আত্মার বিশুদ্ধতা বুঝানো হয়েছে। প্রশংসনীয় কাজ করা, সবকিছু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা এসব সচ্চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ। সচ্চরিত্রের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার অন্তরকে সৎ কাজের জন্য খুলে দেন। অসৎ কাজ থেকে হিফাযত করেন। তখন সে আল্লাহর নির্দেশ মেনে আনন্দ পায়, নফল ইবাদতের প্রতি উৎসাহ বোধ করে। হারাম কাজ তো দূরের কথা মুবাহ কাজও সে পরিহার করে চলতে সচেষ্ট হয়। যখন দেখে আল্লাহর বান্দারা তাঁর ইবাদাতের পথ ভুলে বিপথে চলে যাচ্ছে তখন তাদেরকে সতর্ক করে এবং সুসংবাদ দেয়। আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে প্রার্থনা করে না, কিছু চায় না। অন্যের প্রয়োজন পূরণ করতে সদা সচেষ্ট থাকে। অসুখ-বিসুখে দেখাশুনা করে। সফরে যেতে কিংবা সফর থেকে ফিরে আসতে সে তার সঙ্গী সাথীকে ফেলে আসে না। মোটকথা ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন এবং পারিবারিক জীবনে সর্বদা সে আল্লাহর সন্তুষ্টি মতো চলার চেষ্টা করে।
সচ্চরিত্রের কিছু কিছু বিষয় মানুষ জন্মগতভাবেই পেয়ে থাকে আবার অনেক বিষয় চেষ্টা সাধনার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। এ অর্জনের উপায় দুটো।
এক, ইলম বা জ্ঞান অর্জন করা এবং
দুই. সেই ইলম অনুযায়ী আমল বা কাজ করা।

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৮. অধীনস্থদের সাথে সদাচরণ করা

📄 ৫৮. অধীনস্থদের সাথে সদাচরণ করা


ঈমানের শাখা-৫৮. অধীনস্থদের সাথে সদাচরণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَ بِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْنِي وَ الْيَتَنى وَ الْمَسْكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَ الْجَارِ الْجُنُبِ وَ الصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ .
অর্থ: তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো। তাঁর সাথে আর কাউকে অংশীদার মনে করো না। পিতামাতার সাথে সদাচরণ করো, নিকটাত্মীয়, ইয়াতিম, মিসকীনদের প্রতিও। নিকটতম প্রতিবেশীর প্রতি এবং দূরতম প্রতিবেশীর প্রতি, চলার সাথী এবং পথিকের প্রতি, সেই সাথে তোমাদের অধীনস্থ দাসদাসীর প্রতিও দয়া অনুগ্রহ প্রদর্শন করো। (সূরা নিসা-আয়াত: ৩৬) রাদিয়াল্লাহু কুনিয়াল্লাহ মারুর ইবনে সুয়াইদ বলেছেন, আমি আবু যার ও তার এক ক্রীতদাসকে একই রকম পোশাক পরা দেখে কারণ জানতে চাইলাম। তিনি বললেন- আনহু আনহু
إِنِّي سَابَبْتُ رَجُلًا فَشَكَانِي إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ لِي النَّبِيُّ الأَعَيَّرْتَهُ بِأُمِّهِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ إِخْوَانَكُمْ خَوَلُكُمْ جَعَلَهُمُ اللهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدِهِ فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ وَلْيُلْبِسُهُ مِمَّا يَلْبَسُ وَلَا تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ فَأَعِيْنُوهُمْ .
অর্থ: আমি একবার এক লোককে তিরস্কার করেছিলাম, সে আমার বিরুদ্ধে আল্লাহর রাসূল -এর কাছে অভিযোগ করেছিল। রাসূল আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, তুমি কি তাকে তার মায়ের ঘোষণা দিয়ে তিরস্কার করছো? অতঃপর বলেন মনে রেখে তোমার ক্রীতদাস সেও তোমার ভাই, আল্লাহ তাকে তোমার অধীনস্থ করেছেন। তাই তুমি যা খাবে তোমার ভাইকেও তাই খেতে দেবে। তুমি যা পরবে তোমার ভাইকেও তাই পরাবে। তাকে দিয়ে সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ করাবে না। যদি করাও তুমিও তার কাজে সাহায্য করবে। (বুখারী হাদীস-২৫৪৫; সহীহ মুসলিম)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৯. ক্রীতদাসের উপর মনিবের অধিকার

📄 ৫৯. ক্রীতদাসের উপর মনিবের অধিকার


ঈমানের শাখা-৫৯. ক্রীতদাসের উপর মনিবের অধিকার আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন- আনহু
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا نَصَحَ لِسَيِّدِهِ وَأَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ.
অর্থ: যখন কোন যে দাস তার মনিবের কল্যাণ কামনা করবে এবং সেই সাথে তার প্রতিপালকের ইবাদাত যথাযথভাবে পালন করবে তার জন্য দুইবার পুরস্কার রয়েছে। (সহীহ বুখারী; সহীহ মুসলিম) জারির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন- রাদিয়াল্লাহ আনহু
أَيُّمَا عَبْدٍ أَبَقَ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ.
অর্থ: যে দাসই পলিয়ে যায় তার থেকে (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের) যিম্মাদারী (দায়-দায়িত্ব) শেষ হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস-১৩৩) অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- আলাইহি
الْعَبْدُ الْأَبِقُ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَلَاتَهُ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى مَوَالِيْهِ.
অর্থ: পলাতক দাস যতক্ষণ পর্যন্ত তার মনিবের কাছে ফিরে না আসবে ততক্ষণ তার নামায আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। (সুনানে আবু দাউদ)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৬০. সন্তান ও অধীনস্থদের অধিকার দেওয়া

📄 ৬০. সন্তান ও অধীনস্থদের অধিকার দেওয়া


ঈমানের শাখা-৬০. সন্তান ও অধীনস্থদের অধিকার দেওয়া
সন্তান ও পরিবার পরিজনের নেতা হচ্ছে পুরুষ ব্যক্তিটি। তার কর্তব্য হচ্ছে অধীনস্থদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা, দ্বীনি নির্দেশনা মোতাবিক তাদের পরিচালনা করা এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা।
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَ الْحِجَارَةُ.
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! নিজেকে ও পরিবার পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। (সূরা তাহরীম-আয়াত: ৬)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাসান বসরী (রহ) বলেছেন, কর্তা ব্যক্তিটির উচিত তাদেরকে আল্লাহর নির্দেশ মতো চলতে বলা এবং কল্যাণমূলক শিক্ষা দান করা। এটা কর্তার প্রতি তাদের নায্য অধিকার।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন- তাদেরকে ইলম ও আদব কায়দা শিক্ষা দেয়া।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ . وَضَمَّ أَصَابِعَهُ.
অর্থ: যে ব্যক্তি দুটো মেয়েকে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করলো সে আর আমি কিয়ামতের দিন এ রকম হবো। এ কথা বলে তিনি তাঁর আঙ্গুল মিলিয়ে দেখালেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস-৬৮৬৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00