📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৪. লজ্জাশীলতা বজায় রাখা

📄 ৫৪. লজ্জাশীলতা বজায় রাখা


ঈমানের শাখা-৫৪. লজ্জাশীলতা আনহু আলাইহি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু দেখলেন, এক ব্যক্তি তার ভাইকে লাজুক স্বভাবের জন্য তিরস্কার করছে, তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন- دَعْهُ فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيْمَانِ অর্থ: 'তাকে ছেড়ে দাও। মনে রেখো লজ্জা ঈমানের অংশ।' (আবু দাউদ-৪৭৯৭) আলাইহি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন-
إِنَّ الْحَيَاءَ لَا يَأْتِي إِلَّا بِخَيْرٍ. অর্থ: লজ্জাশীলতা (শুধু) কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসে না। (বায়হাকী)
আবু সাঈদ খুদরী বলেছেন- كَانَ النَّبِيُّ لا أَشَدَّ حَيَاءً مِنْ الْعَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا وَكَانَ إِذَا كَرِهَا شَيْئًا অর্থ: রাসূলুল্লাহ عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ. কুমারী মেয়ের চেয়েও লাজুক ছিলেন। যখন তিনি কোনো কিছু অপছন্দ করতেন তখন আমরা তাঁর চেহারা দেখেই বুঝতে পারতাম। (বুখারী হাদীস-৬১০২)
সহীহ আল বুখারীতে ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম বলেছেন- إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الْأُولَى إِذَا لَمْ تَسْتَحْ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ . অর্থ: পূর্বের নবীগণ মানুষকে শিষ্টাচার শেখানোর যেসব কথা বলতেন, তার প্রথম কথাই ছিল-যদি তোমার লজ্জাই না থাকে তাহলে তুমি যা খুশী তাই করতে পার। (সহীহ আল বুখারী হাদীস-৬১২০)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৫. পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ

📄 ৫৫. পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ


ঈমানের শাখা-৫৫. পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ আল্লাহ তাআলা বলেন- وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا. অর্থ: পিতা-মাতার সাথে ইহসান করো। (তথা সদাচারণ করো) (সূরা বাকারা-আয়াত: ৮৩)
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا. ৮১ অর্থ: আমি মানুষকে উপদেশ দিয়েছি তার পিতা-মাতার সাথে ইহসান (সদাচরণ) করার জন্য। (সূরা আহকাফ-আয়াত: ১৫) সূরা বনী ইসরাঈলে বলা হয়েছে- وَ قَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا ، وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيْنِي صَغِيرًا . অর্থ: তোমার রব (প্রতিপালক) ফায়সালা করে দিয়েছেন, যে তাঁর ইবাদত ছাড়া আর কারও ইবাদাত করা যাবে না। পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করবে। তোমাদের মাঝে যদি তাদের কোনো একজন কিংবা উভয়ে বৃদ্ধাবস্থায় থাকে তাহলে তুমি তাদেরকে উহ্ পর্যন্ত বলবে না। তাদেরকে তিরস্কার করবে না বরং তাদের সামনে বিশেষ মর্যাদার সাথে কথা বলবে। সারাক্ষণ বিনয় ও নম্রতার সাথে তাদের সামনে নত হয়ে থাকবে। আর এই দু'আ করবে- 'হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি সে রকম রহম করুন যেমন করে বাল্যকালে আমাকে প্রতিপালন করেছেন। (সূরা বনী ইসরাঈল-আয়াত: ২৪-২৫)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি নবী করীম -কে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ!
أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ قَالَ الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا قَالَ ثُمَّ أَيُّ قَالَ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ قَالَ ثُمَّ أَيُّ قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ .
অর্থ: আল্লাহর কাছে কোন কাজটি সবচেয়ে পছন্দনীয়? তিনি বললেন, সময় মতো নামায পড়া। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করা। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা।
(বুখারী হাদীস-৫৯৭০)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা

📄 ৫৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা


ঈমানের শাখা-৫৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
ফَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِعُوا أَرْحَامَكُمْ أُولَئِكَ الَّذِيْنَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ . অর্থ: তোমাদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় কি, যে তোমরা (ক্ষমতা পাওয়ার পর) মুখ ফিরিয়ে নেবে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহর লানত, তাদেরকেই আল্লাহ অন্ধ ও বধির করে দিয়েছেন। (মুহাম্মদ-২২-২৩) অন্যত্র বলা হয়েছে-
الَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوْصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَسِرُونَ. অর্থ : (বিপথগামী তো তারা) যারা আল্লাহর সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং যা অবিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়। প্রকৃতপক্ষে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরা আল বাকারা-আয়াত: ২৭)
আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন-
مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَيُنْسَأَلَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ.
অর্থ: 'যে ব্যক্তি চায়- তার রিযিকের প্রশস্ততা হোক এবং আয়ু বেড়ে যাক তার উচিত আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা। (সহীহ বুখারী-৫৯৮৬)
যুবাইর ইবনে মুতয়িম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন-
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعٌ يَعْنِي قَاطِعَ رَحِمٍ .
অর্থ: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (সহীহ আল বুখারী হাদীস-৫৯৮৪)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৭. সচ্চরিত্র অবলম্বন করা

