📄 ৪০. পোশাক ও সাজসজ্জা বিষয়ে সতর্কতা
ঈমানের শাখা-৪০. পোশাক ও সাজসজ্জা বিষয়ে সতর্কতা
একবার হুযাইফা পানি পান করতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাঁকে রূপার গ্লাসে পানি এনে দেয় পান করার জন্য। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি-
لَا تَلْبِسُوا الْحَرِيرَ وَلَا الدِّيْبَاجَ وَلَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَكُمْ فِي الْآخِرَةَ.
অর্থ: তোমরা মিহি কিংবা মোটা রেশমী কাপড় পরবে না, সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার করবে না। কারণ এসব দুনিয়াতে তাদের (অর্থাৎ কাফিরদের) জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য। (মুসলিম হাদীস-৫২২৬) সহীহ মুসলিমে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ الْكِبْرُ مَنْ بَطَرَ الْحَقَّ وَغَمَطَ النَّاسَ.
অর্থ: আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন, অহংকার মানুষকে সত্য-বিমুখ করে এবং লোকদের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে। (সহীহ মুসলিম) আবু বুরদা থেকে বর্ণিত, একবার আয়েশা একটি পশমী চাদর ও একটি মোটা কাপড়ের পায়জামা দেখিয়ে বললেন, আল্লাহর রাসূল এগুলো রেখে গেছেন। (সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
لَا يَنْظُرُ اللَّهُ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ.
অর্থ: যে ব্যক্তি অহংকারবশত পায়ের গোড়ালীর গিঁটের নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরবে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকিয়েও দেখবেন না। (মুসলিম- ৫৫৭৪)
📄 ৪১. শরীয়াতের আদর্শ পরিপন্থি খেলাধুলা বর্জন করা
ঈমানের শাখা-৪১. শরীয়াতের আদর্শ পরিপন্থি খেলাধুলা বর্জন করা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
قُلْ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ اللَّهْوِ وَ مِنَ التِّجَارَةِ.
অর্থ: হে নবী! আপনি তাদেরকে বলে দিন, আল্লাহর কাছে যা কিছু রয়েছে তা খেলাধুলা ও ব্যবসা বাণিজ্যের চেয়ে অনেক উত্তম। (সূরা আল জুমাআ-আয়াত: ১১)
বুরাইদা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন- রাদিয়াল্লাহু আনহু
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَكَأَنَّمَا صَبَغَ يَدَهُ فِي لَحْمِ خِنْزِيرٍ وَدَمِهِ.
অর্থ: যে ব্যক্তি পাশা (জুয়া) খেললো সে যেন তার হাত শূকরের গোশত ও রক্তে রঞ্জিত করল। (সহীহ মুসলিম হাদীস-৫৬৯৯)
📄 ৪২. আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় করা
ঈমানের শাখা-৪২. আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় করা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطُهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُوْمًا مَّحْسُورًا.
অর্থ: তোমরা (কৃপণতা করে) নিজেদের হাত গলার সাথে বেঁধে রেখো না আবার খোলামেলা ছেড়েও দিয়ো না। তাহলে তোমরা অক্ষম হয়ে যাবে, তিরস্কৃত হবে। (সূরা বনী ইসরাঈল-আয়াত: ২৯)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে-
وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا.
অর্থ: তারা খরচ করলে অপচয়ও করে না আবার কার্পণ্যও করে না বরং তারা এ দুটো অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থান করে। (সূরা আল ফুরকান-৬৭) আনহু সহীহ মুসলিমে মৃগীরা ইবনে শু'বা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল বলেছেন- তিনটি বিষয় পরিহার করতে।
১. অতিরিক্ত ঠাট্টা মশকরা, ২. সম্পদের অপচয় এবং ৩. ভিক্ষাবৃত্তি। (সহীহ মুসলিম)
📄 ৪৩. হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা
ঈমানের শাখা-৪৩. হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ . অর্থ : এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে যখন সে হিংসা করে। (সূরা ফালাক-৫) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا آتَهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ . অর্থ : এরা কি শুধু মানুষের প্রতি এজন্য হিংসা পোষণ করে যে, আল্লাহ তাদেরকে বিশেষ অনুগ্রহ দান করেছেন? (সূরা আন নিসা-আয়াত; ৫৪) আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
আনহু لَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ يَلْتَقِيَانِ يَصُدُّ هَذَا وَيَصُدُّ هَذَا وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ .
অর্থ : তোমরা পরস্পর ঘৃণা করো না, হিংসা করো না, একজন আরেকজনের পেছনে লেগে থেকো না, আল্লাহর বান্দা ও ভাই ভাই হয়ে থাক। একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের সাথে তিন দিনের বেশি কথা না বলা ঠিক নয়, পরস্পর দেখা হলে একজন এদিক আরেকজন ওদিক মুখ ফিরিয়ে নেবে এটি ভালো কথা নয়। দু'জনের মধ্যে উত্তম সেই, যে আগে সালাম দিয়ে কথা বলবে। (সহীহ আল বুখারী)
আহনাফ ইবনে কাইস (রহঃ) বলেছেন- পাঁচটি কথা আমাদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ছিল। কথাগুলো হচ্ছে-
১. হিংসুটের শান্তি নেই, ২. মিথ্যাবাদীর কোনো ভাবমূর্তি নেই, ৩. লোভীকে দিয়ে কোনো বিশ্বাস নেই, ৪. কৃপণের কোনো মনোবল নেই এবং ৫. অসৎ লোকের কোনো চরিত্র নেই।
(ইমাম বায়হাকী)