📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৪৫. ইখলাস (একনিষ্ঠতা)

📄 ৪৫. ইখলাস (একনিষ্ঠতা)


ঈমানের শাখা-৪৫. ইখলাস (একনিষ্ঠতা)
লোক দেখানো কাজ পরিহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করাও ঈমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন- وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ.
অর্থ: তাদেরকে এ নির্দেশ ছাড়া আর কোনো নির্দেশই দেয়া হয়নি যে, নিঃস্বার্থভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে এবং নির্ভেজাল দ্বীনকে কেবল তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট করে নেবে। (সূরা বাইয়্যিনাহ-আয়াত: ৫)
সূরা আল কাহাফে আরও সুস্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী তাদের কী করা উচিত। বলা হয়েছে- فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَ لَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا.
অর্থ: কাজেই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে, সে যেন আমলে সালেহ (সৎকাজ) করে এবং প্রতিপালকের ইবাদতের সাথে আর কাউকে শরীক না করে। (সূরা আল কাহফ-আয়াত: ১১০)
আনহ আলাইহি সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল রাদিয়াল্লহু বলেছেন- 'মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি অংশীদারমুক্ত। কাজেই কেউ যদি আমার জন্য আমল করে এবং তার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করে, শিরকযুক্ত সেই আমলের আমার কোনো প্রয়োজন নেই।
আবু উমরকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- 'ইখলাস (আন্তরিকতা) কী? তিনি বললেন- আল্লাহ ছাড়া আর কারও প্রশংসা না করা।'
আনহু সাহল ইবনে সাদ বলেছেন- মুখলেস ব্যক্তি ছাড়া রিয়া (লোক দেখানো ইবাদাত)-এর মর্ম আর কেউ বুঝে না, তেমনিভাবে নিফাকের
(কপটতা) মর্ম কেবল একজন ঈমানদারই বুঝে। আর আলিম (জ্ঞানী) ছাড়া মূর্খতার মর্ম কে আর বুঝবে, যেমন গুনাহর মর্ম আল্লাহর একান্ত বাধ্যগত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই বুঝে না। (ইমাম বায়হাকী)
রবী ইবনে খুশাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন- 'কোনো কাজের পেছনে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যই না থাকে তবে সেই কাজ অনর্থক।'

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৪৬. সৎ কাজে আনন্দ ও অসৎ কাজে মর্মাহত

📄 ৪৬. সৎ কাজে আনন্দ ও অসৎ কাজে মর্মাহত


ঈমানের শাখা-৪৬. সৎ কাজে আনন্দ ও অসৎ কাজে মর্মাহত
উমর ইবনেল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদীস ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনানে সংকলন করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
وَمَنْ سَرَّتْهُ حَسَنَتُهُ وَسَاءَتْهُ سَيِّئَتُهُ فَهُوَ مُؤْمِنٌ .
অর্থ: যে ব্যক্তি সৎ কাজে আনন্দ পায় এবং মন্দ কাজে মর্মপীড়া অনুভব করে সে মুমিন।

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৪৭. তওবা : গুনাহর চিকিৎসা

📄 ৪৭. তওবা : গুনাহর চিকিৎসা


ঈমানের শাখা-৪৭. তওবা
আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর কাছে তাওবা কর। আশা করা যায়, তোমরা কল্যাণ লাভ করবে। (আন নূর-আয়াত: ৩১)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا. অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি ও সত্যিকার তাওবা। (সূরা আত তাহরীম-আয়াত: ৮)
সূরা আয যুমারে বলা হয়েছে-
وَانِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ. অর্থ: ফিরে এসো তোমার প্রতিপালকের দিকে এবং তাঁর অনুগত হও, তোমাদের উপর আযাব আসার আগে। (সূরা আয যুমার-আয়াত: ৫৪)
রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
أَنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي وَإِنِّي لَاسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ مِئَةُ مَرَّةٍ. অর্থ: আমার অন্তরও মাঝে মাঝে ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। আমি আল্লাহর কাছে প্রতিদিন একশ'বার ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকি। (সুনানু আবু দাউদ- ১৫১৭)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৪৮. আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য কুরবানী ও আত্মত্যাগ

📄 ৪৮. আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য কুরবানী ও আত্মত্যাগ


ঈমানের শাখা-৪৮. আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য কুরবানী করা
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرُ . অর্থ: আপনার প্রতিপালকের জন্য নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন। (সূরা আল কাউছার-আয়াত: ২)
وَالْبُدْنَ جَعَلْتُهَا لَكُمْ مِّنْ شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيْهَا خَيْرٌ. অর্থ: আর কুরবানীর জন্য নির্দিষ্ট উটগুলোতে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে গণ্য করেছি। এতে বিপুল কল্যাণ নিহিত রয়েছে। (সূরা আল হাজ্জ-আয়াত: ৩৬)
এই সূরার অন্য আয়াতে বলা হয়েছে-
وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ . অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান করে, তা মূলত অন্তরের তাকওয়া হতেই হয়ে থাকে। (সূরা আল হাজ্জ-আয়াত: ৩২)
আনহু সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ -কে শিংওয়ালা সাদা দুটো মেষ কুরবানী করতে দেখেছি। তিনি মেষের পাঁজরে হাঁটু রেখে 'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার' বলে নিজ হাতে কুরবানী করেছেন। (সহীহ আল বুখারী; মুসলিম)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00