📄 ৫৭. সচ্চরিত্র অবলম্বন করা


ঈমানের শাখা-৫৭. সচ্চরিত্র
ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ এবং বিনয়ের সবগুলো দিকই সচ্চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর সচ্চরিত্র ঈমানের অন্যতম শাখা। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ .
অর্থ: হে রাসূল! আমি আপনাকে সর্বোচ্চ চরিত্র মাধুর্য দিয়ে সৃষ্টি করেছি। (সূরা আল কলম-আয়াত: ৪)
অন্যত্র বলা হয়েছে-
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ. অর্থ: যারা ক্রোধকে হজম করে এবং অন্যদের ক্ষমা করে দেয় আল্লাহ এ ধরনের নেক লোকদেরকেই ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত: ১৩৪)
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ অশ্লীলভাষী এবং নির্লজ্জ ছিলেন না। বরং তিনি বলতেন-
إِنَّ مِنْ خِيَارِكُمْ أَحْسَنَكُمْ أَخْلَاقًا. অর্থ: তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে সচ্চরিত্রবান। (সহীহ আল বুখারী; সহীহ মুসলিম)
অন্য এক বর্ণনায় আছে-
إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَى أَحْسَنَكُمْ أَخْلَاقًا. অর্থ: তোমাদের মধ্যে যে সচ্চরিত্রবান সেই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আয়েশা থেকে বর্ণিত-
مَا خُيْرَ رَسُولُ اللهِ بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا أَخَذَ أَيْسَرَهُمَا مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللَّهِ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرْمَةُ اللَّهِ فَيَنْتَقِمَ لِلَّهِ بِهَا .
অর্থ: রাসূলুল্লাহ -কে দুটো বিষয়ের কোনো একটি গ্রহণের সুযোগ দিলে এবং তা গুনাহর বিষয় না হলে, তিনি সর্বদা অপেক্ষাকৃত সহজটিকে গ্রহণ করতেন। আর যদি তা গুনাহর বিষয় হতো তবে সকলের চেয়ে তিনি আরও বেশি দূরে অবস্থান করতেন। তিনি ব্যক্তিগত ব্যাপারে কখনও কারও থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘিত হলে তিনি শুধু মহান আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্যই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন। (সহীহ আল বুখারী হাদীস-৩৫৬০)
(আবু বকর আল বায়হাকী বলেন) সচ্চরিত্র বলতে মূলত আত্মার বিশুদ্ধতা বুঝানো হয়েছে। প্রশংসনীয় কাজ করা, সবকিছু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা এসব সচ্চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ। সচ্চরিত্রের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার অন্তরকে সৎ কাজের জন্য খুলে দেন। অসৎ কাজ থেকে হিফাযত করেন। তখন সে আল্লাহর নির্দেশ মেনে আনন্দ পায়, নফল ইবাদতের প্রতি উৎসাহ বোধ করে। হারাম কাজ তো দূরের কথা মুবাহ কাজও সে পরিহার করে চলতে সচেষ্ট হয়। যখন দেখে আল্লাহর বান্দারা তাঁর ইবাদাতের পথ ভুলে বিপথে চলে যাচ্ছে তখন তাদেরকে সতর্ক করে এবং সুসংবাদ দেয়। আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে প্রার্থনা করে না, কিছু চায় না। অন্যের প্রয়োজন পূরণ করতে সদা সচেষ্ট থাকে। অসুখ-বিসুখে দেখাশুনা করে। সফরে যেতে কিংবা সফর থেকে ফিরে আসতে সে তার সঙ্গী সাথীকে ফেলে আসে না। মোটকথা ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন এবং পারিবারিক জীবনে সর্বদা সে আল্লাহর সন্তুষ্টি মতো চলার চেষ্টা করে।
সচ্চরিত্রের কিছু কিছু বিষয় মানুষ জন্মগতভাবেই পেয়ে থাকে আবার অনেক বিষয় চেষ্টা সাধনার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। এ অর্জনের উপায় দুটো।
এক, ইলম বা জ্ঞান অর্জন করা এবং
দুই. সেই ইলম অনুযায়ী আমল বা কাজ করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00