📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫২. সৎকাজের আদেশ এবং অন্যায়ের নিষেধ করা

📄 ৫২. সৎকাজের আদেশ এবং অন্যায়ের নিষেধ করা


ঈমানের শাখা-৫২. সৎ কাজের আদেশ এবং অন্যায়ের নিষেধ আল্লাহ তাআলা বলেছেন- وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةً يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ.
অর্থ: তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক থাকতেই হবে যারা সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অন্যায় কাজে নিষেধ করবে। তারাই সত্যিকারের সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত: ১০৪)
আরও বলা হয়েছে- كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ.
অর্থ: তোমরাই উত্তম উম্মাত, মানুষের কল্যাণে চয়ন করা হয়েছে। এই মর্মে যে, তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অন্যায় কাজের নিষেধ করবে এবং সেই সাথে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখবে। (সূরা: আলে ইমরান-আয়াত: ১১০)
সূরা আত তাওবায় বলা হয়েছে- إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ.
অর্থ: অবশ্যই আল্লাহ মু'মিনদের জান-মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। (সূরা আত তাওবা-আয়াত: ১১১)
সমাজ ও রাষ্ট্রকে পরিচ্ছন্ন ও পাপ-পঙ্কিলতামুক্ত রাখতে এ কাজ অপরিহার্য। বনী ইসরাঈল সম্প্রদায় এ দায়িত্ব সঠিকভাবে ও যথাযথভাবে পালন না করার কারণে আল্লাহ তাদের নিন্দা করেছেন।
বলা হয়েছে-
لُعِنَ الَّذِيْنَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَاءِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ * ذلِكَ بِمَا عَصَوْا وَ كَانُوا يَعْتَدُونَ كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ * لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ .
অর্থ: বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদের প্রতি দাউদ ও মারইয়াম এর পুত্র ঈসার মুখ দিয়ে অভিশাপ করা হয়েছে। কারণ তারা বিদ্রোহী হয়ে গিয়েছিল এবং খুব বাড়াবাড়ি করত। তারা একে অপরকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব পালন করত না। তারা যা করত তা ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট কর্মনীতি। (সূরা আল মায়েদা-আয়াত: ৭৮-৭৯)
আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
মَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرُهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيْمَانِ.
অর্থ: তোমাদের কেউ যখন কোনো অন্যায় কাজ দেখে সে যেন হাত দিয়ে (শক্তি প্রয়োগ করে) বন্ধ করে দেয়। যদি না পারে তাহলে যেন বাক্য ব্যয়ে করে। যদি তাও না পারে তবে মনে মনে ঘৃণা করবে। এটি হচ্ছে ঈমানের সবচেয়ে নিচের স্তর। (সহীহ মুসলিম- ১৮৬)
অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
مَا مِنْ نَبِي بَعَثَهُ اللهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُوْنَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ
مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيْمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ.
অর্থ: আমার পূর্বে কোনো জাতির কাছে যে নবীকেই প্রেরণ করা হয়েছিল, তাঁর সহযোগিতার জন্য তাঁর উম্মাতের মধ্য থেকে একদল সাহায্যকারী সাথী থাকতো। তারা তাঁর সুন্নাত (নিয়মনীতি)-কে আঁকড়ে ধরতো এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলতো। এদের পর এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটলো, যারা বলতো ঠিকই কিন্তু তারা তা আমল করতো না। এমন কাজ করতো যার নির্দেশ তাদেরকে দেয়া হয়নি। তাই এ ধরনের লোকদের বিরুদ্ধে যে হাত দিয়ে (অর্থাৎ শক্তি প্রয়োগ করে) জিহাদ (সংগ্রাম) করবে সে মু'মিন। যে মুখ দিয়ে এদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে সে মু'মিন। যে অন্তর দিয়ে এদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে সেও মু'মিন। এরপর একটি সরিষা দানা পরিমাণ ঈমানের স্তরও আর নেই। (সহীহ মুসলিম হাদীস-১৮৮)
আনহু নবী করীম -এর স্ত্রী যয়নব বলেছেন, একদিন রাসূল ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে উঠলেন। মলিন মুখ। তিনবার বললেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু' তারপর বললেন, আরবদের জন্য ধ্বংস, দ্রুত মন্দ তাদের গ্রাস করতে আসছে। ইয়াজুজ-মাজুজের দেয়াল আজ এতটুকু ছিদ্র করে ফেলেছে। একথা বলে তিনি বৃদ্ধাঙ্গলী ও মধ্যমা গোল করে ধরে দেখালেন। একথা শুনে যয়নাব বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এত সৎ লোক থাকার পরও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন- হ্যাঁ, যখন দুর্নীতির বিস্তৃতি ঘটবে। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৩. সৎকাজে পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করা

