📄 ৪২. আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় করা
ঈমানের শাখা-৪২. আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় করা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطُهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُوْمًا مَّحْسُورًا.
অর্থ: তোমরা (কৃপণতা করে) নিজেদের হাত গলার সাথে বেঁধে রেখো না আবার খোলামেলা ছেড়েও দিয়ো না। তাহলে তোমরা অক্ষম হয়ে যাবে, তিরস্কৃত হবে। (সূরা বনী ইসরাঈল-আয়াত: ২৯)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে-
وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا.
অর্থ: তারা খরচ করলে অপচয়ও করে না আবার কার্পণ্যও করে না বরং তারা এ দুটো অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থান করে। (সূরা আল ফুরকান-৬৭) আনহু সহীহ মুসলিমে মৃগীরা ইবনে শু'বা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল বলেছেন- তিনটি বিষয় পরিহার করতে।
১. অতিরিক্ত ঠাট্টা মশকরা, ২. সম্পদের অপচয় এবং ৩. ভিক্ষাবৃত্তি। (সহীহ মুসলিম)
📄 ৪৩. হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা
ঈমানের শাখা-৪৩. হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ . অর্থ : এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে যখন সে হিংসা করে। (সূরা ফালাক-৫) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا آتَهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ . অর্থ : এরা কি শুধু মানুষের প্রতি এজন্য হিংসা পোষণ করে যে, আল্লাহ তাদেরকে বিশেষ অনুগ্রহ দান করেছেন? (সূরা আন নিসা-আয়াত; ৫৪) আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
আনহু لَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ يَلْتَقِيَانِ يَصُدُّ هَذَا وَيَصُدُّ هَذَا وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ .
অর্থ : তোমরা পরস্পর ঘৃণা করো না, হিংসা করো না, একজন আরেকজনের পেছনে লেগে থেকো না, আল্লাহর বান্দা ও ভাই ভাই হয়ে থাক। একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের সাথে তিন দিনের বেশি কথা না বলা ঠিক নয়, পরস্পর দেখা হলে একজন এদিক আরেকজন ওদিক মুখ ফিরিয়ে নেবে এটি ভালো কথা নয়। দু'জনের মধ্যে উত্তম সেই, যে আগে সালাম দিয়ে কথা বলবে। (সহীহ আল বুখারী)
আহনাফ ইবনে কাইস (রহঃ) বলেছেন- পাঁচটি কথা আমাদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ছিল। কথাগুলো হচ্ছে-
১. হিংসুটের শান্তি নেই, ২. মিথ্যাবাদীর কোনো ভাবমূর্তি নেই, ৩. লোভীকে দিয়ে কোনো বিশ্বাস নেই, ৪. কৃপণের কোনো মনোবল নেই এবং ৫. অসৎ লোকের কোনো চরিত্র নেই।
(ইমাম বায়হাকী)
📄 ৪৪. কাউকে অপবাদ না দেয়া বা হেয় না করা
ঈমানের শাখা-৪৪. কাউকে অপবাদ না দেয়া বা হেয় না করা আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَتِ الْغَفِلَتِ الْمُؤْمِنَتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ .
অর্থ: যারা পবিত্র চরিত্রের সহজ-সরল মুসলিম মহিলাদের অপবাদ দেয়, দুনিয়া ও আখিরাতে তারা অভিশপ্ত, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরা আন নূর-আয়াত: ২৩)
রানিয়াল্লাস্থ আনহু সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম বলেছেন-
الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ وَلَا يَحْقِرُهُ التَّقْوَى هُهُنَا وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَثَ مَرَّاتٍ بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ.
অর্থ: এক মুসলমান আরেক মুসলমানের ভাই। সে তার উপর যুলুম করবে না, তাকে লাঞ্ছিত করবে না এবং হেয় প্রতিপন্ন করবে না। 'তাকওয়া এখানে'-একথা বলে তিনি তিনবার বুকের দিকে ইঙ্গিত করলেন। একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, সে তার ভাইকে হেয় করে। প্রতিটি মুসলমানের উপর আরেক মুসলমানের জান, মাল ও সম্মান (ক্ষতি করা) হারাম। (সহীহ মুসলিম-৬৩০৯)
সহীহ আল বুখারীতে আবু যার বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
لَا يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلًا بِالْفِسْقِ وَلَا يَرْمِيهِ بِالْكُفْرِ إِلَّا وَارْتَدَّتْ عَلَيْهِ إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَالِكَ .
অর্থ: কেউ যেন কাউকে ফাসিক বা কাফির না বলে। যাকে ফাসিক বা কাফির বলা হলো সে যদি সেরূপ না হয় তাহলে সেই কথা বক্তার উপরই পতিত হয়। (সহীহ বুখারী)
📄 ৪৫. ইখলাস (একনিষ্ঠতা)
ঈমানের শাখা-৪৫. ইখলাস (একনিষ্ঠতা)
লোক দেখানো কাজ পরিহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করাও ঈমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন- وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ.
অর্থ: তাদেরকে এ নির্দেশ ছাড়া আর কোনো নির্দেশই দেয়া হয়নি যে, নিঃস্বার্থভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে এবং নির্ভেজাল দ্বীনকে কেবল তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট করে নেবে। (সূরা বাইয়্যিনাহ-আয়াত: ৫)
সূরা আল কাহাফে আরও সুস্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী তাদের কী করা উচিত। বলা হয়েছে- فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَ لَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا.
অর্থ: কাজেই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে, সে যেন আমলে সালেহ (সৎকাজ) করে এবং প্রতিপালকের ইবাদতের সাথে আর কাউকে শরীক না করে। (সূরা আল কাহফ-আয়াত: ১১০)
আনহ আলাইহি সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল রাদিয়াল্লহু বলেছেন- 'মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি অংশীদারমুক্ত। কাজেই কেউ যদি আমার জন্য আমল করে এবং তার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করে, শিরকযুক্ত সেই আমলের আমার কোনো প্রয়োজন নেই।
আবু উমরকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- 'ইখলাস (আন্তরিকতা) কী? তিনি বললেন- আল্লাহ ছাড়া আর কারও প্রশংসা না করা।'
আনহু সাহল ইবনে সাদ বলেছেন- মুখলেস ব্যক্তি ছাড়া রিয়া (লোক দেখানো ইবাদাত)-এর মর্ম আর কেউ বুঝে না, তেমনিভাবে নিফাকের
(কপটতা) মর্ম কেবল একজন ঈমানদারই বুঝে। আর আলিম (জ্ঞানী) ছাড়া মূর্খতার মর্ম কে আর বুঝবে, যেমন গুনাহর মর্ম আল্লাহর একান্ত বাধ্যগত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই বুঝে না। (ইমাম বায়হাকী)
রবী ইবনে খুশাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন- 'কোনো কাজের পেছনে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যই না থাকে তবে সেই কাজ অনর্থক।'