📄 ৫৩. সৎকাজে পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করা


ঈমানের শাখা-৫৩. সৎ কাজে পরস্পর সহযোগিতা করা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ.
অর্থ: তাকওয়া ও নেক কাজে তোমরা পরস্পর একে অপরের সহযোগিতা করো। তবে পাপ ও সীমালংঘনমূলক কাজে পরস্পর সহযোগিতা করো না। (সূরা আল মায়িদা-আয়াত: ২) আনাস ইবনে মালিক থেকে সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْصُرُهُ إِذَا كَانَ مَظْلُومًا فَكَيْفَ اَنْصُرُهُ ظَالِمًا فَقَالَ تَمْنَعُهُ مِنَ الظُّلْمِ فَذُلِكَ نَصْرُكَ إِيَّاهُ.
অর্থ: তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে যালিম (অত্যাচারী) হোক কিংবা মাযলুম (অত্যাচারিত)। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! মাযলুমকে সাহায্য করার ব্যাপারটি তো বুঝলাম কিন্তু যালিমকে সাহায্য করবো কিভাবে? রাসূল বললেন, যুলুম (অত্যাচার) থেকে বিরত রাখাই হচ্ছে যালিমকে সাহায্য করা। (সহীহ বুখারী-৬৯৫২)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৪. লজ্জাশীলতা বজায় রাখা

📄 ৫৪. লজ্জাশীলতা বজায় রাখা


ঈমানের শাখা-৫৪. লজ্জাশীলতা আনহু আলাইহি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু দেখলেন, এক ব্যক্তি তার ভাইকে লাজুক স্বভাবের জন্য তিরস্কার করছে, তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন- دَعْهُ فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيْمَانِ অর্থ: 'তাকে ছেড়ে দাও। মনে রেখো লজ্জা ঈমানের অংশ।' (আবু দাউদ-৪৭৯৭) আলাইহি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন-
إِنَّ الْحَيَاءَ لَا يَأْتِي إِلَّا بِخَيْرٍ. অর্থ: লজ্জাশীলতা (শুধু) কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসে না। (বায়হাকী)
আবু সাঈদ খুদরী বলেছেন- كَانَ النَّبِيُّ لا أَشَدَّ حَيَاءً مِنْ الْعَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا وَكَانَ إِذَا كَرِهَا شَيْئًا অর্থ: রাসূলুল্লাহ عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ. কুমারী মেয়ের চেয়েও লাজুক ছিলেন। যখন তিনি কোনো কিছু অপছন্দ করতেন তখন আমরা তাঁর চেহারা দেখেই বুঝতে পারতাম। (বুখারী হাদীস-৬১০২)
সহীহ আল বুখারীতে ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম বলেছেন- إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الْأُولَى إِذَا لَمْ تَسْتَحْ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ . অর্থ: পূর্বের নবীগণ মানুষকে শিষ্টাচার শেখানোর যেসব কথা বলতেন, তার প্রথম কথাই ছিল-যদি তোমার লজ্জাই না থাকে তাহলে তুমি যা খুশী তাই করতে পার। (সহীহ আল বুখারী হাদীস-৬১২০)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫৫. পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ

📄 ৫৫. পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ


ঈমানের শাখা-৫৫. পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ আল্লাহ তাআলা বলেন- وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا. অর্থ: পিতা-মাতার সাথে ইহসান করো। (তথা সদাচারণ করো) (সূরা বাকারা-আয়াত: ৮৩)
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا. ৮১ অর্থ: আমি মানুষকে উপদেশ দিয়েছি তার পিতা-মাতার সাথে ইহসান (সদাচরণ) করার জন্য। (সূরা আহকাফ-আয়াত: ১৫) সূরা বনী ইসরাঈলে বলা হয়েছে- وَ قَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا ، وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيْنِي صَغِيرًا . অর্থ: তোমার রব (প্রতিপালক) ফায়সালা করে দিয়েছেন, যে তাঁর ইবাদত ছাড়া আর কারও ইবাদাত করা যাবে না। পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করবে। তোমাদের মাঝে যদি তাদের কোনো একজন কিংবা উভয়ে বৃদ্ধাবস্থায় থাকে তাহলে তুমি তাদেরকে উহ্ পর্যন্ত বলবে না। তাদেরকে তিরস্কার করবে না বরং তাদের সামনে বিশেষ মর্যাদার সাথে কথা বলবে। সারাক্ষণ বিনয় ও নম্রতার সাথে তাদের সামনে নত হয়ে থাকবে। আর এই দু'আ করবে- 'হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি সে রকম রহম করুন যেমন করে বাল্যকালে আমাকে প্রতিপালন করেছেন। (সূরা বনী ইসরাঈল-আয়াত: ২৪-২৫)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি নবী করীম -কে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ!
أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ قَالَ الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا قَالَ ثُمَّ أَيُّ قَالَ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ قَالَ ثُمَّ أَيُّ قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ .
অর্থ: আল্লাহর কাছে কোন কাজটি সবচেয়ে পছন্দনীয়? তিনি বললেন, সময় মতো নামায পড়া। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করা। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা।
(বুখারী হাদীস-৫৯৭০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00